অপরাধ

ডলার কারসাজিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তা সুমন

রতন লাল আগস্ট ২৫, ২০২৬ 0
ডলার কারসাজিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তা সুমন
সুমন

 

২০২৪ সালের ৯ মে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির কাছে ৮ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। যার দর ১১০ টাকা। অন্যদিকে, এ দিনে বাংলাদেশ ব্যাংক ৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার ক্রয় করে। তবে এ কেনার ক্ষেত্রে দর ধরা হয়েছে ১১৬ টাকা ৪৬ পয়সা। এ কেনাবেচার দিনেই বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমবারের মতো ডলার কেনাবেচায় ক্রলিং পেগ ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নথিভুক্ত এ দুই দরের লেনদেনেই রাষ্ট্রের প্রায় ৫৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। আর এ ক্ষতির পেছনের মাস্টারমাইন্ড বাংলাদেশ ব্যাংকেরই একজন অতিরিক্ত পরিচালক। ওই সময় তিনি ছিলেন যুগ্ম পরিচালক। তবে এ ক্ষতির আড়ালে বর্তমান এ অতিরিক্ত পরিচালক দুই হাত ভরে নিয়েছেন। অবৈধভাবে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। এমনকি অনৈতিক সুবিধা দিয়ে ইসলামী ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকেও নেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। এখানেই শেষ নয়। ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে প্রতি মাসে ২ লাখ ৬৮ হাজার ২৫৬ টাকার মেডিকেল বিল নেন—বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তেই বলছে যা অস্বাভাবিক।

এ ছাড়া পূর্ণ বেতন-ভাতায় নেওয়া পিএইচডি প্রেষণ শেষ হওয়ার আগেই দেশে ফিরে আসেন। নিয়মানুযায়ী পূর্ণভাতায় শিক্ষা ছুটিতে গেলে পড়াশোনা শেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। তবে তার কোনোটাই তিনি করেননি, উল্টো পড়াশোনা শেষ না করে দেশে ফিরে আবার যোগদান করেছেন চাকরিতে। এ ছাড়া প্রেষণে থাকার সময় আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টর’-এর বিভিন্ন সেমিনারে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইলের পরিবর্তে ব্যক্তিগত জিমেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছেন, যা গুরুতর অপরাধ। এতসব অভিযোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের সাবেক যুগ্ম পরিচালক ও বর্তমান অতিরিক্ত পরিচালক শাহনেওয়াজ সুমনের বিরুদ্ধে। খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তেই এসব অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। সেই তদন্ত প্রতিবেদনের কপি রয়েছে কালবেলার হাতে।

এমন নানা প্রমাণিত দুর্নীতির পরেও বিশাল ক্ষমতাধর সেই যুগ্ম পরিচালকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বরং জুটেছে পুরস্কার। গতকাল দুর্নীতির পুরস্কারস্বরূপ মিলেছে তার পদোন্নতি। পেয়েছেন অতিরিক্ত পরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ।


বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৯ মে, যেদিন দেশে প্রথম ‘ক্রলি পেগ’ পদ্ধতি চালু করা হয়। সেদিন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সঙ্গে ব্যাক-ডেটেড রেট ব্যবহার করে ডলার কেনাবেচার চারটি চুক্তি সম্পন্ন করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ দাপ্তরিক নোটিং থেকে জানা যায়, ওই দিন ইসলামী ব্যাংকের কাছে ১১০ টাকা দরে ৮ কোটি ২০ লাখ (৮২ মিলিয়ন) ডলার বিক্রি দেখানো হয়; কিন্তু একই ভ্যালুডেটে আবার ১১৬.৪৬ টাকা দরে ৮ কোটি ৫০ লাখ (৮৫ মিলিয়ন) ডলার ক্রয় করা হয়। একই দিনে ভিন্ন ভিন্ন বিনিময় হার ব্যবহার করে অনৈতিকভাবে ইসলামী ব্যাংককে সুবিধা দেওয়ার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ৫৪ কোটি ৯১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এ প্রক্রিয়ায় রিজার্ভ ম্যানেজমেন্ট অপারেশন ম্যানুয়াল ভঙ্গ করে ডিলস্লিপ ও ঊর্ধ্বতনদের যথাযথ স্বাক্ষর ছাড়াই তাড়াহুড়ো করে লেনদেনগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের (ডিভিশন-২) মিডল অফিস শাখা থেকে প্রস্তুতকৃত বিবেচ্যপত্রে ইসলামী ব্যাংক পিএলসির সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয়ে সংঘটিত অনিয়ম ও আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের ৯ মে রিজার্ভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট শাখা (ফ্রন্ট অফিস) ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে দুটি ডলার ক্রয় এবং দুটি ডলার বিক্রয়ের চুক্তি সম্পন্ন করে। যদিও দুটি বিক্রয় চুক্তির তারিখ ৮ মে ২০২৪ দেখানো হয়েছিল, তবে নথিপত্র ও ই-মেইল কনফার্মেশন থেকে দেখা যায় যে, মূলত ৯ মে ২০২৪ তারিখেই অধিক মূল্যে ডলার ক্রয় করে পরবর্তীতে কম মূল্যে বিক্রি করা হয়।

