জাতীয়

বিটিসিএল’র উপমহাব্যবস্থাপক

বিদেশে সম্পদের পাহাড় হাম্মাদ মুজিবের

Shaeed সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
বিদেশে সম্পদের পাহাড় হাম্মাদ মুজিবের
বিপুল সম্পদের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

 

 

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক হাম্মাদ মুজিবের বিদেশে বিপুল সম্পদের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের তদন্তে সাইপ্রাসে তার নামে দুটি ব্যাংক হিসাব এবং ‘বাগুটেল লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের আরও দুটি ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে।


এসব হিসাবে কয়েক লাখ ইউরো ও মার্কিন ডলারের লেনদেন হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ৩ সেপ্টেম্বর বিদেশে থাকা সম্পদ সরিয়ে ফেলা বা হস্তান্তরের আশঙ্কায় হাম্মাদ মুজিব এবং তার সংশ্লিষ্টদের যুক্তরাজ্যে থাকা অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, সাইপ্রাসের একটি হিসাব থেকে যুক্তরাজ্যে তার বোন রাহি রহমানের কাছে ২ লাখ ৩ হাজার ইউরো পাঠানো হয়। ব্যাংক নথিতে অর্থগুলো ‘উপহার’ হিসাবে দেখানো হলেও দুদক বলছে, লন্ডনের একটি সম্পত্তি কেনার জন্য এ অর্থ পাঠানো হয়েছিল। একই হিসাব থেকে তার ছেলে রাগিব মুহাম্মদ আখিয়ারের পড়াশোনার খরচ বাবদ লন্ডনের একটি কলেজেও অর্থ পাঠানো হয়।

দুদক সূত্র জানায়, বিদেশে এসব ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য দুদকে দাখিল করা সম্পদবিবরণীতে উল্লেখ করেননি হাম্মাদ মুজিব। বিদেশে বিনিয়োগের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের কোনো নথিও তিনি দেখাতে পারেননি বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট মামলা করে দুদক।

মামলায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদক বলছে, হাম্মাদ মুজিব ঘুস ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন।

পরে ওই অর্থ হুন্ডি, অর্থ স্থানান্তর ও স্তরীকরণের মাধ্যমে দেশের বাইরে নেওয়া হয়েছে। সাইপ্রাসের ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থের উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ আড়াল করা হয়েছে বলেও জানায় দুদক।

সাইপ্রাসে চার ব্যাংক হিসাব : দুদকের নথি অনুযায়ী, হাম্মাদ মুজিব ২০১২ সালের ২৯ অক্টোবর সাইপ্রাসের ব্যাংক অব সাইপ্রাসে নিজের নামে একটি হিসাব খোলেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ থেকে ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ওই হিসাবে জমা পড়ে ২ লাখ ৬০ হাজার ৬৮১ দশমিক ২৫ ইউরো। নিজের নামে খোলা আরেকটি হিসাবে লেনদেন হয়েছে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ২২৩ মার্কিন ডলার। এর বাইরে ‘বাগুটেল লিমিটেড’ প্রতিষ্ঠানের নামে একই ব্যাংকে দুটি হিসাব খোলা হয়। এর একটিতে ২ লাখ ৫০ হাজার ৭৩৪ দশমিক ৭২ ইউরো এবং অন্যটিতে ২০ লাখ ৪৪ হাজার ২৮ দশমিক ২২ মার্কিন ডলার জমা ও উত্তোলনের তথ্য পেয়েছে দুদক। তদন্তে এসব অর্থের উৎস হাম্মাদ মুজিবের জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে বলছে দুদক।

সম্পদবিবরণীতে বিদেশের তথ্য গোপন: দুদকের অনুসন্ধানের পর হাম্মাদ মুজিবকে সম্পদবিবরণী দাখিলের নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি ২০২০ সালের ২ জুন সম্পদবিবরণী জমা দেন। কিন্তু এতে সাইপ্রাসে নিজের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা বিদেশে থাকা সম্পদের কোনো তথ্য উল্লেখ করেননি।


