দেশজুড়ে

সকল বিভাগের  শিক্ষার্থীকে এইচ আর ক্লাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে

হোসেন মাঝি সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
সকল বিভাগের  শিক্ষার্থীকে এইচ আর ক্লাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে
হিউম্যান রিসোর্স)

-পবিপ্রবি ভিসি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের   বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন অনুষদের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এইচ আর( হিউম্যান রিসোর্স) ক্লাবের উদ্যোগে "১০ম ব্যাচ মেজর সেমিস্টার: উৎকর্ষের পথে যাত্রা" শীর্ষক আলোচনা সভা অদ্য ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয় কৃষি অনুষদ কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

 

এইচ.আর ক্লাবের সভাপতি ও  সহযোগী অধ্যাপক মো:মমিনউদ্দিন এর সভাপতিত্বে ও সহ-সভাপতি মো: আনাস ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মরিয়ম নেছা ঐশি এর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন এইচ আর ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোফাসেরুল হক তন্ময়।

 

 প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন  উপাচার্য অধ্যাপক ড.এস এম হেমায়েত জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন  উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন  এন্ড ম্যানেজমেন্ট অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বদিউজ্জামান, এইচ আর ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহযোগী অধ্যাপক মো: তারিকুল ইসলাম,প্রফেশনাল এমবিএ  শিক্ষার্থী গাজী সাইয়েদা বিনতে মিতু, শিক্ষার্থী আলামীন আহমেদ প্রমুখ।  


প্রধান অতিথির বক্তব্যে  উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস.এম হেমায়েত জাহান বলেন, আজকের এই দিনটি তোমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একটি  অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই মেজর সেমিস্টারে পদার্পণ করার অর্থ হলো তোমরা তোমাদের সাধারণ শিক্ষার  গন্ডি পেরিয়ে এখন একটি  নির্দিষ্ট  পেশাদার দক্ষতায় বিশেষায়িত হতে যাচ্ছ।তোমারা যারা হিউম্যান রিসোর্স বা  ম্যানেজমেন্টকে তোমাদের ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিচ্ছ মনে রাখতে হবে যে- যে কোন প্রতিষ্ঠান বা দেশের  সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো মানব সম্পদ।  আর সেই মানবসম্পদকে দক্ষ,যোগ্য এবং উৎপাদনশীল করে তোলার গুরুদায়িত্ব কিন্তু ভবিষ্যৎ হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজার হিসেবে তোমাদের ওপরই বর্তাবে। তিনি আরও বলেন, আমি দায়িত্ব নেবার পর থেকেই জোর দিয়ে আসছি যে, আমাদের প্রধান লক্ষ্য হতে হবে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার যোগ্যতা বৃদ্ধি করা। প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি তোমাদের লিডারশিপ, কোয়ালিটি, কমিউনিকেশন স্কিলস,সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

 

হিউম্যান রিসোর্স ক্লাবের মতো সহ- শিক্ষা  কার্যক্রম গুলো তোমাদের  এই প্রয়োগিক  দক্ষতা  বা সফট স্কিলস উন্নত করতে অনন্য ভূমিকা পালন করবে। হিউম্যান এন্ড  রিসোর্স ক্লাবকে  বিজনেস স্টাডিজ ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। সকল বিভাগের শিক্ষার্থীদেরকে এ ক্লাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।তিনি বলেন,অবিলম্বে আমরা হিউম্যান রিসোর্স বিভাগ চালু করবো।অনুষ্ঠানের শুরুতে এইচ আর ক্লাবের পক্ষ থেকে  প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

 

 কৃতি ২ জন শিক্ষার্থীকে ডিনস মেরিট অ্যাওয়ার্ড ও নবাগত শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট প্রদান করেন  প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর মো: মাহফুজুর রহমান সবুজ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞাপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিল প্রধান তিন বিরোধী দল

ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।

দেশজুড়ে

View more
সকল বিভাগের  শিক্ষার্থীকে এইচ আর ক্লাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে
সকল বিভাগের  শিক্ষার্থীকে এইচ আর ক্লাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে

-পবিপ্রবি ভিসি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের   বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন অনুষদের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এইচ আর( হিউম্যান রিসোর্স) ক্লাবের উদ্যোগে "১০ম ব্যাচ মেজর সেমিস্টার: উৎকর্ষের পথে যাত্রা" শীর্ষক আলোচনা সভা অদ্য ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয় কৃষি অনুষদ কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।   এইচ.আর ক্লাবের সভাপতি ও  সহযোগী অধ্যাপক মো:মমিনউদ্দিন এর সভাপতিত্বে ও সহ-সভাপতি মো: আনাস ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মরিয়ম নেছা ঐশি এর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন এইচ আর ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোফাসেরুল হক তন্ময়।    প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন  উপাচার্য অধ্যাপক ড.এস এম হেমায়েত জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন  উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন  এন্ড ম্যানেজমেন্ট অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বদিউজ্জামান, এইচ আর ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহযোগী অধ্যাপক মো: তারিকুল ইসলাম,প্রফেশনাল এমবিএ  শিক্ষার্থী গাজী সাইয়েদা বিনতে মিতু, শিক্ষার্থী আলামীন আহমেদ প্রমুখ।   প্রধান অতিথির বক্তব্যে  উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস.এম হেমায়েত জাহান বলেন, আজকের এই দিনটি তোমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একটি  অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই মেজর সেমিস্টারে পদার্পণ করার অর্থ হলো তোমরা তোমাদের সাধারণ শিক্ষার  গন্ডি পেরিয়ে এখন একটি  নির্দিষ্ট  পেশাদার দক্ষতায় বিশেষায়িত হতে যাচ্ছ।তোমারা যারা হিউম্যান রিসোর্স বা  ম্যানেজমেন্টকে তোমাদের ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিচ্ছ মনে রাখতে হবে যে- যে কোন প্রতিষ্ঠান বা দেশের  সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো মানব সম্পদ।  আর সেই মানবসম্পদকে দক্ষ,যোগ্য এবং উৎপাদনশীল করে তোলার গুরুদায়িত্ব কিন্তু ভবিষ্যৎ হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজার হিসেবে তোমাদের ওপরই বর্তাবে। তিনি আরও বলেন, আমি দায়িত্ব নেবার পর থেকেই জোর দিয়ে আসছি যে, আমাদের প্রধান লক্ষ্য হতে হবে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার যোগ্যতা বৃদ্ধি করা। প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি তোমাদের লিডারশিপ, কোয়ালিটি, কমিউনিকেশন স্কিলস,সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করতে হবে।   হিউম্যান রিসোর্স ক্লাবের মতো সহ- শিক্ষা  কার্যক্রম গুলো তোমাদের  এই প্রয়োগিক  দক্ষতা  বা সফট স্কিলস উন্নত করতে অনন্য ভূমিকা পালন করবে। হিউম্যান এন্ড  রিসোর্স ক্লাবকে  বিজনেস স্টাডিজ ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। সকল বিভাগের শিক্ষার্থীদেরকে এ ক্লাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।তিনি বলেন,অবিলম্বে আমরা হিউম্যান রিসোর্স বিভাগ চালু করবো।অনুষ্ঠানের শুরুতে এইচ আর ক্লাবের পক্ষ থেকে  প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।    কৃতি ২ জন শিক্ষার্থীকে ডিনস মেরিট অ্যাওয়ার্ড ও নবাগত শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট প্রদান করেন  প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর মো: মাহফুজুর রহমান সবুজ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞাপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার বিশেষ অভিযান

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার বিশেষ অভিযান

দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে দুদকের অভিযান

দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে দুদকের অভিযান

বিলুপ্ত হলো র‍্যাব, যাত্রা শুরু করল এসআরবি

বিলুপ্ত হলো র‍্যাব, যাত্রা শুরু করল এসআরবি

এসপির কার্যালয়ের পাশেই জুয়ার আসর, গ্রেপ্তার ৪ পুলিশ সদস্য
এসপির কার্যালয়ের পাশেই জুয়ার আসর, গ্রেপ্তার ৪ পুলিশ সদস্য

   রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:   ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ের পাশের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের অভিযানে বাধা দিতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানা আহত হয়েছেন। অভিযানের সময় আরও দুই পুলিশ সদস্য পালিয়ে যান। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত এএসআই শান্তি কুমার রায় (৩৭), কনস্টেবল মো. সোহেল রানা (৩৩), কনস্টেবল আলমগীর কবির (৩৩) এবং সদর ফাঁড়িতে কর্মরত এএসআই মো. শাহাদত জামান (৩৯)। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে এসপি কার্যালয়ের উত্তর পাশে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে পুলিশ সদস্যদের জুয়া খেলার তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। সোমবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পারে সদর থানার টহল পুলিশ। পরে রাত দেড়টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আলমগীর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানার নেতৃত্বে সেখানে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়ার আসরে থাকা ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করেন। তাদের আটক করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের পেছনে ধাওয়া করে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল রানা আহত হন। পুলিশের দাবি, ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে তার ডান হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায়। অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে চার পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে তাস, জুয়ার বোর্ডে থাকা নগদ টাকা ও কয়েকটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের পাশে চারটি মোটরসাইকেলও পাওয়া যায়। অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া দুজন হলেন—পঞ্চগড় জেলা পুলিশের এটিএসআই মো. আতাউর রহমান (৪০) এবং পিবিআই ঠাকুরগাঁওয়ের কনস্টেবল মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮)। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানার এসআই মো. লিখন হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় ২০২৬ সালের জুয়া প্রতিরোধ আইনের ১৫ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩২৩ ও ৩২৫ ধারা যুক্ত করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছেন সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুজিত কুমার পাল। তিনি বলেন, “অপরাধের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক দুজনকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।” এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. খোদাদাদ হোসেন বলেন, পুলিশ নিয়মিত মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। কয়েক দিন ধরে কিছু পুলিশ সদস্যের জুয়া খেলার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। পরে বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। তিনি আরও বলেন, “সাধারণ অপরাধীদের বিরুদ্ধে যেভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাদের বিরুদ্ধেও একইভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে। তারা এখন আমাদের কাছে অপরাধী। তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” গ্রেপ্তার চার পুলিশ সদস্য বর্তমানে ঠাকুরগাঁও সদর থানা হেফাজতে রয়েছেন। তাদের বুধবার আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।  রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও  ০১৭৪০৮৬১০৮০

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
বাবুগঞ্জে বাসের ধাক্কায় শিক্ষিকা নিহত, সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

বাবুগঞ্জে বাসের ধাক্কায় শিক্ষিকা নিহত, সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ধনবাড়ী নওয়াব ইনস্টিটিউশনের শিক্ষার্থীদের ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান

ধনবাড়ী নওয়াব ইনস্টিটিউশনের শিক্ষার্থীদের ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান

আওয়ামী লীগ নেতার দোকানের তালা ভেঙে মজুত করা ৩ টন সার জব্দ

আওয়ামী লীগ নেতার দোকানের তালা ভেঙে মজুত করা ৩ টন সার জব্দ

পবায় ফ্রি টিকায় সুরক্ষিত হচ্ছে ৮৩ হাজার গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি, স্বস্তিতে প্রান্তিক খামারিরা
পবায় ফ্রি টিকায় সুরক্ষিত হচ্ছে ৮৩ হাজার গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি, স্বস্তিতে প্রান্তিক খামারিরা

