রাজনীতি

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আত্মঘাতী খেলা

হোসেন মাঝি নভেম্বর ৩, ২০২৬ 0
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আত্মঘাতী খেলা
রাষ্ট্রীয় সংস্কার কমিশনের সুপারিশ

 

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন হয়েছিল বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্কার কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি জাতীয় ঐকমত্য তৈরির উদ্দেশ্যে। সেখানে প্রায় ৩১টি রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। বিএনপির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। আলোচনার সময় প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন সংস্কার নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলতেন। সংবিধানে নানা ব্যাখ্যা দিতেন। এ কারণে এই আলোচনা দীর্ঘ হয়। তখন নানা মহল থেকে বলা হচ্ছিল বিএনপি সংস্কারবিরোধী। এ নিয়ে যখন আমরা টকশোতে আলোচনা করতাম, তখন বিএনপি নেতা এবং তাদের পক্ষের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলতেন, বিএনপি হলো সংস্কারের পাইওনিয়ার। বিএনপির ৩১ দফা এরই প্রমাণ। কাজেই বিএনপি সংস্কারবিরোধীÑএমনটি বলার কোনো সুযোগ নেই।


ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির চালচলন পাল্টে গেল। প্রথমে তারা গণভোটের রায়কে অস্বীকার করল। ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে রীতিমতো অবজ্ঞা করল। তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন থেকে পিছিয়ে গেল। গঠন করল সংবিধান সংশোধন কমিটি। বিরোধী দল এতে যোগ দেয়নি। বিএনপি নিজেরাই এই কমিটি গঠন করে এখন নানা ধরনের বয়ান দিচ্ছে। অথচ বিএনপির ৩১ দফার প্রথম দফাটি কী ছিল? প্রথম দফার শিরোনাম ছিল ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন’। এতে বলা হয়েছে, ‘বিগত এক দশক অধিককালব্যাপী আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করিয়া রাখার হীন উদ্দেশ্যে অনেক অযৌক্তিক মৌলিক সাংবিধানিক সংশোধনী আনয়ন করিয়াছে। একটি সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করিয়া সকল বিতর্কিত ও অগণতান্ত্রিক সাংবিধানিক সংশোধনী ও পরিবর্তনসমূহ পর্যালোচনা করিয়া এইসব রহিত/সংশোধন করা হইবে এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সাংবিধানিক সংস্কার করা হইবে। সংবিধানে গণভোট (Referendum) ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করিয়া জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হইবে।’ বিএনপি তার ৩১ দফাকে বলেছে ‘রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা’। ৩১ দফার শুরুতে বলা হয়েছে, ‘সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কার ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যেই এই ৩১ দফা প্রণীত হয়েছে।’


এখন আর অনেকে বিএনপির ৩১ দফার কথা বলেন না। জুলাই সনদ নিয়ে নেতারা নিশ্চুপ। গণভোটের রায় নিয়ে তারা কথা বলতে চান না। এসবের মধ্যেই বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে নতুন বিতর্ক সামনে এনেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিএনপি কি পুরোনো পথে হাঁটার ঝুঁকি নিচ্ছে?

সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশের নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন নিয়ে বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রপতিকে বাইরে রেখে সমঝোতার ভিত্তিতে নতুন কিছু বিকল্প ধারণা বা প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এগুলো হলোÑ

১. উচ্চকক্ষ ও উপরাষ্ট্রপতির পদ : সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন করা হলে এবং নিম্নকক্ষের মেয়াদ শেষ বা বিলুপ্ত হলেও উচ্চকক্ষ যদি বহাল থাকে, তবে সেখান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব এসেছে। এ ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষে ‘উপরাষ্ট্রপতি’ বা ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট’ পদ সৃষ্টি করে তাকে উচ্চকক্ষের স্পিকারের দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

২. স্পিকারের নেতৃত্বে সরকার : বিকল্প হিসেবে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সম্মতিতে উচ্চকক্ষের স্পিকার নির্বাচিত হলে তাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

৩. উপদেষ্টা নিয়োগ : তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্য উপদেষ্টাদেরও সরকারি ও বিরোধী দলের সম্মতিতে উচ্চকক্ষ থেকেই নিয়োগ দেওয়ার বিধান রাখার পরামর্শ এসেছে।

