জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়ে নিম্নমানের ঔষধ বাজারে বহাল তবিয়তে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) এবং লাইসেন্সিং অথরিটি মোহা. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মেসার্স বায়োজেন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সঙ্গে যোগসাজশ, ঘুষ-দুর্নীতি এবং মান-বহির্ভূত ঔষধর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের এপ্রিল মাসে। জাতীয় ঔষধ নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষাগার (NDCL), মহাখালী, ঢাকা কর্তৃক বায়োজেন ফার্মাসিউটিক্যালসের উৎপাদিত বহুল ব্যবহৃত দুটি ঔষধ—Maxcoral-DX Tablet এবং Maxcoral-D Tablet-এর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। গত ৬ এপ্রিল প্রকাশিত পরীক্ষাগারের প্রতিবেদনে উভয় ঔষধর নির্দিষ্ট ব্যাচকে নির্ধারিত মানদণ্ডের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মান-বহির্ভূত হিসেবে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, Maxcoral-DX Tablet-এর (ব্যাচ নং- 5K17274) ঘোষিত ভিটামিন-ডি৩ প্রতি ট্যাবলেটে ৪০০ IU থাকার কথা থাকলেও পরীক্ষায় পাওয়া গেছে মাত্র ২৭৩.৮১ IU, যা প্রায় সাড়ে একত্রিশ শতাংশ কম। একইভাবে Maxcoral-D Tablet-এর (ব্যাচ নং- 5K12276) ঘোষিত ভিটামিন-ডি৩ ২০০ IU-এর বিপরীতে পাওয়া যায় ১৩৫.৫২ IU, অর্থাৎ প্রায় সাড়ে বত্রিশ শতাংশ ঘাটতি। ড্রাগ অ্যানালিস্ট তার প্রতিবেদনে সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, পরীক্ষিত নমুনাগুলো নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী নয় এবং সম্পূর্ণ মান-বহির্ভূত।
এই ভয়াবহ মানহীনতা প্রমাণিত হওয়ার পর ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ওই ঔষধ দুটির নিবন্ধন সাময়িকভাবে স্থগিত করে এবং অবিলম্বে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মান-বহির্ভূত ঔষধর বিষয়ে ঔষধ আদালতে মামলা দায়েরের উদ্যোগ নিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিপত্তি ঘটে এরপর থেকেই।
অভিযোগ উঠেছে, লাইসেন্সিং অথরিটি মোহাঃ আলমগীর হোসেনের দায়িত্বকালীন সময়ে এই আদেশের পরবর্তী বাস্তবায়ন রহস্যজনকভাবে থমকে যায়। ঔষধ আদালতে নিয়মিত মামলা দায়েরের কথা থাকলেও তা ফাইলবন্দী করে রাখা হয় কিংবা নামমাত্র পদক্ষেপে ঝুলিয়ে রাখা হয়। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, নিবন্ধন স্থগিত থাকার পরেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি অবৈধ উপায়ে তাদের উৎপাদিত মানহীন ঔষধ বাজারে সরবরাহ ও বিক্রি অব্যাহত রেখেছে।
প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি পরীক্ষাগারে প্রমাণিত মানহীন ও জীবনঘাতী উপাদানের ঘাটতিযুক্ত ঔষধ জব্দের পর এবং আদালতের মামলার নির্দেশ থাকার পরেও কোন অদৃশ্য শক্তির বলে দায়িত্বরত মহাপরিচালক এই প্রভাবশালী ঔষধ কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিলেন না? এর নেপথ্যে মোহাঃ আলমগীর হোসেন ও বায়োজেন ফার্মাসিউটিক্যালসের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো অনৈতিক আর্থিক লেনদেন, ঘুষ বা বড় ধরনের যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা নিয়ে এখন চারদিকে গুঞ্জন চলছে।
জনস্বাস্থ্য ও সরকারি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার এমন নগ্ন লঙ্ঘন রোধে এবং দুর্নীতির মূল উদঘাটন করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের আবেদন দাখিল করা হয়েছে। আবেদনে দাপ্তরিক নথি সংগ্রহ, মামলা না হওয়ার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও ব্যাংক হিসাব যাচাই এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করা এই চক্রের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।
এ বিষয়ে জানতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর মহাপরিচালক মোহা. আলমগীর হোসেন সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
