বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক হাম্মাদ মুজিবের বিদেশে বিপুল সম্পদের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের তদন্তে সাইপ্রাসে তার নামে দুটি ব্যাংক হিসাব এবং ‘বাগুটেল লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের আরও দুটি ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে।
এসব হিসাবে কয়েক লাখ ইউরো ও মার্কিন ডলারের লেনদেন হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ৩ সেপ্টেম্বর বিদেশে থাকা সম্পদ সরিয়ে ফেলা বা হস্তান্তরের আশঙ্কায় হাম্মাদ মুজিব এবং তার সংশ্লিষ্টদের যুক্তরাজ্যে থাকা অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, সাইপ্রাসের একটি হিসাব থেকে যুক্তরাজ্যে তার বোন রাহি রহমানের কাছে ২ লাখ ৩ হাজার ইউরো পাঠানো হয়। ব্যাংক নথিতে অর্থগুলো ‘উপহার’ হিসাবে দেখানো হলেও দুদক বলছে, লন্ডনের একটি সম্পত্তি কেনার জন্য এ অর্থ পাঠানো হয়েছিল। একই হিসাব থেকে তার ছেলে রাগিব মুহাম্মদ আখিয়ারের পড়াশোনার খরচ বাবদ লন্ডনের একটি কলেজেও অর্থ পাঠানো হয়।
দুদক সূত্র জানায়, বিদেশে এসব ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য দুদকে দাখিল করা সম্পদবিবরণীতে উল্লেখ করেননি হাম্মাদ মুজিব। বিদেশে বিনিয়োগের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের কোনো নথিও তিনি দেখাতে পারেননি বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট মামলা করে দুদক।
মামলায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদক বলছে, হাম্মাদ মুজিব ঘুস ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন।
পরে ওই অর্থ হুন্ডি, অর্থ স্থানান্তর ও স্তরীকরণের মাধ্যমে দেশের বাইরে নেওয়া হয়েছে। সাইপ্রাসের ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থের উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ আড়াল করা হয়েছে বলেও জানায় দুদক।
সাইপ্রাসে চার ব্যাংক হিসাব : দুদকের নথি অনুযায়ী, হাম্মাদ মুজিব ২০১২ সালের ২৯ অক্টোবর সাইপ্রাসের ব্যাংক অব সাইপ্রাসে নিজের নামে একটি হিসাব খোলেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ থেকে ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ওই হিসাবে জমা পড়ে ২ লাখ ৬০ হাজার ৬৮১ দশমিক ২৫ ইউরো। নিজের নামে খোলা আরেকটি হিসাবে লেনদেন হয়েছে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ২২৩ মার্কিন ডলার। এর বাইরে ‘বাগুটেল লিমিটেড’ প্রতিষ্ঠানের নামে একই ব্যাংকে দুটি হিসাব খোলা হয়। এর একটিতে ২ লাখ ৫০ হাজার ৭৩৪ দশমিক ৭২ ইউরো এবং অন্যটিতে ২০ লাখ ৪৪ হাজার ২৮ দশমিক ২২ মার্কিন ডলার জমা ও উত্তোলনের তথ্য পেয়েছে দুদক। তদন্তে এসব অর্থের উৎস হাম্মাদ মুজিবের জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে বলছে দুদক।
সম্পদবিবরণীতে বিদেশের তথ্য গোপন: দুদকের অনুসন্ধানের পর হাম্মাদ মুজিবকে সম্পদবিবরণী দাখিলের নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি ২০২০ সালের ২ জুন সম্পদবিবরণী জমা দেন। কিন্তু এতে সাইপ্রাসে নিজের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা বিদেশে থাকা সম্পদের কোনো তথ্য উল্লেখ করেননি।
দুদকের অনুসন্ধানে বিদেশে অর্থ উপার্জনের বৈধ উৎস কিংবা বিদেশে বিনিয়োগের অনুমোদনের কোনো রেকর্ডও পাওয়া যায়নি। সরকারি কর্মচারী হিসাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিদেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং ব্যাংক হিসাব খোলার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।
দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পদবিবরণীতে এসব তথ্য না দেওয়ার মাধ্যমে হাম্মাদ মুজিব সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।
সাইপ্রাস থেকে লন্ডনে অর্থ: সাইপ্রাসের ব্যাংক হিসাবের তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যে অর্থ স্থানান্তরের বিষয়টি দুদকের সামনে আসে। ২০১৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর হাম্মাদ মুজিবের হিসাব থেকে লন্ডনের অ্যাশবোর্ন কলেজে তার ছেলে রাগিব মুহাম্মদ আখিয়ারের শিক্ষার খরচ বাবদ ২০ হাজার ৪৮৯ দশমিক ৯৭ ইউরো পাঠানো হয়। এরপর ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ ৪৬ হাজার ৯৪৮ দশমিক ৩৫ ইউরো, ৮ এপ্রিল ৫০ হাজার ইউরো এবং ১৭ এপ্রিল ১ লাখ ৬ হাজার ৯৭৬ দশমিক ৭৩ ইউরো যুক্তরাজ্যে তার বোন রাহি রহমানের কাছে পাঠানো হয়। তিন দফায় পাঠানো অর্থের পরিমাণ ২ লাখ ৩ হাজার ৯২৫ দশমিক শূন্য ৮ ইউরো।
ব্যাংক নথিতে এসব অর্থকে ‘উপহার’ হিসাবে দেখানো হয়েছে। দুদক বলছে, লন্ডনের ৩৩০ ওয়েল হল রোডের একটি সম্পত্তি কেনার জন্য ওই অর্থ পাঠানো হয়েছিল। এ লেনদেনে ‘বোলিং অ্যান্ড কোম্পানি’ নামের একটি হিসাব ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া তদন্তে হাম্মাদ মুজিবের সাইপ্রাসের হিসাব থেকে যুক্তরাজ্যে আরও ২ লাখ ৪৬ হাজার ৩৫৪ দশমিক ৯৩ ইউরো এবং ২ লাখ ৩৯ হাজার ৮৯০ দশমিক ৪১ মার্কিন ডলার পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে।
যুক্তরাজ্যের সম্পদ জব্দের আদেশ: বিদেশে থাকা সম্পদ সরিয়ে ফেলা বা হস্তান্তরের আশঙ্কায় হাম্মাদ মুজিব ও তার সংশ্লিষ্টদের যুক্তরাজ্যে থাকা অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।
আদালতের আদেশে বলা হয়, নথিপত্র পর্যালোচনায় প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে হাম্মাদ মুজিব দেশে ও বিদেশে জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন এবং অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন। সম্পদ গোপন, হস্তান্তর বা সরিয়ে ফেলা ঠেকাতে সেগুলো জব্দ করা প্রয়োজন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ১৪ ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা ২০০৭-এর ১৮ বিধি অনুযায়ী আবেদনে উল্লিখিত যুক্তরাজ্যের অস্থাবর সম্পদ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জব্দ রাখার আদেশ দেওয়া হয়। মামলার তদন্তে হাম্মাদ মুজিবের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকার তথ্য কিংবা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অন্য কোনো সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে দুদক।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।
দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সহজলভ্য এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নভোথিয়েটারে আয়োজিত ‘সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কোনো সুবিধা নয়; এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার।’ ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে ডা. জুবাইদা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণের ব্যক্তিগত সচেতনতাও বাড়াতে হবে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রতিটি ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। তার ভাষ্য, ‘সবক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।
আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী সফর স্থগিত করা হয়েছে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী ফেনী সফর করবেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুল করিম। রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা, অবকাঠামো, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনসহ যাবতীয় বিষয় নিশ্চিত করতে সরকারের সব দপ্তর সমন্বিতভাবে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। আশা করছি, অক্টোবরের নির্ধারিত সময়ের আগেই সব প্রস্তুতি পুরোপুরি সম্পন্ন হবে।’ ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক মুন্সী রফিকুল আলম মজনু বলেন, প্রধানমন্ত্রী আসবেন বলে আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু বর্তমানে রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার কারণে তার সফর স্থগিত করা হয়েছে। তিনি নতুন নির্ধারিত তারিখে আগামী পহেলা অক্টোবর ফেনী সফরে আসবেন। এ সময় তিনি ফেনীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করবেন। এদিকে সফর পিছিয়ে গেলেও প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীতে ব্যাপক প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী পরশুরামে সম্প্রতি একনেকে অনুমোদিত ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প’-এর শুভ উদ্বোধন করবেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার দীর্ঘদিনের বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসন হবে। বর্তমানে পরশুরাম-সুবা বাজার সড়কের মুহুরী নদীর তীরে মাটি সমতল করে সভাস্থল, মঞ্চ ও উদ্বোধনী ফলক তৈরির কাজ চলছে। গতকাল শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) নির্মাণাধীন পথসভাস্থল ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেছে। সম্ভাব্য আকাশপথে সফরের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পরশুরাম মডেল সরকারি পাইলট স্কুল মাঠে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া ফেনী-পরশুরাম সড়ক মেরামত ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ পরিচালনা করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। পরশুরাম ছাড়াও নানার বাড়ি ফুলগাজীতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি ও সামাজিক কাজের উদ্বোধন করবেন তারেক রহমান। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ পরিদর্শন ও বৃক্ষরোপণ, সোলার প্যানেল ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন, কৃষকদের প্রণোদনার জন্য কৃষক কার্ড বিতরণ, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের মাঝে প্রণোদনা বিতরণ, দুস্থ ও দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত মানুষদের আর্থিক সাহায্য এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান। একইদিন প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীতে তার নানার বাড়িতে যাবেন এবং প্রয়াত স্বজনদের কবর জিয়ারত করবেন। এদিকে সফর পিছিয়ে গেলেও প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীতে ব্যাপক প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী পরশুরামে সম্প্রতি একনেকে অনুমোদিত ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প’-এর শুভ উদ্বোধন করবেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার দীর্ঘদিনের বন্যা ও জলাবদ্ধতার নিরসন হবে।
আইন অনুযায়ী যারা যোগ্য হবেন, তারাই নির্বাচন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কোর্সে গণমাধ্যমের সঙ্গে এ কথা বলেন তিনি। স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থিতার বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, আইন অনুযায়ী যারা যোগ্য হবেন, তারাই নির্বাচন করতে পারবেন। নির্বাচনের প্রস্তুতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পুলিশের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। সুন্দর নির্বাচনের জন্য পুলিশের সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব আছে। সিইসি বলেন, নির্বাচনে কোনো বেআইনি নির্দেশনা দেয়া হবে না। নির্বাচন নিয়ে মানুষের আস্থা ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, পুলিশের ওপর আস্থা আছে। জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে এখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো।