দেশের প্রতি উপজেলায় অন্তত একটি করে মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছে এম.ফিল-পিএইচ.ডি ডিগ্রিধারী মাদ্রাসা শিক্ষক ফোরাম। সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে পাঠানো এক স্মারকলিপিতে এ দাবি জানান ফোরামের সভাপতি ড. মোহা. আহমাদুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক ড. মোহাম্মদ তোফায়েল উদ্দিন।
স্মারকলিপিতে তারা বলেন, বাংলাদেশে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী ধারক হিসেবে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার পরও আলিয়া মাদ্রাসাসমূহ দীর্ঘদিন ধরে উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি জ্ঞান-বিজ্ঞান ও আধুনিক শিক্ষা প্রদান করে একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৩-এর তথ্য তুলে ধরে স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৬২৮টি, সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৬৩টি, সরকারি কলেজ ৬৩৭টি এবং টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩১৭টি। অথচ সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার সংখ্যা মাত্র তিনটি। এরকম চরম বাস্তবতা ও পাহাড়সম বৈষম্য নিয়ে দেশ ও জাতির উন্নয়নে মাদ্রাসা শিক্ষার অবদান গৌরব করার মতো। তাই শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও টেকসই করতে মাদ্রাসা শিক্ষাসহ সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি।
এতে আরও বলা হয়, তবে সীমাবদ্ধতার কারণে এক সাথে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ সম্ভব না হলে প্রতি উপজেলায় অন্তত একটি করে মাদ্রাসা জাতীয়করণ করা অত্যন্ত জরুরি ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলে বিবেচিত। তাতে বৈষম্য কিছুটা হলেও কমবে।
জাতীয় স্বার্থে ও মাদ্রাসা শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতি উপজেলায় অন্তত একটি করে মাদ্রাসা জাতীয়করণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে শিক্ষামন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন ফোরামের নেতারা।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।
দেশের প্রতি উপজেলায় অন্তত একটি করে মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছে এম.ফিল-পিএইচ.ডি ডিগ্রিধারী মাদ্রাসা শিক্ষক ফোরাম। সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে পাঠানো এক স্মারকলিপিতে এ দাবি জানান ফোরামের সভাপতি ড. মোহা. আহমাদুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক ড. মোহাম্মদ তোফায়েল উদ্দিন। স্মারকলিপিতে তারা বলেন, বাংলাদেশে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী ধারক হিসেবে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার পরও আলিয়া মাদ্রাসাসমূহ দীর্ঘদিন ধরে উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি জ্ঞান-বিজ্ঞান ও আধুনিক শিক্ষা প্রদান করে একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৩-এর তথ্য তুলে ধরে স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৬২৮টি, সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৬৩টি, সরকারি কলেজ ৬৩৭টি এবং টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩১৭টি। অথচ সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার সংখ্যা মাত্র তিনটি। এরকম চরম বাস্তবতা ও পাহাড়সম বৈষম্য নিয়ে দেশ ও জাতির উন্নয়নে মাদ্রাসা শিক্ষার অবদান গৌরব করার মতো। তাই শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও টেকসই করতে মাদ্রাসা শিক্ষাসহ সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি। এতে আরও বলা হয়, তবে সীমাবদ্ধতার কারণে এক সাথে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ সম্ভব না হলে প্রতি উপজেলায় অন্তত একটি করে মাদ্রাসা জাতীয়করণ করা অত্যন্ত জরুরি ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলে বিবেচিত। তাতে বৈষম্য কিছুটা হলেও কমবে। জাতীয় স্বার্থে ও মাদ্রাসা শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতি উপজেলায় অন্তত একটি করে মাদ্রাসা জাতীয়করণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে শিক্ষামন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন ফোরামের নেতারা।
পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা:)২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অদ্য ২৪ আগষ্ট দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় কৃষি অনুষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সিরাতুন্নবী উদযাপন কমিটির আহবায়ক প্রফেসর এম. জহুরুল হক এর সভাপতিত্বে ও ভাইস-চ্যান্সেলর কার্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ড. রাহাত মাহমুদ এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস এম হেমায়েত জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড.এবিএম সাইফুল ইসলাম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, মানব ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:)।তিনি কেবল একটি ধর্মের প্রচারক ছিলেন না,বরং তিনি ছিলেন একজন আদর্শ সমাজ সংস্কারক,সফল রাষ্ট্রনায়ক এবং মানবতার মূর্ত প্রতীক। অন্ধকার ও বর্বরতার যুগে অবতীর্ণ হয়ে তিনি এক আলোকোজ্জ্বল ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।তরুন সমাজ যদি তার প্রদর্শিত পথ ও নৈতিকতা নিজেদের জীবনে ধারণ করতে পারে তবে একটি সুন্দর, সাম্যবাদী ও মানবিক সমাজ গঠন করা সম্ভব। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, মাদক, ইভটিজিং, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্বোচ্ছার হতে হবে। রাসুলুল্লাহ সাঃ এর জীবন আমাদের শেখায় কিভাবে ভালবাসা,ন্যায়বিচার ও নৈতিকতা দিয়ে সমাজকে বদলে দেয়া যায়। শিক্ষার্থীদের কেবল তও্বীয় তার জীবনী না পড়ে বাস্তবজীবনে তাঁর প্রতিটি গুণ যেমন নম্রতা,পরোপকার, সদাচার ও দেশপ্রেমের অনুশীলন করা। তবেই একটি মানবিক ও প্রগতিশীল সমাজ বিনির্মাণ করতে সক্ষম হব। পরে বিশ্ববিদ্যালয়,সৃজণি স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের হামদ,নাত,কেরাত,আজান,উপস্থিত বক্তৃতা ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর মো: মাহফুজুর রহমান সবুজ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞাপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আওয়ামী লীগ আমলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনে কাজ শুরু করেছে। শনিবার (৮ আগস্ট) নাটোরের লালপুরের বিলায়েত খান উচ্চবিদ্যালয়ে আয়োজিত এক শিক্ষক-শিক্ষার্থী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন। প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, বিগত ১৭ বছর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দিয়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির এক মানসিক যুদ্ধে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। এমন চাপ সহ্য করতে না পেরে অনেক শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবিমুখ করে রাখা হয়েছিল, যার ফলে হতাশায় পড়ে অনেকে অনলাইন জুয়া ও মাদকের ছোবলে জড়িয়ে পড়ে। কারণ ফ্যাসিবাদী শাসক চেয়েছিল শিক্ষার্থীরা যেন মেরুদণ্ড সোজা করে প্রতিবাদ করতে না শেখে। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় আনন্দমুখর পরিবেশে শিক্ষা দেওয়ার নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করতে ফের টেলিভিশনে ‘নতুন কুঁড়ি’ আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রতিযোগিতা এখন সংস্কৃতি পেরিয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ হিসেবে সারা দেশের খেলার মাঠেও পৌঁছে গেছে। শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে শিক্ষকদের মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রাইভেট পড়ানোর প্রবণতা থেকে বিরত থেকে ক্লাসেই দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত পাঠদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সমাবেশ শেষে প্রতিমন্ত্রী দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চলমান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করেন। পরে তিনি এবি ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন। কর্মী সভায় লালপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনার রশীদ পাপ্পু এবং গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম বক্তব্য দেন।