নিজস্ব প্রতিবেদক কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন সোহাগের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, জন্মনিবন্ধন অনুমোদন ও সংশোধনকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেন, টিসিবির আবেদন তদন্তে অর্থ আদায়, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম, সরকারি অর্থ বণ্টনে কমিশন দাবি এবং অধস্তন কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া কুমিল্লা টাউন হল এলাকায় অবস্থিত কুমিল্লা মিনিস্টেরিয়াল অফিসার্স ক্লাবে জুয়ার আসর পরিচালনা ও তাতে নিয়মিত অংশগ্রহণের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রাম পুলিশদের প্রশিক্ষণ বাবদ বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে অর্থ সংগ্রহ এবং বিতরণ করা অর্থের হিসাব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন। অভিযোগকারীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, প্রশিক্ষণের জন্য ছয়টি ইউনিয়ন থেকে মোট ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হলেও ৪৩ জন গ্রাম পুলিশকে জনপ্রতি ১ হাজার ৪০০ টাকা করে দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সে হিসাবে বিতরণ করা অর্থের পরিমাণ ৬০ হাজার ২০০ টাকা। অবশিষ্ট ৪ লাখ ১৯ হাজার ৮০০ টাকা কোথায় ব্যয় হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ছাড়া সম্পত্তি হস্তান্তর করের এক শতাংশ খাত থেকে ছয়টি ইউনিয়নে প্রায় ১০ কোটি টাকা বণ্টনের প্রক্রিয়ায় চার শতাংশ কমিশন দাবির অভিযোগও সামনে এসেছে। অন্যদিকে, প্রায় ১৬০টি টিসিবির আবেদন তদন্তের সময় আবেদনকারীদের কাছ থেকে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। চাকরিতে যোগদান ও বদলি নিয়ে প্রশ্ন অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মো. আমির হোসেন সোহাগ ২০১২ সালে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনে চাকরিতে যোগদান করেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালে কুমিল্লার ঠিকানা ব্যবহার করে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনে বদলি হয়ে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর ব্যবহৃত ঠিকানাটি যথাযথ ছিল কি না, বদলির আবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিতে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সরকারি রেকর্ডের কোনো অসংগতি ছিল কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। সোহাগের অফিসে উপস্থিতি ও কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোহাগের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সঙ্গে প্রায়ই অশোভন আচরণের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর আচরণের কারণে অধস্তন কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত দাপ্তরিক সময়ে অফিসে উপস্থিত না থাকার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের একাংশের দাবি, তিনি সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লা মিনিস্টেরিয়াল অফিসার্স ক্লাবে অবস্থান করেন এবং পরদিন দুপুরের দিকে অফিসে আসেন। কুমিল্লা মিনিস্টেরিয়াল অফিসার্স ক্লাবে জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ মো. আমির হোসেন সোহাগের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, কুমিল্লা টাউন হল এলাকায় অবস্থিত কুমিল্লা মিনিস্টেরিয়াল অফিসার্স ক্লাবে মাহবুব নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে জুয়ার আসর পরিচালিত হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই আসর থেকে সোহাগ প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার টাকা করে পান। পাশাপাশি প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তিনি নিজেও সেখানে জুয়া খেলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্লাবের ভেতরে তাঁর জন্য শীতাতপনিয়ন্ত্রিত একটি কক্ষ বরাদ্দ রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। টিসিবির আবেদন তদন্তে অর্থ আদায়ের অভিযোগ সোহাগের বিরুদ্ধে টিসিবির পণ্যপ্রাপ্তির আবেদন যাচাই ও তদন্তের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোহাগের বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৬০টি টিসিবির আবেদন তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আসে। এসব আবেদন যাচাইয়ের সময় প্রত্যেক আবেদনকারীর কাছ থেকে অফিস খরচের নামে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। উপজেলায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ সোহাগের বিরুদ্ধে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত পরিচ্ছন্নতাকর্মী রানী হরিজনের মেয়ে