৪. বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রপতিকে বাইরে রাখা : অধিকাংশের মত ছিল, বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রপতিকে এই প্রক্রিয়া থেকে সম্পূর্ণ বাইরে রেখে রাজনৈতিক সমঝোতা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা।

যত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণই দেওয়া হোক না কেন, এর মূল উদ্দেশ্য একটাই—তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের নিয়ন্ত্রণ বিএনপির হাতে রাখা, নিজেদের লোককেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান বানানো। বিএনপি কি বিচারপতি কে এম হাসানের কথা ভুলে গেছে? বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের অক্টোবর-নভেম্বরের রাজনৈতিক সংকটের পেছনে অন্যতম প্রধান ইস্যু ছিল বিচারপতি কে এম হাসানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ-সংক্রান্ত বিতর্ক।


বিএনপি সরকারের আমলে সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ থেকে বাড়িয়ে ৬৭ বছর করা হয়। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ ছিল, বিএনপি সুপরিকল্পিতভাবে ২০০১-০৬ মেয়াদের প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানকে পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার লক্ষ্যেই এই বয়স বাড়িয়েছিল। কারণ, বিচারপতি হাসান একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

বিরোধী দলগুলো বিচারপতি হাসানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলন ও অবরোধ গড়ে তোলে। শেষ পর্যন্ত বিচারপতি হাসান প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির কারণে যে তীব্র সংঘাত ও শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে ১/১১-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পথ সুগম করেছিল। এ ঘটনা বিএনপির জন্য বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে এনেছিল। জাতির ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার।


বিএনপি কেন ভুলে যায়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা শুধু একটি সাংবিধানিক বিষয় নয়। এটি নির্বাচন, গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক আস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর একগুঁয়েমি দেশকে গভীর সংকটে ফেলতে পারে। অথচ সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার বদলে আবার যদি দলীয় সুবিধাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, তাহলে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশা পূরণ হবে কীভাবে? 


বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার দাবি জানিয়ে এসেছে। দলটির রাজনৈতিক ইতিহাসেও নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে নানা অবস্থান ও বিতর্ক রয়েছে। আজ দলটি ক্ষমতায় থাকায় তার দায়িত্ব আরো বেশি। বিরোধী দলে থাকার সময় যে নীতিকে গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য বলে তুলে ধরা হয়েছে, ক্ষমতায় এসে সেই নীতির বাস্তব প্রয়োগে একই ধরনের আন্তরিকতা দেখানো হচ্ছে কি না, তা জনগণ অবশ্যই বিবেচনা করবে।

এখানেই বিএনপির জন্য বড় পরীক্ষা। তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পদ্ধতি নির্ধারণে যদি এমন কোনো অবস্থান নেওয়া হয়, যাতে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব বজায় থাকে কিংবা বিরোধী দল নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে সন্দিহান হয়, তাহলে নতুন করে অবিশ্বাস তৈরি হবে। উচ্চকক্ষের ধারণাটি নিজে থেকেই নিরপেক্ষতার নিশ্চয়তা দেয় না। উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচন, তাদের রাজনৈতিক পরিচয়, সরকারপ্রধান নিয়োগের পদ্ধতি এবং মতৈক্য প্রতিষ্ঠার নিয়ম—সবকিছুই নিরপেক্ষ হতে হবে।


রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদল স্বাভাবিক ঘটনা। আজ যে দল ক্ষমতায়, আগামীকাল তাকে বিরোধী দলে যেতে হতে পারে। তাই সংবিধানে এমন ব্যবস্থা থাকা দরকার, যা কোনো দলের বর্তমান অবস্থান বিবেচনা করে নয়, বরং ভবিষ্যতের সব রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সমানভাবে কার্যকর হবে। বিএনপি যদি মনে করে, ক্ষমতায় থাকার কারণে নির্বাচনকালীন ব্যবস্থার প্রশ্নে তাদের বিশেষ সুবিধা থাকা উচিত, তাহলে সেটি গণতান্ত্রিক সমঝোতার ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। 

আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষ শুধু সরকার পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেনি; তারা রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন চেয়েছে। দলীয়করণ, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাজনৈতিক প্রভাবের যে অভিযোগ অতীতে উঠেছে, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি ঠেকানোই সংস্কারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। নতুন সাংবিধানিক কাঠামো যদি পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিকেই টিকিয়ে রাখে, তাহলে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি অর্থহীন হয়ে পড়বে।

