গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে আগামী ২০ জুন (শনিবার) দুপুর ২টায় খুলনা মহানগরীর ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর পাঠানো এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এ সমাবেশে জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখবেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, সমাবেশকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, ২০ জুনের এ সমাবেশে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে।
১১ দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশকে সর্বাত্মকভাবে সফল করতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দলে দলে যোগদানের জন্য খুলনা বিভাগের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
ঢাকার বিমানবন্দরে প্রবাসীদের চরম হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন লন্ডনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশের বক্তারা। মঙ্গলবার পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে অনুষ্ঠিত এ প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও দুবারের সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের নিঃশর্ত মুক্তি এবং বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান। ‘প্রবাসী অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ ইউকে’র উদ্যোগে এই প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের টিকিটের সঙ্গে এয়ারপোর্ট ট্যাক্স নেওয়া হলেও এর বিনিময়ে প্রবাসীদের নিয়মিত হয়রানির শিকার হতে হয়। এর প্রতিবাদ করায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হামলার শিকার হয়ে লন্ডনপ্রবাসী সুরত মিয়া নিহত হলেও আজ পর্যন্ত তার বিচার হয়নি। বর্তমানে সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান প্রবাসীদের মালামাল চুরি ও হয়রানির প্রতিবাদ করায় সরকার তাকে পরিকল্পিতভাবে বানোয়াট মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে পুলিশের এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বক্তারা আরও বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল অক্সিজেন হলেও তারা পদে পদে বঞ্চনার শিকার হন। দীর্ঘদিন জার্নি শেষে দেশে পৌঁছানোর পর লাগেজ না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় এবং লাগেজ কেটে মালামাল ও জমজমের পানি চুরির ঘটনা ঘটছে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় সরকার রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে সাবেক এক সংসদ সদস্যকে বানোয়াট মামলায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নিয়ে ফ্যাসিবাদী কায়দায় হয়রানি করছে। সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বক্তারা বলেন, অবিলম্বে আখতারুজ্জামানের মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তি না দিলে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা প্রায় ২ কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। প্রবাসী অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ ইউকের আহ্বায়ক সলিসিটর জহির আহমদের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইউরোপের প্রধান মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা। সাবেক ছাত্রনেতা শাহরিয়ার আলম শিপার ও জুবের আহমদ আহাদের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার সাইফুদ্দিন খালেদ, গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সাবেক প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার আতাউর রহমান এবং সাংবাদিক নেতা অলিউল্লাহ নোমান। এতে আরও বক্তব্য দেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার ওয়াহিদ মাহবুব, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব এমদাদুর রহমান, মানবাধিকারকর্মী রফিকুল ঈসা, সংগঠক আবদুল্লাহ আল মুনিম, ‘রাইট ফর কনসার্ন’-এর প্রেসিডেন্ট শফিকুর রহমান খান, ‘নিরাপদ বাংলাদেশ চাই’-এর প্রেসিডেন্ট মুসলিম খান, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট সাইফুর রহমান পারভেজ ও রায়হান আহমেদ প্রমুখ। সভার শুরুতে কোরআন তিলাওয়াত করেন ফজলুর রহমান।
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) নেতারা। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিটিএমএ বোর্ড অব ডিরেক্টরসের সদস্যরা ছাড়াও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত আমির সভার শুরুতেই বিটিএমএ নেতাদের স্বাগত জানিয়েছেন এবং বিরোধী দল হিসেবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটা দায়িত্ব থাকে; সরকারের সব কাজের বিরোধিতা করা পূর্বের বিরোধী দলগুলোর মতো সেই কালচার এই বিরোধী দলের নয় বলে জামায়াত আমির আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের পার্লামেন্টে বর্তমান বিরোধী দল যে পলিসি অনুসরণ করছে—সরকারের সব ভালো কাজে আমরা সহযোগিতা করব, সব জনস্বার্থবিরোধী কাজে আমরা প্রতিবাদ করব এবং তাদের ভুল আমরা ধরিয়ে দেব। সরকার যখন জনস্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে, তার প্রতিবাদ করা, সমালোচনা করা, প্রয়োজন হলে প্রতিরোধ করা—এ ভূমিকা গঠনমূলকভাবে আমরা পালন করব, সেটা তিনি বলেছেন। কোরআন-হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, এটি আল্লাহ তাআলারই বিধান; আল্লাহই বলেছেন যে, তোমরা সব ভালো কাজে সহযোগিতা কর, মন্দ কাজে তোমরা বাধা দাও। গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের প্রাণশক্তি হচ্ছে শিল্প খাত এবং বিটিএমএ সেখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে, সেটা জামায়াত আমির বলেছেন এবং সেই খাতের সমস্যা ও চ্যালেঞ্জগুলো শোনার জন্য তিনি আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। উভয় পক্ষের মধ্যে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। বিটিএমএ নেতারা তাদের কথাগুলো বলেছেন এবং জামায়াত আমির আশ্বস্ত করেছেন, আপনারা ইনশাআল্লাহ পারবেন, যেহেতু আপনাদের মধ্যে দেশপ্রেম আছে, দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে এবং আপনাদের নিজেদের ব্যবসা ও পেশার প্রতি আন্তরিকতা ও সিনসিয়ারিটি আছে; আপনাদের পাশে আমরা থাকব এবং জাতীয় সংসদে আমরা আমাদের ভূমিকা পালন করব। তারা বলেছেন, আপনার বক্তব্য শুনে আমরা বুঝতে পেরেছি যে, আপনি আমাদের সব সমস্যা বুঝতে পেরেছেন। এই খাতের বিনিয়োগ প্রায় ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এত বড় গুরুত্বপূর্ণ একটা খাতের কিছু সমস্যার কথা তারা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারা দুবার দেখা করেছেন, খাতের সমস্যাগুলো তার দৃষ্টিতে এনেছেন, একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছেন এবং সব দিক থেকেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় বিটিএমএ ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং মিয়া গোলাম পরওয়ার আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, সময় দিয়ে আমাদের কথা শুনেছেন। তিনি বলেন, আমরা তাদের অবহিত করেছি, আমাদের টেক্সটাইল খাত একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ খাত, এখানে ৩২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আছে। আমাদের এই খাতের মাধ্যমে পোশাক শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রির চাহিদা পূরণ হয় এবং আমরা কাঁচামাল দিয়ে এই শিল্পকে সমর্থন করি। এই সমস্ত বিষয় আমরা সুন্দরভাবে আলোচনা করেছি এবং বিরোধীদলীয় নেতাকে অবহিত করেছি যে আমরা অনেক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি এবং এই সমস্যাগুলো আমরা সরাসরি সরকারকে জানিয়েছি। সরকার আমাদের বিভিন্ন সময়ে সুযোগ দিয়ে আমাদের বিভিন্ন সমস্যা অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে শুনেছে এবং এগুলো সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে। বারবার প্রধানমন্ত্রী নিজে আমাদের সময় দিয়েছেন, আমাদের কথা শুনেছেন এবং অনেক সমস্যা ইতিমধ্যেই সমাধান করেছেন; কিছু কিছু সমস্যা নিয়ে আমরা এখনো কাজ করছি, সেগুলো নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি। বিটিএমএ নেতা বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন—সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এবং সহযোগিতা করে এই সমস্যাগুলো যেন তাড়াতাড়ি সমাধান করা যায়, সে ব্যাপারে তিনি আলোকপাত করবেন। আজকের আলোচনার মূল বিষয় ছিল আমাদের পরিচিতি পর্ব এবং তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাওয়া, যা আমরা পেয়েছি। এজন্য বিরোধীদলীয় নেতা ও তার সহকর্মীদের সবাইকে বিটিএমএর পক্ষ থেকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানাই। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল পরিচিত হওয়া এবং সচরাচর গণমাধ্যমে যে কথাগুলো তিনি শোনেন, সে বিষয়ে আলোচনা করা। তার কিছু প্রশ্ন ছিল এবং আমাদের সমস্যার ব্যাপারে আমরা তাকে জানিয়েছি। সমস্যা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের ইনসেন্টিভের সমস্যা, গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা, এলডিসি উত্তরণে (গ্র্যাজুয়েশনে) যেসব চ্যালেঞ্জ আসবে তা নিয়ে সমস্যা এবং বিভিন্ন ট্যাক্সের বাধা নিয়ে সমস্যা—সেগুলো সরকারকে আমরা নিয়মিতই বলছি। সরকারও সেগুলোর অনেকটাই এরইমধ্যে সমাধান করেছে এবং বাকিগুলো নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সেগুলো আমরা বিরোধীদলীয় নেতাকেও অবহিত করেছি। তিনি সংসদে এ বিষয়ে কথা বলবেন এবং সরকারের সঙ্গে এ ব্যাপারে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন। বাটেক্সপো মেলার সমাপনীতে বিরোধীদলীয় নেতাকে দাওয়াত না দেওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দীর্ঘকালের ঐতিহ্য হলো এই মেলার উদ্বোধন দেশের প্রধানমন্ত্রী করেন এবং সমাপনীতে বিরোধীদলীয় নেতা প্রধান অতিথি থাকেন। এবারই তার ব্যতিক্রম হয়েছে এবং আমরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই নজিরবিহীন ঘটনার ব্যাপারে বিজিএমইএর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংবাদপত্রে বিবৃতি দিয়েছি। তিনি বলেন, এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি রাখাটা খানিকটা রাজনৈতিক ও সংকীর্ণ দলীয়করণের দৃষ্টিতেই দেশবাসী দেখবে। অর্থনীতির কোনো গুরুত্বপূর্ণ খাতকে রাজনীতিকরণ বা দলীয়করণের মধ্যে বন্দী করে ফেললে ব্যবসায়িক খাতে ভুল বার্তা যাবে। সেটি উল্লেখ করে আমরা বিবৃতিতে বলেছি, এখনো সময় আছে, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতাকে সমাপনীতে প্রধান অতিথি করার উদ্যোগ নিতে পারে। মতবিনিময় ও প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেবেন বলে জানানো হয়েছে। গণমাধ্যমে পাঠানো এক আমন্ত্রণপত্রে বলা হয়, ‘বিমানবন্দরে প্রবাসীদের নানা হয়রানি এবং মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা’ দায়ের ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।’ সংবাদ সম্মেলনে একজন রিপোর্টার ও একজন ফটো সাংবাদিক পাঠানোর জন্য গণমাধ্যমগুলোর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রণপত্রে স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।