অপরাধ

ঋণসুবিধা নিয়েও রাজউকের ৫ আমলার দখলে সরকারি গাড়ি

Montu Mian আগস্ট ২৭, ২০২৬ 0
ঋণসুবিধা নিয়েও রাজউকের ৫ আমলার দখলে সরকারি গাড়ি
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের

 


গাড়ি কেনার জন্য সরকারের সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা নিয়েছেন। প্রতি মাসে পাচ্ছেন জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতন বাবদ নগদ অর্থ। তারপরও সরকারি প্রকল্পের জন্য কেনা জিপ ব্যবহার করছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পাঁচ সদস্য। এসব জিপের জন্য সংস্থাটির কোষাগার থেকে চালকের বেতন ও জ্বালানি বাবদ নিয়মিত অর্থও পরিশোধ করা হচ্ছে। প্রেষণে আসা প্রশাসন ক্যাডারের কর্তকর্তাদের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজউকের কর্মকর্তারা। সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের অনুসন্ধানে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, সরকারি গাড়ির ব্যবহার কমাতে এবং নিজস্ব যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহিত করতে কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ দেয় সরকার। শর্ত ছিলো এ সুবিধা নেওয়ার পর আর সরকারি যানবাহন ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু রাজউকের এই পাঁচ সদস্যের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। তারা একদিকে গাড়ি কেনার সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন, অন্যদিকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য কেনা জিপও ব্যবহার করছেন। প্রভাবশালী এই কর্মকর্তারদের গাড়ি বিলাসে বঞ্চিত হচ্ছেন রাজউকের অন্য কর্মকর্তারা।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছেন প্রশাসন ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা ও রাজউক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শেখ মতিয়ার রহমান, ২২তম ব্যাচের কর্মকর্তা সদস্য (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) এরাদুল হক ও সদস্য (পরিকল্পনা) বশিরুল হক ভূইয়া এবং ২৪তম ব্যাচের কর্মকর্তা সদস্য (উন্নয়ন) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শাহীনুর আলম।

জানা যায়, সদস্য (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) এরাদুল হক ব্যবহার করছেন ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৪১৮৪৯ নম্বরের জিপ। উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের আওতায় কেনা গাড়িটির চালক মোজাহারুল ইসলাম। সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শেখ মতিয়ার রহমানের কাছে রয়েছে ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৪২১৫০ নম্বরের জিপ। গ্রিন বিল্ডিং প্রকল্পের এই গাড়ির চালক মো. আনোয়ার হোসেন। সদস্য (উন্নয়ন) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ব্যবহার করছেন ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৬৯৬৪ নম্বরের জিপ। পূর্বাচল প্রকল্পের আওতায় কেনা এই গাড়ির চালক মো. সামসুদৌহা চৌধুরী। সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শাহীনুর আলমের কাছে রয়েছে ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৬৬৩৭ নম্বরের জিপ। বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) প্রকল্পের গাড়িটির চালক মো. কামাল হোসেন। অন্যদিকে সদস্য (পরিকল্পনা) বশিরুল হক ভূইয়া ব্যবহার করছেন ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৪-২৩২৪ নম্বরের জিপ। এটির চালক মো. পারভেজ রহমান।


রাজউক সূত্রে জানা যায়, একটি গাড়ির জ্বালানি ও চালক বাবদ সংস্থাটিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। কমবেশি একটি গাড়ির জন্য জ্বালানি বাবদ বছরে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা যাচ্ছে রাজউকের কোষাগার থেকে। এছাড়া একজন চালকের বেতন ভাতা বাবদ বছরে খরচ প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে একটি গাড়ির জ্বালানি ও চালক বাবদ বছরে ব্যয় প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে এই পাঁচটি গাড়ির পেছনে বছরে সরকারের খরচ হচ্ছে কমপক্ষে ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
রাজউক সূত্রে জানা যায়, একটি গাড়ির জ্বালানি ও চালক বাবদ সংস্থাটিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। কমবেশি একটি গাড়ির জন্য জ্বালানি বাবদ বছরে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা যাচ্ছে রাজউকের কোষাগার থেকে। এছাড়া একজন চালকের বেতন ভাতা বাবদ বছরে খরচ প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে একটি গাড়ির জ্বালানি ও চালক বাবদ বছরে ব্যয় প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে এই পাঁচটি গাড়ির পেছনে বছরে সরকারের খরচ হচ্ছে কমপক্ষে ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে উপসচিব হতে সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের বেতন বাবদ মাসে ৫০ হাজার টাকা ভাতা পান তারা। এই সুবিধা নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিজস্ব গাড়িই ব্যবহারের কথা। সরকারি যানবাহন ব্যবহারের সুযোগও তখন আর থাকে না। কিন্তু এ নিয়ম শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে বেশিরভাগ মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তারা চেয়ারে বসেই ইচ্ছেমাফিক সরকারি গাড়িসুবিধা নিচ্ছেন। 


এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউক সদস্য (পরিকল্পনা) বশিরুল হক ভূইয়া বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘গাড়ি কেনার জন্য ঋণসুবিধা নেওয়ার কারণে সরকার আমার বেতন থেকে ২৫ হাজার টাকা করে কেটে নেয়। এছাড়া আমার পদের বিপরীতে বরাদ্দ থাকা গাড়ির জন্য রাজউককে আরও ৮০০ টাকা করে দিতে হয়।’

একপর্যায়ে কিছুটা উত্তেজিত হয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনাদের কোনো সমস্যা থাকলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করুন।’

সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শেখ মতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমি সরকারি বিধি মোতাবেক লোন নিয়েছি এবং বিধি মোতাবেক অর্থ সমর্পণ-পূর্বক সরকারি গাড়ি ব্যবহার করি।’

প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০২০ (সংশোধিত) এর বরাত দিয়ে রাজউক সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শাহীনুর আলম বলেন, ‘নীতিমালায় আছে ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়ার পরও কোনো কর্মকর্তা যদি সংস্থার গাড়ি ব্যবহার করে তবে রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ যে অর্থ দেওয়া হয় তার অর্ধেক (২৫ হাজার) প্রাপ্ত হবেন।’

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘রাজউক থেকে আমাকে যে গাড়ি দেওয়া হয়েছে তা কিছুদিন যাবত নষ্ট হয়ে আছে। ব্যক্তিগত গাড়ি চালিয়ে অফিসে আসতে হচ্ছে।’

তবে নীতিমালায় ‘সুদমুক্ত ঋণসুবিধা প্রাপ্তির যোগ্যতা’ অংশে দেখা যায়, প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর হতে গাড়ি সুবিধা গ্রহণ করলেও গাড়ি সেবা নগদায়নের আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু সুদমুক্ত ঋণ গ্রহণপূর্বক গাড়ি ক্রয়ের পর যানবাহন অধিদপ্তরের গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা আর বহাল থাকবে না।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

অপরাধ

View more
ঋণসুবিধা নিয়েও রাজউকের ৫ আমলার দখলে সরকারি গাড়ি
ঋণসুবিধা নিয়েও রাজউকের ৫ আমলার দখলে সরকারি গাড়ি

