জাতীয়

যুবকদের কর্মমুখী করতে হবে, রাজনৈতিক বিপ্লবের পাশাপাশি দেশও গড়তে হবে

মোঃ কামরুল ইসলাম নভেম্বর ১, ২০২৬ 0
যুবকদের কর্মমুখী করতে হবে, রাজনৈতিক বিপ্লবের পাশাপাশি দেশও গড়তে হবে
রাষ্ট্রপতি

 

যুবসমাজকে দেশের প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে তাদের কর্মমুখী করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে যুবসমাজকে কর্মমুখী করতে হবে এবং তাদের হাতে উৎপাদনের চালিকাশক্তি তুলে দিতে হবে। শুধু রাজনৈতিক বিপ্লব করে পরিবর্তন আনলেই দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়; এর পাশাপাশি দেশ গঠনেও সমান ভূমিকা রাখতে হবে।   

রোববার ( ১ নভেম্বর) সকালে জাতীয় যুব দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা দেশে একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য এতদিন সংগ্রাম করেছি । এখন আমাদের সংগ্রামটা এই দেশকে নির্মাণ করার জন্য। বিল্ড দিস কান্ট্রি, বিল্ড দিস নেশন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমি যখন এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আসছিলাম বাঁ দিকে তাকিয়ে আমাদের জাতীয় সংসদ ভবন দেখতে পেলাম। তখন আমার মনে পড়ে গেল, ১৯৭৭ সালে আমাদের একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথম এখানে যুব কনভেনশনের আয়োজন করেছিলেন। এরপরই এই যুব মন্ত্রণালয়, যুব অধিদপ্তর ও যুব কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তার প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।'

তিনি আরও বলেন,‘এরপর ডান দিকে যখন আমাদের ক্রিসেন্ট পার্কের দিকে তাকালাম, সেখানে দেখলাম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার এবং একই সঙ্গে আমাদের গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজার। আমার মনে পড়ল, তিনি এই দেশের যুবক-যুব নারীদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রত্যেক জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করেছিলেন। তার প্রতিও আমি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।'

তিনি বলেন, আমাদের যে জনসংখ্যার কাঠামো, এতে সবচেয়ে বড় অংশই হচ্ছে যুবক। এটাকে আমরা বলছি ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড। এটা আমাদের জন্য একটা বাড়তি পাওনা। আমাদের যুবকদের সংখ্যা অনেক বেশি। এটাকে যদি আমরা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি, তাহলে নিঃসন্দেহে আমরা একটা সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হব।

বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরের প্রস্তুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো এলডিসি (লিস্ট ডেভেলপড কান্ট্রি) থেকে গ্র্যাজুয়েশন করব। একটা সময় ছিল, সেখান থেকে আরও তিন বছর সময় দেওয়া হয়েছে আমাদের। আরও তিন বছর প্রস্তুতির জন্য। অর্থাৎ আমরা উন্নয়নশীল দেশ হব। সেই কারণে আমাদের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। সেই সক্ষমতা অর্জন করে আমরা একটা ডেভেলপিং কান্ট্রিতে পরিণত হব।'

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা হচ্ছে যুবসমাজের। এটা আমাদের সবচেয়ে বড় প্রধান চালিকাশক্তি। আমাদের ভবিষ্যৎ যাদের হাতে, ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রধান কারিগর তারাই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলতেন, যুবসমাজ আমাদের মূল্যবান মানবসম্পদ। আসলে এর চেয়ে বড় সত্য আর কিছু হতে পারে না।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমাদের একটা অঙ্গীকার আছে, কমিটমেন্ট আছে। কমিটমেন্টটা করেছেন আমাদের বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। তিনি বারবার বলছেন, যুবকদের সামনে এগিয়ে আসতে হবে। দেশ গড়ার ক্ষেত্রে, দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বক্ষেত্রে তাদের প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেছেন, সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ। এটাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত। এমন বাংলাদেশ গড়তে যুবকদেরই এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে যুবসমাজের ভাগ্য পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই।’