রাশিকে ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে উপজেলা পরিষদে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি, পরীক্ষা নেওয়া হয়নি এবং উপজেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট সদস্য ও কর্মকর্তাদের অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। অভিযোগকারীদের দাবি, উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোহাগের তদবিরে নিয়োগটি সম্পন্ন হয় এবং নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির মাসিক বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ হাজার টাকা। অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে আগে থেকেই দুজন অফিস সহায়ক, একজন মালি ও একজন আনসার সদস্য কর্মরত রয়েছেন। এ অবস্থায় নতুন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা, অনুমোদিত জনবল কাঠামো এবং বেতন-ভাতার অর্থের উৎস পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সম্পত্তি হস্তান্তর করের অর্থ বণ্টনে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ সোহাগের বিরুদ্ধে সম্পত্তি হস্তান্তর করের এক শতাংশ খাত থেকে ছয়টি ইউনিয়নে প্রায় ১০ কোটি টাকা বণ্টনের প্রক্রিয়ায় চার শতাংশ কমিশন বা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন সোহাগের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, অর্থ বণ্টনের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও অন্যদের কাছে কমিশন দাবি করা হয়। এ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হওয়ায় অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশদের প্রশিক্ষণের অর্থের হিসাব নিয়ে গুরুতর অভিযোগ সোহাগের বিরুদ্ধে গত ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে গ্রাম পুলিশদের কর্মদক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই প্রশিক্ষণের অর্থ সংগ্রহ ও বিতরণ নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন সোহাগ ছয়টি ইউনিয়ন থেকে প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য ৮০ হাজার টাকা করে মোট ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন। অন্যদিকে, অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি ইউনিয়নের মোট ৪৩ জন গ্রাম পুলিশকে প্রশিক্ষণ ভাতা ও যাতায়াত ভাতা বাবদ জনপ্রতি ১ হাজার ৪০০ টাকা করে দেওয়া হয়। হিসাবটি হলো: ছয়টি ইউনিয়ন থেকে সংগৃহীত অর্থ: ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া গ্রাম পুলিশ: ৪৩ জন। জনপ্রতি প্রদত্ত অর্থ: ১ হাজার ৪০০ টাকা। মোট বিতরণ করা অর্থ: ৬০ হাজার ২০০ টাকা। সংগৃহীত ও বিতরণ করা অর্থের পার্থক্য: ৪ লাখ ১৯ হাজার ৮০০ টাকা। জন্মনিবন্ধন অনুমোদন ও সংশোধনে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সোহাগের বিরুদ্ধে জন্মনিবন্ধন অনুমোদন এবং বয়স সংশোধনের কাজকে কেন্দ্র করেও উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোহাগের বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, জন্মনিবন্ধন-সংক্রান্ত কাজে প্রতিদিন ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত অবৈধ অর্থ লেনদেন হয়। ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, হিসাব সহকারী ও উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে এসব লেনদেন পরিচালিত হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আমির হোসেন সোহাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে যেসব নথি ও বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন ১. মো. আমির হোসেন সোহাগের চাকরিতে যোগদান, ব্যক্তিগত নথি, ঠিকানাসংক্রান্ত তথ্য ও বদলির সরকারি আদেশ। ২. কুমিল্লা মিনিস্টেরিয়াল অফিসার্স ক্লাবে জুয়ার আসর পরিচালনা, অর্থ লেনদেন এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ। ৩. টিসিবির প্রায় ১৬০টি আবেদন তদন্তের সময় আবেদনকারীদের কাছ থেকে কোনো অননুমোদিত অর্থ নেওয়া হয়েছিল কি না এবং তদন্ত প্রতিবেদন কীভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল। ৪. ২০২৬ সালের আগস্টে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের বৈধতা, নিয়োগবিধি, অনুমোদন, নিয়োগ আদেশ এবং বেতন-ভাতার অর্থের উৎস। ৫. সম্পত্তি হস্তান্তর করের এক শতাংশ খাত থেকে ছয়টি ইউনিয়নে অর্থ বণ্টনের