বিএনপির জন্য তাই এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক দূরদর্শিতা। বিরোধী দলের মতামতকে আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে না দেখে প্রকৃত সমঝোতার চেষ্টা করতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন ও ক্ষমতার সীমা এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে কোনো পক্ষ এককভাবে ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে।

বিএনপি যদি অতীতের বিতর্ক থেকে শিক্ষা না নিয়ে আবার দলীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে তার রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। এখনো আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরির সুযোগ রয়েছে, যা ক্ষমতাসীন ও বিরোধী—উভয় পক্ষের জন্য সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হবে।


শেষ পর্যন্ত জনগণ রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্যের চেয়ে তাদের কাজের মূল্যায়ন করবে। বিএনপি কি ক্ষমতায় থেকেও নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিতে প্রস্তুত, নাকি নির্বাচনকালীন ব্যবস্থাকেও রাজনৈতিক সুবিধার হিসাবের মধ্যে রাখতে চায়—এই প্রশ্নের উত্তর দলটির আচরণেই স্পষ্ট হবে। গণতন্ত্রের স্বার্থে বিএনপির উচিত, ক্ষমতার সাময়িক হিসাবের ঊর্ধ্বে উঠে এমন সাংবিধানিক সমঝোতায় পৌঁছানো, যা ভবিষ্যতের কোনো সরকারকে নির্বাচনব্যবস্থা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সুযোগ দেবে না।

বিখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বার্ট্রান্ড রাসেল এমন একটি শাসনব্যবস্থার পক্ষে ছিলেন, যেখানে ক্ষমতাকে ‘তর্জন-গর্জন’ বা ‘দমন’ না করে ‘জনকল্যাণে’ ব্যবহার করা হবে। তিনি বিশ্বাস করতেন, প্রকৃত সুখী ও স্থিতিশীল সমাজ শুধু তখনই সম্ভব, যখন শাসনব্যবস্থা গণতান্ত্রিক ও বিকেন্দ্রীভূত হবে; যেখানে শাসকরা বলপ্রয়োগের পরিবর্তে জনগণের সাধারণ ইচ্ছা, পারস্পরিক সহানুভূতি এবং বুদ্ধিমত্তাকে সম্মান জানাবেন।

সিসেরো (মার্কুস তুল্লিউস সিসেরো) ছিলেন প্রাচীন রোমের একজন বিখ্যাত বক্তা, আইনজীবী, রাষ্ট্রনায়ক ও দার্শনিক। তিনি রোমান প্রজাতন্ত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখক ও বাগ্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দ্য রিপাবলিক, দ্য লজ, অন ডিউটিজ—তার বিখ্যাত গ্রন্থ। এই সিসেরো বলেছেন, ‘সবচেয়ে অর্বাচীন ধারণা হচ্ছে এই বিশ্বাস, একটি জাতির রীতিনীতি ও আইনে যা আছে, তাই সঠিক। কিন্তু সেগুলো যদি স্বেচ্ছাচারী শাসক দ্বারা প্রণীত হয়, তাহলে? একটি জাতি যে অনেকগুলো মারাত্মক ধ্বংসাত্মক বিধি তৈরি করে, সেগুলো কেমন? এগুলোকে বিধি বলার চেয়ে একটি ডাকাতদলের সমাবেশে পাস করিয়ে নেওয়া নিয়ম বলাই ভালো। কারণ, যদি অজ্ঞ ও অদক্ষ মানুষদের ওষুধের পরিবর্তে মারাত্মক বিষ খেতে বলা হয়, তাহলে সেই পরামর্শকে নিশ্চয়ই ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন বলা যাবে না। একটি জাতির যেকোনো আইনকে আইন বলে মানা ঠিক হবে না। একটি জাতি যদি সর্বনাশা কোনো আইন গ্রহণ করেও নেয়, তবু সেই আইনকে আইন বলে স্বীকার করে নেওয়া উচিত নয়।’

জুলাই বিপ্লবে এ দেশের তরুণরা সেটি দেখিয়েছেন। ক্ষমতায় থেকে নিজেদের সুবিধার জন্য যা ইচ্ছা, তা-ই করাÑসেই পরিস্থিতি বা পরিবেশ বাংলাদেশে এখন আর নেই। আরো স্পষ্ট করে বলি, জনরায়কে উপেক্ষা করে ক্ষমতায় থাকার ষড়যন্ত্রমূলক যেকোনো নীলনকশা বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করা শুধু কঠিনই নয়, অসম্ভব।

