খেলাধুলা

মেসির ২০১৬ সালের অবসরে যা বলেছিলেন রোনালদো
মেসির ২০১৬ সালের অবসরে যা বলেছিলেন রোনালদো

  লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারে ইতি টানার সিদ্ধান্ত ক্রীড়াবিশ্বকে ২০১৬ সালের সেই বিষাদময় স্মৃতির কথা নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে। সেবারও আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সি চিরতরে তুলে রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন এই মহাতারকা। মেসির সেই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পর ফুটবলপ্রেমীদের পাশাপাশি সংহতি ও প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন তার সর্বকালের সেরা প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে গোল না হওয়ায় ম্যাচড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে চিলির বিপক্ষে স্পটকিকে বল জালে পাঠাতে ব্যর্থ হন মেসি এবং শেষ পর্যন্ত শিরোপা হাতছাড়া হয় আলবিসেলেস্তেদের। পর পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের ফাইনালে হেরে মানসিকভা ভেঙে পড়েছিলেন আর্জেন্টাইন এই জাদুকর। মাত্র ২৯ বছর বয়সেই জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। মেসির এই বিদায়ে পুরো ফুটবল বিশ্ব স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিল। তবে মাঠের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে সেই কঠিন মুহূর্তে মেসির পাশে এসে দাঁড়ান পর্তুগিজ তারকা রোনালদো। পর্তুগালের এই মহাতারকা তখন বলেছিলেন, মেসি একটি অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং মানুষের উচিত তার পরিস্থিতি বোঝা। টাইব্রেকারে মেসির পেনাল্টি মিসের বিষয়ে সহানুভূতি প্রকাশ করে রোনালদো মন্তব্য করেছিলেন, মেসি কখনোই হার বা দ্বিতীয় হওয়াতে অভ্যস্ত নয়। তবে একটি পেনাল্টি মিস করলেই কোনো ফুটবলার খারাপ খেলোয়াড় হয়ে যান না। ক্লাব ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুই মহাতারকার তীব্র লড়াই সবসময়ই খবরের শিরোনাম হলেও, রোনালদোর মনে মেসির জন্য ছিল গভীর সম্মান। ফাইনাল শেষে মেসিকে কাঁদতে দেখে নিজের কষ্টের কথা জানিয়ে সিআরসেভেন বলেছিলেন, মেসিকে চোখের পানি ফেলতে দেখে তারও কষ্ট লেগেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, দেশ ও সমর্থকদের স্বার্থে মেসি যেন পুনরায় জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন করেন। রোনালদোর সেই প্রত্যাশা বাস্তব রূপ পেয়েছিল। অবসর নেওয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ফিরে আসেন মেসি। এরপরের ঘটনা তো ইতিহাস-২০২১ সালে কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালে স্বপ্নের বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকা জয় করে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে স্বর্ণাক্ষরে লিখিয়ে নেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে স্পেনের কাছে হেরে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির পথচলার ইতি ঘটে। গত সোমবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের শেষ সিদ্ধান্ত জানিয়ে নিশ্চিত করেন যে, আর্জেন্টিনার হয়ে তাকে আর মাঠে দেখা যাবে না। ২০১৬ সালে রোনালদো যে প্রত্যাবর্তনের আশা করেছিলেন, এবার হয়তো সেই ফিরে আসার আর কোনো সম্ভাবনা থাকছে না।

News সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ 0
বাংলাদেশে আসতে পারে ব্রাজিল, স্টেডিয়াম পরিদর্শনে প্রতিনিধি দল
বাংলাদেশে আসতে পারে ব্রাজিল, স্টেডিয়াম পরিদর্শনে প্রতিনিধি দল

  বাংলাদেশে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ লক্ষ্যে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পরিদর্শন করেছে। সফর শেষে বাংলাদেশের মাঠ ও অবকাঠামো নিয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন করেছে প্রতিনিধি দলটি। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ১টায় ঢাকায় আসে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের প্রতিনিধি দল। সফরকালে তারা রাজধানীর জাতীয় স্টেডিয়াম, ঢাকা এবং বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার মাঠ, ড্রেসিংরুম, টেকনিক্যাল জোনসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ঘুরে দেখে। পাশাপাশি কয়েকটি আবাসিক হোটেলও পরিদর্শন করেন তারা। জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার মাঠ এবং সংলগ্ন বিভিন্ন সুবিধা পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা মাঠের মান ও বিদ্যমান অবকাঠামোকে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের জন্য গ্রহণযোগ্য বলে অভিমত দেন। তবে আন্তর্জাতিক মানের বড় দলকে আতিথেয়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে ড্রেসিংরুম, টেকনিক্যাল জোন এবং প্রবেশ ও বহির্গমন গেটের নিরাপত্তাসহ কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন। তবে এসব উন্নয়ন স্বল্প সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করা সম্ভব বলে মনে করছে ব্রাজিলের প্রতিনিধি দল। সফর শেষে সোমবার (২৪ আগস্ট) রাত ১টা ৪০ মিনিটে ঢাকা ত্যাগ করে প্রতিনিধি দলটি। চলতি সপ্তাহেই তারা ঢাকায় পরিদর্শনের বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরবে। এরপর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বা বাফুফে দ্রুত ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক করার উদ্যোগ নেবে। ওই বৈঠকে ব্রাজিল জাতীয় দলকে বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে ব্রাজিলের নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। জাতীয় স্টেডিয়ামের মাঠ উন্নয়নে বাফুফে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যে সংস্কারকাজ করেছে, ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলের ইতিবাচক মূল্যায়নকে সেই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখছে বাফুফে। আন্তর্জাতিক দল ও খেলোয়াড়দের জন্য জাতীয় স্টেডিয়ামকে আরও উপযোগী করে তুলতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন করার পরিকল্পনাও রয়েছে বাফুফের। সফরের শেষ পর্যায়ে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের প্রতিনিধি দল এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অবকাঠামো উন্নয়ন, মাঠ ও পিচ ডেভেলপমেন্ট, যৌথ কোচিং প্রোগ্রাম, স্পোর্টস সায়েন্সের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজনসহ বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এদিকে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশি সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি তারা লক্ষ্য করেছেন। বাংলাদেশে ব্রাজিল জাতীয় দল খেলতে এলে এখানকার ফুটবলপ্রেমীদের কাছ থেকেও একই ধরনের সমর্থন ও ভালোবাসা পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা। বাংলাদেশে ব্রাজিলের জাতীয় দলের একটি ম্যাচ আয়োজন হলে তা দেশের ফুটবলের জন্য বড় ধরনের আন্তর্জাতিক আকর্ষণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে বাফুফে। একই সঙ্গে দুই দেশের ফুটবল সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার পাশাপাশি কোচিং, স্পোর্টস সায়েন্স, মাঠ উন্নয়ন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বাফুফের ম্যানেজার-মিডিয়া সাদমান সাকিব জানান, ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের প্রতিনিধি দলের এই সফরকে দুই দেশের ফুটবল সম্পর্ক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিনিধি দলের সুপারিশ পাওয়ার পর পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। সবকিছু ইতিবাচকভাবে এগোলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মাটিতে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের ম্যাচ দেখার স্বপ্ন পূরণ হতে পারে দেশের কোটি কোটি ব্রাজিল সমর্থকের।

News আগস্ট ২৫, ২০২৬ 0
জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপে নাচোলকে ৪-০ গোলে হারিয়ে শিবগঞ্জের জয়
জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপে নাচোলকে ৪-০ গোলে হারিয়ে শিবগঞ্জের জয়

   মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ  চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ‘জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল ৪টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে (নতুন) টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।   এতে নাচোল উপজেলাকে ৪-০ গোলে হারিয়ে জয় পেয়েছে শিবগঞ্জ উপজেলা ফুটবল দল। জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা,চাঁপাইনবাবগঞ্জের যৌথ আয়োজনে এবং এরফান গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে  উপস্থিত ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী। আরও উপস্থিত ছিলেন,  চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. নাকিব হাসান তরফদার   । এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মো. মশিউর রহমান মিঠু, সদস্য মো. তৌফিকুল ইসলাম তোফা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক কোষাধ্যক্ষ মো. বদিউজ্জামান বুধু, সাবেক সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হান্নান রজুসহ সংশ্লিষ্টরা। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে শিবগঞ্জ উপজেলা দল। প্রতিপক্ষ নাচোল উপজেলা দলও পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত শিবগঞ্জের দাপটের সামনে সুবিধা করতে পারেনি।   নির্ধারিত সময়ের খেলায় শিবগঞ্জ ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে। ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য শিবগঞ্জ উপজেলার ৭ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় মোমিনুল ইসলাম  ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত করা হয়। খেলা দেখতে জেলা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে দর্শক ও ফুটবলপ্রেমীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘদিন পর জেলার ক্রীড়াঙ্গনে এমন বড় আয়োজন ঘিরে তরুণ ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। আয়োজকরা জানান, স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং তরুণ প্রজন্ম, যুবক, কিশোর ও শিক্ষার্থীদের মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও সুন্দর ধারার খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করাই এ টুর্নামেন্ট আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।     খেলাধুলা তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই যুবসমাজকে মাদকমুক্ত ও সুস্থ রাখতে নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে তাদের মাঠমুখী করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে এবং এরফান গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত ‘জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’ জেলার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

News আগস্ট ২৩, ২০২৬ 0
দক্ষিণ কোরিয়ায় এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদকে নাগরিক সংবর্ধনা
দক্ষিণ কোরিয়ায় এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদকে নাগরিক সংবর্ধনা

  দক্ষিণ কোরিয়া সফর উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। গতকাল রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় খিম্পু শহরের খিম্পু ফরেন সাপোর্ট সেন্টারে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স, দক্ষিণ কোরিয়া। অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ছাড়াও নানান শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ডায়াস্পোরা সদস্যদের এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশ যখন অবরুদ্ধ ছিল, তখন প্রবাসীরা মুক্তির আশা জাগিয়ে রেখেছিল। গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য তিনি প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ের মতো জুলাই সনদ ও গণভোটের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নেও প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিশ্ববাসীকে অবহিত করতে প্রবাসীদের সক্রিয় ভূমিকার প্রত্যাশা করেন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতেও প্রবাসীদের ভোটাধিকার অব্যাহত রাখতে এনসিপি কাজ করে যাবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত বলেন, কোরিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিরা জুলাই অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আমরা চাই আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনার পলিসিতেও তারা ভূমিকা রাখবে। আমি এসেছিলাম গোয়াংজু ডেমোক্রেসি ফোরামে। এখানে এসে কোরিয়ার অভ্যুত্থান ও গণতান্ত্রিক লড়াই দেখেছি। আগামীতে বাংলাদেশের লড়াই-সংগ্রামকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চাই। এ সময় উপস্থিত প্রবাসীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের মরদেহ বিনা মূল্যে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা, কোরিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজীকরণ, দালালদের অপতৎপরতা রোধ, বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ এবং দেশে প্রবাসীদের বিভিন্ন বিষয়ে অধিক অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান তারা। অনুষ্ঠানে এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য আয়মান রাহাত, এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স দক্ষিণ কোরিয়ার আহ্বায়ক আরিফুর রহমান ও সদস্য সচিব বাবুল মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

News মে ১৮, ২০২৬ 0
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

Top week

বগুড়ায় সার ডিলার নিয়োগে ‘এমপি কোটা’র অভিযোগ
জাতীয়

বগুড়ায় সার ডিলার নিয়োগে ‘এমপি কোটা’র অভিযোগ

News সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ 0