জাতীয় যুব দিবসের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আজকে আমি আনন্দিত হয়েছি। এখানে আসার পরে কয়েকটি স্টল দেখছিলাম। আমাদের যুবক ও যুব নারীদের কাজ দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি, উৎসাহিত হয়েছি, অনুপ্রাণিত হয়েছি। আমাদের ছেলেমেয়েরা এত ভালো কাজ করছে। তারা অত্যন্ত স্বল্প পুঁজিতে কাজ করে এখন বিদেশে রপ্তানি করছে। তারা মার্কেট দখল করে নিচ্ছে। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তারা। একজনকে দেখলাম, তিনি খাবার তৈরি করেন, মিষ্টি তৈরি করেন, বিভিন্ন রকম খাবার তৈরি করেন। তিনি এত আয় করেছেন যে শুধু পরিবারকে সাহায্যই করেননি, তাঁর মেয়েকে বিদেশে পড়াশোনার জন্য পাঠিয়েছেন। এটা নিঃসন্দেহে আনন্দের।’

নিজের এলাকা ও দেশের বেকারত্ব পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি যখন আমার এলাকায় যাই, তখন খোঁজ করার চেষ্টা করি আমাদের তরুণরা কে কী করছে। বেশিরভাগই বেকার। সবাই আসে চাকরির জন্য। বলে, স্যার, চাকরি দেন, চাকরি দেন। খুব খারাপ লাগে যখন দেখি, আমাদের ক্লিনার পদেও এমএ পাস করা, সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণরা কাজ পাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘এই ক্ষেত্রে যুব অধিদপ্তর যে কাজগুলো করছে, সেগুলো যদি সত্যিকার অর্থে আরও গভীরভাবে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে আমরা অনেকটা এগিয়ে যেতে পারব। যুব অধিদপ্তরের যে কার্যক্রমগুলো আছে, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য বিষয়, ঋণ দেওয়ার যে ব্যবস্থা রয়েছে, এগুলোকে যদি আরও বেশি উদ্যোগ নিয়ে যথার্থ চ্যানেলের মধ্যে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে আমরা বেকারত্বের সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারব। আত্মনির্ভরশীল হতে পারব। আমরা একটা সেলফ এমপ্লয়মেন্ট গড়ে তুলতে পারব।’ 

তিনি বলেন, ‘সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে, যেসব উদ্যোক্তা আছেন তাদের সাহায্য করা, যতটা সম্ভব প্রশিক্ষণ দেওয়া। সেই সঙ্গে তাদের এমন একটা ন্যূনতম মূলধন দেওয়া, যাতে করে তারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন। এই কাজটা আমাদের করা দরকার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যারা ঋণ দিচ্ছেন, তারা শুধু বড় বড় কোম্পানিগুলোকে ঋণ দিচ্ছেন। ঠিক আছে, সেটাও প্রয়োজন। কিন্তু একই সঙ্গে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের যদি আমরা এভাবে সাহায্য করতে পারি, ঋণ দিতে পারি, তাহলে সবচেয়ে বেশি উপকার তারা পাবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আজকে আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করে ফ্যাসিস্ট একটা শক্তিকে সরিয়ে দিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার একটা সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছি। এই সুযোগটা আমাদের কাজে লাগাতে হবে। আজকে পার্লামেন্ট হয়েছে, নির্বাচন হয়েছে। আমার মনে হয়, সব রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে আমাদের যুবসমাজ বিষয়টি লক্ষ্য করবেন। এখন পার্লামেন্টকেন্দ্রিক রাজনীতি হওয়া উচিত। পার্লামেন্টের মধ্য দিয়ে সমস্ত সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।’