লেখক: সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সম্ভাবনার নতুন শ্রমবাজার সার্বিয়া

মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক  

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

রাজনীতি

View more
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে খুলনায় উৎসবের আমেজ, পরিচ্ছন্ন নগরীর প্রস্তুতি
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে খুলনায় উৎসবের আমেজ, পরিচ্ছন্ন নগরীর প্রস্তুতি

  বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা সফরকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীসহ খুলনাবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। তবে বরাবরের মতো তোরণ, ব্যানার কিংবা প্লাকার্ড দিয়ে শহর ঢেকে ফেলার প্রথা ভেঙে এবার ভিন্নধর্মী দৃষ্টান্ত স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। আগামী বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে জাঁকজমকপূর্ণ সাজসজ্জার পরিবর্তে পুরো শহরকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে দিনরাত কাজ করছেন তারা।  প্রধানমন্ত্রীর এই সফর স্মরণীয় করে রাখতে মহানগর ও জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিদিন চলছে দফায় দফায় সভা, বর্ধিত সভা ও মতবিনিময়। নেতাদের মূল লক্ষ্য, অপ্রয়োজনীয় ব্যানার-ফেস্টুন ও তোরণ নির্মাণ না করে পুরো পথজুড়ে শৃঙ্খলার দৃষ্টান্ত তুলে ধরা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি যৌথভাবে সর্ববৃহৎ ও স্মরণকালের সেরা সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। রূপসার কুদির বটতলা থেকে রূপসা বাইপাস সড়ক হয়ে শেরে বাংলা রোড দিয়ে পাওয়ার হাউজ মোড় ঘুরে জেলা স্টেডিয়াম পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নেবেন খুলনাঞ্চলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও মার্জিত পরিবেশে প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন খুলনাবাসী। বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে আগামী ৫ নভেম্বর খুলনায় শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করবেন। তিনি বলেন, খেলাধুলাকে কেবল বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি শক্তিশালী জাতি গঠনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। দেশের অধিকাংশ খেলোয়াড় মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খুলনাবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, কারণ প্রধানমন্ত্রী খুলনায় আসছেন। মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে খুলনা শহর শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নই করা হচ্ছে না, সুন্দরভাবে সাজানোও হচ্ছে। সাজসজ্জার নগরী গড়ে তোলা হয়েছে। দেশবাসী খুলনা শহরের নতুন চেহারা দেখবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী শহরকে সাজানো হয়েছে। ছাত্র ও যুবকদের মধ্যে এই অনুষ্ঠান নিয়ে আনন্দ বিরাজ করছে। খুলনার ভেন্যুতে প্রধানমন্ত্রী আসছেন— এতে তারা আনন্দিত। খুলনাবাসী দেখবে, প্রধানমন্ত্রী এসেছেন, খুলনা নব সাজে সেজেছে। খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেডিএ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনা আগমন আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের এবং আনন্দের একটি বিষয়। খুলনাবাসীর মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে খুলনা মহানগরীকে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও আধুনিক নগরী হিসেবে দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, নগরবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপযোগী একটি বাসযোগ্য খুলনা গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে সফল ও সার্থক করতে সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর খুলনা থেকে সারাদেশে একযোগে উদ্বোধন করবেন। এ নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উল্লাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এবার খুলনায় দ্বিতীয়বারের মতো সফর করবেন। তিনি যত বেশি খুলনায় সফর করবেন, খুলনার উন্নয়ন তত বেশি ত্বরান্বিত হবে। খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, কুদির বটতলা থেকে রূপসা বাইপাস হয়ে জেলা স্টেডিয়ামমুখী পুরো পথজুড়ে খুলনাবাসীর পুষ্পবৃষ্টি ও অভিনন্দনের জোয়ার বইবে, যা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শৃঙ্খলা রক্ষা ও যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে সব ধরনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তোরণ-ব্যানার দিয়ে শহর না ঢেকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব খুলনা গড়ার যে বার্তা নেতাকর্মীরা দিয়েছেন, তা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে। নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী বলেন, আমরা খুলনাবাসী অধীর আগ্রহে চাতক পাখির মতো চেয়ে আছি, কখন প্রধানমন্ত্রী খুলনায় পদার্পণ করবেন। আমরা কাছ থেকে হোক আর দূর থেকে একনজর তাকে দেখে মনের আকুতি পূরণ করব। প্রধানমন্ত্রীর সফর ও প্রতিযোগিতার উদ্বোধন প্রসঙ্গে জানা গেছে, আগামী ৫ নভেম্বর বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হবে। দ্বিতীয় আসরে অংশগ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে দেশের প্রায় ১৬ লাখ ২৩ হাজার তরুণ-তরুণী নিবন্ধন করেছেন। প্রথম আসরে নিবন্ধিত প্রতিযোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার। নিবন্ধিত প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে দল গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ১৪ লাখ ক্রীড়াবিদ এই বিশাল ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন।

