রাজধানীর ধানমন্ডির কথা শুনলেই এক অভিজাত আবাসিক এলাকার চিত্র চোখের সামনে ভেসে উঠে। এখানে লেক আছে। আছে সবুজে ঘেরা পার্ক। আশির দশকেই এই পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা হারিয়েছে তার বৈশিষ্ট্য। তখন থেকেই এই এলাকার কিছু অংশে বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু হয়। ভবনগুলোতে চলছে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম। এর মধ্যে ধানমন্ডির ৮ নম্বর সড়কেই মডার্ন গ্রুপ অব কোম্পানিজের পাঁচটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তারা পদে পদে আইন লঙ্ঘন করে হাসপাতাল বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
গ্রিন রোড সংলগ্ন ধানমন্ডির ৮ নম্বর সড়কের দুই পাশে মডার্ন গ্রুপ অব কোম্পানিজের আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল, আনোয়ার খান মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ, আনোয়ার খান মডার্ন কার্ডিয়াক সেন্টার ও আনোয়ার খান মডার্ন কার্ডিয়াক হাসপাতাল (প্রস্তাবিত)। প্রায় ৪৫ কাঠা জমিতে এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের অভিযোগ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ–রাজউক অবৈধ সুবিধা নিয়ে মডার্ন গ্রুপ অব কোম্পানিজকে আবাসিক এলাকায় এসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণের সুযোগ করে দিয়েছে।
আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের পক্ষ থেকে মডার্ন গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান ডা. আনোয়ার হোসেন খানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
গত ২৬ ও ৩০ আগস্ট সরেজমিন দেখা গেছে, ধানমন্ডির ৮ নম্বর সড়কের পূর্বপাশে ১৭ ও ১৭/১ হোল্ডিংয়ে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল ভবন। এই ভবনের বেইসমেন্টে পার্কিংয়ের জন্য জায়গা থাকলেও সেখানে জেনারেটর রাখা হয়েছে। এছাড়া আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ ও মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বেইসমেন্টে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় কয়েক শ গ্যাসের সিলিন্ডার রাখা হয়েছে। এছাড়া এখানে দুটি জেনারেটর স্থাপন করা হয়েছে।
আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজের বেইসমেন্টের গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় মালামাল রাখা হয়েছে। তবে আনোয়ার খান মডার্ন কার্ডিয়াক হাসপাতালের (প্রস্তাবিত) জায়গায় টাকার বিনিময়ে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।
জানতে চাইলে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. এনায়েত হোসাইন শেখ সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, রাজউকসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন নিয়েই এখানে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে। কার্ডিয়াক সেন্টারের পাশে তারা বহুতল ভবন নির্মাণ করে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান করবেন। তবে ৮ নম্বর সড়কটি আবাসিক এলাকার মধ্যে পড়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজউক বিভিন্ন সময়ে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়েছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর রাজউক অঞ্চল-৫-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আক্তার ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন।
অনুমোদিত নকশা দেখাতে না পারায় এবং গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় চিকিৎসকদের চেম্বার, অভ্যর্থনা কক্ষ ও ফার্মেসি স্থাপন করায় প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়। এছাড়া রাজউক একাধিকবার অভিযান চালিয়ে আবাসিক ভবনে হাসপাতালের কার্যক্রম ও নকশার ব্যত্যয় করে গাড়ি পার্কিয়ের জায়গায় গুদাম করায় আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে সতর্ক করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তখন অঙ্গীকারনামা দিয়ে রক্ষা পাওয়ার পর আবারও পুরোনো চেহারায় ফিরে যায়। একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি সাবেক গণপূর্ত সচিব শহীদ উল্লা খন্দকারের সঙ্গে আতাঁত করে। এরপর থেকে তারা হাসপাতালের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের পূর্ব পাশেই পাঁচতলা একটি বাড়ির নিচে প্যানারোমা হসপিটাল লিমেটেড নামের একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান চালু করা হয়েছে। এই বাড়ির হোল্ডিং নম্বর ১৬। ভবনের দেয়ালে বিশেষজ্ঞ ডজনখানেক চিকিৎসকদের নামফলক শোভা পাচ্ছে। হাসপাতালের সামনের সড়ক দখল করে সাত–আটটি অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়েছে।
