পর্ষদে দীর্ঘদিনের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, আদালতের রায় ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা বারবার অমান্য করা এবং বৈদেশিক মুদ্রা ও ঋণসংক্রান্ত অনিয়মের পুনরাবৃত্তি; সব মিলিয়ে দেশের সবচেয়ে পুরোনো বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান পূবালী ব্যাংকের সুশাসন গভীর প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
অনুসন্ধানে ব্যাংকটিতে গুরুতর অনিয়ম বের হলেও তদন্ত স্থগিত হয়ে যাওয়া এবং যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় এটা প্রমাণ হয় যে, পরিচালনা পর্ষদে দীর্ঘদিনের ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা ও দুর্বল তদারকি পূবালী ব্যাংককে ঠেলে দিয়েছে কাঠামোগত সংকটের দিকে।
এই সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন এবং আমদানি ঋণপত্র (এলসি) নিষ্পত্তিতে ধারাবাহিক অনিয়ম। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো বারবার এসব সমস্যা চিহ্নিত করলেও শেষ পর্যন্ত সমাধান করা হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্টের (এফআইাসিএসডি) আংশিক অনুসন্ধানে দেখা যায়, পূবালী ব্যাংকের কয়েকটি শাখা ডলার বিনিময়ের ক্ষেত্রে ঘোষিত বাজারদরের চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করেছে।
এই অতিরিক্ত অর্থ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে না গিয়ে অন্য এক গ্রাহকের হিসাবে জমা হয়েছে ; যা ব্যাংকিং আইন ও বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে টাইমস অব বাংলাদেশ এই অনুসন্ধান প্রতিবেদনটি পেয়েছে।
২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে তৈরি করা অসম্পূর্ণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বরিশাল বাজার রোড শাখার গ্রাহক মোহাম্মদী ইলেকট্রিক ওয়্যার অ্যান্ড মাল্টি প্রোডাক্টস লিমিটেড ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ডলারের একটি আমদানি এলসি খোলে। এলসির দায় নিষ্পত্তির সময় ব্যাংকটি বাজারদরের তুলনায় প্রতি ডলারে প্রায় ৬ দশমিক ৫ টাকা বেশি নেয়। ওই অতিরিক্ত অর্থ সবমিলিয়ে হয় প্রায় ১৪ দশমিক ৫ লাখ টাকা। যা একই দিনে মতিঝিল করপোরেট শাখার গ্রাহক রিফাত গার্মেন্টস লিমিটেডের হিসাবে জমা করা হয়।
রিফাত গার্মেন্টস হা-মীম গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান দ্যাটস ইট ফ্যাশনস লিমিটেড পূবালী ব্যাংকের বড় শেয়ারহোল্ডার। দ্যাটস ইট ফ্যাশনসের প্রতিনিধি আবদুর রাজ্জাক মন্ডল ব্যাংকটির পর্ষদের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তদন্তকারীরা দেখেছেন, এই অতিরিক্তি দরে ডলার লেনদেন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। একই বছরে সিলেট শাখায় মেসার্স হাসান অ্যান্ড ব্রাদার্সের খোলা চারটি আমদানি এলসিতেও একই নমুনা পাওয়া গেছে, যেখানে ঘোষিত ডলারদরের বাইরে অতিরিক্ত ৮ দশমিক ৮০ লাখ টাকা আদায় করে রিফাত গার্মেন্টসের চলতি হিসাবে জমা করেছে পূবালী ব্যাংক।
এফআইসিএসডি’র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, একাধিক শাখা ও গ্রাহকের ক্ষেত্রে প্রতি ডলারে ৬ দশমিক ৫ টাকা থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে এবং প্রায় সব ক্ষেত্রেই উদ্বৃত্ত অর্থ রিফাত গার্মেন্টসের হিসাবে জমা হয়েছে।
এই অর্থপ্রবাহের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে পূবালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান দলকে জানিয়েছে, এলসি খোলা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে রিফাত গার্মেন্টসের ব্যবসায়িক লেনদেন রয়েছে। তবে বৈধ লেনদেন প্রমাণে ভ্যাট চালান বা অন্য নথি চাইলে ব্যাংক তা উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ঘোষিত দরের বাইরে অর্থ আদায় করে তা তৃতীয় পক্ষের হিসাবে স্থানান্তর করা অত্যন্ত উচ্চঝুঁকির মানি লন্ডারিং। কারণ এসব অর্থের কোনো বৈধ উৎস বা করসংক্রান্ত নথি শনাক্ত করা যায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ অপারেশন ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা আলাদাভাবে একে বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তদন্তকারীরা জানান, প্রায় ৫০টি এলসিতে একই ধরনের অনিয়ম শনাক্ত হয়েছে। তবু মাত্র পাঁচটি এলসি বিশ্লেষণের পরই এফআইসিএসডি’র অনুসন্ধান থামিয়ে দেওয়া হয়।
আংশিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা প্রতিবেদনটি ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দপ্তরে পড়ে রয়েছে। এতে চিহ্নিত আইন-লঙ্ঘনের অপরাধে কোনো দৃশ্যমান শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে এ ধরনের অনিয়ম পূবালী ব্যাংকের জন্য নতুন নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এর আগের এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত একটি শাখা সরকারি নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দামে ডলার কিনে প্রায় ২১১ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে। একই সময়ে সরকারি প্রণোদনা তহবিল থেকে ৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা অপচয়ের তথ্যও উঠে আসে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শকরা সতর্ক করেছিলেন, একটি শাখায় এ ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে অন্যান্য অনুমোদিত ডিলার (এডি) শাখা পরিদর্শনে আরও বড় পরিসরের সমস্যা ধরা পড়তে পারে। তবে ওই অনুসন্ধানও আর এগোয়নি।
এদিকে পূবালী ব্যাংকের ঋণ বিতরণ নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে খাত সংশ্লিষ্টদের মাঝে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বিএফআইইউ’র নথি অনুযায়ী, রিফাত গার্মেন্টস, ক্রিয়েটিভ ফ্যাশন, করিম গ্রুপ, বন্দর স্টিল, হক গ্রুপ, রানু এগ্রো, তামিম এগ্রোসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত জামানত ছাড়া বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়া হয়েছে।
কিছু ক্ষেত্রে ওই ঋণের অর্থ অন্য ব্যাংকের দায় পরিশোধে ব্যবহার করা হয়েছে, যা তহবিল স্থানান্তর ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় পূবালী ব্যাংকের গুরুতর ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়।
এই ঋণসংক্রান্ত অনিয়মের ধারাবাহিকতার পরিপ্রেক্ষিতেই দুদক ও বিএফআইইউ আলাদা তদন্ত শুরু করেছে। বড় শেয়ারহোল্ডারদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যাংকটির বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নেতৃত্বাধীন একটি গোষ্ঠীর ক্ষমতা ও ব্যাংকের সম্পদ অপব্যবহারের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে সংস্থা দুটি।
দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান টাইমসকে বলেন, কমিশন বর্তমানে পূবালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে তিনটি আলাদা অভিযোগ অনুসন্ধান করছে। অভিযোগগুলো বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে অনিয়ম, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিধি লঙ্ঘন এবং ১৩টি প্রতিষ্ঠানে দেওয়া ঋণের অনিয়মের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তদন্তের অগ্রগতি জানাতে তিনি বলেন, ডলারের অতিরিক্ত দর নিয়ে একটি নির্দিষ্ট গ্রাহকের হিসাবে অর্থ জমা হওয়ার বিষয়টি অনুসন্ধানে এরই মধ্যে প্রমাণিত হয়েছে, আর বাকি অভিযোগগুলোর তদন্ত চলমান। তিনি আরও জানান, পূবালী ব্যাংক বিদ্যমান আইনের লঙ্ঘন করেছে কি না, এর সঙ্গে কে কে জড়িত, তা যাচাই করা হচ্ছে।
‘তদন্তের অংশ হিসেবে আমরা ৭০টি নিয়োগসংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করেছি, পাশাপাশি ঋণসংক্রান্ত নথিও নেওয়া হয়েছে। সংগৃহীত প্রমাণ বিশ্লেষণের কাজ চলছে।’
এই তদন্তগুলোর পাশাপাশি পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলীর পুনর্নিয়োগ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডি হতে ন্যূনতম ২০ বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, যেখানে আলীর অভিজ্ঞতা ১৬ বছরের।
তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বলছে, এ বিধানটি পূর্বপ্রযোজ্য নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান টাইমসকে বলেন, নতুন নীতিমালা চালুর আগে যাদের নিয়োগ হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ২০ বছরের শর্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হবে না।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যারা এমডি পদে আছেন কিন্তু ২০ বছর পূর্ণ হয়নি, তাদের পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে বিষয়টি এক্সেপশনাল কেস হিসেবে বিবেচনা করা হবে।’
ব্যাংকের সংকট ও অভিযোগগুলোর বিষয়ে মন্তব্য জানতে পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে ফোন ও মেসেজে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও এই প্রতিবেদন দাখিলের সময় পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
বোর্ডে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষমতার দ্বন্দ্ব