News নভেম্বর ৩, ২০২৬ 0
জেলগেটে আখতারুজ্জামান/‘জামায়াত আমিরের অনুমতি নিয়ে সব সত্য প্রকাশ করবো’

জেলগেটে আখতারুজ্জামান/‘জামায়াত আমিরের অনুমতি নিয়ে সব সত্য প্রকাশ করবো’

বাগআচড়ায় তরিকুল ইসলামেরর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত।

বাগআচড়ায় তরিকুল ইসলামেরর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আত্মঘাতী খেলা

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আত্মঘাতী খেলা

সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জামায়াত-এনসিপির দূরত্ব, আসন সমঝোতার অভিমানে লংমার্চে যাননি নাহিদ ইসলাম
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জামায়াত-এনসিপির দূরত্ব, আসন সমঝোতার অভিমানে লংমার্চে যাননি নাহিদ ইসলাম

  জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের সবশেষ বড় কার্যক্রম ছিল লংমার্চ। তবে সেখানে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল। তার আগে পরের নানা ঘটনাপ্রবাহে জামায়াতের সঙ্গে দূরত্বের স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় গত ২১ অক্টোবর। আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের উপস্থিতিতে হওয়া ওই বৈঠকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একই বৈঠকে জোটের কর্মসূচি কমিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। মূলত নিজেদের রাজনৈতিক সক্ষমতা যাচাই করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রার্থী ইতোমধ্যেই ঘোষণা করে দিয়েছে এনসিপি। ঢাকা দক্ষিণে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং ঢাকা উত্তরে সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এদিকে ১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবিতে ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখী লংমার্চ শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়। সকাল ৮টা ২০ মিনিটে বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেট থেকে গাড়িবহর রওনা দেয়। উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। জামায়াত আমিরের পরপরই এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের জন্য একটি চেয়ার খালি রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি উপস্থিত হননি। তার পরিবর্তে কর্মসূচিতে অংশ নেন যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব সার্জিস আলম। তবে উদ্বোধনী সমাবেশে তাদের কেউ বক্তব্য দেননি। জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও এনসিপির নেতাদের বক্তব্যের কোনো ছবি প্রকাশ করা হয়নি। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এ কর্মসূচি ঘিরে তেমন স্বতঃস্ফূর্ততাও দেখা যায়নি। ঢাকা, খুলনা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ায় আয়োজিত এই লংমার্চে এনসিপির শীর্ষ নেতারা অংশ নেননি, অথচ এর আগের দুটি লংমার্চে নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। তবে ঢাকা থেকে শীর্ষ নেতারা যোগ না দিলেও লংমার্চের মাঝপথে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, আবদুল হান্নান মাসউদ এবং যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম সাইফ মুস্তাফিজ অংশ নেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিপির এক শীর্ষ নেতা জানান, ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন নাহিদ ইসলাম। তাদের পক্ষে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন তিনি। এ কারণেই লংমার্চে যাননি বলে ওই নেতা জানান। তবে এনসিপির আরেক শীর্ষ নেতার দাবি, বিষয়টি শুধু ব্যস্ততার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার মতে, সিটি নির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে কয়েক দিন ধরে মতবিরোধ চলছে। এর বাইরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে পরাজয়ের পর অনিয়মের অভিযোগে জামায়াত জোরালো অবস্থান না নেওয়ায় দলটির প্রতি ক্ষুব্ধ এনসিপি। অভিমান থেকেই নাহিদ লংমার্চে যোগ দেননি বলে মনে করেন ওই নেতা। এনসিপি ও জামায়াতের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দুই দলের দূরত্বের শুরু গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে আসন সমঝোতার আলোচনায় এনসিপি কমপক্ষে তিনটি সিটিতে ছাড় চেয়েছিল। ঢাকার দুই সিটির অন্তত একটিতে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে অনড় ছিল দলটি। জামায়াত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ঢাকার কোনো সিটিতেই শরিকদের ছাড় দিতে তারা রাজি নয়। বিনিময়ে কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ সিটিতে এনসিপিকে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দেয় তারা। এনসিপি সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি এবং একপর্যায়ে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যায়। নেতারা জানান, এরপর থেকেই দুই দলের সম্পর্কে শিথিলতা তৈরি হয় এবং গত এক মাসে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেননি নাহিদ ইসলাম। পরিস্থিতির আরও অবনতি হয় গত ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে। সেখানে জামায়াত প্রার্থীর পরাজয়ের পর অনিয়মের অভিযোগে দলটির জোরালো প্রতিবাদ না করাকে ভালোভাবে নেয়নি এনসিপি। বিএনপির বিজয়ী প্রার্থীর কাছ থেকে পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর হাসিমুখে মিষ্টি খাওয়ার ঘটনাও এনসিপি নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। এ নিয়ে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) শাহবাগে এনসিপির গণবিক্ষোভ কর্মসূচিতে তীব্র প্রতিবাদ জানান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তবে সার্বিকভাবে সম্পর্ক ‘খারাপ’ তা মানতে নারাজ এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। তিনি সম্প্রতি একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘সম্পর্ক খারাপ যাচ্ছে, এটা কে বলল? না, সম্পর্ক খারাপ এমন কিছু না। বিষয়টি হলো- একটা দলের সঙ্গে আরেকটা দলের সম্পর্ক, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালো বা খারাপ হওয়ার মতো নয়। আমাদের প্রত্যেকটা দলের কিছু কিছু এজেন্ডা আছে, যেখানে এক ধরনের ঐক্য তৈরি হয়। সেটার কারণেই মূলত একটা জোট হয়।’ তিনি আবারও মনে করিয়ে দেন, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোট ‘আদর্শিক’ নয়। তিনি বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির কোনো আদর্শিক জোট নেই। নির্বাচনী ঐক্যের ভিত্তিতে ১১ দলীয় জোট গঠিত হয়েছে। ফলে জোটের কর্মসূচির পাশাপাশি এনসিপি নিজেদের কর্মসূচিও পালন করছে।’ সূত্র: যুগান্তর

News নভেম্বর ২, ২০২৬ 0
পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ অব্যাহত, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর-আগুন, বিজিবিসহ আহত অনেকে

পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ অব্যাহত, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর-আগুন, বিজিবিসহ আহত অনেকে

খুলনা বিভাগে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ সফল করায় দেশবাসীকে জামায়াতের কৃতজ্ঞতা

খুলনা বিভাগে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ সফল করায় দেশবাসীকে জামায়াতের কৃতজ্ঞতা

আমার দেশ পত্রিকা ছেঁড়ার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

আমার দেশ পত্রিকা ছেঁড়ার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ও হেনস্তার মামলা: জামিন পেলেন সাবেক এমপি মেজর আখতারুজ্জামান
বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ও হেনস্তার মামলা: জামিন পেলেন সাবেক এমপি মেজর আখতারুজ্জামান

  বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগে করা মামলায় জামিন পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। রবিবার (১ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির। এর আগে গত ২৬ অক্টোবর ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৫-এর বিচারক মো. সাদেকীন হাবিব বাপ্পী তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন। গত ১ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনা, লাগেজ ট্রলির সংকট, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি হুমকি-ধমকিতে গড়ায়। এই ঘটনার জের ধরে বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর গত ২ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরদিন আদালত তাকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষ গত ৪ অক্টোবর তাকে আদালতে হাজির করা হলে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে তার কারামুক্তিতে আপাতত আর কোনো বাধা নেই। ডাউনলোড ফটোকার্ড

News নভেম্বর ১, ২০২৬ 0
মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে পোশাকশ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ

মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে পোশাকশ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ

স্বামীকে মুক্তির আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণচেষ্টা, সেই যুবদল নেতা বহিষ্কার

স্বামীকে মুক্তির আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণচেষ্টা, সেই যুবদল নেতা বহিষ্কার

বদলি-পদোন্নতিতে মন্ত্রী-এমপিদের তদবির, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

বদলি-পদোন্নতিতে মন্ত্রী-এমপিদের তদবির, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

0 Comments