আবাসিক এলাকায় ব্যাংক, স্কুল ও করপোরেট অফিস
রাজধানীর গ্রিন রোড সংলগ্ন ধানমন্ডির ৫ নম্বর সড়কের মাথায় সেন্ট্রাল হাসপাতাল। এই সড়কের পুরোটাই আবাসিক। কনকর্ড টাওয়ারের বিপরীতে একটি ভবনে দুজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চেম্বারও রয়েছে।
ধানমন্ডির ৭ নম্বর সড়কের পাশের ভবনগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, এসব ভবনে হাসপাতালের পাশাপাশি ব্যাংক, স্কুল, করপোরেট অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে।
ধানমন্ডির ভুতের গলির স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ধানমন্ডির গ্রিন রোড ও আশপাশে পুরোটাই আবাসিক এলাকা। এই আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক করার জন্য যেসব সংস্থা অনুমোদন দিচ্ছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
নগরবিদের বক্তব্য
এ বিষয়ে বিশিষ্ট স্থপতি ও নগরবিদ ইকবাল হাবিব সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘রাজউক ঢাকা শহরের বারোটা বাজিয়েছে। পরিবেশবিদদের কঠোর আপত্তি সত্ত্বেও রাজউক রাজধানীর অনেক এলাকাকে মিশ্র বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার মাধ্যমে তারা ঢাকা শহরকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ট্রাফিক ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট না করে একের পর এক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেওয়ায় চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।’
ইকবাল হাবিব আরও বলেন, যেকোনো স্থানে হাসপাতাল করা যায় না। আবাসিক এলাকায় হাসপাতাল গড়ে ওঠায় অনেক মানুষের সমস্যা হচ্ছে। এর সব দায়ভার রাজউকের।
গ্রিন রোড সংলগ্ন ধানমন্ডির বিভিন্ন সড়কে গড়ে ওঠেছে চিকিৎসকদের চেম্বার, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। আশির দশকের শেষে এবং নব্বই দশকের শুরুতে রাজধানীর গ্রিন রোডে চিকিৎসা সেবা শুরু হয়। শুরুতে গড়ে ওঠে প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খানের সেন্ট্রাল হাসপাতাল। এরপর কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মো. নজরুল ইসলাম সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘ভবন নির্মাণের প্ল্যান অনুমোদন রাজউক দিয়ে থাকে। সিটি করপোরেশন শুধু রাস্তাঘাট ও ফুটপাত নির্মাণ করে। এই বিষয়ে রাজউকের সঙ্গে কথা বললে পরিষ্কার হতে পারবেন।
অবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের বিষয়টি অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউকের প্রধান পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ‘১৯৯৬ সালে ফি জমা দিয়ে আবাসিক এলাকা বাণিজ্যিক করার একটি সার্কুলার দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী ধানমন্ডির ৪, ৫ ও ৭ নম্বর সড়কে নির্মিত হাসপাতালগুলো বাণিজ্যিক অনুমোদন নিয়েছিল কি না-সে বিষয়টি এই মুহূর্তে ফাইল না দেখে বলা যাচ্ছে না। তবে এই বিষয়টি গণপূর্ত বিভাগ বলতে পারবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. ওবায়দুর রহমান মুঠোফোনে সিজেডএন টোয়ন্টিফোরকে বলেন, ‘আবাসিক এলাকা কনভারশন ফি দিয়ে বাণিজ্যিক করার শর্ত ছিল। সে অনুযায়ী ধানমন্ডির ৪, ৫, ৭ ও ৮ নম্বর সড়কে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কি না–তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। সচিব আরও বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাজধানীর ধানমন্ডির কথা শুনলেই এক অভিজাত আবাসিক এলাকার চিত্র চোখের সামনে ভেসে উঠে। এখানে লেক আছে। আছে সবুজে ঘেরা পার্ক। আশির দশকেই এই পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা হারিয়েছে তার বৈশিষ্ট্য। তখন থেকেই এই এলাকার কিছু অংশে বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু হয়। ভবনগুলোতে চলছে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম। এর মধ্যে ধানমন্ডির ৮ নম্বর সড়কেই মডার্ন গ্রুপ অব কোম্পানিজের পাঁচটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তারা