পূবালী ব্যাংকের পর্ষদের ভেতরের দ্বন্দ্বটি আদালতের রায়, নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপ এবং ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সকেন্দ্রিক একটি ক্ষমতার বলয়ে জড়িয়ে থাকা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার প্রতিফলন।
২০০৮ সাল থেকে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদ ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও এর সহযোগী প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্কের প্রতিনিধিদের হাতেই কেন্দ্রীভূত রয়েছে। এই কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা ব্যাংকটির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করেছে এবং তদারকি দুর্বল করেছে।
পূবালী ব্যাংকের নথি অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত পর্ষদের চেয়ারম্যান ছিলেন আওয়ামী লীগ এমপি হাফিজ আহমেদ মজুমদার, যিনি ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সময়ের সঙ্গে চেয়ারম্যান বদলালেও নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্র বদলায়নি।
২০২০ সালে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রতিনিধি মনজুরুর রহমান চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন এবং এরপর থেকে ওই পদে বহাল রয়েছেন। রহমান চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে মজুমদার ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
বড় শেয়ারহোল্ডারদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরেই এই কেন্দ্রীভূত ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে আসছে এবং তাদেরকে পর্ষদে প্রতিনিধিত্ব থেকে পদ্ধতিগতভাবে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। ২০১৩–১৪ সালে ব্যাংকটিতে এক আইনি সংকট তৈরি হয়েছিল, যখন পূবালী ব্যাংকের নির্বাচন কমিশন ন্যূনতম শেয়ারধারণের শর্ত পূরণ না করায় মজুমদারসহ আট পরিচালককে অযোগ্য ঘোষণা করেছিল।
২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্ট ওই পদগুলো শূন্য ঘোষণা করেন এবং আপিলে সেই রায় বহাল থাকে, যদিও পর্ষদের কাঠামো বলতে গেলে অপরিবর্তিতই থাকে।
এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ও পরিচালক পুনর্নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক বাড়ে। দুদকের নথি অনুযায়ী, মামলা চলমান থাকা অবস্থায় এবং বহু প্রবাসী শেয়ারহোল্ডার অনুপস্থিত থাকার সময় এজিএম সভা আয়োজন করে প্রক্সি ভোটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ পাকাপোক্ত করে ওই মহল।
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৫ সালে ১০ জন পরিচালক অপসারণের নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০১৬ সালে স্বল্প সময়ের জন্য চেয়ারম্যান বদলালেও ২০২০ সালে নিয়ন্ত্রণ আবার ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রতিনিধির হাতেই ফিরে যায়। তবে ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্তও ওই একই সিন্ডিকেটের হাতে পর্ষদ কুক্ষিগত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন সংস্থায়।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, একক ক্ষমতাকেন্দ্রের দীর্ঘস্থায়ী আধিপত্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি দুর্বল করে। আর পুনরাবৃত্ত অনিয়ম ও মাঝপথে থেমে যাওয়া তদারকির প্রেক্ষাপটে খাত সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ সময়ের সঙ্গে আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকে দুটি পদে ৬২ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। এ জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সচিবালয়। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নিয়োগের জন্য নির্ধারিত পদ দুটি হলো ‘সিস্টেম ম্যানেজার’ ও ‘প্রিন্সিপাল অফিসার’। এর মধ্যে সিস্টেম ম্যানেজার পদে একজন এবং প্রিন্সিপাল অফিসার পদে ৬১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। বেতন ও গ্রেড সিস্টেম ম্যানেজার পদটি তৃতীয় গ্রেডের। এ পদে জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা। অন্যদিকে, প্রিন্সিপাল অফিসার পদটি ষষ্ঠ গ্রেডের। এ পদে বেতন ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। উভয় পদেই চাকরিতে নিয়োগ পেলে নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে। সিস্টেম ম্যানেজার পদে যোগ্যতা সিস্টেম ম্যানেজার পদে আবেদন করতে হলে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। পাশাপাশি দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতকোত্তর বা সমমানের ডিগ্রিও থাকতে হবে। প্রার্থীর সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট অথবা সিনিয়র রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী হিসেবে অন্তত চার বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এ পদে পিএইচডি ডিগ্রি বিশেষ যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জার্নালে অন্তত দুটি প্রকাশনা থাকতে হবে। শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি গ্রহণযোগ্য হবে না। প্রিন্সিপাল অফিসার পদে যোগ্যতা প্রিন্সিপাল অফিসার পদে আবেদন করতে হলে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্তত দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। এ ছাড়া অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র অফিসার পদে অন্তত দুই বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। প্রার্থীর শিক্ষাজীবনে অন্তত একটি প্রথম বিভাগ বা শ্রেণি থাকতে হবে। তবে কোনো পর্যায়েই তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি গ্রহণযোগ্য হবে না। বয়সসীমা সিস্টেম ম্যানেজার পদে আবেদনকারীদের বয়স ২০২৬ সালের ১ জুন তারিখে ২১ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। প্রিন্সিপাল অফিসার পদে আবেদনকারীদের বয়স একই তারিখে ২১ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো অ্যাফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না। আবেদন করবেন যেভাবে আগ্রহী প্রার্থীদের বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগসংক্রান্ত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনের জন্য নির্ধারিত ফি ২০০ টাকা। অনলাইনে আবেদন করার শেষ সময় ২৫ অক্টোবর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। আর আবেদন ফি জমা দেয়ার শেষ সময় ২৭ অক্টোবর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।
স্টাফ রিপোর্টার পটুয়াখালীর বাউফলে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বিলবিলাস আব্দুর রশীদ সরদার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, বিদ্যালয়ের এডহক ম্যানেজিং কমিটি অনুমোদিত হলে তা প্রকাশের পর বাউফল উপজেলা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মোশারেফ হোসেন খান লিটনের নেতৃত্বে ৪/৫ জন ব্যক্তি ক্লাস চলাকালে প্রধান শিক্ষক খায়রুল আলমের কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা এডহক কমিটির প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে কৈফিয়ত চান। একপর্যায়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, লাঞ্ছিত এবং জীবননাশের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষকের ব্যবহৃত অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনটি মাটিতে আছড়ে ভেঙে ফেলা হয়। পরে অভিযুক্তরা দ্রুত বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। এ সময়ে মোশারেফ হোসেন লিটনের সঙ্গে ছিলেন বাউফল সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মহিবুল্লাহ ও বাউফল সদর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মঞ্জুর ই আলম। পুরো ঘটনার কিছু অংশ বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পর প্রধান শিক্ষক মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হামলাকারীরা প্রধান শিক্ষককে গালিগালাজ করার পাশাপাশি ভয়ভীতি ও জীবননাশের হুমকি দিয়েছেন। তাঁর মোবাইল ফোনও ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তারা গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকসেবন করে ও চাঁদাবাজের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ আছে।এদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মোশারেফ হোসেন খান লিটনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান," প্রধান শিক্ষক আমার এলাকার ছোট ভাই।