নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন মো. শহিদুল ইসলাম সরকার, যিনি স্থানীয়ভাবে মাসুদ সরকার নামে পরিচিত। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মুগদা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সম্পৃক্ত থাকার মাধ্যমে রাজনৈতিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার কথা উঠে এসেছে তাঁর রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্তে।
ছাত্ররাজনীতি থেকে সাংগঠনিক দায়িত্ব
প্রাপ্ত জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে মাসুদ সরকারের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও মতিঝিল থানা পর্যায়ে বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া ৩০ নম্বর ওয়ার্ড এবং পূর্ব মানিকনগর ইউনিট ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকাণ্ডেও তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, সাংগঠনিক সমন্বয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ তাঁর পথচলার উল্লেখযোগ্য দিক। বর্তমান দায়িত্বের অংশ হিসেবে এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং স্থানীয় জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে তাঁর সামনে।
এলাকাবাসীর সমস্যা ও জনস্বার্থে কাজের গুরুত্ব
মুগদা ও মানিকনগর এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নাগরিক সেবা, পরিচ্ছন্নতা, মাদক প্রতিরোধ, নিরাপদ পরিবেশ এবং জনদুর্ভোগের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের দায়িত্ব হলো মানুষের কথা শোনা, সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া।
এলাকাবাসীর পাশে থাকা, তাঁদের সমস্যা ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকাকে রাজনৈতিক দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়। মাসুদ সরকারের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ, বাস্তব উদ্যোগ এবং জনস্বার্থে কাজের দৃশ্যমান ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার অভিজ্ঞতা
মাসুদ সরকারের জীবনবৃত্তান্তে ১৯৯৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মামলা ও কারাবরণের তথ্য উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৯ সালে জনসভাসংক্রান্ত ঘটনায় গ্রেপ্তারের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব মামলার অভিযোগ, বিষয়গুলো তাঁর জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখিত তথ্য হিসেবেই বিবেচ্য।
সাংগঠনিক দায়িত্বের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততার প্রত্যাশা
রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় মানুষের সমস্যা শোনা, নাগরিক অধিকার ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগে সম্পৃক্ত থাকার মধ্য দিয়ে একজন রাজনৈতিক নেতার কার্যক্রমের বাস্তব প্রতিফলন ঘটে।
মুগদা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে মাসুদ সরকারের সামনে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি এলাকাবাসীর প্রত্যাশা ও সমস্যা নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের যাচাইযোগ্য তথ্য এবং তাঁর নিজের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
সামগ্রিকভাবে, মাসুদ সরকারের রাজনৈতিক পথচলা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি এলাকার মানুষের জন্য তাঁর বাস্তব উদ্যোগ, জনসম্পৃক্ততা এবং কাজের ফলাফলই হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন মো. শহিদুল ইসলাম সরকার, যিনি স্থানীয়ভাবে মাসুদ সরকার নামে পরিচিত। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মুগদা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সম্পৃক্ত থাকার মাধ্যমে রাজনৈতিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার কথা উঠে এসেছে তাঁর রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্তে। ছাত্ররাজনীতি থেকে সাংগঠনিক দায়িত্ব প্রাপ্ত জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে মাসুদ সরকারের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও মতিঝিল থানা পর্যায়ে বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া ৩০ নম্বর ওয়ার্ড এবং পূর্ব মানিকনগর ইউনিট ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকাণ্ডেও তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, সাংগঠনিক সমন্বয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ তাঁর পথচলার উল্লেখযোগ্য দিক। বর্তমান দায়িত্বের অংশ হিসেবে এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং স্থানীয় জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে তাঁর সামনে। এলাকাবাসীর সমস্যা ও জনস্বার্থে কাজের গুরুত্ব মুগদা ও মানিকনগর এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নাগরিক সেবা, পরিচ্ছন্নতা, মাদক প্রতিরোধ, নিরাপদ পরিবেশ এবং জনদুর্ভোগের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের দায়িত্ব হলো মানুষের কথা শোনা, সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া। এলাকাবাসীর পাশে থাকা, তাঁদের সমস্যা ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকাকে রাজনৈতিক দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়। মাসুদ সরকারের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ, বাস্তব উদ্যোগ এবং জনস্বার্থে কাজের দৃশ্যমান ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার অভিজ্ঞতা মাসুদ সরকারের জীবনবৃত্তান্তে ১৯৯৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মামলা ও কারাবরণের তথ্য উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৯ সালে জনসভাসংক্রান্ত ঘটনায় গ্রেপ্তারের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব মামলার অভিযোগ, বিষয়গুলো তাঁর জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখিত তথ্য হিসেবেই বিবেচ্য। সাংগঠনিক দায়িত্বের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততার প্রত্যাশা রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় মানুষের সমস্যা শোনা, নাগরিক অধিকার ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগে সম্পৃক্ত থাকার মধ্য দিয়ে একজন রাজনৈতিক নেতার কার্যক্রমের বাস্তব প্রতিফলন ঘটে। মুগদা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে মাসুদ সরকারের সামনে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি এলাকাবাসীর প্রত্যাশা ও সমস্যা নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের যাচাইযোগ্য তথ্য এবং তাঁর নিজের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। সামগ্রিকভাবে, মাসুদ সরকারের রাজনৈতিক পথচলা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি এলাকার মানুষের জন্য তাঁর বাস্তব উদ্যোগ, জনসম্পৃক্ততা এবং কাজের ফলাফলই হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের পক্ষে প্রচারণায় নেমে বিএনপির ভোটারদেরও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান। তাঁর দাবি, বিএনপির নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনের আগে নিজের শেষ নির্বাচনের কথা বলেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে দেলাওয়ারকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নে আয়োজিত এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রাশেদ প্রধান বলেন, “শুধু জামায়াত নয়, এবার বিএনপিও দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবে।” তাঁর ভাষ্য, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের উন্নয়ন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং অবহেলিত উত্তরাঞ্চলের অগ্রগতির জন্য দেলাওয়ার হোসেনকে বিজয়ী করা প্রয়োজন। ‘চাঁদাবাজি-দুর্নীতিমুক্ত ঠাকুরগাঁও চাই’ নির্বাচনী সভায় রাশেদ প্রধান বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের মতো উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। তাঁর মতে, দেলাওয়ার হোসেন নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। তিনি বলেন, “আমরা এই ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন করে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি দেখতে চাই না।” অবহেলিত এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করার জন্য তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। বিএনপির প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে জাগপা মুখপাত্র বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ড, ঘরে ঘরে চাকরি এবং দেশের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পরও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। রাশেদ প্রধানের অভিযোগ, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের বেশি বিল দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, লুটপাট এবং কৃষকদের সার নিয়ে সিন্ডিকেটের অভিযোগও তোলেন তিনি। তিনি বলেন, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের বড় একটি অংশ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। সারের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ নিয়ে অনিয়ম কৃষকদের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মজলুমের কষ্ট মজলুমই বোঝে’ দেলাওয়ার হোসেনের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাশেদ প্রধান বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করতে হলে সাধারণ মানুষের বাস্তবতা বুঝতে হবে। তাঁর দাবি, দেলাওয়ার হোসেন নিজেও নির্যাতিত মানুষের কষ্ট বোঝেন। তিনি দুর্নীতি, লুটপাট ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারার আহ্বান নির্বাচনের ফলাফল সুরক্ষিত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাশেদ প্রধান বলেন, ভোটগ্রহণের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটার ও সমর্থকদের সতর্ক থাকতে হবে। ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রের আশপাশে অবস্থান করে ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পর বাড়ি ফেরার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, ভোটের ফলাফল যেন কেউ পরিবর্তন করতে না পারে, সে জন্য ভোট গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন ২৯ অক্টোবর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আসনটি ছেড়ে দিলে ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য হয়। সেই শূন্য আসনে আগামী ২৯ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। তাঁরা হলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ এবং জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, কাদেমুল ইসলাম, আবদুল আলীম নিজামী ও হোসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক। পরে ৫ অক্টোবর দলীয় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন বিএনপির জেলা সহসভাপতি মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। ফলে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে রয়েছেন মির্জা ফয়সল আমীন। ৮ অক্টোবর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি সদর, রুহিয়া ও নবগঠিত ভূল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫০ হাজার ৫৩ জন, নারী ২ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন। আসনটিতে ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। উপনির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভোটের সমীকরণ নিয়েও আলোচনা বাড়ছে। এর মধ্যে রাশেদ প্রধানের বিএনপির ভোটারদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করেছে।
ভারতের কলকাতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের মরদেহ বেনাপোলে হস্তান্তর করা হয়েছে। মরদেহ ঢাকায় জানাজা শেষে চট্টগ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। রোববার (১০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে মরদেহ আনা হয়েছে বলে জানান বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ওসি সাইফুর রহমান। রোটনের স্ত্রী আরেফা সুলতানা বেনাপোলে মরদেহটি গ্রহণ করেন। এর আগে শনিবার সকাল ৭টার দিকে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। আরেফা সুলতানা বলেন, রোটনের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর পর জানাযা শেষে চট্টগ্রামের রাউজানের বাড়ি নেওয়া হবে। সেখানে জানাজা শেষে দাফন করা হবে। ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন রোটন। ছয় দিন আগে তাকে অ্যাপোলো হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয় বলে রোটনের স্ত্রী আরেফা সুলতানা জানিয়েছেন। রোটন ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। চিকিৎসার জন্য দুই বছরের বেশি সময় ধরে কলকাতায় অবস্থান করছিলেন তিনি। ছাত্রলীগের পর রোটন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও সক্রিয় হন। ২০২১ সালে আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য মনোনীত হন তিনি।