ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবদল নেতার ফোন না ধরায় তিতাস কমিউটার ট্রেনের ম্যানেজার ও বুকিং ক্লার্ককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার হয়েছেন তিতাস কমিউটার ট্রেনের টিকিট কাউন্টার ম্যানেজার মহিউদ্দিন আহমেদ সজীব ও বুকিং ক্লার্ক মো. কাউসার হোসেন।
তাদের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হুদা সানি দীর্ঘদিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে তিতাস কমিউটার ট্রেনের এজেন্সির জন্য চেষ্টা করছেন। কিন্তু ট্রেনের ইজারাদার প্রতিষ্ঠান তাতে সাড়া দিচ্ছে না। সোমবার সকালে যুবদল নেতা সানি বুকিং ক্লার্ক মো. কাউসার হোসেনকে ফোন করে তার পরিচিত এক ব্যক্তিকে দুটি টিকিট দেওয়ার কথা বলেন। পরে বুকিং ক্লার্ক কাউসার স্টাফ রুম থেকে টিকিট কাউন্টারে আসার পথে স্টেশন এলাকায় অজ্ঞাত কয়েকজন ব্ল্যাকার টিকিটের জন্য তাকে মারধর ও হেনস্তা করেন। এর কিছুক্ষণ পর আবারও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওই বুকিং সহকারীকে বেশ কয়েকবার ফোন দেন। তিনি ফোন না ধরায় ক্ষুব্ধ হয়ে যুবদল নেতা সানি কাউন্টারের বুকিং সহকারী ও ম্যানেজারকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এ ঘটনার পর কাউন্টারের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় সার্বিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর কাউন্টারের কার্যক্রম ফের শুরু হয়। এতে তিতাস কমিউটার ট্রেনের যাত্রীরা টিকিটের জন্য চরম দুর্ভোগে পড়েন।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক মো. শাহ আলম মিয়া বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগীরা ফাঁড়িতে এসেছেন। লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী হামলাকারীদের শনাক্ত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে
তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হুদা সানি ।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।
জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের মাগুরা শহরের কেশব মোড় এলাকার বাড়িতে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। কয়েক দিন ধরে দোতলা ভবনটির বাইরের অংশে ভাঙা জ্বানালার কাজ করছেন শ্রমিকেরা। গত ৬ আগস্ট রাতে বাড়িটির প্রধান ফটকে আগুন দেওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনার প্রায় এক মাস পর সংস্কারকাজ শুরু হলো। হামলায় ভবনের কয়েকটি জানালা ও কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সোমবার সরেজমিনে ওই বাড়িতে গিয়ে শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা যায়। সংস্কারকাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা জানান, তারা শুধু ভবনের মেরামত ও রঙের কাজ করছেন। সাকিব আল হাসান দেশে ফিরবেন কিনা, কিংবা বাড়িতে পরিবারের কোনো সদস্য আসবেন কিনা, এ বিষয়ে কিছু জানেন না তারা। সংস্কার কাজ শেষ হলে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সিঁড়িঘর ও জানালার ভাঙা কাচের কিছু অংশ মেরামত করা হতে পারে বলেও জানান তারা। এদিকে হামলার পর মাগুরা সদর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছিলেন, ঘটনায় বাড়ির কয়েকটি জানালার কাচ ভেঙে গেলেও কেউ আহত হননি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, লোহার গেটের ওপর পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। তবে ঘটনাস্থলে পেট্রলবোমার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। সাকিবের বাড়িতে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা কৌতূহল তৈরি হয়েছে। একই সময়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গণে আলোচনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট ছড়িয়ে পড়ায় সাকিব আল হাসানও দেশে ফিরতে পারেন কিনা, তা নিয়ে আলোচনা দেখা যাচ্ছে। তবে তাঁর দেশে ফেরার বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সাকিব আল হাসান ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা–১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় তাঁর নামও আসামির তালিকায় রয়েছে। ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট ঢাকার আদাবর থানায় দায়ের করা ওই মামলায় মোট ১৫৬ জনকে আসামি করা হয়; তালিকায় সাকিবের নাম রয়েছে ২৮ নম্বরে
দীর্ঘ সাড়ে ১৪ বছর ধরে বিচার না পাওয়ায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির পরিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। রোববার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের কাছে এই অভিযোগ জমা দেন হত্যা মামলার বাদী নওশের রোমান। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে শেরেবাংলা নগর থানাধীন ৫৮/এ/২ পশ্চিম রাজাবাজারের ফ্ল্যাট থেকে সাংবাদিক দম্পতি সাগর ও রুনির লাশ উদ্ধার করা হয়। এনাম আহমেদ এ ভবনের সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। পরবর্তীতে তদন্তকারী সংস্থা র্যাব তাকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। সেই থেকে তিনি জেলহাজতেই আটক রয়েছেন। বর্তমানে হাইকোর্টের নির্দেশ মোতাবেক গঠিত টাস্কফোর্সের আওতায় পিবিআই মামলাটি তদন্ত করছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, তদন্তকালীন সময়ে অদ্যাবধি এ আসামির বিরুদ্ধে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণাদি পাওয়া যায়নি। ২০২৬ সালের ২২ এপ্রিল আদালতের আদেশের আলোকে কাশিমপুর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এনাম আহমেদকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদকালে তিনি কোনো প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট জবাব দিতে পারেননি, কোনকিছু মনে করতে পারছিলেন না এবং এলোমেলো উত্তর দিয়েছেন সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ছিলেন। রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে এ মামলা তদন্ত করছিল শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ। চার দিন পর মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার ৬২ দিনের মাথায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টে ব্যর্থতা স্বীকার করে ডিবি। এরপর আদালত র্যাবকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। তখন থেকে মামলাটির তদন্ত করছিল র্যাব। র্যাবের তদন্তকালে প্রতিবেদন জমার তারিখ পেছায় ১২৯ বার। দীর্ঘ সময় পার হলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি তারা।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রিক যাত্রাবাড়ীতে শিক্ষার্থী নাইম হাওলাদার (১৭) হত্যা এবং তারেক চৌকিদার হত্যাচেষ্টা মামলায় পটুয়াখালী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি ডেমরা জোনের সাব-ইনস্পেক্টর (নিরস্ত্র) নাজিম উদ্দিন ফকির আবেদনে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানার উত্তর কুতুবখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় আসামিদের ছোড়া গুলিতে নাইম হাওলাদার বাম কাঁধের সামনের দিকে গুলিবিদ্ধ হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ওই দিনই চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, তারেক চৌকিদার নামের এক শিক্ষার্থী যাত্রাবাড়ি এলাকায় বাসার ছাদে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটে। এ মামলায় সাবেক চিফ হুইপের যোগসাজশ রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, আ স ম ফিরোজ বর্তমানে যাত্রাবাড়ী থানার অন্য একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন। নাইম হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, অপরাপর আসামিদের গ্রেফতার এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেলহাজতে আটক রাখার প্রয়োজন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে নাইম হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন। এর আগে, ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।