ইতিপূর্বে আমি এ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সদস্য ছিলাম। আমাদের সাথে আলাপ না করে তিনি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। আমরা রাগে ও ক্ষোভে তার সাথে একটু খারাপ আচরণ করেছি ও তার মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলি"। বাউফল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মহিবুল্লাহ এবং বাউফল ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মঞ্জুর ই আলমের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি। পটুয়াখালী জেলা জাতীয়তাবাদীস্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এনায়েতুর রহমান মোহন বলেন,প্রধান শিক্ষককে আমি চিনি। আমার পরিচিত ছোট ভাই। কেহ তাকে সঠিক তথ্য দিয়ে প্রমাণ দিলে ও লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা কঠোর ব্যবস্হা গ্রহণ করবো"। পটুয়াখালী জেলা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত থাকলে এবং এ ব্যাপারে আমাদের অভিযোগ করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ প্রধান শিক্ষক খায়রুল আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান," প্রধান শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির প্রস্তাব পাঠানো আমার রুটিন দায়িত্ব এবং এটা গোপনীয় কাজ। আমার সাথে অভিযোগ কারীরা খারাপ ব্যবহার করে। আমার এন্ড্রয়েড ফোনটি আছাড় দিয়ে গুড়িয়ে দেয়। এরা নেশা গ্রস্হ ও বিভিন্ন অসামাজিক অপরাধের সাথে জড়িত"। যেভাবে এডহক কমিটি গঠিত হয়: বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষক খায়রুল আলম বিলবিলাস আব্দুর রশীদ সরদার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠনের একটি খসড়া প্রস্তাব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পাঠান। পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর ইউএনও জেলা প্রশাসকের কাছে ওই প্রস্তাব পাঠান। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্মারক নম্বর ০৫.১০.৭৮৫৪.০০০.০৪.০১২.২৬-১১০৬, তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬। পরে জেলা প্রশাসক ২২ সেপ্টেম্বর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে প্রস্তাবটি পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৪ অক্টোবর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান চার সদস্যের এডহক ম্যানেজিং কমিটি অনুমোদন দেন। অনুমোদিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে বোর্ড মনোনীত মো: মাহফুজুর রহমান, শিক্ষক সদস্য হিসেবে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনোনীত মো:বদরুল ইসলাম, অভিভাবক সদস্য হিসেবে জেলা প্রশাসক/উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীত মুহাম্মদ আবুল হুসাইন এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খায়রুল আলম রয়েছেন। এডহক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করেই প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ফেনীতে সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি চালানোর সময় ট্রাকচাপায় এক এসআরবি (সাবেক র্যাব) সদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত একটার দিকে চট্টগ্রামমুখী লেনের ফতেহপুর স্টার লাইন পাম্পসংলগ্ন এলাকায় এই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম মো. আলমগীর হোসেন (৪৬)। তিনি সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে প্রেষণে এসআরবি-৭-এ কর্মরত ছিলেন। আলমগীর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার শান্তিবাগ গ্রামের মৃত নূর উদ্দিন আহমেদের ছেলে। মহিপাল হাইওয়ে পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে এসআরবি সদস্যরা মহাসড়কে সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। এ সময় একটি কাভার্ডভ্যান থামিয়ে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি পেছনে থাকা একটি ট্রাককে থামার সঙ্কেত দেওয়া হয়। কিন্তু ট্রাকটি সঙ্কেত অমান্য করে থামানো কাভার্ডভ্যানকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে মহাসড়কের বাম পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এসআরবি সদস্য আলমগীরকে চাপা দিয়ে ট্রাকটি পাশের একটি গর্তে পড়ে যায়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে মহিপাল হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে গুরুতর আহত অবস্থায় এসআরবি সদস্য আলমগীর ও দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাকটির চালক মো. সজিবকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আলমগীরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ট্রাকচালক সজিব বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা। ফেনীর মহিপাল হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. নোমান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান দুটিই পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসআরবি-৭-এর সহকারী পরিচালক এআরএম মোজাফফর হোসেন বলেন, এ বিষয়ে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।