পদে পদে আইন লঙ্ঘন করে হাসপাতাল বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রিন রোড সংলগ্ন ধানমন্ডির ৮ নম্বর সড়কের দুই পাশে মডার্ন গ্রুপ অব কোম্পানিজের আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল, আনোয়ার খান মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ, আনোয়ার খান মডার্ন কার্ডিয়াক সেন্টার ও আনোয়ার খান মডার্ন কার্ডিয়াক হাসপাতাল (প্রস্তাবিত)। প্রায় ৪৫ কাঠা জমিতে এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের অভিযোগ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ–রাজউক অবৈধ সুবিধা নিয়ে মডার্ন গ্রুপ অব কোম্পানিজকে আবাসিক এলাকায় এসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণের সুযোগ করে দিয়েছে। আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের পক্ষ থেকে মডার্ন গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান ডা. আনোয়ার হোসেন খানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। গত ২৬ ও ৩০ আগস্ট সরেজমিন দেখা গেছে, ধানমন্ডির ৮ নম্বর সড়কের পূর্বপাশে ১৭ ও ১৭/১ হোল্ডিংয়ে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল ভবন। এই ভবনের বেইসমেন্টে পার্কিংয়ের জন্য জায়গা থাকলেও সেখানে জেনারেটর রাখা হয়েছে। এছাড়া আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ ও মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বেইসমেন্টে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় কয়েক শ গ্যাসের সিলিন্ডার রাখা হয়েছে। এছাড়া এখানে দুটি জেনারেটর স্থাপন করা হয়েছে। আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজের বেইসমেন্টের গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় মালামাল রাখা হয়েছে। তবে আনোয়ার খান মডার্ন কার্ডিয়াক হাসপাতালের (প্রস্তাবিত) জায়গায় টাকার বিনিময়ে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। জানতে চাইলে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. এনায়েত হোসাইন শেখ সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, রাজউকসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন নিয়েই এখানে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে। কার্ডিয়াক সেন্টারের পাশে তারা বহুতল ভবন নির্মাণ করে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান করবেন। তবে ৮ নম্বর সড়কটি আবাসিক এলাকার মধ্যে পড়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজউক বিভিন্ন সময়ে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়েছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর রাজউক অঞ্চল-৫-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আক্তার ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন। অনুমোদিত নকশা দেখাতে না পারায় এবং গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় চিকিৎসকদের চেম্বার, অভ্যর্থনা কক্ষ ও ফার্মেসি স্থাপন করায় প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়। এছাড়া রাজউক একাধিকবার অভিযান চালিয়ে আবাসিক ভবনে হাসপাতালের কার্যক্রম ও নকশার ব্যত্যয় করে গাড়ি পার্কিয়ের জায়গায় গুদাম করায় আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে সতর্ক করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তখন অঙ্গীকারনামা দিয়ে রক্ষা পাওয়ার পর আবারও পুরোনো চেহারায় ফিরে যায়। একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি সাবেক গণপূর্ত সচিব শহীদ উল্লা খন্দকারের সঙ্গে আতাঁত করে। এরপর থেকে তারা হাসপাতালের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের পূর্ব পাশেই পাঁচতলা একটি বাড়ির নিচে প্যানারোমা হসপিটাল লিমেটেড নামের একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান চালু করা হয়েছে। এই বাড়ির হোল্ডিং নম্বর ১৬। ভবনের দেয়ালে বিশেষজ্ঞ ডজনখানেক চিকিৎসকদের নামফলক শোভা পাচ্ছে। হাসপাতালের সামনের সড়ক দখল করে সাত–আটটি অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়েছে। আবাসিক এলাকায় ব্যাংক, স্কুল ও করপোরেট অফিস রাজধানীর গ্রিন রোড সংলগ্ন ধানমন্ডির ৫ নম্বর সড়কের মাথায় সেন্ট্রাল হাসপাতাল। এই সড়কের পুরোটাই আবাসিক। কনকর্ড টাওয়ারের বিপরীতে একটি ভবনে দুজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চেম্বারও রয়েছে। ধানমন্ডির ৭ নম্বর সড়কের পাশের ভবনগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, এসব ভবনে হাসপাতালের পাশাপাশি ব্যাংক, স্কুল, করপোরেট অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে। ধানমন্ডির ভুতের গলির স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ধানমন্ডির গ্রিন রোড ও আশপাশে পুরোটাই আবাসিক এলাকা। এই আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক করার জন্য যেসব সংস্থা অনুমোদন দিচ্ছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। নগরবিদের বক্তব্য এ বিষয়ে বিশিষ্ট স্থপতি ও নগরবিদ ইকবাল হাবিব সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘রাজউক ঢাকা শহরের বারোটা বাজিয়েছে। পরিবেশবিদদের কঠোর আপত্তি সত্ত্বেও রাজউক রাজধানীর অনেক এলাকাকে মিশ্র বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার মাধ্যমে তারা ঢাকা শহরকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ট্রাফিক ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট না করে একের পর এক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেওয়ায় চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।’ ইকবাল হাবিব আরও বলেন, যেকোনো স্থানে হাসপাতাল করা যায় না। আবাসিক এলাকায় হাসপাতাল গড়ে ওঠায় অনেক মানুষের সমস্যা হচ্ছে। এর সব দায়ভার রাজউকের। গ্রিন রোড সংলগ্ন ধানমন্ডির বিভিন্ন সড়কে গড়ে ওঠেছে চিকিৎসকদের চেম্বার, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। আশির দশকের শেষে এবং নব্বই দশকের শুরুতে রাজধানীর গ্রিন রোডে চিকিৎসা সেবা শুরু হয়। শুরুতে গড়ে ওঠে প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খানের সেন্ট্রাল হাসপাতাল। এরপর কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মো. নজরুল ইসলাম সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘ভবন নির্মাণের প্ল্যান অনুমোদন রাজউক দিয়ে থাকে। সিটি করপোরেশন শুধু রাস্তাঘাট ও ফুটপাত নির্মাণ করে। এই বিষয়ে রাজউকের সঙ্গে কথা বললে পরিষ্কার হতে পারবেন। অবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের বিষয়টি অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউকের প্রধান পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ‘১৯৯৬ সালে ফি জমা দিয়ে আবাসিক এলাকা বাণিজ্যিক করার একটি সার্কুলার দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী ধানমন্ডির ৪, ৫ ও ৭ নম্বর সড়কে নির্মিত হাসপাতালগুলো বাণিজ্যিক অনুমোদন নিয়েছিল কি না-সে বিষয়টি এই মুহূর্তে ফাইল না দেখে বলা যাচ্ছে না। তবে এই বিষয়টি গণপূর্ত বিভাগ বলতে পারবে।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. ওবায়দুর রহমান মুঠোফোনে সিজেডএন টোয়ন্টিফোরকে বলেন, ‘আবাসিক এলাকা কনভারশন ফি দিয়ে বাণিজ্যিক করার শর্ত ছিল। সে অনুযায়ী ধানমন্ডির ৪, ৫, ৭ ও ৮ নম্বর সড়কে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কি না–তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। সচিব আরও বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবি পুলিশের অভিযানে সংঘবদ্ধ ডলার প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোররাতে সদর উপজেলার ১ নম্বর গড়েয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মিলনপুর হাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার আরাজী মিলনপুর এলাকার মৃত নছিন আলীর ছেলে মো. জালাল উদ্দীন (৪৫) এবং ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়পলাশবাড়ী এলাকার মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. ফরিদ জামান (১৯)। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রটি ডলার দেওয়ার কথা বলে এক ব্যক্তিকে কৌশলে মিলনপুর হাট বাজার এলাকায় ডেকে নিয়ে আসে। পরে তাকে পুলিশ পরিচয়ে আটক করে মারধর ও নির্যাতন করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে ডিবি পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের ধারণা, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধভাবে ডলার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও ০১৭৪৮৬১০৮০
