নিজস্ব প্রতিবেদক :
জাতীয় সংসদ ভবনের মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নির্মাণ, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাহিদ পারভেজকে ঘিরে পুরোনো অভিযোগের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে নতুন কিছু প্রশ্ন। মাগুরায় দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই কাজ শুরু, ভাউচারনির্ভর ব্যয় এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগের পর মাগুরা গণপূর্ত বিভাগে অভিযান চালিয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
২০২৫ সালের ২৪ মার্চ প্রকাশিত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মাগুরা গণপূর্ত বিভাগে দরপত্র আহ্বান না করে অনিয়মের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ নামমাত্র বাস্তবায়ন করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের পর দুদকের ঝিনাইদহ সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বিভিন্ন কাজ সরেজমিনে পরিদর্শনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়।
অভিযোগের ওই অধ্যায় শেষ হওয়ার পর নাহিদ পারভেজের পদায়ন হয় ঢাকার শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-১-এ। সরকারি গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা তালিকাতেও তাঁকে বর্তমানে ওই বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় ।
এই বিভাগের আওতায় জাতীয় সংসদ ভবনসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণ, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ পরিচালিত হয়। ফলে একজন কর্মকর্তার পূর্ববর্তী কর্মস্থলে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়েছে কি না এবং নতুন কর্মস্থলে তাঁর অধীনে পরিচালিত সরকারি প্রকল্প ও দরপত্রগুলো যথাযথ বিধি মেনে হচ্ছে কি না—তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাগুরা গণপূর্ত বিভাগের বিভিন্ন রাজস্ব কাজ নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক অভিযোগ প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, কয়েকটি কাজের ক্ষেত্রে দরপত্র আহ্বান, শিডিউল বিক্রি কিংবা আনুষ্ঠানিক টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই কাজ শুরু করা হয়েছিল। প্রকাশিত প্রতিবেদনে টেন্ডার আইডি ১০৭২৭১৬, ১০৭২৭১৫, ১০৭২৭১৩ ও ১০৭২৭১১-এর মতো কয়েকটি কাজের উল্লেখ পাওয়া যায়। এর মধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবনের রাস্তা ও হাঁটার পথ নির্মাণ বা সংস্কার, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মেরামত, সার্কিট হাউস সংস্কার এবং বাসভবনের সীমানাপ্রাচীর-সংক্রান্ত কাজের কথা বলা হয়েছে।
এসব কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় কয়েক লাখ টাকা থেকে প্রায় ১৯ লাখ টাকা পর্যন্ত ছিল বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—বিষয়টি শুধু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসসের প্রতিবেদনে দুদকের এনফোর্সমেন্ট অভিযানের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাৎ অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি একটি সংস্থা মাঠপর্যায়ে কাজ পরিদর্শন ও নথি সংগ্রহ করেছিল।
মাগুরার অভিযোগ প্রসঙ্গে নাহিদ পারভেজ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগে। নাগরিকদের ভোগান্তি বিবেচনায় নিয়ে তিনি টেন্ডার সম্পন্ন হওয়ার আগেই কিছু কাজ শুরু করেছিলেন বলে তাঁর বক্তব্য।
তাঁর এই বক্তব্যই বিষয়টির নথিভিত্তিক অনুসন্ধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। কারণ কোনো কাজ জরুরি হওয়ায় দ্রুত শুরু করার প্রয়োজন থাকলেও সেটি কোন প্রশাসনিক ও আর্থিক অনুমোদনের ভিত্তিতে করা হয়েছিল—সেটিই মূল
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় সংসদ ভবনের মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নির্মাণ, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাহিদ পারভেজকে ঘিরে পুরোনো অভিযোগের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে নতুন কিছু প্রশ্ন। মাগুরায় দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই কাজ শুরু, ভাউচারনির্ভর ব্যয় এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগের পর মাগুরা গণপূর্ত বিভাগে অভিযান চালিয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ প্রকাশিত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মাগুরা