রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
আগামী ৬ সেপ্টেম্বর দুই দিনের সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও আসছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর এটিই হবে তার প্রথম ঠাকুরগাঁও সফর।
আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে ফিডটি অনুসরণ করুন
রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওবাসীর মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রঙ করার কাজ।
সফরের প্রথম দিন ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির ব্যানারে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন রাষ্ট্রপতি।
নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ড. আবু মো. খয়রুল কবির জানান, ওই দিন রাষ্ট্রপতি হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁও পৌঁছাবেন। সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণের পর তিনি শহরের সেনুয়া গোরস্থানে তার পিতার কবর জিয়ারত করবেন। পরে নিজের বাড়িতে যাওয়ার পর সরাসরি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।
সফরের দ্বিতীয় দিন ৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে জামালপুরে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইস্রাফিল শাহীন জানান, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সীমিতসংখ্যক অতিথি উপস্থিত থাকবেন।
রাষ্ট্রপতির ছোট ভাই ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন জানান, রাষ্ট্রপতিকে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি এখন নিরপেক্ষ ব্যক্তি। তাই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপি বা ধানের শীষের কোনো প্রতীক যাতে প্রদর্শন করা না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও
০১৭৪০৮৬১০৮০
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
এবার ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ধউর–আশুলিয়া রুটের দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে সেতু দুটির উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলার সময় সাভার, আশুলিয়া ও ঢাকার মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং স্থানীয় মানুষের ভোগান্তি কমাতে বিকল্প হিসেবে এসব সার্ভিস সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সেতু দুটি টোলমুক্ত রাখা হয়েছে। সাধারণ যানবাহনের পাশাপাশি পথচারীরাও এগুলো ব্যবহার করতে পারবেন। নিরাপদ চলাচলের জন্য সেতু দুটিতে যানবাহনের উচ্চতার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সীমার বেশি উচ্চতার যানবাহন সেতুতে উঠতে পারবে না। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সার্ভিস সেতু চালুর ফলে উত্তরা থেকে আশুলিয়া এবং আশুলিয়া থেকে ঢাকামুখী যানবাহনের চলাচল সহজ হবে। একই সঙ্গে মূল এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ইপিজেড থেকে আশুলিয়া হয়ে কাওলায় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হবে। এর মাধ্যমে বিমানবন্দর থেকে কুড়িল, বনানী, তেজগাঁও হয়ে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পর্যন্ত প্রায় ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নিরবচ্ছিন্ন উড়ালসড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে। এ ছাড়া সাভার ও বাইপাইল এলাকার যানজট কমাতে বাইপাইল মোড়ে মাল্টি–লেভেল ইন্টারচেঞ্জ, বিমানবন্দরে প্রবেশের জন্য বিশেষ র্যাম্প এবং মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন–১ স্টেশনে যাতায়াতের পৃথক সংযোগ নির্মাণ করা হচ্ছে।
টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। ব্যাটারিসহ ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে প্রতি ইউনিটের জন্য সর্বোচ্চ ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাবেন গ্রাহকরা। মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রতি ইউনিট ৮ টাকা। এর সঙ্গে ২০ শতাংশ মুনাফা ও ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যোগ করে গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা। নেট মিটারিং নির্দেশিকা ২০২৫ অনুযায়ী, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে যারা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করবেন এবং নিজেদের ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেবেন, তারা ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত এই দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন। তবে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির পর স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এই বিশেষ প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না। গ্রাহকরা নির্ধারিত ৮ টাকার চেয়ে কম খরচে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারলে সাশ্রয় হওয়া অর্থ তাদের লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রণোদনার অর্থ সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে পাঠানো হবে। কোনোভাবেই নগদ অর্থ দেওয়া হবে না। এ ছাড়া সৌর প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার ও মিটারসহ সব সরঞ্জামকে BSTI ও SREDA নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড মেনে চলতে হবে। সরকার জানিয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকেই এই বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ কার্যকর হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) শীর্ষ পদে পরিবর্তন এনে সংস্থাটির নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের বিভাগীয় প্রধান মো. নাজমুল আলমকে। রোববার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক অফিসিয়াল প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রজ্ঞাপনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নাজমুল আলমকে দুদকের ডিজি পদে দায়িত্ব দিয়ে তাঁর চাকরি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, দুদকের সাবেক ডিজি (অতিরিক্ত সচিব) মো. মোকাম্মেল হককে বদলি করে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই প্রজ্ঞাপনে প্রসাশনের আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল করা হয়েছে। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দীন আহমেদকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বদরুন নাহারকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (চলতি দায়িত্ব) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকীকে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ ইউছুফকে পদোন্নতি দিয়ে একই প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।