জাতীয়

চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর দুই সৈনিক নিহত, আহত ১

রতন লাল সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর দুই সৈনিক নিহত, আহত ১
ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে

 


চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সৈনিক নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন এক সেনা কর্মকর্তা। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

আইএসপিআর জানায়, আজ চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে, ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সৈনিক নিহত এবং এক কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার পর আহত কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে জরুরি চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারযোগে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে, ট্যাংকের ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে কী কারণে এই আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটল, তার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


 

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিল প্রধান তিন বিরোধী দল

ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।

জাতীয়

View more
চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর দুই সৈনিক নিহত, আহত ১
চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর দুই সৈনিক নিহত, আহত ১

  চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সৈনিক নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন এক সেনা কর্মকর্তা। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আইএসপিআর জানায়, আজ চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে, ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সৈনিক নিহত এবং এক কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর আহত কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে জরুরি চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারযোগে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। এদিকে, ট্যাংকের ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে কী কারণে এই আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটল, তার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।  

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
আইন অনুযায়ী যারা যোগ্য হবেন তারাই নির্বাচন করতে পারবেন: সিইসি

আইন অনুযায়ী যারা যোগ্য হবেন তারাই নির্বাচন করতে পারবেন: সিইসি

দুর্গাপূজায় পদ্মার ইলিশ চায় ভারত, বাংলাদেশকে চিঠি

দুর্গাপূজায় পদ্মার ইলিশ চায় ভারত, বাংলাদেশকে চিঠি

গৃহায়নের ‘জিইসি’ মোড়ে বাতিল প্রকল্প পাস করাতে তৎপর স্বার্থান্বেষী মহল

গৃহায়নের ‘জিইসি’ মোড়ে বাতিল প্রকল্প পাস করাতে তৎপর স্বার্থান্বেষী মহল

মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানো যাবে না : হাইকোর্ট
মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানো যাবে না : হাইকোর্ট

  মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানের অনুমতি চেয়ে বাস মালিক সমিতির আবেদনে সাড়া দেননি হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, শুধুমাত্র বিআরটিএ যেসব বাসের চলাচলে পারমিশন দিয়েছে সেগুলো রাস্তায় চলাচল করবে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে বিআরটিএর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম। পরে তিনি বলেন, স্লিপার বাস মালিক অ্যাসোসিয়েশন একটি অ্যাপ্লিকেশন দিয়েছিল, তারা স্লিপার বাস সড়কে চালাতে চায়। আমি আদালতে বলেছি, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮—এর ধারা হলো ৪০-এ। ৪০-এ বলে দেওয়া আছে টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন। যদি টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন কেউ ভায়োলেশন করে, তাহলে সেটা ৮০-সেকশন ৮৪ দ্বারা এগুলো অফেন্স। এবং পানিশেবল অফেন্স, এর সর্বোচ্চ শাস্তি হলো ৩ বছর এবং ৩ লাখ টাকা জরিমানা। এছাড়া সেকশন ২৮, সড়ক পরিবহন আইন, সেখানে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া আছে—রুট পারমিট ছাড়া কোনো গাড়ি রাস্তায় চলাচল করতে পারবে না।  ‘আদালত বলেছেন, শুধুমাত্র বিআরটিএ যেসব বাস চলাচলে পারমিশন দিয়েছে সেগুলো রাস্তায় চলাচল করবে। আর স্লিপার বাস চালানোর তো পারমিশন নাই। হাইকোর্টও পারমিশন দেয়নি,’ বলেন আইনজীবী।

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
চেকের মামলায় পাওনা শোধ ও সমঝোতা হলে কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্ট

চেকের মামলায় পাওনা শোধ ও সমঝোতা হলে কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্ট

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বার সভাপতির সঙ্গে বাগবিতণ্ডা, প্রধান বিচারপতিসহ পুরো বেঞ্চের এজলাস ত্যাগ

বার সভাপতির সঙ্গে বাগবিতণ্ডা, প্রধান বিচারপতিসহ পুরো বেঞ্চের এজলাস ত্যাগ

দখল ও অব্যবস্থাপনায় ঝুঁকিতে তেজগাঁও সিএসডি
দখল ও অব্যবস্থাপনায় ঝুঁকিতে তেজগাঁও সিএসডি

  রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় জমির দাম অনেক। এই এলাকারই ১৭ একর ৪৬ শতাংশ জমিতে দেশের অন্যতম কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষাণাগার/গুদাম (সিএসডি)। সে অনুযায়ী এই গুদাম এলাকায় সবসময় নিরাপত্তা জোরদার থাকার কথা। পাশাপাশি পরিবেশ সুন্দর ও সুশৃঙ্খল হওয়ার কথা। কিন্তু এখানে শৃঙ্খলা বলতে কিছুই নেই। উল্টো এই গুদামের অনেকগুলো কক্ষ দখলে নিয়ে ব্যবসা করছে স্থানীয় লোকজন। আবার এখানে বেশকিছু কক্ষ সংস্কারের অভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে গুদামের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গত ৩০ আগস্ট সরেজমিনে দেখা গেছে, তেজগাঁও সিএসডির চারপাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠেছে ট্রাক ও কার্ভাডভ্যানস্ট্যান্ড। এছাড়া গুদামের সীমানাপ্রাচীর ঘিরে অর্ধশত দোকান ও খুপড়ি ঘর তৈরি করা হয়েছে। এসব ঘরে চলছে হোটেল-রেস্তোরাঁ, গাড়ির যন্ত্রাংশের দোকান। কিছু ঘরে শ্রমিকেরা বসবাস করছেন। সিএসডির প্রবেশ পথের এক পাশে বসানো হয়েছে একটি রেস্তোরাঁ।   সিএসডির ভেতরে বটতলার পূর্বপাশে এক একরের চেয়েও বেশি জমি খালি পড়ে আছে। এ বিষয়ে কয়েকজন শ্রমিক জানান, এই খালি জমিতে দুটি গুদাম ছিল। সেগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। এই জমি একটি বেসরকারি কোম্পানিকে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সিএসডি সূত্রে জানা গেছে, এখানের প্রতিটি গুদাম একতলা। কাগজে-কলমে মোট ৫১টি গুদাম থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে ১, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১৮ ও ১৯ নম্বর—এই ৮টি গুদামের কোনো অস্তিত্বই নেই। বর্তমানে থাকা ৪৩টি গুদামের মধ্যে ২০, ৩৭ ও ৪০ নম্বর গুদাম সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী। এর বাইরে ৩৮, ৪১, ৪৩, ৪৭, ৩২, ৩৩ ও ৩৪ নম্বরসহ ১১টি গুদাম অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও সেগুলোতে খাদ্যশস্য রাখা হয়েছে। জানা গেছে, সিএসডির ভেতরের এক একর জমি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার’ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ১১২ কোটি ৬৮ লাখ ৯০ হাজার ৭৯১ টাকার এই জমি ২০২২ সালের ২২ মে ওই মন্ত্রণালয়কে প্রতীকী এক হাজার এক টাকা মূল্যে বরাদ্দ দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও ব্যবহার না করায় ওই জমি খালি পড়ে আছে। এই অব্যবহৃত জমি খাদ্য অধিদপ্তর ফেরত চেয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চিঠি চালাচালি চলছে। খাদ্য অধিদপ্তর ওই জমিতে এক হাজার টন ধারণ ক্ষমতার তিনটি গুদাম নির্মাণ করতে চায়। তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জমি ফেরত না দেওয়ায় সিএসডির অভ্যন্তরীণ সম্প্রসারণ ও নতুন গুদাম নির্মাণ ব্যাহত হচ্ছে। সিএসডি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫৯ সালে তেজগাঁওয়ে এই কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষাণাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়। সিএসডির ধারণক্ষমতা ৩৫ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন। এখানে চাল, আটা ও গম মজুত করে রাখা হয়। নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম থেকে এখানে গম আসে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আসে চাল। এছাড়া চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও শেরপুরের বিভিন্ন মিল থেকে এখানে আটা সরবরাহ করা হয়। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ওএমএস (ওএমএস) কর্মসূচি, টিসিবি এবং বিভিন্ন দপ্তরের চাহিদা অনুযায়ী সিএসডি থেকে চাল, গম ও আটা সরবরাহ করা হয়। তবে সম্প্রতি তেজগাঁও সিএসডির থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ঐতিহাসিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি প্রশাসনিক জটিলতা এবং নানা সমস্যায় জর্জরিত।     সম্প্রতি সিএসডির একটি প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির নানা সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, অব্যবস্থাপনা, অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা, জরাজীর্ণ গুদাম এবং জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় এড়াতে কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অব্যবহৃত জমি পুনরুদ্ধার, ঝুঁকিপূর্ণ গুদাম মেরামত বা পুনর্নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনবল সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগে ১২টি নিষ্কাশন পথ দিয়ে সিএসডি এলাকার পানি বের হলেও বর্তমানে প্রায় সব পথ বন্ধ রয়েছে। কেবল বিজি প্রেস কোয়ার্টার এবং হলিডে ইন হোটেলের ড্রেনের ওপর পুরো সিএসডির পানি নিষ্কাশন নির্ভর করে। সামান্য বৃষ্টিতেই ড্রেনের মুখ ময়লায় বন্ধ হয়ে সিএসডির ভেতরে কোমর পানি জমে যায়। এতে গুদামে সংরক্ষিত খাদ্যশস্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। একইসঙ্গে জমে থাকা পানিতে ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়ার মতো মারাত্মক রোগ সৃষ্টিকারী এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিচ্ছে। এতে সিএসডির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকেরাও ঝুঁকিতে রয়েছে। জনবল সংকটে কার্যক্রম ব্যাহত সিএসডি পরিচালনায় অনুমোদিত পদ ১৩৬টি। এর মধ্যে ২৫টি পদ শূন্য রয়েছে। ব্যবস্থাপকের একটি পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে নিরাপত্তা প্রহরীর ৪৮টি পদ থাকলেও কর্মরত আছে ৩১ জন। বাকি ১১ জন অন্য দপ্তরে প্রেষণে আছেন। এছাড়া এখানে পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও ঝাড়ুদারের তীব্র সংকট রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে ১৯ জন খন্ডকালীন ঝাড়ুদার থাকলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছর থেকে তা কমিয়ে মাত্র চারজনে নামিয়ে আনা হয়েছে। জানা গেছে, সিএসডিতে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৫০০ মানুষের সমাগম হয়। এখানে দিনে হাজার হাজার টন খাদ্যশস্য ওঠানো ও নামানো হয়। কিন্তু এই বিশাল চত্বর মাত্র চারজন খন্ডকালীন ঝাড়ুদার দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অসম্ভব। পাশাপাশি নিরাপত্তা প্রহরীদের বড় একটি অংশ অন্য দপ্তরে সংযুক্ত আছে। এতে এই গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য গুদামের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ভেতরের রাস্তাগুলো বেহাল সিএসডির ১ নম্বর ব্রিজস্কেল থেকে ৩৬ নম্বর গুদাম পর্যন্ত এবং ৩, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর গুদামের সামনের রাস্তাগুলো দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। রাস্তাগুলোতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে খাদ্যশস্যবাহী ট্রাক প্রায়ই বিকল হয়ে যায় এবং ঝাঁকুনিতে বস্তা ফেটে চাল বা গম নষ্ট হয়ে যায়। খাদ্যশস্য আনা ও নেওয়ার জন্য সিএসডির ভেতরে রেললাইন রয়েছে। কিন্তু রেলওয়ে সাইডিং ডুয়েলগেজে (প্রধান লাইনের পাশাপাশি ট্রেন পার্কিং, মালামাল ওঠানো এবং নামানো বা ক্রসিংয়ের জন্য একটি অতিরিক্ত লাইন) রূপান্তরের পর গত ১০ মে ওয়াগন প্রবেশের সময় ৩ নম্বর লোহার গেটের পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে গেটটি ভেঙে যায়। ফলে সিএসডি চত্বর বর্তমানে সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। শ্রমিকদের মানবেতর জীবন সিএসডিতে ৩৫০ জন শ্রমিক আছে। কিন্তু উচ্চমূল্যের বাজারে অনেক কম বেতন পাওয়ায় তারা পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রতিটন খাদ্যশস্য লোড করতে শ্রমিকেরা পাচ্ছেন মাত্র ৬০ টাকা ৮০ পয়সা। এই অবস্থায় খাদ্য অধিদপ্তর শ্রমিকদের মজুরি বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাব এখনও কার্যকর হয়নি। মজুরি না বাড়ানোর কারণে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। শ্রমিকেরা দায়িত্ব শেষে কারওয়ানবাজার গিয়ে সবজি ও অন্যান্য মালামাল ওঠানামার কাজ করে কোনোমতে সংসার টিকিয়ে রাখছেন। দবিরুল নামে একজন শ্রমিক বলেন, ৩৮ বছর ধরে তিনি সিএসডিতে পণ্য ওঠানো ও নামানোর কাজ করছেন। বর্তমানে যে টাকা আয় করেন তা দিয়ে সংসার চালানো দূরে থাক, নিজের চলতেও কষ্ট হচ্ছে। তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ করা হলে অনেক সুবিধা হতো। খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সিএসডির ১২টি গুদাম ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। আটটি মেরামত করা হবে। গুদামের ভেতরে রাস্তা মেরামত করা হবে। গুদামের ভেতরে ড্রেনগুলোও সংস্কার করা হবে। সীমানাপ্রাচীরও নির্মাণ করা হবে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জসিম উদ্দিন খান  মুঠোফোনে বলেন, যেসব গুদাম অকেজা হয়ে পড়েছে সেগুলো মেরামত করা হবে। তবে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা আপাতত নেই। এছাড়া ২০২২ সালে যে এক একর জমি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে প্রতীকী মূল্যে দেওয়া হয়েছিল, সেটি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। সিএসডির অন্যান্য সমস্যাও দ্রুত সমাধান করা হবে।  

News সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ 0
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

উপজেলা নির্বাচনে পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ

উপজেলা নির্বাচনে পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ

দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

0 Comments