  গাড়ি কেনার জন্য সরকারের সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা নিয়েছেন। প্রতি মাসে পাচ্ছেন জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতন বাবদ নগদ অর্থ। তারপরও সরকারি প্রকল্পের জন্য কেনা জিপ ব্যবহার করছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পাঁচ সদস্য। এসব জিপের জন্য সংস্থাটির কোষাগার থেকে চালকের বেতন ও জ্বালানি বাবদ নিয়মিত অর্থও পরিশোধ করা হচ্ছে। প্রেষণে আসা প্রশাসন ক্যাডারের কর্তকর্তাদের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজউকের কর্মকর্তারা। সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের অনুসন্ধানে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। জানা যায়, সরকারি গাড়ির ব্যবহার কমাতে এবং নিজস্ব যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহিত করতে কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ দেয় সরকার। শর্ত ছিলো এ সুবিধা নেওয়ার পর আর সরকারি যানবাহন ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু রাজউকের এই পাঁচ সদস্যের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। তারা একদিকে গাড়ি কেনার সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন, অন্যদিকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য কেনা জিপও ব্যবহার করছেন। প্রভাবশালী এই কর্মকর্তারদের গাড়ি বিলাসে বঞ্চিত হচ্ছেন রাজউকের অন্য কর্মকর্তারা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছেন প্রশাসন ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা ও রাজউক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শেখ মতিয়ার রহমান, ২২তম ব্যাচের কর্মকর্তা সদস্য (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) এরাদুল হক ও সদস্য (পরিকল্পনা) বশিরুল হক ভূইয়া এবং ২৪তম ব্যাচের কর্মকর্তা সদস্য (উন্নয়ন) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শাহীনুর আলম। জানা যায়, সদস্য (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) এরাদুল হক ব্যবহার করছেন ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৪১৮৪৯ নম্বরের জিপ। উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের আওতায় কেনা গাড়িটির চালক মোজাহারুল ইসলাম। সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শেখ মতিয়ার রহমানের কাছে রয়েছে ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৪২১৫০ নম্বরের জিপ। গ্রিন বিল্ডিং প্রকল্পের এই গাড়ির চালক মো. আনোয়ার হোসেন। সদস্য (উন্নয়ন) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ব্যবহার করছেন ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৬৯৬৪ নম্বরের জিপ। পূর্বাচল প্রকল্পের আওতায় কেনা এই গাড়ির চালক মো. সামসুদৌহা চৌধুরী। সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শাহীনুর আলমের কাছে রয়েছে ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৬৬৩৭ নম্বরের জিপ। বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) প্রকল্পের গাড়িটির চালক মো. কামাল হোসেন। অন্যদিকে সদস্য (পরিকল্পনা) বশিরুল হক ভূইয়া ব্যবহার করছেন ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৪-২৩২৪ নম্বরের জিপ। এটির চালক মো. পারভেজ রহমান। রাজউক সূত্রে জানা যায়, একটি গাড়ির জ্বালানি ও চালক বাবদ সংস্থাটিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। কমবেশি একটি গাড়ির জন্য জ্বালানি বাবদ বছরে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা যাচ্ছে রাজউকের কোষাগার থেকে। এছাড়া একজন চালকের বেতন ভাতা বাবদ বছরে খরচ প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে একটি গাড়ির জ্বালানি ও চালক বাবদ বছরে ব্যয় প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে এই পাঁচটি গাড়ির পেছনে বছরে সরকারের খরচ হচ্ছে কমপক্ষে ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রাজউক সূত্রে জানা যায়, একটি গাড়ির জ্বালানি ও চালক বাবদ সংস্থাটিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। কমবেশি একটি গাড়ির জন্য জ্বালানি বাবদ বছরে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা যাচ্ছে রাজউকের কোষাগার থেকে। এছাড়া একজন চালকের বেতন ভাতা বাবদ বছরে খরচ প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে একটি গাড়ির জ্বালানি ও চালক বাবদ বছরে ব্যয় প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে এই পাঁচটি গাড়ির পেছনে বছরে সরকারের খরচ হচ্ছে কমপক্ষে ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে উপসচিব হতে সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের বেতন বাবদ মাসে ৫০ হাজার টাকা ভাতা পান তারা। এই সুবিধা নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিজস্ব গাড়িই ব্যবহারের কথা। সরকারি যানবাহন ব্যবহারের সুযোগও তখন আর থাকে না। কিন্তু এ নিয়ম শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে বেশিরভাগ মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তারা চেয়ারে বসেই ইচ্ছেমাফিক সরকারি গাড়িসুবিধা নিচ্ছেন।  এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউক সদস্য (পরিকল্পনা) বশিরুল হক ভূইয়া বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘গাড়ি কেনার জন্য ঋণসুবিধা নেওয়ার কারণে সরকার আমার বেতন থেকে ২৫ হাজার টাকা করে কেটে নেয়। এছাড়া আমার পদের বিপরীতে বরাদ্দ থাকা গাড়ির জন্য রাজউককে আরও ৮০০ টাকা করে দিতে হয়।’ একপর্যায়ে কিছুটা উত্তেজিত হয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনাদের কোনো সমস্যা থাকলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করুন।’ সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শেখ মতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমি সরকারি বিধি মোতাবেক লোন নিয়েছি এবং বিধি মোতাবেক অর্থ সমর্পণ-পূর্বক সরকারি গাড়ি ব্যবহার করি।’ প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০২০ (সংশোধিত) এর বরাত দিয়ে রাজউক সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শাহীনুর আলম বলেন, ‘নীতিমালায় আছে ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়ার পরও কোনো কর্মকর্তা যদি সংস্থার গাড়ি ব্যবহার করে তবে রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ যে অর্থ দেওয়া হয় তার অর্ধেক (২৫ হাজার) প্রাপ্ত হবেন।’ এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘রাজউক থেকে আমাকে যে গাড়ি দেওয়া হয়েছে তা কিছুদিন যাবত নষ্ট হয়ে আছে। ব্যক্তিগত গাড়ি চালিয়ে অফিসে আসতে হচ্ছে।’ তবে নীতিমালায় ‘সুদমুক্ত ঋণসুবিধা প্রাপ্তির যোগ্যতা’ অংশে দেখা যায়, প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর হতে গাড়ি সুবিধা গ্রহণ করলেও গাড়ি সেবা নগদায়নের আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু সুদমুক্ত ঋণ গ্রহণপূর্বক গাড়ি ক্রয়ের পর যানবাহন অধিদপ্তরের গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা আর বহাল থাকবে না।

News আগস্ট ২৭, ২০২৬ 0
জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকা ওয়াসার সদস্য হিসেবে নিয়োগ নিলেন ৭১ টিভির সিইও শফিক আহমেদ!

জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকা ওয়াসার সদস্য হিসেবে নিয়োগ নিলেন ৭১ টিভির সিইও শফিক আহমেদ!

বিএমইটি ঘিরে একচেটিয়া প্রভাবের অভিযোগ

বিএমইটি ঘিরে একচেটিয়া প্রভাবের অভিযোগ

এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বেলালের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ; তদন্তে দুদক

এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বেলালের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ; তদন্তে দুদক

পিপিআর মানেননি কামরুল-ফিরাদুল, সমাজসেবায় পৌনে ৭ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ
পিপিআর মানেননি কামরুল-ফিরাদুল, সমাজসেবায় পৌনে ৭ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

সমাজসেবা অধিদপ্তরের সদর কার্যালয়ে সরকারি অর্থ বরাদ্দের সুনির্দিষ্ট বিধি-বিধান ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর-২০২৫) লঙ্ঘন করে প্রায় পৌনে ৭ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (গুদাম, যন্ত্রপাতি ও যানবাহন) মো. কামরুল হাসান সরকার এবং সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-১) মো. ফিরাদুল হক। দাপ্তরিক নথিপত্র ও কেনাকাটার হিসাব বিশ্লেষণ করে তাদের বিরুদ্ধে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিধি লঙ্ঘন, কাজ খণ্ডিত করে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া এবং ভাউচার ও বিলের মাধ্যমে সরকারি অর্থ ব্যয়ের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।   সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রণীত আইন ও বিধিমালার তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাতের চক্রান্ত বাস্তবায়নের অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে পাওয়া দাপ্তরিক নথি ও কেনাকাটার হিসাব অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় মো. কামরুল হাসান সরকার ও মো. ফিরাদুল হক সরাসরি যুক্ত থেকে পুরো প্রক্রিয়ার কারসাজি সম্পাদন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর-২০২৫) অনুযায়ী কোটেশন প্রদানের অনুরোধ বা Request for Quotation Method (RFQ) পদ্ধতিতে বাৎসরিক ক্রয়ের সর্বোচ্চ সীমা ৩০ লাখ টাকা নির্ধারিত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন নথিতে RFQ খাতে মোট ৩ কোটি ৪৯ লাখ ১২ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত সীমার তুলনায় ৩ কোটি ১৯ লাখ ১২ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে।   অভিযোগ রয়েছে, একই খাত বা কাজকে বারবার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করে RFQ পদ্ধতিতে নিজেদের পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে নিউ বাকেরগঞ্জ ডেকোরেটর, ক্যাপিটাল ইলেকট্রিক, আরজে কনস্ট্রাকশন, সেলভিশন সিস্টেমস, আফরিন এন্টারপ্রাইজসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের নামে কোটি কোটি টাকার কাজ বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে সরাসরি ভাউচারের মাধ্যমে বা নগদ কেনাকাটার ক্ষেত্রেও বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিপিআর-২০২৫ অনুযায়ী এ ধরনের ক্রয়ে বাৎসরিক সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা। অথচ সমাজসেবা অধিদপ্তরের খরচের নথিপত্র বিশ্লেষণ করে সরাসরি ভাউচারের মাধ্যমে ২ কোটি ১৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা কেনাকাটা দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত সীমার তুলনায় ২ কোটি ৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা অতিরিক্ত অর্থ ভাউচারের নামে উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি e-GP বা উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় না গিয়ে ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। কম্পিউটার সামগ্রী, সেমিনারের ব্যাগ, আপ্যায়ন, জ্বালানি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী এবং যানবাহন মেরামতের নামে শত শত ভাউচার তৈরি করে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মো. কামরুল হাসান সরকার ও মো. ফিরাদুল হকের বিরুদ্ধে। এর পাশাপাশি গত অর্থবছরের RFQ খাতের আরও ১ কোটি ১৫ লাখ টাকার বিল নিয়ে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানকৃত নথিতে দাবি করা হয়েছে, গত অর্থবছরে প্রস্তুত করা এসব বিলের সঠিক দাপ্তরিক ভিত্তি না থাকায় এবং বিধিবহির্ভূত হওয়ায় অ্যাকাউন্টস অফিস বা হিসাবরক্ষণ কার্যালয় থেকে বিলগুলো প্রত্যাখ্যান করে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, মো. কামরুল হাসান সরকার ও মো. ফিরাদুল হক পরস্পর যোগসাজশ করে হিসাবরক্ষণ অফিসের প্রত্যাখ্যাত ওই বিলগুলো চলতি অর্থবছরে পুনরায় পাস করিয়ে অর্থ উত্তোলন করেছেন। ফলে আগের অর্থবছরে আটকে দেওয়া ১ কোটি ১৫ লাখ টাকার বিল পরবর্তী অর্থবছরে সরকারি অর্থ হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। পিপিআরবহির্ভূত কেনাকাটা এবং আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে সহকারী পরিচালক (গুদাম, যন্ত্রপাতি ও যানবাহন) মো. কামরুল হাসান সরকারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি গত অর্থবছরের ডিসেম্বর মাসে এ দায়িত্বে এসেছেন বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন । তবে অনুসন্ধানে পাওয়া নথিপত্রে ওই সময়ের কেনাকাটার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে অডিট ও হিসাবরক্ষণ কার্যালয় থেকে প্রত্যাখ্যাত ১ কোটি ১৫ লাখ টাকার বিল পরবর্তী অর্থবছরে মো. কামরুল হাসান সরকারের পাওনা হিসেবে দেখিয়ে উত্তোলন করা হয়েছে—এমন তথ্যও অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে। অন্যদিকে সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-১) মো. ফিরাদুল হকের সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তাকে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। গত অর্থবছরের কেনাকাটায় দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুবের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, গত অর্থবছরে RFQ-তে যে পরিমাণ কোটা ছিল, সেই পরিমাণই ব্যয় করা হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও হিসাবের সঙ্গে তার বক্তব্যের ভিন্নতা রয়েছে। গত বছর স্থগিত করা ১ কোটি ১৫ লাখ টাকার বিল চলতি অর্থবছরে ইতোমধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহাপরিচালক প্রথমে বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই, জেনে বলতে হবে। পরবর্তীতে লিখিত জবাবে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব বলেন, স্থগিত থাকা বিলগুলোতে হিসাবরক্ষণ অফিসের আপত্তি ছিল না। বরং বরাদ্দ সীমাবদ্ধতার কারণে এগুলো বকেয়া দায় হিসেবে পরবর্তী বছরের বাজেট থেকে সরকারি নিয়ম এবং জিএফআর-এর বিধান মেনে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। RFQ খাতে ৩ কোটি ৪৯ লাখ ১২ হাজার টাকা ব্যয়ের বিষয়ে মহাপরিচালক জানান, পিপিআর-২০০৫ অনুযায়ী RFQ সীমার মধ্যে থেকে আলাদা অর্থনৈতিক খাতে কাজগুলো বিভিন্ন নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমান দায়িত্বে যোগদানের পর RFQ কমিয়ে উন্মুক্ত দরপত্র বা OTM পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নগদ ও সরাসরি ক্রয়ের বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, ভাউচার বা নগদ ক্রয়ের সীমা ২৫ লাখ টাকা এবং প্রয়োজনে Direct Contracting Method (DCM) প্রযোজ্য। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিপিপিএর অনুমোদনক্রমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ম্যানুয়াল কাজ হলেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সব ক্রয় e-GP পদ্ধতিতে করা হবে। কার্য খণ্ডিতকরণ ও ঠিকাদার নির্বাচনের বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, অহেতুক প্যাকেজ বিভাজন এড়াতে ছয়টি কাজ OTM পদ্ধতিতে প্রতিযোগিতামূলকভাবে করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে RFQ-তে নতুন কোনো আদেশ দেওয়া হয়নি। ফলে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগটি সঠিক নয় বলেও তিনি দাবি করেন। তবে অনুসন্ধান এবং নথিপত্র বিশ্লেষণে গত অর্থবছরের খাতওয়ারি হিসাব অনুযায়ী RFQ খাতে অতিরিক্ত ৩ কোটি ১৯ লাখ ১২ হাজার টাকা, সরাসরি ভাউচারে অতিরিক্ত ২ কোটি ৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা এবং পূর্বে ফেরত পাঠানো ১ কোটি ১৫ লাখ টাকার বিল—এই তিন খাত মিলিয়ে সর্বমোট ৬ কোটি ৭৯ লাখ ৬ হাজার টাকার আর্থিক অনিয়ম ও সরকারি অর্থ তছরুপের অভিযোগের চিত্র পাওয়া গেছে। এদিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন, কোনো কাজ না করেই এভাবে সরকারি অর্থ তছরুপ করা হয়েছে এবং এর পেছনে দুই সহকারী পরিচালকের একটি সিন্ডিকেট কাজ করেছে। তাদের মতে, সরকারি অর্থ সুরক্ষা ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলো দ্রুত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