  রাজশাহী ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। সকাল থেকেই তালগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন পবা উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের প্রান্তিক খামারি ও কৃষকেরা। কারও সঙ্গে গরু, কারও সঙ্গে ছাগল, আবার কেউ হাঁস-মুরগি নিয়ে আসেন টিকা দিতে। রোগের প্রাদুর্ভাবে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি মারা যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে বিনা মূল্যে টিকা দেওয়ার উদ্যোগে স্বস্তি দেখা যায় তাঁদের মধ্যে। প্রান্তিক খামারিদের গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে তালগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনা মূল্যে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমপি মিলন বলেন, বর্ষা মৌসুমে হাঁস-মুরগি, গরু ও ছাগল বিভিন্ন ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। গবাদিপশু যেন ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়, সে জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই বিনা মূল্যে টিকাদান কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে হরিপুর ইউনিয়নের চর মাজার দিয়াড়েও অনলাইনে এ ধরনের কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পবা উপজেলাকে অত্যন্ত উর্বর এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মাছ উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সঠিক পরিচর্যার অভাবে অনেক প্রান্তিক খামারি কাঙ্ক্ষিত সুফল পান না। বর্তমান সরকার প্রান্তিক কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বিপুল জনশক্তিকে জনসম্পদে পরিণত করতে সবাইকে উৎপাদনমুখী কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন। তিনি বলেন, বাড়িতে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি পালন করে অনেক পরিবার সংসারের ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয় করে। কিন্তু রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ যেমন বাড়ে, তেমনি পশুপাখি মারা যাওয়ার আশঙ্কায় তাঁদের আয়ের পথও সংকুচিত হয়। প্রান্তিক খামারিদের কথা চিন্তা করেই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সময়মতো বিনা মূল্যে টিকা দেওয়া হচ্ছে। ইউএনও জানান, কর্মসূচির আওতায় গরুর তড়কা রোগের ২ হাজার, বাদলা রোগের ২ হাজার ৫০০ এবং গলাফুলা রোগের ২ হাজার টিকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া ছাগলের পিপিআর রোগের ২ হাজার, মুরগির রানীক্ষেত রোগের ৭০ হাজার এবং হাঁসের ডাকপ্লেগ রোগের ৫ হাজার টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে ৮৩ হাজার ৫০০ টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তালগাছি এলাকার খামারি রেজাউল হক নিজের গরু, ছাগল ও হাঁস নিয়ে টিকা দিতে আসেন। তিনি বলেন, ‘আমার ২টি হাঁস, ৩টি গরু ও ৫টি ছাগলকে টিকা দিয়েছি। বিনা মূল্যে টিকা পাওয়ায় আমাদের মতো ছোট খামারিদের অনেক উপকার হয়েছে। গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির রোগ হলে চিকিৎসার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এমন উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞ।’ বড়গাছী ইউনিয়নের গৃহিণী মরিয়ম বেগম বলেন, ‘আমি ২টি ছাগল ও ১টি গরুকে টিকা দিয়েছি। নিজের খরচে সব সময় টিকা দেওয়া সম্ভব হয় না। বিনামূল্যে টিকা পাওয়ায় পশুগুলোকে রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখার সুযোগ হয়েছে। এ জন্য আমরা খুবই খুশি।’ তালগাছি এলাকার কৃষক মোজাম্মেল হক একটি রাজহাঁস নিয়ে এসেছিলেন ডাকপ্লেগ রোগের টিকা দিতে। তিনি বলেন, ‘হাঁস-মুরগি আমাদের বাড়তি আয়ের একটি বড় ভরসা। একটি রোগে অনেকগুলো হাঁস-মুরগি মারা যেতে পারে। বিনা মূল্যে টিকা পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এমন কার্যক্রম নিয়মিত হলে আমাদের মতো প্রান্তিক খামারিরা আরও উপকৃত হবেন।’ এ সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল লতিফ, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. সোহরাব খানসহ উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে হাজতির মৃত্যু

কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে হাজতির মৃত্যু

ডাকাত পড়েছে মাইকিং করে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

ডাকাত পড়েছে মাইকিং করে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাংলাদেশী যাত্রীদের বিএসএফের কাছ থেকে উদ্ধার ও ফেরত আনয়ন ৫৩ বিজিবি'র সফল তৎপরতা

পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাংলাদেশী যাত্রীদের বিএসএফের কাছ থেকে উদ্ধার ও ফেরত আনয়ন ৫৩ বিজিবি'র সফল তৎপরতা

0 Comments