একই ভ্যালুডেটের এই ক্রয়-বিক্রয়ে ভিন্ন ভিন্ন বিনিময় হার ব্যবহার করার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫৪ কোটি ৯১ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। উক্ত লেনদেনগুলোর অনুমোদনের জন্য ৯ মে ২০২৪ তারিখ সন্ধ্যায় মিডল অফিসে পাঠানো হলে, আগের দিনের ডিল ডেট থাকা সত্ত্বেও কেন দেরিতে পাঠানো হলো—সে বিষয়ে ফ্রন্ট অফিস কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। তা ছাড়া ডিলের বিবরণীতে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত পরিচালক ও পরিচালকের স্বাক্ষর ছিল না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ডিল দুটি অনুমোদন করে ব্যাক অফিসে পাঠানো হলেও সেখানে কোনো কর্মকর্তার উপস্থিতি না থাকায় মোবাইল ফোনে বিষয়টি অবহিত করা হয়।

নথিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ‘রিজার্ভ ম্যানেজমেন্ট অপারেশন ম্যানুয়াল’ অনুযায়ী প্রতিদিনের ডিল স্লিপ, ফরম্যাট ও বিবরণী নিয়মিত মিডল ও ব্যাক অফিসে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও বিগত ১ এপ্রিল ২০২৪ তারিখের পর থেকে হেড অব ট্রেজারি বরাবর উপস্থাপিত বিবরণী মিডল অফিসে প্রেরণ করা হয়নি। ১-২ সপ্তাহ পর পর বা অনিয়মিতভাবে নথিপত্র পাঠানোর কারণে ম্যানুয়ালের চরম ব্যত্যয় ঘটে এবং আন্তঃনিরীক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে সুপারিশ করে বলা হয়, ভবিষ্যতে রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় জটিলতা এড়াতে ম্যানুয়াল অনুসারে নির্ধারিত দিনে সব বিবরণী নিয়মিত মিডল ও ব্যাক অফিসে প্রেরণের প্রস্তাব করলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অনুমোদন করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, তৎকালীন একজন ডেপুটি গভর্নর এবং যুগ্ম পরিচালক শাহনেওয়াজ সুমনের যোগসাজশে এই অনিয়ম ঘটে, যার বিনিময়ে তারা ইসলামী ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে অনৈতিক সুবিধা নেন। এ ছাড়াও ডেপুটি গভর্নরের মেয়েকে ইসলামী ব্যাংকের আইটি শাখায় জুনিয়র অফিসার হিসেবে চাকরি দেওয়া হয়। এ ছাড়াও শাহনেওয়াজ সুমন শিক্ষাছুটিতে থাকাকালে প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইল ব্যবহার না করে ব্যক্তিগত জিমেইল আইডি ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নেন এবং রিজার্ভ-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য অননুমোদিতভাবে বাইরে সরবরাহ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যা গুরুতর অপরাধ।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, শাহনেওয়াজ সুমন মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালয়তে অর্থনীতিতে পিএইচডি করার জন্য ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর একটি আদেশ দেওয়া হয়। সেই আদেশে তাকে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে ২৭ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত পূর্ণ বেতন-ভাতায় প্রেষণ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শাহনেওয়াজ সুমন পিএইচডি সম্পন্ন না করেই ২০২৬ সালের ৩ আগস্ট দেশে ফিরে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদান করেন। প্রেষণের শর্ত অনুযায়ী শিক্ষাক্রম অসমাপ্ত রেখে ফিরে এলে প্রেষণকালে প্রাপ্ত বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে তিনি তা দেননি এবং এখন পর্যন্ত তার পড়াশোনা-সংক্রান্ত কোনো প্রমাণও ব্যাংকে জমা দেননি।