গণপূর্ত বিভাগে দরপত্র আহ্বান না করে অনিয়মের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ নামমাত্র বাস্তবায়ন করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের পর দুদকের ঝিনাইদহ সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বিভিন্ন কাজ সরেজমিনে পরিদর্শনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়। অভিযোগের ওই অধ্যায় শেষ হওয়ার পর নাহিদ পারভেজের পদায়ন হয় ঢাকার শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-১-এ। সরকারি গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা তালিকাতেও তাঁকে বর্তমানে ওই বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় । এই বিভাগের আওতায় জাতীয় সংসদ ভবনসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণ, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ পরিচালিত হয়। ফলে একজন কর্মকর্তার পূর্ববর্তী কর্মস্থলে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়েছে কি না এবং নতুন কর্মস্থলে তাঁর অধীনে পরিচালিত সরকারি প্রকল্প ও দরপত্রগুলো যথাযথ বিধি মেনে হচ্ছে কি না—তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাগুরা গণপূর্ত বিভাগের বিভিন্ন রাজস্ব কাজ নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক অভিযোগ প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, কয়েকটি কাজের ক্ষেত্রে দরপত্র আহ্বান, শিডিউল বিক্রি কিংবা আনুষ্ঠানিক টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই কাজ শুরু করা হয়েছিল। প্রকাশিত প্রতিবেদনে টেন্ডার আইডি ১০৭২৭১৬, ১০৭২৭১৫, ১০৭২৭১৩ ও ১০৭২৭১১-এর মতো কয়েকটি কাজের উল্লেখ পাওয়া যায়। এর মধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবনের রাস্তা ও হাঁটার পথ নির্মাণ বা সংস্কার, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মেরামত, সার্কিট হাউস সংস্কার এবং বাসভবনের সীমানাপ্রাচীর-সংক্রান্ত কাজের কথা বলা হয়েছে। এসব কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় কয়েক লাখ টাকা থেকে প্রায় ১৯ লাখ টাকা পর্যন্ত ছিল বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—বিষয়টি শুধু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসসের প্রতিবেদনে দুদকের এনফোর্সমেন্ট অভিযানের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাৎ অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি একটি সংস্থা মাঠপর্যায়ে কাজ পরিদর্শন ও নথি সংগ্রহ করেছিল। মাগুরার অভিযোগ প্রসঙ্গে নাহিদ পারভেজ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগে। নাগরিকদের ভোগান্তি বিবেচনায় নিয়ে তিনি টেন্ডার সম্পন্ন হওয়ার আগেই কিছু কাজ শুরু করেছিলেন বলে তাঁর বক্তব্য। তাঁর এই বক্তব্যই বিষয়টির নথিভিত্তিক অনুসন্ধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। কারণ কোনো কাজ জরুরি হওয়ায় দ্রুত শুরু করার প্রয়োজন থাকলেও সেটি কোন প্রশাসনিক ও আর্থিক অনুমোদনের ভিত্তিতে করা হয়েছিল—সেটিই মূল
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক হাম্মাদ মুজিবের বিদেশে থাকা সম্পদ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সাইপ্রাসে তার নিজের নামে দুটি এবং ‘বাগুটেল লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে আরও দুটি ব্যাংক হিসাবের সন্ধান পেয়েছে সংস্থাটি। এসব হিসাবে লাখ লাখ ইউরো ও মার্কিন ডলারের লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। বিদেশে থাকা সম্পদ তিনি সরিয়ে ফেলতে বা কাউকে হস্তান্তর করতে পারেন, এই শঙ্কায় হাম্মাদ মুজিব ও সংশ্লিষ্টদের যুক্তরাজ্যে থাকা অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। দুদকের আবেদনে বলা হয়, সাইপ্রাসে হাম্মাদ মুজিবের একটি ব্যাংক হিসাবে ২০১৪ সালের মার্চ থেকে ২০১৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ২ লাখ ৬০ হাজার ৬৮১ দশমিক ২৫ ইউরো জমা হয়। নিজের নামে আরেকটি হিসাবে লেনদেন হয়েছে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ২২৩ মার্কিন ডলার। এ ছাড়া ‘বাগুটেল লিমিটেড’-এর দুটি হিসাবে যথাক্রমে ২ লাখ ৫০ হাজার ৭৩৪ দশমিক ৭২ ইউরো এবং ২০ লাখ ৪৪ হাজার ২৮ মার্কিন ডলারের জমা ও উত্তোলনের তথ্য পেয়েছে দুদক। বাগুটেল লিমিটেডের মাধ্যমে হাম্মাদ মুজিব অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রোটোকল) ব্যবসা চালাতেন বলে অভিযোগ আছে। টেলিকম খাতের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে নিজের পদের অপব্যবহার করে সাইপ্রাসে তিনি অবৈধ এই ভিওআইপির ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেছেন। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, সাইপ্রাসের হিসাব থেকে যুক্তরাজ্যে তার বোন রাহি রহমানের কাছে তিন দফায় ২ লাখ ৩ হাজার ৯২৫ দশমিক ৮ ইউরো পাঠানো হয়। ব্যাংক নথিতে এসব অর্থ ‘উপহার’ হিসেবে দেখানো হলেও দুদকের দাবি, লন্ডনের একটি সম্পত্তি কেনার জন্য অর্থগুলো পাঠানো হয়েছিল। একই হিসাব থেকে ছেলে রাগিব মুহাম্মদ আখিয়ারের শিক্ষার ব্যয় বাবদ যুক্তরাজ্যের একটি কলেজে ২০ হাজার ৪৮৯ দশমিক ৯৭ ইউরো পাঠানোর তথ্যও পাওয়া গেছে। দুদক বলছে, হাম্মাদ মুজিব এসব বিদেশি ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সম্পদের তথ্য ২০২০ সালে দাখিল করা সম্পদবিবরণীতে উল্লেখ করেননি। বিদেশে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনের নথিও পাওয়া যায়নি। এসব তথ্যের ভিত্তিতে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। দুদকের ভাষ্য, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ হুন্ডি, অর্থ স্থানান্তর ও স্তরীকরণের মাধ্যমে বিদেশে নেওয়া এবং সাইপ্রাসের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থের উৎস ও মালিকানা আড়াল করার অভিযোগ রয়েছে। আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে সম্পদ গোপন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যুক্তরাজ্যে থাকা সংশ্লিষ্ট অস্থাবর সম্পদ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জব্দ রাখার আদেশ দেন। মামলার তদন্তে হাম্মাদ মুজিবের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে দুদক। এসব অভিযোগ নিয়ে হাম্মাদ মুজিবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তা অস্বীকার করেন। হাম্মাদ মুজিব সিজেডএনকে বলেছেন, ‘এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। আমি আওয়ামীপন্থী বলেই আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে। সাইপ্রাসে বাগুটেল লিমিটেড নামের কোম্পানির কথা বলা হচ্ছে, সে সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই।’ একই সঙ্গে তিনি যোগ করেছেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাকে জোর করে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়।’
নিজস্ব প্রতিবেদক চলচ্চিত্র প্রযোজনার ব্যবসার কথা বলে ১৩ কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার ২০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর জামিনে বের হয়ে মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চিত্রনায়িকা পূজা চেরির বাবা দেব প্রসাদ রায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুলাই রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে মিজানুর রহমানের পশ্চিম মাটিকাটার বাসায় দেব প্রসাদ রায়সহ আরও তিনজন যান। সেখানে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং চলমান মামলা তুলে না নিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন বলে জিডিতে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি ভবিষ্যতের নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করার আবেদন জানান মিজানুর রহমান। ক্যান্টনমেন্ট থানায় করা ওই জিডির ট্র্যাকিং নম্বর ২৫৫৮ এবং জিডি নম্বর ১৬৪০। এর তারিখ ২৬ জুলাই ২০২৬। জিডিতে দেব প্রসাদ রায়ের সঙ্গে মদন কুমার সাহা, পূজা চেরি রায় এবং পার্থ প্রতীম নামের আরও তিনজনের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মিজানুর রহমান অভিযোগ করেছেন, তারা তার বাসায় এসে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দেব প্রসাদ রায়ের বিরুদ্ধে ক্যান্টনমেন্ট থানার মামলা নম্বর-০১, তারিখ ১৮ এপ্রিল ২০২৬-এ অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার মাধ্যমে মোট ১৩ কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার ২০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা চলমান রয়েছে। জিডি করার সময় তিনি আদালত থেকে জামিনে ছিলেন বলে অভিযোগকারী উল্লেখ করেছেন। এর আগে চলচ্চিত্র নির্মাণের নামে ১৩ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে দেব প্রসাদ রায়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান। প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ক্যান্টনমেন্ট থানায় এ মামলা করা হয় এবং ওই দিনই দেব প্রসাদ রায়কে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় চলচ্চিত্র প্রযোজনার ব্যবসার কথা বলে ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিম মাটিকাটার একটি বাসায় গিয়ে দেব প্রসাদ রায় মিজানুর রহমানের কাছ থেকে নগদ ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা নেন। একই ব্যবসার কথা বলে পরে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেডের মাধ্যমে আরও ৫০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ১৫ মে ১০০ টাকার তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর/সম্পাদনের মাধ্যমে আরও ৬ কোটি টাকা নগদ নেওয়ার অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান। বিভিন্ন সময়ে বিকাশ, নগদ ও রকেটের একাধিক নম্বরে আরও মোট ১ কোটি ২০ লাখ টাকা পাঠানো হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ অভিযুক্তের অনুরোধে বিকাশের মাধ্যমে আরও ১০ হাজার ২০০ টাকা পাঠানোর দাবি করা হয়। অভিযোগকারীর দাবি, দীর্ঘ সময় পার হলেও দেব প্রসাদ রায় কোনো টাকা ফেরত দেননি। টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন ধরনের তালবাহানা এবং পরে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এভাবে সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তার কাছ থেকে মোট ১৩ কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার ২০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। ১৭ এপ্রিল রাতে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন ইসিবি চত্বরে টাকার বিষয়ে দেব প্রসাদ রায়ের কাছে জানতে চান মিজানুর রহমান। এ সময় তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি এবং একপর্যায়ে গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টা করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আশপাশের লোকজন তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ক্যান্টনমেন্ট থানার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা দৈপায়ন মণ্ডল প্রকাশিত সংবাদে জানিয়েছিলেন, চলচ্চিত্র বানানোর কথা বলে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ১২ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছিলেন, প্রতারণার অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন; লেনদেনের স্টেটমেন্ট যাচাই করা হচ্ছে। সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও পুলিশ জানিয়েছিল। এদিকে দেব প্রসাদ রায়কে গ্রেপ্তার ও মামলার বিষয়ে পূজা চেরি প্রকাশিত বক্তব্যে বলেন, অভিযোগ বা মামলার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। আদালত বিষয়টি দেখবেন ও সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে তাকে এ বিষয়ে না জড়ানোর অনুরোধ করেন অভিনেত্রী। দেব প্রসাদ রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এর মধ্যে ২৭ এপ্রিল ২০২৬ পরিচালক-প্রযোজক মোহাম্মদ ইকবাল জানান দেব প্রসাদ রায়ের অতীত নিয়েও অভিযোগের প্রসঙ্গ আসে। বিএফডিসিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, দেব প্রসাদ রায় এর আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং তিনি সম্ভবত আদম ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার দাবি, পূজা চেরির বয়স যখন প্রায় ৪-৫ বছর, তখন এ কারণে তার বাবা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গিয়েছিলেন। মোহাম্মদ ইকবাল আরও দাবি করেন, দেব প্রসাদ রায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর পূজার মা আলাদা হয়ে যান এবং মেয়েকে অনেক কষ্টে বড় করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পূজার মা টেইলার্সের দোকান চালাতেন এবং তার বাসার পাশের একটি ছোট টেইলার্সের দোকানে কাপড় সেলাই করতেন। সেখানেই পূজা চেরি ছোটবেলায় বড় হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। বর্তমান ঘটনায় মিজানুর রহমানের করা ২৬ জুলাইয়ের জিডিতে মূল অভিযোগ হলো—চলমান অর্থ আত্মসাতের মামলায় আদালত থেকে জামিনে বের হওয়ার পর দেব প্রসাদ রায়সহ চারজন তার বাসায় গিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ, গালিগালাজ, ভয়ভীতি এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। জিডিতে তিনি বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করে ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণের আবেদন জানিয়েছেন।