শিক্ষাব্যবস্থাকে কর্মসংস্থানমুখী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আরেকটা সমস্যা আছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা। আমি অনুরোধ করব, শিক্ষাব্যবস্থাটাকে আসলে নিড বেইসড করা দরকার। প্রয়োজনের উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা হওয়া দরকার। বিএ পাস করে কেউ চাকরি পায় না। অথচ বাবা-মায়ের জমি বিক্রি করে সবাই বিএ পাস করছে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে দেখবেন, কলেজগুলো, ইউনিভার্সিটিগুলো সব এটাই করছে। অথচ ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট বা বৃত্তিমূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংখ্যা অনেক কম।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের একটা বিরাট অংশ দেশের বাইরে যায়, রেমিট্যান্স পাঠায়। এটা আমাদের আয়ের একটা বিরাট উৎস। আমরা যদি শিক্ষিত ও দক্ষ শ্রমিক দেশের বাইরে পাঠাতে পারি, তাহলে আমরা অনেক বেশি বাজার দখল করতে পারব, অনেক বেশি আয় করতে পারব। এই বিষয়গুলো আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। সরকারও দেখছে। এগুলো আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আমাদের সমস্যাগুলো মিটিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’ 

যুবকদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কখনোই হতাশ হতে পারি না। আমরা হতাশ জাতি নই। আমরা সব সময় লড়াই করি, সংগ্রাম করি। এই সংগ্রাম আমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’ 

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সম্ভাবনার নতুন শ্রমবাজার সার্বিয়া

মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক  

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জাতীয়

View more
ডিমলায় যথাযোগ্য মর্যাদায়  জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ পালিত
ডিমলায় যথাযোগ্য মর্যাদায়  জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ পালিত

  মোঃ লিখন ইসলাম (নীলফামারী প্রতিনিধি) :   দক্ষ "যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ " এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যথাযোগ্য মর্যাদা জাতীয় যুব দিবস পালিত হয়। আজ রবিবার (১লা নভেম্বর) নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলা চত্তরে  র‍্যালী শেষে উপজেলা হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানের জামান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথী আব্দুস সাত্তার জাতীয় সংসদ সদস্য (ডোমার -ডিমলা) নীলফামারী -১। আরো উপস্থিত ছিলেন ডিমলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন, ডিমলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক রইসুল আলম চৌধুরী,  বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডিমলা উপজেলা সেক্রেটারি কাজী রোকনুজ্জামান বকুল, গণঅধিকার পরিষদের ডিমলা উপজেলা সভাপতি মোঃ মাসুদ হোসেন, ছাত্রনেতা গন,  আরো উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক, সুধীসমাজ যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হওয়া ব্যক্তিগণ। আলোচনা সভার শেষে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

News নভেম্বর ১, ২০২৬ 0
রাজধানীতে ফ্র্যাঞ্চাইজ পদ্ধতিতে বাস চলাচল কার্যক্রমের উদ্বোধন

রাজধানীতে ফ্র্যাঞ্চাইজ পদ্ধতিতে বাস চলাচল কার্যক্রমের উদ্বোধন

সাত দশকেও উন্নয়নের ছোঁয়া নেই, কাটেনি সংকট

সাত দশকেও উন্নয়নের ছোঁয়া নেই, কাটেনি সংকট

যুবকদের কর্মমুখী করতে হবে, রাজনৈতিক বিপ্লবের পাশাপাশি দেশও গড়তে হবে

যুবকদের কর্মমুখী করতে হবে, রাজনৈতিক বিপ্লবের পাশাপাশি দেশও গড়তে হবে

মঙ্গলবার সোলার এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
মঙ্গলবার সোলার এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