এদিকে, ২০২৫ সালের ৪ মে শাহনেওয়াজ সুমনের অনুকূলে সকল প্রকার চিকিৎসা ওষুধ (সিলিং ঊর্ধ্ব ওষুধ সুবিধাসহ) যাচাই করতে ৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির প্রতিবেদনে সুমনের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর আর্থিক অপরাধের প্রমাণ মিলেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে তার মেডিকেল বিল জালিয়াতির তথ্য উঠে আসে। তিনি ক্যানসার রোগী হিসেবে প্রতি মাসে ২ লাখ ৬৪ হাজার ২৫৬ টাকা আর্থিক সুবিধা নেন। কিন্তু তদন্তে দেখা যায়, চিকিৎসকের পরামর্শের চরম ব্যত্যয় ঘটিয়ে এবং এআই বা চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিচারে অসম্ভবমাত্রার অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ট্যাবলেট সেবনের হিসাব দেখানো হয়। কম্পিউটারে মেমো দেওয়ার সুবিধা থাকা সত্ত্বেও ফার্মেসি থেকে হাতে লেখা ভুয়া ম্যানুয়াল ভাউচার জমা দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্ত কমিটি সুমনের মেডিকেল ফাইলে সংরক্ষিত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ও ক্রয়কৃত ওষুধের ভাউচারের কপি সংগ্রহ করে তা যাচাইয়ের জন্য ২০ মে ২০২৫ তারিখে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের চেম্বারে যান এবং সেই সঙ্গে ভাউচারের যথার্থতা নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ওষুধের দোকানে যোগাযোগ করেন। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. মোখলেছ উদ্দিন কমিটিকে জানান, তিনি মূলত একজন রেডিওথেরাপিস্ট।

ডাক্তার মোখলেছ তার ব্যবস্থাপত্রে মূলত ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি), ভেলোর, ভারতের ব্যবস্থাপত্রের আলোকে এবং সুমনের অনুরোধের ওই ওষুধ লিপিবদ্ধ করেন। কমিটি সুমনের ওষুধ সেবনের ডোজ সম্পর্কিত বিষয়ে চ্যাটজিপিটি ও এআই সফটওয়্যারের আলোকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের মতামত জানতে চাইলে তিনি জানান যে, অ্যান্টি ফাঙ্গাল ওষুধসমূহ মূলত চার সপ্তাহের কোর্স এবং প্রতিদিন ২০০ মিলিগ্রাম হতে সর্বোচ্চ ৪০০ মিলিগ্রাম ওষুধ ব্যবহার করা যায়। কিন্তু বাংলাদেশ বাংকের অতিরিক্ত পরিচালক সুমন প্রতিদিন ১৮০০ মিলিগ্রাম Xpos ট্যাবলেট ও ১২০০ মিলিগ্রাম Dasanix ট্যাবলেট সেবন করেন, যা প্রকৃতপক্ষে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এ ছাড়া, ক্রয় করা ওষুধের ভাউচারের কপি নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ওষুধের দোকানে যোগাযোগ করা হলে তারা এসব ওষুধ বিক্রি করেন না বলে কমিটিকে নিশ্চিত করেন। তবে অর্ডারের মাধ্যমে ক্যাশ টাকার বিনিময়ে এ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ওষুধের দোকানে কম্পিউটারাইজড ভাউচারের মাধ্যমে ওষুধ বিক্রির ব্যবস্থা থাকলেও সুমনের উপস্থাপিত বিলের ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল ভাউচার ব্যবহার করা হয়েছে।

বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয় অভিযুক্ত অতিরিক্ত পরিচালক শাহনেওয়াজ সুমনের সঙ্গে। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকে এ ধরনের লেনদেন বা নীতিগত সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তির একক সিদ্ধান্তে নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রচলিত নীতিমালা, বাজার পরিস্থিতি এবং যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদনের ভিত্তিতেই বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় করা হয়। সে সময় ক্রলিং পেগ বিনিময় হার ব্যবস্থা চালুর ফলে রেট পুনর্নির্ধারিত হয়। এসব লেনদেন কোনো ব্যক্তির একক সিদ্ধান্তে হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচলিত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত পরিচালক, পরিচালক এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমেই ডিলগুলো সম্পন্ন হয়েছে।’

কিন্তু ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ‘ফরওয়ার্ডিংয়ে অতিরিক্ত পরিচালক ও পরিচালকের স্বাক্ষর ছিল না’- এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্বাক্ষর ছিল। আমার বক্তব্য এটাই। আপনি নিউজ করলে করতে পারেন।’

পড়াশোনা শেষ না করে দেশে ফেরার বিষয়ে শাহনেওয়াজ সুমন বলেন, ‘ধরেন কেউ পড়াশোনা করতে গিয়ে কোনো কারণে সেটা শেষ করতে পারেনি। তা হলে কি সে দেশে ফিরতে পারবে না।’

ফিরতে পারবে। কিন্তু তা হলে তো সে শিক্ষা ছুটির সুবিধা পাবে না— এমন প্রশ্ন করলে শাহনেওয়াজ সুমন বলেন, ‘পাবে। এটা নিয়ম আছে।’ আরও বলেন, ‘আমি থিসিস জমা দিয়ে এসেছি। সেখানে আমার ভাইবা বাকি আছে। আমি প্রয়োজনে ভাইবার জন্য আবার যাব।’ তিনি আরও বলেন, ‘মেডিকেল বিলের বিষয়টি সেটেলড। আমাকে তারা ডেকেছিল। আমি ব্যাখ্যা দিয়েছি।’ ইসলামী ব্যাংকের সিএসআর ফান্ডের আর্থিক সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমি একজন ক্যানসারের রোগী। এটি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসারেই নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে ডলার সম্পর্কিত লেনদেনের কোনো সম্পর্কও নেই।’

গ্রামের বাড়িতে আলিশান বাড়ির বিষয়ে বলেন, ‘এটি আমার এক ভাইয়ের বাড়ি।’ সহোদর ভাই কি না জানতে চাইলে বলেন, ‘হ্যাঁ, আপন ভাই। ওই বাড়ি আমার ভাই বানিয়েছে।’ ওই ভাই কী করেন জানেত চাইলে বলেন, ‘ব্যবসা করেন।’ কীসের ব্যবসা করেন জানতে চাইলে তিনি সেটা না বলে বলেন, ‘এটা তো বিষয় না। এটা আমার ভাইয়ের বাড়ি। উনি এটা বানিয়েছেন।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, ‘এটা তো বহুমুখী জ্বালিয়াতি ও প্রতারণা। এখানে অন্তত তিন ধরনের জ্বালিয়াতি ও প্রতারণা ঘটেছে। ডলার কারসাজির সঙ্গে ব্যাংকের আরও কর্মকর্তারা জড়িত আছে। এই কর্মকর্তার পাশাপাশি তাদেরকেও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ ছাড়াও মেডিকেল বিলের নামে অর্থ আত্মসাতের যে বিষয়টি সেটি দুর্নীতির পাশাপাশি নৈতিকভাবে খুবই জঘন্য একটি কাজ। এসব অভিযোগ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে প্রমাণের পরও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার মানে হলো— দুর্নীতি যে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে এটি তারই প্রমাণ।’

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, বিগত সরকারের সময় লুটপাটের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ব্যাংকিং খাত। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কেন্ত্রীয় ব্যাংকের এখানে সবচেয়ে বেশি দায়। যে কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আস্থার সংকটে আছে। বর্তমান সরকার সেখান থেকে আস্থা ফেরানোর চেষ্টা করছে— এর মধ্যে যদি ব্যাংকের ভেতরে এই ধরনের অনাচার এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি থেকে থাকে তা হলে এটা কোনোভাবেই আস্থায় ফেরানো সম্ভব হবে না। তাই এই সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে ওই ব্যক্তির পাশাপাশি যোগসাজশে যারাই জড়িত ছিল তাদের সবাইকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

