অপরাধ

স্ত্রীর কর ফাইলের আড়ালে ১০ কোটি টাকা সাদা করার অভিনব জালিয়াতি: কাঠগড়ায় বিপুল দাস

জানিফ হাসান আগস্ট ২৫, ২০২৬ 0
স্ত্রীর কর ফাইলের আড়ালে ১০ কোটি টাকা সাদা করার অভিনব জালিয়াতি: কাঠগড়ায় বিপুল দাস
বিপুল দাস

নিজস্ব প্রতিবেদক,

ঢাকা:দেশের কর বিভাগে আয়কর ফাঁকি ও অবৈধ অর্থ বৈধ করার নানা কৌশলের কথা শোনা গেলেও এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অভিনব জালিয়াতির তথ্য উঠে এসেছে। রাজধানী ঢাকার বারীধারা ডিজাইন এইস লিমিটেডের চেয়ারম্যান বিপুল কান্তি দাসের বিরুদ্ধে নিজের গৃহিণী স্ত্রীর নাম ব্যবহার করে প্রায় ১০ কোটি টাকার কালো টাকা সাদা করার এক অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। ‘

ডেইলি ভয়েস নিউজ’-এর এক অনুসন্ধানে এই জালিয়াতির চিত্র সামনে এসেছে।জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) কর অঞ্চল-১৪ (ঢাকা)-এর কর কমিশনারের নিকট একজন সচেতন নাগরিকের দায়ের করা লিখিত অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট আয়কর নথি পর্যালোচনা করে এই অর্থ পাচার ও কর ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া যায়।গৃহিণীর নামে কাল্পনিক ব্যবসা ও কোটি কোটি টাকার পুঁজিনথি অনুযায়ী, এই জালিয়াতির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিপুল কান্তি দাসের স্ত্রী পূর্ণিমা দাস।

তিনি পেশায় একজন পুরোদস্তুর গৃহিণী, যার নিজস্ব কোনো বৈধ আয়ের উৎস নেই। এমনকি তার বাবা সত্য রায় এবং মা মিনতি রায়ও আর্থিকভাবে সচ্ছল নন এবং তাদের কোনো আয়কর ফাইল বা কর প্রদানের ইতিহাস নেই।

অথচ এই গৃহিণীর নামেই রাতারাতি কোটি কোটি টাকার ব্যবসা ও নগদ সম্পদ প্রদর্শন করা হয়েছে, যা মূলত বিপুল কান্তি দাসের অবৈধ কালো টাকা বৈধ করার একটি সুনিপুণ অপচেষ্টা।একদিনেই ৯ বছরের ফাইল অনুমোদন: কর প্রশাসনের নজিরবিহীন অনিয়মঅনুসন্ধানে দেখা যায়, এই কর ফাঁকির মূল কারসাজি শুরু হয় ২০২১ সালে।

বিপুল কান্তি দাস তার অবৈধভাবে অর্জিত কালো টাকাকে দীর্ঘদিনের বৈধ ব্যবসা থেকে অর্জিত সম্পদ হিসেবে দেখানোর জন্য একটি নজিরবিহীন আইনি ফাঁকফোকরের আশ্রয় নেন।১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১: কর অঞ্চল-১৪ এর অধীনে কর সার্কেল-৩০৫ এ পূর্ণিমা দাসের নামে একটি ই-টিন (e-TIN: 7726690928) সার্টিফিকেট নেওয়া হয়।৩ জুন, ২০২১: কর সার্কেল-৩০৫ এর তৎকালীন সহকারী কর কমিশনার মো. জাহিদুলের ইসলাম অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে পূর্ণিমা দাসের ২০১০-১১ করবর্ষ থেকে শুরু করে ২০১৮-১৯ করবর্ষ পর্যন্ত টানা ৯ বছরের আয়কর নির্ধারণী আদেশ একই দিনে স্বাক্ষর ও অনুমোদন করেন।

একদিনে ৯ বছরের ব্যাক-ডেটেড ফাইল অনুমোদনের এই ঘটনাটি কর প্রশাসনের ইতিহাসে একটি বড় অনিয়ম ও অসঙ্গতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।কোনো অস্তিত্ব নেই ব্যবসার, ব্যালেন্স শিটে ১০ কোটি টাকাপূর্ণিমা দাসের ২০১০-১১ করবর্ষের রিটার্ন ফাইল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেখানে ব্যবসার ধরন হিসেবে ‘ডিলিংস ইন বিবিধ গুডস’ (বিবিধ পণ্যের ব্যবসা) উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ এই ব্যবসার কোনো বৈধ ট্রেড লাইসেন্স, দোকান বা গুদামের অস্তিত্ব নথিতে নেই।