News আগস্ট ২৭, ২০২৬ 0
৮৮৪ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে পছন্দের ঠিকাদারকে সুবিধা দিতে প্যাকেজ তৈরির অভিযোগ

৮৮৪ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে পছন্দের ঠিকাদারকে সুবিধা দিতে প্যাকেজ তৈরির অভিযোগ

পাঁচ প্রকল্পে অনিয়মের পাহাড়

পাঁচ প্রকল্পে অনিয়মের পাহাড়

ইসলামিক ফাউন্ডেশনে কুরআন কিনতেও মহালুটপাট!

ইসলামিক ফাউন্ডেশনে কুরআন কিনতেও মহালুটপাট!

স্ত্রীর কর ফাইলের আড়ালে ১০ কোটি টাকা সাদা করার অভিনব জালিয়াতি: কাঠগড়ায় বিপুল দাস
স্ত্রীর কর ফাইলের আড়ালে ১০ কোটি টাকা সাদা করার অভিনব জালিয়াতি: কাঠগড়ায় বিপুল দাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:দেশের কর বিভাগে আয়কর ফাঁকি ও অবৈধ অর্থ বৈধ করার নানা কৌশলের কথা শোনা গেলেও এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অভিনব জালিয়াতির তথ্য উঠে এসেছে। রাজধানী ঢাকার বারীধারা ডিজাইন এইস লিমিটেডের চেয়ারম্যান বিপুল কান্তি দাসের বিরুদ্ধে নিজের গৃহিণী স্ত্রীর নাম ব্যবহার করে প্রায় ১০ কোটি টাকার কালো টাকা সাদা করার এক অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। ‘ ডেইলি ভয়েস নিউজ’-এর এক অনুসন্ধানে এই জালিয়াতির চিত্র সামনে এসেছে।জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) কর অঞ্চল-১৪ (ঢাকা)-এর কর কমিশনারের নিকট একজন সচেতন নাগরিকের দায়ের করা লিখিত অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট আয়কর নথি পর্যালোচনা করে এই অর্থ পাচার ও কর ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া যায়।গৃহিণীর নামে কাল্পনিক ব্যবসা ও কোটি কোটি টাকার পুঁজিনথি অনুযায়ী, এই জালিয়াতির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিপুল কান্তি দাসের স্ত্রী পূর্ণিমা দাস। তিনি পেশায় একজন পুরোদস্তুর গৃহিণী, যার নিজস্ব কোনো বৈধ আয়ের উৎস নেই। এমনকি তার বাবা সত্য রায় এবং মা মিনতি রায়ও আর্থিকভাবে সচ্ছল নন এবং তাদের কোনো আয়কর ফাইল বা কর প্রদানের ইতিহাস নেই। অথচ এই গৃহিণীর নামেই রাতারাতি কোটি কোটি টাকার ব্যবসা ও নগদ সম্পদ প্রদর্শন করা হয়েছে, যা মূলত বিপুল কান্তি দাসের অবৈধ কালো টাকা বৈধ করার একটি সুনিপুণ অপচেষ্টা।একদিনেই ৯ বছরের ফাইল অনুমোদন: কর প্রশাসনের নজিরবিহীন অনিয়মঅনুসন্ধানে দেখা যায়, এই কর ফাঁকির মূল কারসাজি শুরু হয় ২০২১ সালে। বিপুল কান্তি দাস তার অবৈধভাবে অর্জিত কালো টাকাকে দীর্ঘদিনের বৈধ ব্যবসা থেকে অর্জিত সম্পদ হিসেবে দেখানোর জন্য একটি নজিরবিহীন আইনি ফাঁকফোকরের আশ্রয় নেন।১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১: কর অঞ্চল-১৪ এর অধীনে কর সার্কেল-৩০৫ এ পূর্ণিমা দাসের নামে একটি ই-টিন (e-TIN: 7726690928) সার্টিফিকেট নেওয়া হয়।৩ জুন, ২০২১: কর সার্কেল-৩০৫ এর তৎকালীন সহকারী কর কমিশনার মো. জাহিদুলের ইসলাম অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে পূর্ণিমা দাসের ২০১০-১১ করবর্ষ থেকে শুরু করে ২০১৮-১৯ করবর্ষ পর্যন্ত টানা ৯ বছরের আয়কর নির্ধারণী আদেশ একই দিনে স্বাক্ষর ও অনুমোদন করেন। একদিনে ৯ বছরের ব্যাক-ডেটেড ফাইল অনুমোদনের এই ঘটনাটি কর প্রশাসনের ইতিহাসে একটি বড় অনিয়ম ও অসঙ্গতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।কোনো অস্তিত্ব নেই ব্যবসার, ব্যালেন্স শিটে ১০ কোটি টাকাপূর্ণিমা দাসের ২০১০-১১ করবর্ষের রিটার্ন ফাইল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেখানে ব্যবসার ধরন হিসেবে ‘ডিলিংস ইন বিবিধ গুডস’ (বিবিধ পণ্যের ব্যবসা) উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ এই ব্যবসার কোনো বৈধ ট্রেড লাইসেন্স, দোকান বা গুদামের অস্তিত্ব নথিতে নেই। এই কাল্পনিক ব্যবসা থেকে প্রথম বছরে মাত্র ২,৪০,০০০ টাকা মোট প্রাপ্তি এবং ১,৬০,০০০ টাকা নিট লাভ দেখিয়ে মাত্র ২,০০০ টাকা কর দেওয়া হয়।