দুদকের অনুসন্ধানে বিদেশে অর্থ উপার্জনের বৈধ উৎস কিংবা বিদেশে বিনিয়োগের অনুমোদনের কোনো রেকর্ডও পাওয়া যায়নি। সরকারি কর্মচারী হিসাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিদেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং ব্যাংক হিসাব খোলার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।

দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পদবিবরণীতে এসব তথ্য না দেওয়ার মাধ্যমে হাম্মাদ মুজিব সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।

সাইপ্রাস থেকে লন্ডনে অর্থ: সাইপ্রাসের ব্যাংক হিসাবের তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যে অর্থ স্থানান্তরের বিষয়টি দুদকের সামনে আসে। ২০১৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর হাম্মাদ মুজিবের হিসাব থেকে লন্ডনের অ্যাশবোর্ন কলেজে তার ছেলে রাগিব মুহাম্মদ আখিয়ারের শিক্ষার খরচ বাবদ ২০ হাজার ৪৮৯ দশমিক ৯৭ ইউরো পাঠানো হয়। এরপর ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ ৪৬ হাজার ৯৪৮ দশমিক ৩৫ ইউরো, ৮ এপ্রিল ৫০ হাজার ইউরো এবং ১৭ এপ্রিল ১ লাখ ৬ হাজার ৯৭৬ দশমিক ৭৩ ইউরো যুক্তরাজ্যে তার বোন রাহি রহমানের কাছে পাঠানো হয়। তিন দফায় পাঠানো অর্থের পরিমাণ ২ লাখ ৩ হাজার ৯২৫ দশমিক শূন্য ৮ ইউরো।

ব্যাংক নথিতে এসব অর্থকে ‘উপহার’ হিসাবে দেখানো হয়েছে। দুদক বলছে, লন্ডনের ৩৩০ ওয়েল হল রোডের একটি সম্পত্তি কেনার জন্য ওই অর্থ পাঠানো হয়েছিল। এ লেনদেনে ‘বোলিং অ্যান্ড কোম্পানি’ নামের একটি হিসাব ব্যবহার করা হয়।

এছাড়া তদন্তে হাম্মাদ মুজিবের সাইপ্রাসের হিসাব থেকে যুক্তরাজ্যে আরও ২ লাখ ৪৬ হাজার ৩৫৪ দশমিক ৯৩ ইউরো এবং ২ লাখ ৩৯ হাজার ৮৯০ দশমিক ৪১ মার্কিন ডলার পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে।

যুক্তরাজ্যের সম্পদ জব্দের আদেশ: বিদেশে থাকা সম্পদ সরিয়ে ফেলা বা হস্তান্তরের আশঙ্কায় হাম্মাদ মুজিব ও তার সংশ্লিষ্টদের যুক্তরাজ্যে থাকা অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।

আদালতের আদেশে বলা হয়, নথিপত্র পর্যালোচনায় প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে হাম্মাদ মুজিব দেশে ও বিদেশে জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন এবং অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন। সম্পদ গোপন, হস্তান্তর বা সরিয়ে ফেলা ঠেকাতে সেগুলো জব্দ করা প্রয়োজন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ১৪ ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা ২০০৭-এর ১৮ বিধি অনুযায়ী আবেদনে উল্লিখিত যুক্তরাজ্যের অস্থাবর সম্পদ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জব্দ রাখার আদেশ দেওয়া হয়। মামলার তদন্তে হাম্মাদ মুজিবের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকার তথ্য কিংবা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অন্য কোনো সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে দুদক।


 

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সম্ভাবনার নতুন শ্রমবাজার সার্বিয়া

মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক  

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জাতীয়

View more
আইএসইউতে নবীন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানের একটি চিত্র।
আইএসইউতে নবীন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

আইএসইউতে নবীন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান ০২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানটি আইএসইউর মহাখালী ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল আউয়াল খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের মেম্বার সেক্রেটারি হাসনাত মোশাররফ।উপাচার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য সম্পর্কে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে আইএসইউর ট্রেজারার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং বিভাগের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