এই কাল্পনিক ব্যবসা থেকে প্রথম বছরে মাত্র ২,৪০,০০০ টাকা মোট প্রাপ্তি এবং ১,৬০,০০০ টাকা নিট লাভ দেখিয়ে মাত্র ২,০০০ টাকা কর দেওয়া হয়।কিন্তু আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এই সামান্য আয়ের বিপরীতে ওই বছরের ব্যালেন্স শিটে পূর্ববর্তী বছরের পুঁজি হিসেবে এক লাফে ৩,৭৭,২১,০০০ টাকা (তিন কোটি ৭৭ লাখ ২১ হাজার টাকা) নগদ সম্পদ দেখানো হয়েছে।

প্রথম বছরেই তিনি কোথা থেকে এই পৌনে চার কোটি টাকার বিশাল পুঁজি পেলেন, তার কোনো ব্যাখ্যা বা আয়ের উৎস আয়কর নথিতে দেওয়া হয়নি।একইভাবে ওই বছরের ৩০শে জুন পর্যন্ত পূর্ণিমা দাসের মোট নিট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১০,১০,৯৬,০০০ টাকা (দশ কোটি দশ লাখ ছিয়ানব্বই হাজার টাকা)। অর্থাৎ, কর প্রদানের প্রথম বছরেই একজন গৃহিণীকে কাগজে-কলমে ১০ কোটি টাকার মালিক বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী করবর্ষগুলোতেও (২০১১-১২ থেকে ২০১৮-১৯) একইভাবে নামমাত্র লাভ এবং ২,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা কর দিয়ে এই বিশাল সম্পদকে ফাইলে টিকিয়ে রাখা হয়।২০২০-২১ বর্ষে সাড়ে ৫ কোটি টাকা অলস নগদ অর্থঅনিয়মের এই ধারাবাহিকতা এখানেই শেষ নয়। ২০২০-২১ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পূর্ণিমা দাসের ব্যবসায়িক পুঁজি হিসেবে ৩,৭৭,৯৬,০০০ টাকা এবং হাতে নগদ হিসেবে বিপুল অঙ্কের ৫,৬০,০০,০০০ টাকা (পাঁচ কোটি ষাট লাখ টাকা) দেখানো হয়েছে।


ফলে তার মোট প্রদর্শিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯,৪০,০০,০০০ টাকা। কোনো সক্রিয় ব্যবসা বা আয়ের উৎস ছাড়া বছরের পর বছর সাড়ে ৫ কোটি টাকা নগদ ঘরে বা ব্যাংকে অলস ফেলে রাখা এবং কোটি কোটি টাকার ব্যবসায়িক পুঁজি অপরিবর্তিত থাকা সাধারণ মানুষের মনে বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।ধানমন্ডি ও বনানীতে আরও ১৯ কোটি টাকার বিলাসবহুল ফ্ল্যাটস্ত্রীর নামে ১০ কোটি টাকা সাদা করার পাশাপাশি বিপুল কান্তি দাস ও তার স্ত্রীর নামে আরও অঢেল সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে:ধানমন্ডি: রোড নম্বর ১২/এ, বাসা নম্বর ৬৯, ফ্ল্যাট নম্বর বি-২/৩ ঠিকানায় রয়েছে প্রায় ৭ কোটি টাকার বিলাসবহুল ফ্ল্যাট।বনানী: ব্লক-জি, রোড নম্বর ২৩, বাসা নম্বর ৯৬, ‘গফুর রিজ গার্ডেন’-এর ৭/এ নম্বর ফ্ল্যাটে রয়েছে প্রায় ১২ কোটি টাকার আলিশান ফ্ল্যাট।ব্যাংক হিসাব: বিপুল কান্তি দাসের বেশ কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্থ রয়েছে।

অভিযুক্তের দায় এড়ানোর চেষ্টাএই জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের বিষয়ে অভিযুক্ত বিপুল কান্তি দাসের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, "আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার উকিল আপনার উত্তর দিতে পারবেন।"এই নিউজ ফরম্যাটটি কি আপনার পছন্দ হয়েছে, নাকি এটিকে কোনো আইনি নোটিশ, অভিযোগপত্র বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কাঠামোতে পরিবর্তন করতে চান? জানালে আমি সাহায্য করতে পারব।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

অপরাধ

View more
স্ত্রীর কর ফাইলের আড়ালে ১০ কোটি টাকা সাদা করার অভিনব জালিয়াতি: কাঠগড়ায় বিপুল দাস
স্ত্রীর কর ফাইলের আড়ালে ১০ কোটি টাকা সাদা করার অভিনব জালিয়াতি: কাঠগড়ায় বিপুল দাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:দেশের কর বিভাগে আয়কর ফাঁকি ও অবৈধ অর্থ বৈধ করার নানা কৌশলের কথা শোনা গেলেও এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অভিনব জালিয়াতির তথ্য উঠে এসেছে। রাজধানী ঢাকার বারীধারা ডিজাইন এইস লিমিটেডের চেয়ারম্যান বিপুল কান্তি দাসের বিরুদ্ধে নিজের গৃহিণী স্ত্রীর নাম ব্যবহার করে প্রায় ১০ কোটি টাকার কালো টাকা সাদা করার এক অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। ‘ ডেইলি ভয়েস নিউজ’-এর এক অনুসন্ধানে এই জালিয়াতির চিত্র সামনে এসেছে।জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) কর অঞ্চল-১৪ (ঢাকা)-এর কর কমিশনারের নিকট একজন সচেতন নাগরিকের দায়ের করা লিখিত অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট আয়কর নথি পর্যালোচনা করে এই অর্থ পাচার ও কর ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া যায়।গৃহিণীর নামে কাল্পনিক ব্যবসা ও কোটি কোটি টাকার পুঁজিনথি অনুযায়ী, এই জালিয়াতির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিপুল কান্তি দাসের স্ত্রী পূর্ণিমা দাস। তিনি পেশায় একজন পুরোদস্তুর গৃহিণী, যার নিজস্ব কোনো বৈধ আয়ের উৎস নেই। এমনকি তার বাবা সত্য রায় এবং মা মিনতি রায়ও আর্থিকভাবে সচ্ছল নন এবং তাদের কোনো আয়কর ফাইল বা কর প্রদানের ইতিহাস নেই। অথচ এই গৃহিণীর নামেই রাতারাতি কোটি কোটি টাকার ব্যবসা ও নগদ সম্পদ প্রদর্শন করা হয়েছে, যা মূলত বিপুল কান্তি দাসের অবৈধ কালো টাকা বৈধ করার একটি সুনিপুণ অপচেষ্টা।একদিনেই ৯ বছরের ফাইল অনুমোদন: কর প্রশাসনের নজিরবিহীন অনিয়মঅনুসন্ধানে দেখা যায়, এই কর ফাঁকির মূল কারসাজি শুরু হয় ২০২১ সালে। বিপুল কান্তি দাস তার অবৈধভাবে অর্জিত কালো টাকাকে দীর্ঘদিনের বৈধ ব্যবসা থেকে অর্জিত সম্পদ হিসেবে দেখানোর জন্য একটি নজিরবিহীন আইনি ফাঁকফোকরের আশ্রয় নেন।১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১: কর অঞ্চল-১৪ এর অধীনে কর সার্কেল-৩০৫ এ পূর্ণিমা দাসের নামে একটি ই-টিন (e-TIN: 7726690928) সার্টিফিকেট নেওয়া হয়।৩ জুন, ২০২১: কর সার্কেল-৩০৫ এর তৎকালীন সহকারী কর কমিশনার মো. জাহিদুলের ইসলাম অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে পূর্ণিমা দাসের ২০১০-১১ করবর্ষ থেকে শুরু করে ২০১৮-১৯ করবর্ষ পর্যন্ত টানা ৯ বছরের আয়কর নির্ধারণী আদেশ একই দিনে স্বাক্ষর ও অনুমোদন করেন। একদিনে ৯ বছরের ব্যাক-ডেটেড ফাইল অনুমোদনের এই ঘটনাটি কর প্রশাসনের ইতিহাসে একটি বড় অনিয়ম ও অসঙ্গতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।কোনো অস্তিত্ব নেই ব্যবসার, ব্যালেন্স শিটে ১০ কোটি টাকাপূর্ণিমা দাসের ২০১০-১১ করবর্ষের রিটার্ন ফাইল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেখানে ব্যবসার ধরন হিসেবে ‘ডিলিংস ইন বিবিধ গুডস’ (বিবিধ পণ্যের ব্যবসা) উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ এই ব্যবসার কোনো বৈধ ট্রেড লাইসেন্স, দোকান বা গুদামের অস্তিত্ব নথিতে নেই। এই কাল্পনিক ব্যবসা থেকে প্রথম বছরে মাত্র ২,৪০,০০০ টাকা মোট প্রাপ্তি এবং ১,৬০,০০০ টাকা নিট লাভ দেখিয়ে মাত্র ২,০০০ টাকা কর দেওয়া হয়।কিন্তু আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এই সামান্য আয়ের বিপরীতে ওই বছরের ব্যালেন্স শিটে পূর্ববর্তী বছরের পুঁজি হিসেবে এক লাফে ৩,৭৭,২১,০০০ টাকা (তিন কোটি ৭৭ লাখ ২১ হাজার টাকা) নগদ সম্পদ দেখানো হয়েছে। প্রথম বছরেই তিনি কোথা থেকে এই পৌনে চার কোটি টাকার বিশাল পুঁজি পেলেন, তার কোনো ব্যাখ্যা বা আয়ের উৎস আয়কর নথিতে দেওয়া হয়নি।একইভাবে ওই বছরের ৩০শে জুন পর্যন্ত পূর্ণিমা দাসের মোট নিট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১০,১০,৯৬,০০০ টাকা (দশ কোটি দশ লাখ ছিয়ানব্বই হাজার টাকা)। অর্থাৎ, কর প্রদানের প্রথম বছরেই একজন গৃহিণীকে কাগজে-কলমে ১০ কোটি টাকার মালিক বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী করবর্ষগুলোতেও (২০১১-১২ থেকে ২০১৮-১৯) একইভাবে নামমাত্র লাভ এবং ২,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা কর দিয়ে এই বিশাল সম্পদকে ফাইলে টিকিয়ে রাখা হয়।২০২০-২১ বর্ষে সাড়ে ৫ কোটি টাকা অলস নগদ অর্থঅনিয়মের এই ধারাবাহিকতা এখানেই শেষ নয়। ২০২০-২১ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পূর্ণিমা দাসের ব্যবসায়িক পুঁজি হিসেবে ৩,৭৭,৯৬,০০০ টাকা এবং হাতে নগদ হিসেবে বিপুল অঙ্কের ৫,৬০,০০,০০০ টাকা (পাঁচ কোটি ষাট লাখ টাকা) দেখানো হয়েছে। ফলে তার মোট প্রদর্শিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯,৪০,০০,০০০ টাকা। কোনো সক্রিয় ব্যবসা বা আয়ের উৎস ছাড়া বছরের পর বছর সাড়ে ৫ কোটি টাকা নগদ ঘরে বা ব্যাংকে অলস ফেলে রাখা এবং কোটি কোটি টাকার ব্যবসায়িক পুঁজি অপরিবর্তিত থাকা সাধারণ মানুষের মনে বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।ধানমন্ডি ও বনানীতে আরও ১৯ কোটি টাকার বিলাসবহুল ফ্ল্যাটস্ত্রীর নামে ১০ কোটি টাকা সাদা করার পাশাপাশি বিপুল কান্তি দাস ও তার স্ত্রীর নামে আরও অঢেল সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে:ধানমন্ডি: রোড নম্বর ১২/এ, বাসা নম্বর ৬৯, ফ্ল্যাট নম্বর বি-২/৩ ঠিকানায় রয়েছে প্রায় ৭ কোটি টাকার বিলাসবহুল ফ্ল্যাট।বনানী: ব্লক-জি, রোড নম্বর ২৩, বাসা নম্বর ৯৬, ‘গফুর রিজ গার্ডেন’-এর ৭/এ নম্বর ফ্ল্যাটে রয়েছে প্রায় ১২ কোটি টাকার আলিশান ফ্ল্যাট।ব্যাংক হিসাব: বিপুল কান্তি দাসের বেশ কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্থ রয়েছে। অভিযুক্তের দায় এড়ানোর চেষ্টাএই জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের বিষয়ে অভিযুক্ত বিপুল কান্তি দাসের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, "আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার উকিল আপনার উত্তর দিতে পারবেন।"এই নিউজ ফরম্যাটটি কি আপনার পছন্দ হয়েছে, নাকি এটিকে কোনো আইনি নোটিশ, অভিযোগপত্র বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কাঠামোতে পরিবর্তন করতে চান? জানালে আমি সাহায্য করতে পারব।

