রাজধানীতে সম্প্রতি সংঘটিত বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর সহিংসতা, দখলবাজি ও নৈরাজ্যের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা এবং সীমাবদ্ধতার বিষয়টি এবার খোলামেলাভাবে আলোচনায় এসেছে। রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা, জনপ্রিয় এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের অফিসে হামলা-ভাঙচুর, আদাবরে বাড়িতে হামলা এবং মোহাম্মদপুরে জমি দখল ও ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটে। উদ্বেগজনক এসব ঘটনায় রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রভাবশালীদের বাধার মুখে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি পুলিশ। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে পুলিশ সদর দপ্তরে গতকাল মঙ্গলবার জরুরি ভিত্তিতে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে বিশেষ মিটিং হয়।
আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে রাজধানীর সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা, কোথায় ভুলত্রুটি ছিল এবং মাঠপর্যায়ে পুলিশের করণীয় কী—তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়। বৈঠকে খোলামেলা আলোচনায় উঠে আসে—রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং দলের সবুজ সংকেত না পেলে পুলিশ সব ধরনের অপরাধ ও প্রভাবশালী অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি পদক্ষেপে যেতে পিছপা হয়। বিশেষ করে মিরপুরে ক্লিনিক গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার নেপথ্যে বিএনপি দলীয় সংরক্ষিত আসনের দুজন এমপির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা থাকায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকশনে যেতে ব্যর্থ হয়। এছাড়া স্থানীয় বিএনপির এমপি এবং প্রভাবশালী নেতাদের সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও রোষানলের আশঙ্কায় পুলিশকে প্রতিটি পদক্ষেপে চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।
বৈঠকে অংশ নেওয়া দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মতে, মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকার বেপরোয়া অপরাধমূলক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে মহানগর বিএনপির নেতারা এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ ইতিবাচক ও স্পষ্ট সবুজ সংকেত না মিললে পুলিশের পক্ষে এককভাবে ‘অলআউট অ্যাকশন’ চালানো কঠিন। তবে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, জমি দখল ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের নমনীয়তা না দেখানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অবশ্য জরুরি বিশেষ বৈঠক ছাড়াও গতকাল পুলিশ সদর দপ্তরে মাসিক ক্রাইম কনফারেন্সে ডিএমপিসহ দেশের সব পুলিশ ইউনিটকে এসব অপরাধীদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখার তাগিদ দেওয়া হয়।
রাজধানীর সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর বিষয়ে ডিএমপির পক্ষ থেকে আত্মপক্ষ সমর্থন করে দাবি করা হয় যে, পরিস্থিতির আকস্মিকতা এবং তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতির কারণে অনেক সময় মাঠপর্যায়ের পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। মিরপুর ডিভিশনের ডিসি (উপ-পুলিশ কমিশনার) বিষয়টি কমিশনারকে সময়মতো অবহিত করেছিলেন কি না এবং করলেও কী ধরনের নির্দেশনা এসেছিল—সে বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের বৈঠকে পরিষ্কার কোনো বক্তব্য মেলেনি।
তা ছাড়া ক্লিনিক গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার দায় শুধু শাহ আলী থানার ওসি বা ডিএমপির মিরপুর ডিভিশনের ডিসির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলেও এর পেছনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নীতিনির্ধারণী বা সিদ্ধান্তহীনতার কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা অত্যন্ত সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এমনকি এসব ঘটনার সুনির্দিষ্ট আগাম গোয়েন্দা তথ্য থাকা সত্ত্বেও কেন সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হলো না এবং এর দায় শেষ পর্যন্ত কার ওপর বর্তায়—তাও বৈঠকে অস্পষ্ট থেকে গেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গণমাধ্যমে এই ঘটনাগুলো জোরালোভাবে প্রকাশিত না হলে এবং জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না হলে রাড্ডা ক্লিনিক গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও অতীতের বহু অনিয়মের মতো পর্দার অন্তরালেই ঢাকা পড়ে যেত
বৈঠকে বেশকিছু সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন বিভাগে স্থাপিত মনিটরিং কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা সচল ও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সারা দেশে চলমান বিশেষ অভিযান আরো কঠোর ও গতিশীল করার তাগিদ দেওয়া হয়। বৈঠকে কেউ কেউ মন্তব্য করেন যে, ঢাকার মতো জনবহুল ও বিশাল মেগাসিটিতে মাত্র ৩৫ হাজার পুলিশ সদস্যের মাধ্যমে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন। এ অবস্থায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ নাগরিকদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে নতুন আঙ্গিকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রস্তাব আসে।
পাশাপাশি, মাদকসেবীদের চেয়ে মাদক কারবারিদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে মাসিক অপরাধ সভায় মাঠপর্যায়ে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জমিসংক্রান্ত বিরোধ বা দখলদারিত্বের অভিযোগগুলো আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে মোকাবিলার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার জন্য ক্রাইম কনফারেন্সে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আলোচনার একপর্যায়ে কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রতিও অভিযোগের আঙুল তোলেন। তাদের মতে, আশির দশকের সেই পুরোনো ধাঁচের প্রতিবেদনের মতোই বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামান্য অবনতি হলেই পুলিশকে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ প্রতিপন্ন করে গণমাধ্যমে একপেশে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়।
একাধিক কর্মকর্তা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে দৃশ্যমান উন্নতি ঘটছে এবং বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রাজনৈতিক নেতাদের পূর্ণ সদিচ্ছা থাকলে পুলিশ যেকোনো অপরাধীকে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে গ্রেপ্তার করতে বিন্দু পরিমাণ পিছপা হবে না—মর্নিং মিটিংয়ে এই বিষয়টি অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে উঠে আসে। একাধিক কর্মকর্তা গতকালের বৈঠকে এটিকে একটি বড় অর্জন হিসেবেই দেখছেন
অতীতে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান যেমন সীমাবদ্ধ ছিল, বর্তমান বাস্তবতায়ও প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া পুলিশের জন্য সব সময় সহজ হয় না—এমন বাস্তবতাও বৈঠকে আলোচনা হয়।
এদিকে দেশজুড়ে অপরাধ পরিস্থিতি ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য দমনে মাঠপর্যায়ে কঠোর নির্দেশনার পাশাপাশি পুলিশ সদর দপ্তরে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা হয়েছে। আইজিপি আলী হোসেন ফকির এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অতিরিক্ত আইজিপি মো. সায়েদুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও এসপিরা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
সভায় আইজিপি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেন, মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কঠোর হাতে দমন করতে হবে; অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই। মাদকে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করার পাশাপাশি আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে এবং সামাজিক মাধ্যমে গুজব রোধে সাইবার মনিটরিং জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত আইজি সায়েদুর রহমান কিশোর গ্যাংয়ের নেপথ্যের প্রভাবশালী মদদদাতাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা, দুর্গাপূজাকেন্দ্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং পুলিশ সদস্যদের বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের তাগিদ দেন। এছাড়া সভায় আগস্ট মাসের অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে গুরুতর মামলার অগ্রগতি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল ও সাজার হার বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকে দুটি পদে ৬২ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। এ জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সচিবালয়। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নিয়োগের জন্য নির্ধারিত পদ দুটি হলো ‘সিস্টেম ম্যানেজার’ ও ‘প্রিন্সিপাল অফিসার’। এর মধ্যে সিস্টেম ম্যানেজার পদে একজন এবং প্রিন্সিপাল অফিসার পদে ৬১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। বেতন ও গ্রেড সিস্টেম ম্যানেজার পদটি তৃতীয় গ্রেডের। এ পদে জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা। অন্যদিকে, প্রিন্সিপাল অফিসার পদটি ষষ্ঠ গ্রেডের। এ পদে বেতন ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। উভয় পদেই চাকরিতে নিয়োগ পেলে নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে। সিস্টেম ম্যানেজার পদে যোগ্যতা সিস্টেম ম্যানেজার পদে আবেদন করতে হলে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। পাশাপাশি দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতকোত্তর বা সমমানের ডিগ্রিও থাকতে হবে। প্রার্থীর সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট অথবা সিনিয়র রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী হিসেবে অন্তত চার বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এ পদে পিএইচডি ডিগ্রি বিশেষ যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জার্নালে অন্তত দুটি প্রকাশনা থাকতে হবে। শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি গ্রহণযোগ্য হবে না। প্রিন্সিপাল অফিসার পদে যোগ্যতা প্রিন্সিপাল অফিসার পদে আবেদন করতে হলে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্তত দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। এ ছাড়া অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র অফিসার পদে অন্তত দুই বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। প্রার্থীর শিক্ষাজীবনে অন্তত একটি প্রথম বিভাগ বা শ্রেণি থাকতে হবে। তবে কোনো পর্যায়েই তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি গ্রহণযোগ্য হবে না। বয়সসীমা সিস্টেম ম্যানেজার পদে আবেদনকারীদের বয়স ২০২৬ সালের ১ জুন তারিখে ২১ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। প্রিন্সিপাল অফিসার পদে আবেদনকারীদের বয়স একই তারিখে ২১ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো অ্যাফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না। আবেদন করবেন যেভাবে আগ্রহী প্রার্থীদের বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগসংক্রান্ত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনের জন্য নির্ধারিত ফি ২০০ টাকা। অনলাইনে আবেদন করার শেষ সময় ২৫ অক্টোবর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। আর আবেদন ফি জমা দেয়ার শেষ সময় ২৭ অক্টোবর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।
স্টাফ রিপোর্টার পটুয়াখালীর বাউফলে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বিলবিলাস আব্দুর রশীদ সরদার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, বিদ্যালয়ের এডহক ম্যানেজিং কমিটি অনুমোদিত হলে তা প্রকাশের পর বাউফল উপজেলা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মোশারেফ হোসেন খান লিটনের নেতৃত্বে ৪/৫ জন ব্যক্তি ক্লাস চলাকালে প্রধান শিক্ষক খায়রুল আলমের কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা এডহক কমিটির প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে কৈফিয়ত চান। একপর্যায়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, লাঞ্ছিত এবং জীবননাশের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষকের ব্যবহৃত অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনটি মাটিতে আছড়ে ভেঙে ফেলা হয়। পরে অভিযুক্তরা দ্রুত বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। এ সময়ে মোশারেফ হোসেন লিটনের সঙ্গে ছিলেন বাউফল সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মহিবুল্লাহ ও বাউফল সদর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মঞ্জুর ই আলম। পুরো ঘটনার কিছু অংশ বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পর প্রধান শিক্ষক মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হামলাকারীরা প্রধান শিক্ষককে গালিগালাজ করার পাশাপাশি ভয়ভীতি ও জীবননাশের হুমকি দিয়েছেন। তাঁর মোবাইল ফোনও ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তারা গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকসেবন করে ও চাঁদাবাজের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ আছে।এদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মোশারেফ হোসেন খান লিটনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান," প্রধান শিক্ষক আমার এলাকার ছোট ভাই।ইতিপূর্বে আমি এ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সদস্য ছিলাম। আমাদের সাথে আলাপ না করে তিনি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। আমরা রাগে ও ক্ষোভে তার সাথে একটু খারাপ আচরণ করেছি ও তার মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলি"। বাউফল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মহিবুল্লাহ এবং বাউফল ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মঞ্জুর ই আলমের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি। পটুয়াখালী জেলা জাতীয়তাবাদীস্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এনায়েতুর রহমান মোহন বলেন,প্রধান শিক্ষককে আমি চিনি। আমার পরিচিত ছোট ভাই। কেহ তাকে সঠিক তথ্য দিয়ে প্রমাণ দিলে ও লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা কঠোর ব্যবস্হা গ্রহণ করবো"। পটুয়াখালী জেলা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত থাকলে এবং এ ব্যাপারে আমাদের অভিযোগ করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ প্রধান শিক্ষক খায়রুল আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান," প্রধান শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির প্রস্তাব পাঠানো আমার রুটিন দায়িত্ব এবং এটা গোপনীয় কাজ। আমার সাথে অভিযোগ কারীরা খারাপ ব্যবহার করে। আমার এন্ড্রয়েড ফোনটি আছাড় দিয়ে গুড়িয়ে দেয়। এরা নেশা গ্রস্হ ও বিভিন্ন অসামাজিক অপরাধের সাথে জড়িত"। যেভাবে এডহক কমিটি গঠিত হয়: বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষক খায়রুল আলম বিলবিলাস আব্দুর রশীদ সরদার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠনের একটি খসড়া প্রস্তাব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পাঠান। পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর ইউএনও জেলা প্রশাসকের কাছে ওই প্রস্তাব পাঠান। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্মারক নম্বর ০৫.১০.৭৮৫৪.০০০.০৪.০১২.২৬-১১০৬, তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬। পরে জেলা প্রশাসক ২২ সেপ্টেম্বর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে প্রস্তাবটি পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৪ অক্টোবর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান চার সদস্যের এডহক ম্যানেজিং কমিটি অনুমোদন দেন। অনুমোদিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে বোর্ড মনোনীত মো: মাহফুজুর রহমান, শিক্ষক সদস্য হিসেবে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনোনীত মো:বদরুল ইসলাম, অভিভাবক সদস্য হিসেবে জেলা প্রশাসক/উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীত মুহাম্মদ আবুল হুসাইন এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খায়রুল আলম রয়েছেন। এডহক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করেই প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ফেনীতে সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি চালানোর সময় ট্রাকচাপায় এক এসআরবি (সাবেক র্যাব) সদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত একটার দিকে চট্টগ্রামমুখী লেনের ফতেহপুর স্টার লাইন পাম্পসংলগ্ন এলাকায় এই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম মো. আলমগীর হোসেন (৪৬)। তিনি সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে প্রেষণে এসআরবি-৭-এ কর্মরত ছিলেন। আলমগীর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার শান্তিবাগ গ্রামের মৃত নূর উদ্দিন আহমেদের ছেলে। মহিপাল হাইওয়ে পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে এসআরবি সদস্যরা মহাসড়কে সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। এ সময় একটি কাভার্ডভ্যান থামিয়ে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি পেছনে থাকা একটি ট্রাককে থামার সঙ্কেত দেওয়া হয়। কিন্তু ট্রাকটি সঙ্কেত অমান্য করে থামানো কাভার্ডভ্যানকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে মহাসড়কের বাম পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এসআরবি সদস্য আলমগীরকে চাপা দিয়ে ট্রাকটি পাশের একটি গর্তে পড়ে যায়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে মহিপাল হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে গুরুতর আহত অবস্থায় এসআরবি সদস্য আলমগীর ও দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাকটির চালক মো. সজিবকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আলমগীরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ট্রাকচালক সজিব বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা। ফেনীর মহিপাল হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. নোমান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান দুটিই পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসআরবি-৭-এর সহকারী পরিচালক এআরএম মোজাফফর হোসেন বলেন, এ বিষয়ে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।