অনুমোদন, বরাদ্দ ও ছাড়ের নথি এবং চার শতাংশ কমিশন দাবির অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না। ৬. গ্রাম পুলিশদের প্রশিক্ষণের জন্য সংগৃহীত ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার পূর্ণাঙ্গ হিসাব, ব্যয়ের ভাউচার, অর্থ বিতরণের তালিকা এবং অবশিষ্ট অর্থের অবস্থান। ৭. জন্মনিবন্ধন অনুমোদন ও বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে অনিয়ম, সরকারি ফির অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ। ৮. অধস্তন কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং দাপ্তরিক সময়ে উপস্থিতি-সংক্রান্ত অভিযোগ যাচাইয়ে হাজিরা রেজিস্টার, দায়িত্ব বণ্টনের নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য। ৯. অভিযোগগুলোর বিষয়ে উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন সোহাগের লিখিত বক্তব্য এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা। একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগে অনিয়ম এবং সরকারি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের মতো অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে গ্রাম পুলিশদের প্রশিক্ষণের অর্থের হিসাব, টিসিবির আবেদন তদন্তে কথিত অর্থ আদায়, জন্মনিবন্ধন অনুমোদনকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর করের অর্থ বণ্টনে কমিশন দাবির বিষয়গুলো নথিনির্ভর তদন্তের দাবি রাখে। আমির হোসেন সোহাগের অনিয়মের বিষয়ে কুমিল্লা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব তালুকদার জানান, ‘আপনি যে অভিযোগগুলো উপস্থাপন করেছেন, এই অভিযোগগুলো আমি এই উপজেলা অফিসটিতে যোগদান করার আগের বিষয়।’ তিনি জানান, ‘আমি আসার আগে কী হয়েছে, তা তো জানি না। তবে যোগদান করার পর স্বচ্ছতার সঙ্গে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করার চেষ্টা করছি।’ অভিযোগের বিষয়ে আমির হোসেন সোহাগের বক্তব্য জানতে হোয়াটসঅ্যাপে নক দিলেও তিনি কোনো রিপ্লাই দেননি। কুমিল্লা সদর উপজেলায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িত আমির হোসেন সোহাগ এবং মোর্শেদ-এর বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। তাঁদের অনিয়ম বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে নিউজ চলমান থাকবে।
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ছোট শালঘর এলাকায় সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে একটি ট্রাকের চাপায় ৮ বছর বয়সী মিনহা আক্তার মারা গেছেন।মৃত মিনহা আক্তার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাড়ানী এলাকার মনির হোসেনের মেয়ে। তার মা জুলেখা আক্তার দেবিদ্বারের ছোট শালঘর গ্রামের মো. শাহ আলমের মেয়ে।জানা গেছে, মিনহা তার মা ও বোনের সঙ্গে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। সোমবার সকালে জুলেখা আক্তার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করান। চিকিৎসা শেষে তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ছোট শালঘরে ফেরার সময় মিনহা মহাসড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। তখন একটি দ্রুতগতির ট্রাক তাকে চাপা দেয়।মিরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ট্রাকটি আটক করা হয়েছে এবং নিহত শিশুর লাশ দেবিদ্বার থানায় রাখা হয়েছে।এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
রপ্তানিমুখী দুটি পোশাক কারখানার বিরুদ্ধে বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা কাপড় অবৈধভাবে খোলাবাজারে বিক্রি, কম মূল্যে রপ্তানি দেখানো এবং মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড ও লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেড। পৃথক অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠান দুটির মোট ১০২ কোটি ৫৭ লাখ ১৩ হাজার ১২৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করেছে সংস্থাটি। সোমবার (২ নভেম্বর) সিআইসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭২০ টাকা এবং লিশা টেক্সের বিরুদ্ধে ৭ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করা হয়েছে। সিআইসির অনুসন্ধানে দেখা যায়, রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড ৪১টি ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশনের (ইউডি) আওতায় বন্ড সুবিধায় মোট ২ হাজার ৮৬২ মেট্রিক টন ওভেন পলিয়েস্টার কাপড় আমদানি করে। কিন্তু আমদানি করা কাপড়ের প্রায় ৭৮ শতাংশ বা ২ হাজার ২৩৭ মেট্রিক টনের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এসব কাপড় কারখানার গুদামে নেই, এমনকি রপ্তানির হিসাবেও পাওয়া যায়নি। সিআইসির ধারণা, বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে কাপড়গুলো অবৈধভাবে সরিয়ে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে। অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, যে ৩১টি ইউডির বিপরীতে কোনো রপ্তানি হয়নি, সেগুলোর মধ্যে ৩০টিতে আমদানি করা কাপড়ের পুরোটাই অবৈধভাবে অপসারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, আংশিক রপ্তানির ১০টি এন্ট্রিতেও আমদানি করা কাপড়ের প্রায় ৫৩ শতাংশের হিসাব মেলেনি। কারখানার পুরো প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করে সিআইসি ৬৯ হাজার ৩৮২ কেজি সুতা, ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯৭ পিস তৈরি পোশাক এবং মাত্র ২৫ হাজার ৫৩৩ দশমিক ৫০ কেজি ওভেন পলিয়েস্টার কাপড়ের মজুদ পেয়েছে। অথচ আমদানি করা কাপড়ের তুলনায় অবশিষ্ট মজুদের পরিমাণ মাত্র শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধির লিখিত বক্তব্যের সঙ্গেও আমদানি তথ্যের অসংগতি পাওয়া গেছে। প্রতিনিধি জানান, গত এক মাসে এ ধরনের কাপড় দিয়ে কোনো পোশাক উৎপাদন বা রপ্তানি হয়নি। অথচ বিল অব এন্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই সংশ্লিষ্ট ইউডিগুলোর বিপরীতে প্রায় ৩৯০ মেট্রিক টন কাপড় আমদানি করা হয়েছে। সিআইসির অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, ৪১টি ইউডির আওতায় আমদানি করা মোট কাপড়ের প্রায় ৮২ শতাংশ ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের শুরুর মধ্যে আমদানি করা হয়েছে। অবৈধভাবে অপসারিত কাপড়ের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ১৩৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এর বিপরীতে রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেডের ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭২০ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকি উদঘাটন করা হয়েছে। অন্যদিকে, লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেডের বিরুদ্ধে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার কেজি পলিয়েস্টার কাপড়ের হদিস না পাওয়ার তথ্য পেয়েছে সিআইসি। এসব কাপড় বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে অবৈধভাবে সরিয়ে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। শুধু এ খাতেই প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকি হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনুমোদনের চেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি করলেও চুক্তিমূল্যের চেয়ে কম রপ্তানিমূল্য দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউডির বাইরে স্থানীয় ঋণপত্রের মাধ্যমে কাঁচামাল সংগ্রহ এবং বাধ্যতামূলক ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত পূরণ না করার তথ্যও পেয়েছে সিআইসি। অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, চার লাখের বেশি পিস পোশাকের আনুষঙ্গিক কাঁচামাল অনুমোদন ছাড়াই স্থানীয় বাজার থেকে কেনা হয়েছে এবং এসব ক্রয়ের বিপরীতে মূসক দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার কিট ব্যাগ সরবরাহ করে মূসক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে লিশা টেক্সের মোট ৭ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করা হয়েছে। সিআইসি জানায়, দুটি প্রতিষ্ঠানের কারখানায় সরেজমিন পরিদর্শন করে কাঁচামালের মজুদ যাচাই করা হয়েছে। পাশাপাশি আমদানি ও রপ্তানির তথ্যের সঙ্গে কারখানার মজুদের হিসাব মিলিয়ে দেখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক, অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তথ্যও পর্যালোচনা করা হয়েছে। বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, শুল্কমুক্ত কাঁচামাল অবৈধভাবে খোলাবাজারে বিক্রি এবং রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ও অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল।