জাতীয়

সোনা চোরাচালানের ‘গডফাদাররা’ অধরা

Montu Mian জুলাই ৬, ২০২৬ 0
সোনা চোরাচালানের ‘গডফাদাররা’ অধরা
১৪ বছরে স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনায়

 


গত ১৪ বছরে মামলা ১৩৪৫টি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নেই
প্রকৃত অপরাধীদের ধরতে মানি লন্ডারিং আইনে মামলার প্রস্তাব বিশেষজ্ঞদের

সোনা চোরাচালানের নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে চলেছে বাংলাদেশে। এ কারবারের নেপথ্যের নায়ক বা ‘গডফাদাররা’ সবার নাকের ডগায় একে প্রায় শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।


কিন্তু সোনা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত মূল ‘কারিগররা’ পর্দার অন্তরালে ঠিকই বহাল তবিয়তে। ধরা পড়ছেন ‘চুনোপুঁটি’র মতো সাধারণ বাহকরা। আটক হয়, মামলা হয় কিন্তু বড় কোনো শাস্তি নেই। ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে কোনো একটি চালান ধরা পড়লেও নেপথ্যের নায়করা পেছন থেকে আরো ১০টি চালান ঠিকই ঢুকিয়ে দিচ্ছেন বিনা বাধায়।


জানা যায়, গত ১৪ বছরে স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনায় এক হাজার ৩৪৫টি মামলা হয়েছে। কিন্তু দুর্বল আইনের কারণে একটিরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। এমনকি ‘গডফাদাররা’ও সামনে আসেননি। ফলে থামছে না সোনা চোরাচালানের বেপরোয়া সিন্ডিকেট।


মামলার এজাহার, চার্জশিট (অভিযোগপত্র), সাক্ষীদের জবানবন্দি ও রায় পর্যালোচনায় দেখা যায়, স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত ‘ক্যারিয়ার’ বা বাহককে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। এর প্রধান কারণ হলো—উপযুক্ত আইনে মামলা না করা। স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় যেখানে ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে’ মামলা হওয়ার কথা, সেখানে মামলা হচ্ছে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে। আর বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা এসব মামলায় চোরাচালানকৃত স্বর্ণের উৎস খুঁজে বের করা তথা দেশ-বিদেশে থাকা সম্পৃক্ত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা প্রায় অসম্ভব। গত ১৪ বছরে স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনায় যেসব মামলা হয়েছে, এর প্রতিটি মামলাই মানি লন্ডারিং আইনে না করে ১৯৪৭ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা হয়েছে।


মানি লন্ডারিং আইনের মামলা হলে ‘টাকার উৎস’ খুঁজে গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
শুধু দুর্বল মামলাই নয়, এসব মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমও চলছে ধীরগতিতে। ত্রুটিপূর্ণ এজাহার, জব্দ তালিকায় গরমিল, উল্টো সাক্ষী দেওয়া ও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশসহ নানা কারণে মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আর বিচারের এই দীর্ঘসূত্রতার সুযোগে বেশির ভাগ আসামিই জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন। ফলে জড়িতদের কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, স্বর্ণ চোরাচালান বিষয়টি একটি বিশেষায়িত খাত। চোরাচালান প্রতিরোধে প্রাধান্য দিতে হবে। অর্থের মোহে না পড়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রতিটি কাজেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি সৃষ্টি হলেই স্বর্ণ চোরাচালান রোধ করা সম্ভব হবে। মামলার সঠিক তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত করতে হবে।

সাবেক জেলা জজ মো. মঈদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তারা শুধু ‘ক্যারিয়ার’ বা বাহকের কাছ থেকে যে পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধার করেন তা খুবই সামান্য। আর এটি দৃশ্যমান যে বাহকরা কোথা থেকে স্বর্ণ এনেছেন—সেই উৎসর দিকে তদন্ত কর্মকর্তারা অজ্ঞাত কারণে যান না। মামলার তদন্ত কার্যক্রম বিলম্বের দায় তদন্তকারী ও তদারককারী কর্মকর্তার। মামলায় ভালো ফলাফল পেতে হলে তদারককারী কর্মকর্তাদের শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে। তদারককারী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুসারে তদন্তকারী কর্মকর্তারা স্বর্ণ চোরাচালানের উৎসর দিকে যেতে পারবেন। সাধারণত দীর্ঘদিন পর এসব মামলার চার্জশিট হয়ে থাকে। তখন আরো অনেক দেরি হয়ে যায়। প্রায় সব ক্ষেত্রেই শুধু বহনকারীকে আসামি করে এবং চোরাচালানের উৎসর সন্ধান না করেই চার্জশিট দেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে বিচারক চার্জশিট গ্রহণ না করে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিলেও খুব বেশি ফল হবে না। যদিও এমন নির্দেশনাও খুব একটা দেখা যায় না।

সাবেক এই জেলা জজ আরো বলেন, ‘আমাদের দেশের তদন্তকারী কর্মকর্তারা মামলার তদন্তের ক্ষেত্রে শুধু বাংলাদেশে জড়িতদের নিয়েই তদন্তে ব্যস্ত থাকেন। বিদেশি যারা জড়িত, তাদের তদন্তে যুক্ত করা হয় না। চোরাচালান মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সম্পৃক্ত একটি অপরাধ। তদন্তকারী কর্মকর্তারা চাইলে স্বর্ণ চোরাচালানের মামলাগুলো মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় এনে তদন্ত করা সম্ভব। এতে করে অর্থপাচারের বিষয়গুলো আরো গুরুত্ব পাবে। আন্তর্জাতিক এই ক্রাইমে জড়িত ক্যারিয়ার থেকে স্বর্ণ ইনপুটকারী প্রতিটি চক্রকে আইনের আওতায় আনতে হবে। স্বর্ণের সাপ্লাইয়ারকে ধরতে হবে। সাপ্লাইয়ারকে ধরতে না পারলে এই চোরাচালান বন্ধ করা সম্ভব নয়।

স্বর্ণ চোরাচালানের পরিসংখ্যান : ঢাকা কাস্টম হাউসের তথ্যানুযায়ী, গত ১৪ বছরে স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনায় এক হাজার ৩৪৫টি মামলা হয়েছে। প্রতিটি মামলাই মানি লন্ডারিং আইনে না করে ১৯৪৭ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা হয়েছে।

ঢাকা কাস্টম হাউসের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৬৯৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫৫৫ কেজি, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪১৭ কেজি এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৬৯ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে। আর চলতি বছরের এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬৩ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ২০২১ সাল থেকে চলতি বছরের এ পর্যন্ত ৫৪০টি মামলা করা হয়েছে। অন্য একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়ে ঢাকা কাস্টম হাউস থেকে ৮০৫টি ফৌজদারি মামলা করা হয়। এর মধ্যে ২০১৩ সালে ২৭টি, ২০১৪ সালে ১২০টি, ২০১৫ সালে ৯৩টি, ২০১৬ সালে ৫০টি, ২০১৭ সালে ৬২টি, ২০১৮ সালে ১১০টি, ২০১৯ সালে ৭৭টি, ২০২০ সালে ৩২টি, ২০২১ সালে ১০৫টি ও ২০২২ সালে ১২৯টি মামলা রয়েছে। প্রতিটি মামলাই ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা হয়েছে। একটি মামলাও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে করা হয়নি।

মামলার তদন্ত ও বিচারে ধীরগতি : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ১০ বছরে যেমন চোরাচালানের প্রচুর স্বর্ণ আটক করেছে ঢাকা কাস্টম হাউস, তেমনি এসব ঘটনায় থানায় হওয়া মামলাগুলোর প্রায় আসামিই জামিন পেয়েছেন। গত ১০ বছরে করা ঢাকা কাস্টম হাউস চোরাকারবারিদের হাতেনাতে আটক করে থানায় সোপর্দ করে। এই সময় বড় চালানের দিক থেকে অন্তত ৪৬টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ মামলায় আসামিরা কারাগারে আছেন। বাকি ৩৫টি মামলায় আসামিরা জামিনে আছেন। রায় হয়েছে একটি মামলায়। এ ছাড়া বাকি ৪৫টি মামলার মধ্যে ১১টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। বাকি মামলাগুলো ঢাকা মহানগরের স্পেশাল ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিচারাধীন রয়েছে।

মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২০২১ ও ২০২২ সালে ঢাকা কাস্টম হাউস উল্লেখযোগ্য স্বর্ণের ১২টি চোরাচালান আটক করে। এর মধ্যে ২০২২ সালের ২৪ মার্চ মো. তাজুল ইসলাম ছয় কেজি ৪৯২ গ্রাম, ১২ এপ্রিল মোহাম্মদ আরিফ ছয় কেজি ৮২৭ গ্রাম, ১৫ এপ্রিল মোহাম্মদ রাসেল এক কেজি ৩৩০ গ্রাম, ১৯ এপ্রিল শাহনাজ চৌধুরী ছয় কেজি ৮৪৪ গ্রাম, ১ মে পরিত্যক্ত অবস্থায় আট কেজি ১২০ গ্রাম ও ২৬ মে মোহাম্মদ আবদুল আজিজ আখন্দ আট কেজি ১২০ গ্রাম স্বর্ণসহ আটক হন। এর মধ্যে একটি মামলায় কোনো আসামি আটক নেই। বাকি পাঁচ মামলায় আসামিরা কারাগারে আছেন।

২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি সরোয়ার উদ্দিন সাত কেজি ২৯০ গ্রাম, ৪ মার্চ মো. আবুল খায়ের পাঁচ কেজি ২২০ গ্রাম, ১ মে মোমেনুর রহমান ও মো. নজরুল ফরাজী তিন কেজি ৪০০ গ্রাম, ১ মে জয়নাল আবেদীন দুই কেজি ৮১৭ গ্রাম, ১৮ জুলাই রাকিবুল হাসান ছয় কেজি দশমিক ৩২ গ্রাম ও ২৭ জুলাই মহিন উদ্দিন চার কেজি ২৯২ গ্রাম স্বর্ণসহ আটক হন। এই ছয় মামলার মধ্যে সরোয়ার উদ্দিনের মামলায় আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। বাকি মামলাগুলো তদন্তাধীন। এ ছাড়া মামলাগুলোর মধ্যে শুধু মহিন উদ্দিন জামিনে আছেন। বাকি আসামিরা কারাগারে।

২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি পরিত্যক্ত এক কেজি ১৬০ গ্রাম, ৩ মার্চ আবু সালেহ মুসা এক কেজি ৮৫০ গ্রাম, ১৮ জুলাই মোহাম্মদ জসিম এক কেজি ৮৫০ গ্রাম, ২৩ অক্টোবর পরিত্যক্ত সাত কেজি ৮৮৮ গ্রাম, ২২ নভেম্বর মোহাম্মদ জাভেদ এক কেজি ৪২৩ গ্রাম ও ২৮ ডিসেম্বর পরিত্যক্ত দুই কেজি ৫৫২ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার হয়। এসব ঘটনায় করা ছয়টি মামলার মধ্যে একটি মামলা তদন্তাধীন ও বাকি পাঁচটি মামলা ঢাকা মহানগরের বিশেষ ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় আসামিরা জামিনে আছেন।

২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মাসুদ খান দুই কেজি ৮৯ গ্রাম, ২ মার্চ আব্দুল আউয়াল দুই কেজি ৩৯০ গ্রাম, ১৩ মার্চ চীনা নাগরিক চেন জিফা পাঁচ কেজি ৫৬৮ গ্রাম, ৩০ এপ্রিল ভারতীয় নাগরিক মোহাম্মদ আমির খান তিন কেজি ২০০ গ্রাম, ৮ আগস্ট জাপানি নাগরিক সুচি সাৎও পাঁচ কেজি ৯৯৮ গ্রাম ও ৩ ডিসেম্বর হিমেল খান আট কেজি ৯৯৪ গ্রাম স্বর্ণসহ আটক হন। এসব ঘটনায় করা ছয়টি মামলায়ই আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। বিচারাধীন এসব মামলায় আসামিরা জামিনে আছেন।

২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারি লাকি আক্তার দুই কেজি ৭৮৫ গ্রাম, ১৩ জানুয়ারি জাপানি নাগরিক কেঙ্গু শিবাতা ১০ কেজি ৯৫৬ গ্রাম, ২৫ জানুয়ারি মোস্তফা কামাল চার কেজি ৬৪০ গ্রাম, ২৭ জানুয়ারি মোহাম্মদ আবু তাহের এক কেজি ১৬০ গ্রাম, ৩০ জানুয়ারি মোহাম্মদ বাসেদ দুই কেজি ৪৪০ গ্রাম স্বর্ণসহ আটক হন। এসব ঘটনায় করা পাঁচটি মামলায় এরই মধ্যে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। মামলাগুলো বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় আসামিরা জামিনে আছেন।

২০১৭ সালের ৬ মার্চ নবাব সলিমুল্লাহ ৮৮৪ গ্রাম, ২৬ অক্টোবর ইউসুফ চৌধুরী ৩৩০ গ্রাম, ১০ ডিসেম্বর মো. মাহাবুবুল ইসলাম ও ভূঁইয়া মাহফুজ ৫৫৩ গ্রাম, ৩ নভেম্বর পঙ্কজ দে ৩৪৪ গ্রাম ও ৮ নভেম্বর মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান ৪৬৪ গ্রাম স্বর্ণসহ আটক হন। এসব ঘটনায় করা প্রতিটি মামলায় আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। বিচারাধীন মামলাগুলোয় আাাসামিরা জামিনে আছেন।

২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মজিব সরকার এক কেজি ৩৭০ গ্রাম, ২৩ এপ্রিল মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ৫৭৬ গ্রাম, ২৫ এপ্রিল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান তিন কেজি ৫০০ গ্রাম, ১৪ মে মোহাম্মদ আবু বক্কর ৯৩২ গ্রাম ও ১৭ অক্টোবর মো. মোর্শেদ হোসেন এক কেজি ৩৭ গ্রাম স্বর্ণসহ আটক হন। মামলাগুলোর মধ্যে জামিনে গিয়ে পলাতক মজিব সরকারের মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি মামলাগুলো তদন্তাধীন। এসব মামলায় আসামিরা জামিনে আছেন।

২০১৫ সালের ৯ এপ্রিল মো. শাকায়েত উল্লাহ, ৭ সেপ্টেম্বর নান্না লাল মজুমদার, ১৬ নভেম্বর মো. হুমায়ুন কবির, ২৭ নভেম্বর আব্দুল আউয়াল ৫৯৪ গ্রাম, ২৪ নভেম্বর মো. সায়েম খান ও ৬ ডিসেম্বর পরিত্যক্ত স্থান থেকে স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় করা ছয়টি মামলার সবটির চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। মামলাগুলো বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় আসামিরা জামিনে আছেন।

২০১৪ সালের ৫ জুলাই মো. রফিকুল ইসলাম, ৬ জুলাই মোতাহার হোসেন, ৮ জুলাই আলাউদ্দিন ৫৪ পিস স্বর্ণের বার, ৬ নভেম্বর মোহাম্মদ মামুন ৪৯৪ গ্রাম, ১১ নভেম্বর মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ ৫০০ গ্রাম ও একই দিন মো. আব্দুল আজিজ তিন কেজি ১০৫ গ্রাম স্বর্ণসহ আটক হন। চার্জশিট হওয়া এসব মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। আসামিরা জামিনে আছেন।

২০১৩ সালের ১২ এপ্রিল খাদিজা আক্তার ১৫০ ভরি, ৪ মে মো. আব্দুর রউফ ১৯৬ গ্রাম ১৪ মে অন্য একটি, ৯ জুন গোলাম রব্বানী ও শহিদুল হক এবং ১৫ ডিসেম্বর মো. শহিদুল্লাহ দুই কেজি ৪৪৭ গ্রাম স্বর্ণসহ আটক হন। মামলাগুলো বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় আসামিরা জামিনে আছেন।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

জাতীয়

View more
দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিন ছুটি, প্রজ্ঞাপন জারি
দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিন ছুটি, প্রজ্ঞাপন জারি

  শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচদিনের ছুটি পাচ্ছে দেশ। আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিনদিন ছুটি ঘোষণা করে বুধবার (৭ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচদিন ছুটি কাটাতে পারবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।  তবে এই টানা ছুটির সমন্বয়ের জন্য এর আগে ১৭ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস খোলা থাকবে। গত সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটির তারিখ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২২ অক্টোবরের কর্মদিবসেও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি নির্ধারিত ছিল। তবে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অফিস খোলা থাকার কথা থাকলেও ওই দিনটিকেও নির্বাহী আদেশে ছুটি দেয়ার প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। ফলে ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর টানা তিনদিন পূজার ছুটি থাকবে। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা পাঁচদিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর যথাক্রমে মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার ছুটি থাকবে। আগামী ১৭ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ওইদিন সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস খোলা থাকবে।

News অক্টোবর ৭, ২০২৬ 0
গুলশান লেকই যদি ঠিক করতে না পারি, সারাদেশ কীভাবে ঠিক করব: গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী

গুলশান লেকই যদি ঠিক করতে না পারি, সারাদেশ কীভাবে ঠিক করব: গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৬নং ওয়ার্ডে মশক নিধন  বিশেষ অভিযান

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৬নং ওয়ার্ডে মশক নিধন  বিশেষ অভিযান

একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

দুটির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো’-স্লোগানে ব্যাপক প্রচারাভিযান শুরু ১ ডিসেম্বর থেকে
দুটির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো’-স্লোগানে ব্যাপক প্রচারাভিযান শুরু ১ ডিসেম্বর থেকে

‘ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, পরিবার পরিকল্পনা খাতকে শক্তিশালী করতে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী এক বছরব্যাপী ব্যাপক জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী নিয়ে প্রচারাভিযান শুরু করা হবে। এক মাসব্যাপী এ কর্মসূচিতে র‍্যালি, মেলা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবার পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে। আজ মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দুটির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানো হবে। শুধু প্রচার-প্রচারণায় সীমাবদ্ধ না থেকে পরিবার পরিকল্পনার প্রয়োজনীয় সামগ্রীও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গত কয়েক দিন ধরে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে নানা ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হবে, যাতে মানুষ পরিবার পরিকল্পনায় উদ্বুদ্ধ হন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু মুখে বলব না, সঙ্গে আমরা সব মেটেরিয়াল সাপ্লাই করব। ট্যাবলেট, কন্ট্রাসেপটিভস, প্যাড—পরিবার পরিকল্পনার যা যা আছে, সবকিছু ঘরে ঘরে পৌঁছে দেব।’ তিনি আরও বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন ও বিধিবিধান অনুসরণ করতে হয়। এসব প্রক্রিয়ায় সময় লাগে। অতীতে অনেক কাজ করা সম্ভব হয়নি। তবে নতুন করে কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী বছরের শুরু থেকে এর দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে সরকারের অন্যতম দুর্বল জায়গা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। জন্মহার কমানোর ক্ষেত্রেও নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের ক্যান্সার চিকিৎসাব্যবস্থার দুরবস্থার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। দরিদ্র মানুষের জন্য ক্যান্সারের চিকিৎসা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির যন্ত্র নষ্ট থাকায় অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ‘৮টা ফুল সেটের কেমোথেরাপির মেশিন নষ্ট হয়েছিল। ১৭ রেডিওথেরাপি কেনা হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা গেলে অনেক রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু অর্থের অভাব এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটের কারণে দরিদ্র মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে। আগামী দিনে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  

News অক্টোবর ৭, ২০২৬ 0
একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি সারের ডিলারশিপ নিতে পারবে না

একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি সারের ডিলারশিপ নিতে পারবে না

বিমান বাংলাদেশের কার্যালয়ে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি

বিমান বাংলাদেশের কার্যালয়ে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি

৩০ ব্যাংকের কার্ড ও সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল সেবা দ্রুত চালুর নির্দেশ

৩০ ব্যাংকের কার্ড ও সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল সেবা দ্রুত চালুর নির্দেশ

২২ জেলায় হচ্ছে ‘শিশু স্বর্গ’: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
২২ জেলায় হচ্ছে ‘শিশু স্বর্গ’: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

  দেশে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিশুর সমন্বিত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিতে চলতি অর্থবছরেই ২২টি জেলায় সরকারি উদ্যোগে ‘শিশু স্বর্গ’ গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে (নিনস) বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড মুহিত বলেন, ‘একটি গবেষণায় দেখা গেছে দেশে অন্তত সাড়ে তিন লাখ শিশু সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত। অথচ শীর্ষ প্রতিষ্ঠান নিনস-এর বহির্বিভাগেই গত বছর চিকিৎসা নিতে পেরেছে মাত্র ৩ হাজার ৩০০ শিশু। বাকি বিপুলসংখ্যক শিশু কার্যত অদৃশ্য হয়ে আছে। পরিবারের সীমাবদ্ধতা ও সামাজিক বাস্তবতায় তারা অন্ধকার ঘরে লুকিয়ে থাকে। রাষ্ট্র হিসেবে আমরা এই শিশুদের অধিকার ও মানবিক মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে চাই।’ তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় স্বাস্থ্য খাত সর্বোচ্চ বাজেট ও গুরুত্ব পাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে ২২টি জেলায় ‘শিশু স্বর্গ’ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি সরকারি উদ্যোগে কড়াইল বস্তিতে একটি পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে, যেখানে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৩০০ শিশুকে সেবা দেয়া হচ্ছে। ড. মুহিত আরও বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ‘কমিউনিটি বেসড আর্লি কেস ডিটেকশন’ (প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ শনাক্তকরণ) ব্যবস্থা গড়ে তোলা সবচেয়ে জরুরি। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী ড এম এ মুহিত বলেন, শত সীমাবদ্ধতার মাঝেও প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একটি সার্বজনীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক (ইনক্লুসিভ) স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তিনি স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সবার ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা কামনা করেন।

News অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0
চার শর্ত পূরণ না হলে কোনো প্রকল্প অনুমোদন নয়: অর্থমন্ত্রী

চার শর্ত পূরণ না হলে কোনো প্রকল্প অনুমোদন নয়: অর্থমন্ত্রী

২০ হাজার টাকা করে অনুদান পাবেন ১৪৭২ নারী

২০ হাজার টাকা করে অনুদান পাবেন ১৪৭২ নারী

ধানমন্ডি লেক পুনরুজ্জীবনে খনন কাজ শুরু

ধানমন্ডি লেক পুনরুজ্জীবনে খনন কাজ শুরু

0 Comments