Desk Reporter নভেম্বর ২, ২০২৬ 0
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যা মামলার একটি চিত্র।

দুর্গাপুরে সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যা মামলায় দুই গ্রেপ্তার

মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য তুলে ধরা হয়েছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য

ইন্টার মায়ামি নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনের বিরুদ্ধে জয় লাভ করেছে।

ইন্টার মায়ামি নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনকে হারিয়ে জয়ী

চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটবে নভেম্বরের ৪ তারিখে।
চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটবে নভেম্বরের ৪ তারিখে

চট্টগ্রামে সুমিট এলএনজি টার্মিনালে রক্ষণাবেক্ষণের কারণে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হবে। এটি ৪ নভেম্বর বুধবার থেকে শুরু হবে এবং ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য ৪ নভেম্বর সকাল ৮ টা থেকে ৭ নভেম্বর বিকাল ৪ টা পর্যন্ত পুনঃগ্যাসীকৃত এলএনজি (আরএলএনজি) সরবরাহ বন্ধ থাকবে।গ্যাস সরবরাহের এই হ্রাস কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) এর সকল গ্রাহককে প্রভাবিত করবে।কেজিডিসিএল এর মোট ১ লক্ষ ৪৬ হাজার ১৭৪ জন গ্রাহক রয়েছে, যার মধ্যে ২০৪ জন ক্যাপটিভ পাওয়ার গ্রাহক এবং ৯৬২ জন শিল্প গ্রাহক অন্তর্ভুক্ত।চট্টগ্রাম অঞ্চলের দৈনিক গ্যাস চাহিদা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট।মাহেশখালিতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সম্মিলিত গ্যাস সরবরাহ ক্ষমতা ১.০৫ বিলিয়ন ঘনফুট প্রতি দিন। বর্তমানে এই টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

Desk Reporter নভেম্বর ২, ২০২৬ 0
চট্টগ্রামে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় চারজনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় চারজনের রিমান্ড মঞ্জুর

দুর্নীতি দমন কমিশন সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

বাশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা

মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

বিকাশ-নগদ-রকেটের অতিরিক্ত চার্জ, মঙ্গলবার রুল শুনানি
বিকাশ-নগদ-রকেটের অতিরিক্ত চার্জ, মঙ্গলবার রুল শুনানি

  গ্রাহকদের কাছ থেকে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) বিকাশ, নগদ ও রকেটের স্বেচ্ছাচারী ও অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ নেওয়া কেন অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—এ মর্মে জারি করা রুলের শুনানির জন্য মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিন ধার্য করেছে হাইকোর্ট। . আজ সোমবার দুপুরে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ওবায়দুল্লাহ আল মামুন সাকিব। এর আগে গ্রাহকদের কাছ থেকে এমএফএস সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ নেওয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিল হাইকোর্ট। পাশাপাশি, বিশেষ করে দরিদ্র ও ব্যাংকিং সেবাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তিসংগত ও সাশ্রয়ী এমএফএস চার্জ এবং ভোক্তা সুরক্ষা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কেন একটি স্বতন্ত্র মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস আইন প্রণয়ন করা হবে না, রুলে তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছিল। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করে। অর্থসচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, আইনজীবী ওবায়দুল্লাহ আল মামুন সাকিব নিজেই হাইকোর্টে এই রিটটি দায়ের করেছিলেন।

News নভেম্বর ২, ২০২৬ 0
ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সর্বাত্মক প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সর্বাত্মক প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে কিছু শিল্পমালিক, সাবেক এমপি-প্রতিমন্ত্রীরাও জড়িত

পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে কিছু শিল্পমালিক, সাবেক এমপি-প্রতিমন্ত্রীরাও জড়িত

৪৫তম বিসিএস থেকে গণপূর্ত ক্যাডারে নিয়োগ পেলেন ৭ জন

৪৫তম বিসিএস থেকে গণপূর্ত ক্যাডারে নিয়োগ পেলেন ৭ জন

0 Comments