  দেশে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে আগামীকাল মঙ্গলবার ঢাকায় শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’। রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ এক্সপোর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সম্মতি দিয়েছেন তিনি। রোববার বেলা ১১টায় বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) যৌথভাবে এ এক্সপোর আয়োজন করছে। সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ বলেন, এক্সপোর মূল প্রতিপাদ্য ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’। দেশের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ, বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এ আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য। লিখিত বক্তব্যে বিদ্যুৎ সচিব বলেন, সৌরবিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণে সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি এবং ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’ গ্রহণ। এ ছাড়া ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনার বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। মিরানা মাহরুখ বলেন, সৌরবিদ্যুৎ ও ব্যাটারিসংশ্লিষ্ট পণ্যের আমদানি শুল্ক ১ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি এসব পণ্যের ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) পুরোপুরি মওকুফ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদে নিজস্ব বিনিয়োগ ছাড়াই তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে অপারেশনাল এক্সপেনডিচার (ওপেক্স) মডেল উৎসাহিত করা হচ্ছে। এ ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব মূলধন বিনিয়োগ করে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে না। দুই দিনব্যাপী এক্সপোতে সৌরবিদ্যুৎ খাতের আধুনিক প্রযুক্তি ও পণ্য প্রদর্শন করা হবে। এর মধ্যে থাকবে সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তি, উন্নত ব্যাটারি সংরক্ষণব্যবস্থা ও বিভিন্ন আধুনিক সৌর সরঞ্জাম। পাশাপাশি প্রকল্পে অর্থায়ন, সহজ শর্তে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা দিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রকল্প উন্নয়নকারী ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নেবে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এক্সপোর অংশ হিসেবে ‘পলিসি, পিপল অ্যান্ড ক্যাপিটাল ফর বাংলাদেশের সোলার রেভল্যুশন’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যে চারটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এসব সেমিনারে জাতীয় পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ বিপ্লবের পথনকশা, সরকারি প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ এবং আবাসিক ও শিল্প খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ও কার্বন রাজস্বের মাধ্যমে অর্থায়নের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হবে। সেমিনারগুলোতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি সরবরাহকারী, বিনিয়োগকারী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। তারা সৌরবিদ্যুৎ খাতের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, নীতিগত পরিবেশ ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবেন। সংবাদ সম্মেলনে আশা প্রকাশ করা হয়, এ এক্সপোর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ খাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বাড়বে, নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও টেকসই অর্থনীতির বিকাশেও এ আয়োজন ভূমিকা রাখবে। 

News নভেম্বর ১, ২০২৬ 0
ইন্টারপোলের বায়োসিকিউরিটি সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্স গেলেন আইজিপি

ইন্টারপোলের বায়োসিকিউরিটি সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্স গেলেন আইজিপি

পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন

পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন

প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, ফিরতি যাত্রায় বিলম্ব

প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, ফিরতি যাত্রায় বিলম্ব

চার দিনের জাপান সফর শেষে রাতে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী
চার দিনের জাপান সফর শেষে রাতে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী

  চার দিনের জাপান সফর শেষে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  সফর সূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিশেষ ভিভিআইপি ফ্লাইট টোকিওর হানেদা বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০ টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। চার দিনের এই সংক্ষিপ্ত সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক।  দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা।  গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে দুই দেশের পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সফরে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি কৃষি, অবকাঠামো উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও শিল্প খাতে সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। জাপানের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি, দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী জাপানের সম্রাট নারুহিতোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে অংশ নিয়ে তিনি দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সামনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরেন।  সফরের শেষ পর্যায়ে জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও যোগ দেন তিনি। জাপান বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন বলেন, অবকাঠামো, শিল্পায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপান সরকারের সহযোগিতা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নতুন এই সফরের মধ্য দিয়ে সেই সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, কূটনৈতিক বৈঠক, সমঝোতা স্মারক কিংবা বিনিয়োগের আশ্বাসই শেষ কথা নয়। এসব উদ্যোগের বাস্তবায়ন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের মধ্য দিয়েই সফরের সাফল্য মূল্যায়িত হবে। বিশেষ করে জাপানি বিনিয়োগ কত দ্রুত বাস্তব প্রকল্পে রূপ নেয়, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসে কি না এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ কতটা বাড়ে—এসব বিষয় আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

News অক্টোবর ২৯, ২০২৬ 0
৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের সব বই সরবরাহের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের সব বই সরবরাহের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

অবসরে যাচ্ছেন গণপূর্তের দুই অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী

অবসরে যাচ্ছেন গণপূর্তের দুই অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী

‘অভিযোগ আছে, কেউ কেউ দুই-তিন ঘণ্টা কোর্ট করেন’

‘অভিযোগ আছে, কেউ কেউ দুই-তিন ঘণ্টা কোর্ট করেন’

0 Comments