অপরাধ

View more
দুই ইউএনওর বিরুদ্ধে একই অভিযোগ, দুজনের নামও একই—মাহমুদুল হাসান
দুই ইউএনওর বিরুদ্ধে একই অভিযোগ, দুজনের নামও একই—মাহমুদুল হাসান

  কুড়িগ্রাম সদর ও চিলমারী—দুই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নাম মো. মাহমুদুল হাসান। সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। বদলি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে আর্থিক লেনদেন ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রকাশ্য অনিয়মের মাধ্যমে শিক্ষক বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক নেতারা। চিলমারী উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বদলির নীতিমালা ভঙ্গ করে বেশ অনিয়ম করা হয়েছে। তালিকায় ২ নম্বর ক্রমিকে থাকা শিক্ষক মহসিনা খাতুনকে তিনজনের মধ্যে থেকে, ৩ নম্বর ক্রমিকের বাবলু মিয়াকে চারজনের মধ্যে থেকে, ৪ নম্বর ক্রমিকের তামান্না ইসলাম তৃষাকে তিনজনের মধ্যে থেকে, ৫ নম্বর ক্রমিকের নূর আলমকে চারজনের মধ্যে থেকে, ৮ নম্বর ক্রমিকের মনোয়ারুলকে চারজনের মধ্যে থেকে, ৯ নম্বর ক্রমিকের মোবারক হোসেনকে তিনজনের মধ্যে থেকে, ১০ নম্বর ক্রমিকের জনাব আলীকে দুজনের মধ্যে থেকে এবং ১১ নম্বর ক্রমিকের মাসুমা আক্তারকে দুজন শিক্ষকের মধ্য থেকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাসুমা আক্তার ও তামান্না ইসলাম তৃষাসহ একাধিক শিক্ষকের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে বদলির আদেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কমিটির বিরুদ্ধে। একই ধরনের অনিয়ম দেখা গেছে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার শিক্ষক বদলির তালিকাতেও। এই উপজেলায় ২ নম্বর ক্রমিকে থাকা শিক্ষক বাশিরুল মুমিন খন্দকারকে দুজন শিক্ষকের জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩ নম্বর ক্রমিকে থাকা রোখসানা পারভীনকে ৩ জনের, ৪ নম্বর তালিকায় থাকা পাপড়ী রানীকে ৬ জনের এবং ৮ নম্বর ক্রমিকে থাকা ফরিদা বেগমকে সর্বোচ্চ ১০ জনের জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে বদলির সুযোগ দিয়েছে উপজেলা কমিটি। তালিকায় ১০ নম্বর ক্রমিকে থাকা শিক্ষক আব্দুর রহিমকে সদরের পাঁচগাছি আশরাফিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি দেখানো হয়েছে। অথচ শিক্ষা অফিসের শূন্য পদের তালিকায় ওই স্কুলটির নাম ছিল না। এমনকি আব্দুর রহিম তাঁর বদলির পছন্দক্রমেও ওই স্কুলের নাম উল্লেখ করেননি। এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে চিলমারী ও সদর উপজেলার শিক্ষকদের বদলির আদেশ জারি করে ‘উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তিকরণ বিষয়ক কমিটি’। এতে চিলমারী উপজেলায় ১১ জন এবং সদর উপজেলায় ১২ জন সহকারী শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপরই রাজনৈতিক চাপ ও অর্থবাণিজ্যের মাধ্যমে নীতিমালা লঙ্ঘন করে প্রাপ্যতাহীন শিক্ষকদের বদলির সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কমিটির বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা যায়, দুই উপজেলাতেই ৮ জন করে শিক্ষকের ক্ষেত্রে এমন অনিয়মের সত্যতা রয়েছে। এ নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট কমিটি। এ বিষয়ে শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি ও চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ডেপুটেশনে থাকা শিক্ষক, মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা শিক্ষক, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে না দেওয়া এবং দুজনের মধ্যে থেকে একজনকে বদলি করার নীতিমালা আছে। আমরা সেসব নীতিমালা মেনেই বদলি করেছি।’ অন্যদিকে, বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘প্রকাশিত বদলির আদেশ পর্যালোচনা করে বেশ কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে। এ নিয়ে আমরা মিটিং করেছি, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। আবারও মিটিং করে সব সমস্যার সমাধান করা হবে।’