কিন্তু আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এই সামান্য আয়ের বিপরীতে ওই বছরের ব্যালেন্স শিটে পূর্ববর্তী বছরের পুঁজি হিসেবে এক লাফে ৩,৭৭,২১,০০০ টাকা (তিন কোটি ৭৭ লাখ ২১ হাজার টাকা) নগদ সম্পদ দেখানো হয়েছে। প্রথম বছরেই তিনি কোথা থেকে এই পৌনে চার কোটি টাকার বিশাল পুঁজি পেলেন, তার কোনো ব্যাখ্যা বা আয়ের উৎস আয়কর নথিতে দেওয়া হয়নি।একইভাবে ওই বছরের ৩০শে জুন পর্যন্ত পূর্ণিমা দাসের মোট নিট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১০,১০,৯৬,০০০ টাকা (দশ কোটি দশ লাখ ছিয়ানব্বই হাজার টাকা)। অর্থাৎ, কর প্রদানের প্রথম বছরেই একজন গৃহিণীকে কাগজে-কলমে ১০ কোটি টাকার মালিক বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী করবর্ষগুলোতেও (২০১১-১২ থেকে ২০১৮-১৯) একইভাবে নামমাত্র লাভ এবং ২,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা কর দিয়ে এই বিশাল সম্পদকে ফাইলে টিকিয়ে রাখা হয়।২০২০-২১ বর্ষে সাড়ে ৫ কোটি টাকা অলস নগদ অর্থঅনিয়মের এই ধারাবাহিকতা এখানেই শেষ নয়। ২০২০-২১ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পূর্ণিমা দাসের ব্যবসায়িক পুঁজি হিসেবে ৩,৭৭,৯৬,০০০ টাকা এবং হাতে নগদ হিসেবে বিপুল অঙ্কের ৫,৬০,০০,০০০ টাকা (পাঁচ কোটি ষাট লাখ টাকা) দেখানো হয়েছে। ফলে তার মোট প্রদর্শিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯,৪০,০০,০০০ টাকা। কোনো সক্রিয় ব্যবসা বা আয়ের উৎস ছাড়া বছরের পর বছর সাড়ে ৫ কোটি টাকা নগদ ঘরে বা ব্যাংকে অলস ফেলে রাখা এবং কোটি কোটি টাকার ব্যবসায়িক পুঁজি অপরিবর্তিত থাকা সাধারণ মানুষের মনে বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।ধানমন্ডি ও বনানীতে আরও ১৯ কোটি টাকার বিলাসবহুল ফ্ল্যাটস্ত্রীর নামে ১০ কোটি টাকা সাদা করার পাশাপাশি বিপুল কান্তি দাস ও তার স্ত্রীর নামে আরও অঢেল সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে:ধানমন্ডি: রোড নম্বর ১২/এ, বাসা নম্বর ৬৯, ফ্ল্যাট নম্বর বি-২/৩ ঠিকানায় রয়েছে প্রায় ৭ কোটি টাকার বিলাসবহুল ফ্ল্যাট।বনানী: ব্লক-জি, রোড নম্বর ২৩, বাসা নম্বর ৯৬, ‘গফুর রিজ গার্ডেন’-এর ৭/এ নম্বর ফ্ল্যাটে রয়েছে প্রায় ১২ কোটি টাকার আলিশান ফ্ল্যাট।ব্যাংক হিসাব: বিপুল কান্তি দাসের বেশ কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্থ রয়েছে। অভিযুক্তের দায় এড়ানোর চেষ্টাএই জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের বিষয়ে অভিযুক্ত বিপুল কান্তি দাসের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, "আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার উকিল আপনার উত্তর দিতে পারবেন।"এই নিউজ ফরম্যাটটি কি আপনার পছন্দ হয়েছে, নাকি এটিকে কোনো আইনি নোটিশ, অভিযোগপত্র বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কাঠামোতে পরিবর্তন করতে চান? জানালে আমি সাহায্য করতে পারব।

News আগস্ট ২৫, ২০২৬ 0
৪ বছরে দেড় লাখ টাকা বাসাভাড়া বকেয়া, লাপাত্তা উপজেলা প্রকৌশলী

৪ বছরে দেড় লাখ টাকা বাসাভাড়া বকেয়া, লাপাত্তা উপজেলা প্রকৌশলী

ডলার কারসাজিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তা সুমন

ডলার কারসাজিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তা সুমন

নিজস্ব প্রতিবেদক  জনশক্তি কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মাসুদ রানার বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, বিদেশগামী শ্রমিকদের হয়রানি, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।   তার বিরুদ্ধে

বিএমইটির মাসুদ রানার অবৈধ সম্পদের পাহাড়

0 Comments