বিশেষ প্রতিনিধি সোহেল রানা
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ডলার বিক্রি করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক -------বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে নিলামের মাধ্যমে ১০ কোটি মার্কিন ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘ বিরতির পর গত সপ্তাহেও ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ডলারের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতি সামাল দিতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বুধবার (৪ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নিলামে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে একক বিডে সর্বনিম্ন পাঁচ লাখ ডলার কেনার আবেদন করতে বলা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার ১০ কোটি ডলার বিক্রির জন্য নিলাম আহ্বান করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই নিলামে অনেক ব্যাংক অংশ নিলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয়। তবে কী কারণে নিলাম বাতিল করা হয়েছিল, সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ডলারের চাহিদা বাড়ছে। এর বিপরীতে সরবরাহের চাপ তৈরি হওয়ায় আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দরও বাড়ছে। এ অবস্থায় বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়িয়ে বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একসময় বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখতে রিজার্ভ থেকে বিপুল পরিমাণ ডলার বিক্রি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত প্রায় তিন বছর ধরে এভাবে ডলার বিক্রি করা হয়।
এতে ২০২১ সালের আগস্টে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করা রিজার্ভ কমতে কমতে ২০২৪ সালের আগস্টে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ড. আহসান এইচ মনসুর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি না করার ঘোষণা দেন। বর্তমান গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পরও একই নীতি বজায় রাখেন। এর ফলে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়সহ বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ায় রিজার্ভে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে।
পরে গত ১ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে। তবে এরপর থেকে রিজার্ভ আবার কমতে শুরু করে। গত মঙ্গলবার রিজার্ভ নেমে আসে ৩৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারে। এ অবস্থায় আবারও রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত সপ্তাহে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার এবং বুধবার আরও ১০ কোটি ডলার বিক্রির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ইসরায়েলে ক্ষমতার পালাবদলের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
এর প্রভাবে বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও ডলারের দাম কমেছে। বাংলাদেশেও চলমান পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা যায়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দামের পাশাপাশি দেশের আমদানি চাহিদা ডলারের বাজারে চাপ তৈরির অন্যতম কারণ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে । দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর গত কয়েকদিন ধরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের দর বাড়ছে।
চলতি সপ্তাহে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দর ১২৪ টাকা ছাড়িয়েছে। গত দুই দিন আন্তঃব্যাংকে প্রতি ডলার ১২৪ টাকা ৭০ পয়সা দরে বিক্রি হয়েছে। এর আগের দুই দিন বিক্রি হয়েছিল ১২৪ টাকা ৩০ পয়সায়। এর আগে গত অক্টোবরের শুরুতে আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের দর ছিল ১২৩ টাকা। সেখান থেকে ধীরে ধীরে বেড়ে মাসের শেষ কর্মদিবসে ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সায় ওঠে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রায় দেড় বছর আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের দর ১২১ থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে চলতি বছরের মার্চের পর থেকে ডলারের দর বাড়তে শুরু করে। কয়েক মাসের ব্যবধানে তা এখন ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সায় পৌঁছেছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
একদিকে আমদানি ব্যয় মেটাতে ডলারের চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রিজার্ভ থেকে ডলার ছাড়তে হচ্ছে। এতে বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও দীর্ঘ মেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখতে রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয় বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি ব্যয়ের ওপরও নজর দিতে হবে।
মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ গাদি আইজেনকটকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আইজেনকটকে প্রাথমিকভাবে ২৮ দিন সময় দেওয়া হয়েছে জোট গঠনের জন্য, যা প্রয়োজনে ১৪ দিন বাড়ানো যাবে।নতুন নেসেটে আস্থা ভোটে জয়ী হলে সরকার গঠন কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সরকার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করবে।সরকার গঠনের জন্য নেসেটে ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন। আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন চার দলের জোটের হাতে বর্তমানে ৪৮টি আসন রয়েছে। আরব নেতৃত্বাধীন দুই দল ১৯টি আসন নিয়ে আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছে।অন্যদিকে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোটের হাতে ৪৬টি আসন রয়েছে। তবে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম দল নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তারা ৭টি আসনে জয়ী হয়েছে।আইজেনকট ২৮ দিনের মধ্যে একটি জোট গঠন করতে চান এবং দ্রুত একটি জরুরি সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে পারেন অথবা অতি রক্ষণশীল ইহুদিদের অন্তত একটি দলের সমর্থন চাইতে পারেন।তবে ‘চেঞ্জ ব্লকের’ জোট শরিকদের মধ্যে আরব দলগুলোকে জোটে নেওয়া নিয়ে আপত্তি রয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েল বেইতেনুর নেতা অ্যাভিগদার লিবারম্যান এই বিষয়টি নিয়ে বিরোধিতা করেছেন।বিরোধী দলগুলো নেতানিয়াহুর সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের সরকারে যোগ না দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। যদি আইজেনকট সরকার গঠনে ব্যর্থ হন, তাহলে প্রেসিডেন্ট নেসেটের অন্য সদস্যকে ২৮ দিন সময় দিয়ে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন।নতুন মনোনীত প্রার্থীও ব্যর্থ হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা তৃতীয় প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করতে পারবেন, যাকে ১৪ দিন সময় দেওয়া হবে। যদি তৃতীয় প্রার্থীরাও সফল না হন, তাহলে নেসেট ভেঙে দেওয়া হবে এবং ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নতুন নির্বাচন পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশ চালাবে এবং নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হবেন।
মঙ্গলবার, ইরানের আইনপ্রণেতা মাহমুদ নবভিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফলাফল ও প্রভাব সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ ইরানের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সভ্যতা ধ্বংস, দেশ বিভক্ত, ইসলামি প্রজাতন্ত্র পতন এবং পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করতে চায়। তিনি বলেছেন ইরানের প্রতিরোধ ও সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যের যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো বন্ধ করতে বাধ্য করেছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে এই যুদ্ধ বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। নবভিয়ান বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়েছে। তিনি হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণকে কৌশলগত সুবিধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নবভিয়ান সতর্ক করেছেন যে যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে জনমত বদলে দেওয়ার জন্য ভীত ও পশ্চিমাপন্থী কণ্ঠস্বরকে সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের মদিনা শহরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে যে তারা ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশে ধ্বংস করেছে। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে। জোট ক্ষেপণাস্ত্রের মূল লক্ষ্য এবং ধ্বংসের সময় কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করেনি। হুতি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে সৌদি জোটের দাবির বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। গত বুধবার হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রিয়াদে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। ২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং অন্যান্য এলাকা দখল করে। ২০১৫ সালের মার্চ থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক জোট হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।