News অক্টোবর ৭, ২০২৬ 0
থানা-সালিশেও বাড়িতে ঠাঁই হয়নি প্রবাসীর, বাবার দাবি ‘ও আমার ছেলে না’

থানা-সালিশেও বাড়িতে ঠাঁই হয়নি প্রবাসীর, বাবার দাবি ‘ও আমার ছেলে না’

নারীর ‘কথা আছে’ বলে ডেকে থামলেন মোটরসাইকেলচালক, পরে মারধর-লুটপাট

নারীর ‘কথা আছে’ বলে ডেকে থামলেন মোটরসাইকেলচালক, পরে মারধর-লুটপাট

শাহ আমানত সেতুর টোল আদায়ে ‘অনিয়ম-দুর্নীতির’ অভিযোগ!

শাহ আমানত সেতুর টোল আদায়ে ‘অনিয়ম-দুর্নীতির’ অভিযোগ!

৫ প্রকৌশলীর গাফিলতিতে এক যুগ ধরে ধুঁকছে ময়মনসিংহ কারাগার প্রকল্প
৫ প্রকৌশলীর গাফিলতিতে এক যুগ ধরে ধুঁকছে ময়মনসিংহ কারাগার প্রকল্প

  ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ প্রকল্প অনুমোদন হয় ২০১৫ সালে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিন বছরের প্রকল্প শেষ করতে এক যুগ সময় লেগে যাবে তা অনেকটা অবিশ্বাস্য! সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পে কেন এমন সময় ক্ষেপণ হলো– এমন তথ্য খুঁজতে গিয়ে পাওয়া গেলো গণপূর্ত অধিদপ্তরের পাঁচ প্রকৌশলীর নাম। যে যখন দায়িত্বে ছিলেন কাজের কাজ কিছু না হলেও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা ম্যানেজ হয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অগ্রিম বিলও দিয়ে গেছেন। আর প্রকল্পের কাজ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ধারণক্ষমতার পাঁচ গুণেরও বেশি বন্দি নিয়ে চলছে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের কার্যক্রম। একইসঙ্গে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। কারাগার প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ভালো। দ্রুতই কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। তবে যেসব কাজ অবশিষ্ট রয়েছে, সেগুলো আলাদা প্যাকেজ করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, ময়মনসিংহ গণপূর্ত জোন অনুসন্ধানে জানা যায়, গণপূর্তের ময়মনসিংহ জেলায় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কারাগারের সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকা পাঁচ নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিহ্নিত করা গেছে, যারা এ কাজে গাফিলতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। তারা হলেন এ কে এম কামরুজ্জামান, মো. বদরুল আলম, মুহাম্মদ জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, মো. মোবারক হোসেন এবং বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাস। এছাড়া এই সময়ে কারাগার নির্মাণে দায়িত্ব পালন করেন আরও দুই নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামান চুন্নু ও রাশেদ হাসান। গণপূর্ত সূত্রে জানা যায়, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম কামরুজ্জামান বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (উন্নয়ন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মুহাম্মদ জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী আছেন নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) হিসেবে। মো. বদরুল আলম বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (রিজার্ভ) হিসেবে যুক্ত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ময়মনসিংহ গণপূর্ত জোন) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম    বলেন, ‘কারাগার প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ভালো। দ্রুতই কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। তবে যেসব কাজ অবশিষ্ট রয়েছে, সেগুলো আলাদা প্যাকেজ করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ গণপূর্তের একাধিক সূত্র জানায়, প্রকল্প অনুমোদনের পরও নির্মাণকাজ শুরু হতে কিছুটা সময় লাগে। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা এসব প্রকৌশলীর কেউই প্রকল্পের কাজ দেরিতে শুরু হওয়ার পর বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রিভাইজড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (আরডিপি) অনুমোদনের উদ্যোগ নেননি। এ কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লোকসান থেকে বাঁচতে কাজের গতি কমিয়ে দেয়। ঠিকাদার ধীর গতিতে কাজ করে গেলেও তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম কামরুজ্জামান, মো. বদরুল আলম, মুহাম্মদ জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, মো. মোবারক হোসেন এবং বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাস ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অগ্রিম বিল দিয়ে গেছেন, আর সেখান থেকে নিজেরা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছেন। জানা যায়, প্রকল্পের শুরুতেই পরিকল্পনাগত বিভিন্ন সমস্যা ছিল। পর্যাপ্ত মাস্টারপ্ল্যান না থাকায় দুই হাজার বন্দির আবাসন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসস্থান, গুদাম ও ওয়াচ টাওয়ারসহ বিভিন্ন স্থাপনার নকশা ও পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হয়। ভবনের আয়তন ও নকশা সংশোধনের প্রয়োজনও দেখা দেয়। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবারের মতো প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়। এতে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১২৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা থেকে ২৪০ কোটি টাকায়। একইসঙ্গে কাজের প্যাকেজ ১৩টি থেকে বাড়িয়ে ৩০টি করা হয়। জানা যায়, সম্প্রসারণ এই প্রকল্পের আওতায় ছোট-বড় প্রায় ৪০টি স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব স্থাপনার মধ্যে একতলা থেকে ছয়তলা পর্যন্ত বিভিন্ন উচ্চতার ভবন রয়েছে। পাশাপাশি ফাঁসির মঞ্চ ও ডে-টাইম ল্যাট্রিনের মতো স্থাপনাও নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় নারী বন্দিদের জন্য নির্ধারিত অংশের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। পুরুষ বন্দিদের ভবনের একটি অংশ ভেঙে নতুন স্থাপনা নির্মাণ চলছে। তবে এখনো বাকি রয়েছে কনডেমড সেল, সিকিউরিটি সেল, রান্নাঘর, আটা কল, জেল, স্কুল ও লাইব্রেরির কাজ। এ বিষয়ে ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী এবং বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এস এম কামরুজ্জামান বলেন, ‘প্রকল্পের শুরু থেকে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমি সেখানে দায়িত্বে ছিলাম। তখন কারাগারে বন্দি থাকায় দ্রুত কাজ শুরু করা যায়নি। তাদের অন্যত্র শিফট করে তারপর কাজ শুরু করতে হয়েছে। যার কারণে কাজ ধীরগতিতে হয়।’ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অগ্রিম বিল দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেক আগের ঘটনা এটি। এ মুহূর্তে আমার মনে পড়ছে না।’ ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, ‘২০১৮ সালের দিকে আরডিপি সংশোধন না হওয়ার কারণে ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ ছিল। পরে মে মাসেই আরডিপি সংশোধন হলে কাজ শুরু হয়।’

News অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0
কলেজের অফিস সহকারী নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা, ২৬ মাস অনুপস্থিত থেকেও ব্যাংকে যাচ্ছে বেতন

কলেজের অফিস সহকারী নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা, ২৬ মাস অনুপস্থিত থেকেও ব্যাংকে যাচ্ছে বেতন

জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দুপুরের লাঞ্চ বিল ১১৩ কোটি টাকা, অডিটে আপত্তি

জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দুপুরের লাঞ্চ বিল ১১৩ কোটি টাকা, অডিটে আপত্তি

সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে এস্কাফ সিরাপসহ যুবক আটক

সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে এস্কাফ সিরাপসহ যুবক আটক

চিকিৎসায় অবহেলা ও অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি
চিকিৎসায় অবহেলা ও অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি

    নিজস্ব প্রতিবেদক রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাড়ে চার বছর বয়সী শিশু আভানের মৃত্যু নিয়ে চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে গাফিলতি, রোগ নির্ণয়ে ভুল সিদ্ধান্ত এবং অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের কারণে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। শিশু আভানের বাবা মৃদুল ইসলাম একজন গণমাধ্যমকর্মী। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকাহত পরিবারটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৮ সেপ্টেম্বর জ্বর ও পেটে ব্যথা নিয়ে আভানকে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা প্রথম দিকে ডেঙ্গুর আশঙ্কা করে চিকিৎসা শুরু করেন। পরিবারের দাবি, পরবর্তী সময়ে একাধিকবার ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হলেও প্রতিবারই ফলাফল নেগেটিভ আসে। এরপরও শিশুটিকে ডেঙ্গু-সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আইসিইউতে নেওয়ার পর অবনতি পরিবারের অভিযোগ, কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২ অক্টোবর আভানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। স্বজনদের দাবি, সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত মূল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সরাসরি উপস্থিত না থেকে ফোনে নির্দেশনা দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। পরিবারের দাবি, আইসিইউতে নেওয়ার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে পরিবারকে জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত ৩ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে আভানের মৃত্যু হয়। অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন শিশুটির পরিবার অভিযোগ করেছে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় আভানকে উচ্চমাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়েছিল। তাদের দাবি, এর পর শিশুটির শরীরে গুরুতর প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং পরবর্তীতে ‘শক সিনড্রোম’-এর মতো জটিলতা তৈরি হয়। তবে অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে যথাযথ ছিল কি না, শিশুটির মৃত্যুর সঙ্গে এর কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক ছিল কি না—তা চিকিৎসা নথি পর্যালোচনা ও বিশেষজ্ঞ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। চিকিৎসা নথি নিয়েও পরিবারের প্রশ্ন স্বজনদের অভিযোগ, শিশুটির মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র ও কেস সামারি চাওয়া হলেও শুরুতে তা পেতে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরে চাপের মুখে কিছু প্রয়োজনীয় নথি সরবরাহ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পরিবার। পরিবারের ভাষ্য, সরবরাহ করা চিকিৎসা নথিতে রক্তে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন এবং শক সিনড্রোমের উল্লেখ রয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে চিকিৎসার বিভিন্ন পর্যায়ে কোনো গাফিলতি, ভুল সিদ্ধান্ত কিংবা চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি ছিল কি না—তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে তাদের মধ্যে। ‘জাস্টিস ফর আভান’ কর্মসূচির ঘোষণা ঘটনার পর শিশুটির পরিবারের পক্ষে ‘জাস্টিস ফর আভান’ স্লোগানে দায়ীদের বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, চিকিৎসা নথি পর্যালোচনা, চিকিৎসায় কোনো অনিয়ম বা অবহেলা হয়ে থাকলে দায়ীদের শনাক্ত করা এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া। পরিবারের পক্ষ থেকে হাসপাতালের লাইসেন্স ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পেশাগত অনুমোদন বাতিলের দাবিও জানানো হয়েছে। তবে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল। নিরপেক্ষ তদন্তই এখন মূল দাবি শিশু আভানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, চিকিৎসার কোন পর্যায়ে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রা ও প্রয়োগ যথাযথ ছিল কি না, আইসিইউতে চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীদের উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের ধরন কেমন ছিল এবং হাসপাতালের চিকিৎসা প্রটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের অভিযোগের পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বক্তব্য, চিকিৎসা নথি এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞ মতামত যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে আভানের মরদেহ নিয়ে স্বজনরা গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকাহত পরিবারটি দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং কারও দায় প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

News অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0
ঢামেক হাসপাতালের বাথরুম থেকে নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ঢামেক হাসপাতালের বাথরুম থেকে নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে প্রিজন ভ্যান থেকে ‘পিচ্চি রাজা’ পলায়নের ঘটনায় তার বোন ও দুই পুলিশ গ্রেপ্তার

শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে প্রিজন ভ্যান থেকে ‘পিচ্চি রাজা’ পলায়নের ঘটনায় তার বোন ও দুই পুলিশ গ্রেপ্তার

২৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, প্রকৌশলী শাহ-আলম ফারুকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের

২৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, প্রকৌশলী শাহ-আলম ফারুকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের

0 Comments