নির্ধারিত চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একাধিক উন্নয়নকাজ শেষ হয়নি। অনেক প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি আশঙ্কাজনকভাবে কম থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বা আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে দফায় দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এলজিইডি থেকে প্রাপ্ত সরকারি নথি বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। নথি অনুযায়ী, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের IRIDP-3 প্রকল্পের আওতায় খড়খড়ি নদীর ওপর পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ পায় চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর কাজ শুরু করে ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তা শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু কাজ শেষ করতে না পারায় প্রথম দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয় চলতি বছরেএ ২২ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। এই মেয়াদেও কাজ শেষ না করায় ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে দ্বিতীয় ধাপে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। একই নথিতে দেখা যায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের Tulo-2 প্রকল্পের আওতায় দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণের কাজ পায় পঞ্চগড় সদরের মেসার্স প্রধান এন্টারপ্রাইজ। কাজটি শুরু হয় গত বছরের ১৬ এপ্রিল। চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে অগ্রগতি ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ। পরে এই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে কাজ পিছিয়ে পড়ার জন্য সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি উঠে এসেছে একই অর্থবছরে Tulo-2 প্রকল্পের আওতায় মেসার্স সোহান ট্রেডার্স দেবীডুবা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণকাজ শুরু করে ২০২৫ সালের ১০ জুলাই। কাজটি শেষের জন্য নির্ধারিত সময় ছিল চলতি বছরের ৫ মে। অথচ কাজটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৪০ শতাংশ। মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। সবচেয়ে কম অগ্রগতির পরও মেয়াদ বৃদ্ধির ঘটনা দেখা গেছে ওই অর্থবছরের Tulo-2 প্রকল্পের টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণকাজে। দেবীগঞ্জের মেসার্স সুমন ট্রেডার্স ২০২৫ সালের ৮ জুলাই কাজ শুরু করে। চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের ৩ মে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু কাজ শেষ করতে না পারায় চলতি বছরের ৩ জুলাই পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। কাজটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র প্রায় ২৫ শতাংশ। এরই মধ্যে পুনরায় মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া GDDRIDP প্রকল্পের আওতায় পামুলী ইউনিয়নে ৫০ দশমিক ১০ মিটার আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ পায় রাজশাহীর বরেন্দ্র কন্সট্রাকশন। ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর। এরপরও ২০২৭ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। বর্তমানে এর ভৌত অগ্রগতি ৮৫ শতাংশ। সরেজমিনে দেখা যায়, উন্নয়নকাজ দীর্ঘায়িত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি বাড়ছে। দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় জরাজীর্ণ পুরোনো ভবনেই চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। এতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি সংরক্ষণ নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। পামুলী ইউনিয়নে নির্মাণাধীন প্রায় ৫০ মিটার সেতুটিও স্থানীয় যোগাযোগ ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পামুলী ইউনিয়নের শান্তিরহাট ও দেবীডুবা ইউনিয়নের লক্ষীরহাট এলাকায় অন্যান্য কৃষিপণ্যের পাশাপাশি বাদাম কেনাবেচার একটি আঞ্চলিক হাব গড়ে উঠেছে। কিন্তু সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় ট্রাকে করে পণ্য পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে এবং কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই সাথে নদী পারাপারের জন্য বিকল্প বাঁশের সাঁকো ভেঙ্গে কয়েক দিন আগে একটি ব্যাটারিচালিত থ্রি হুইলার নিচে পড়ে গিয়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। গুরুতর আহন হন চালক ও যাত্রী। সেতুটি নির্মাণ হলে দণ্ডপাল, সুন্দরদিঘী ও পামুলী ইউনিয়নের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বোদা উপজেলার যোগাযোগ সহজ হবে এবং দূরত্বও কমে আসবে। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় মানুষের যাতায়াতে দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর নির্মাণকাজ দীর্ঘায়িত হওয়ায় শুধু যোগাযোগ নয়, স্থানীয় অর্থনীতিও ক্ষতির মুখে পড়ছে। সরকারি বিধি ও চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি ও দায় বিবেচনায় চুক্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এসব প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি কম থাকার পরও বারবার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে তদারকি ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) পঞ্চগড় জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডিজার হোসেন বাদশা বলেন, “কাজের অগ্রগতি কম থাকা সত্ত্বেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনগত বা চুক্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিয়ে বারবার মেয়াদ বাড়ানো হলে ঠিকাদাররা স্বেচ্ছাচারী হওয়ার সুযোগ পান। প্রকৌশলীর দায়িত্ব শুধু সময় বাড়ানো নয়, ঠিকাদারের কাছ থেকে সময়মতো কাজ শেষ করে তা বুঝে নেওয়াও। কেন তিনি কাজটি সময়মতো বুঝে নিতে পারছেন না, সেটিও প্রশ্ন। এভাবে কাজ ঝুলে থাকলে একদিকে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ব্যাহত হয়, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ উন্নয়নকাজের সুফল থেকে বঞ্চিত হয়ে ভোগান্তিতে পড়েন।” উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আনোয়ারুল হক প্রধান বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী কাজ না করলে এবং বারংবার এভাবে সময় বৃদ্ধি অবশ্যই ব্যত্যয়। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে কাজ বুঝিয়ে নেওয়ার দায় উপজেলা প্রকৌশলী এড়াতে পারেন না। সেক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের উচিৎ বিষয়গুলো যাচাই করে কঠোর ব্যবস্হা গ্রহণ। এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহরিয়ার ইসলাম শাকিল বলেন, মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি জেলা কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন। ঠিকাদারদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সময় বৃদ্ধি করা হয়, এটা নিয়মেই আছে। বর্তমানে ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবনের কাজ সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে থেমে আছে। আর শীঘ্রই সোনাহার ও পামুলীর সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হবে। এলজিইডি পঞ্চগড়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: সফিউল আলমকে বেশ কয়েকবার মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এইদিকে দিনাজপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নারায়ণ চন্দ্র সরকার বলেন, আমি নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীৎ সাহা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুনগত মান বজায় রেখে প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ সম্পন্নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা প্রদান করা হবে এবং উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়কে যথাযথ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। উল্লেখ্য, দেবীগঞ্জে যোগদানের তিন বছর অতিবাহিত হওয়ার পর সম্প্রতি উপজেলা প্রকৌশলী শাহরিয়ার ইসলাম শাকিলের বদলি আদেশ হলেও উপর মহলকে ম্যানেজ করে সেই বদলি আদেশ বাতিলের অভিযোগ উঠেছে। এইদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি সংক্রান্ত ২২ মে ১৯৮৩ সালের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৩ জুন ১৯৮৩ তারিখে ইডি/এস এ ১-১৩/৮৩-২৫৭(১০০) স্মারকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি ও বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, দপ্তর, পরিদপ্তর এবং অন্যান্য বদলিযোগ্য পদে থাকা যেসব কর্মকর্তা একই কর্মস্থলে বা একই পদে তিন বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত আছেন, তাদের অবিলম্বে বদলি করতে হবে।