News আগস্ট ২৫, ২০২৬ 0
৪ বছরে দেড় লাখ টাকা বাসাভাড়া বকেয়া, লাপাত্তা উপজেলা প্রকৌশলী

৪ বছরে দেড় লাখ টাকা বাসাভাড়া বকেয়া, লাপাত্তা উপজেলা প্রকৌশলী

ডলার কারসাজিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তা সুমন

ডলার কারসাজিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তা সুমন

নিজস্ব প্রতিবেদক  জনশক্তি কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মাসুদ রানার বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, বিদেশগামী শ্রমিকদের হয়রানি, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।   তার বিরুদ্ধে

বিএমইটির মাসুদ রানার অবৈধ সম্পদের পাহাড়

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে ২৫ বাংলাদেশি এজেন্সির তালিকা প্রকাশ
মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে ২৫ বাংলাদেশি এজেন্সির তালিকা প্রকাশ

  মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে মনোনীত করা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য মনোনীত ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি হল : ১. বাংলাদেশ ওয়ান ওভারসিজ লিমিটেড ২. বেঙ্গল হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ৩. জেনারেল ট্রেডিং কোম্পানি ৪. মেসার্স ইউনাইটেড গালফ সার্ভিসেস ৫. আনেসা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল ৬. আত-তাকওয়া ওভারসিজ লিমিটেড ৭. আর্থ-স্মার্ট বাংলাদেশ লিমিটেড ৮. খান জাহান আলী ওভারসিজ ৯. মেসার্স আল-শুক্তো ওভারসিজ ১০. মাদারল্যান্ড ওভারসিজ লিমিটেড ১১. রিফা ইন্টারন্যাশনাল ১২. ভেলি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ১৩. এ-প্লাস ইন্টারন্যাশনাল ১৪. আল-হায়াত ওভারসিজ ১৫. ভালুকা ওভারসিজ ১৬. ব্রাদার্স ট্রেডিং অ্যান্ড কনট্রাক্টিং লিমিটেড ১৭. চাঁদপুর ইন্টারন্যাশনাল ১৮. কান্ট্রি এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি ১৯. গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড ২০. জুয়েল রিংকু এন্টারপ্রাইজ ২১. মেসার্স সাতক্ষীরা ইন্টারন্যাশনাল ২২. ম্যানগ্রোভ ক্যারিয়ার লিংক ২৩. নেবার অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড ২৪. তানিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ২৫. দ্য অ্যাংকর কেয়ার গ্লোবাল মাইগ্রেশন। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পুনরায় চালুর প্রক্রিয়ার মধ্যেই এ তালিকা সামনে এল।

News আগস্ট ২৩, ২০২৬ 0
ফ্যাসিবাদের দোসর অভিযোগের পর অভিযোগ, তবু থামেনি পদোন্নতির তদবির—গণপূর্তের  গণপূর্তের তৈমুর আলম: প্রকৌশলী না ঠিকাদার?

ফ্যাসিবাদের দোসর অভিযোগের পর অভিযোগ, তবু থামেনি পদোন্নতির তদবির—গণপূর্তের  গণপূর্তের তৈমুর আলম: প্রকৌশলী না ঠিকাদার?

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়েই পদোন্নতির দৌড়ে গণপূর্তের বদরুল আলম খান

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়েই পদোন্নতির দৌড়ে গণপূর্তের বদরুল আলম খান

বিএমইটির মাসুদ রানার অবৈধ সম্পদের পাহাড়

বিএমইটির মাসুদ রানার অবৈধ সম্পদের পাহাড়

গণপূর্তের লটারি শুধু নামেই? আগেই ঠিক হয়ে গিয়েছিল ৪১ প্রকৌশলীর ভাগ্য!
গণপূর্তের লটারি শুধু নামেই? আগেই ঠিক হয়ে গিয়েছিল ৪১ প্রকৌশলীর ভাগ্য!

  নিজস্ব প্রতিবেদক গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়নে লটারির স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, লটারি শুরুর আগেই ঢাকা জেলার বক্সে ৪১ জন প্রকৌশলীর নাম ঢোকানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম ও বদলি নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই পছন্দের কর্মকর্তাদের নাম নির্দিষ্ট বক্সে স্থানান্তর করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংস্থাপন শাখার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফিরোজ হাসান এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ সারওয়ার জাহান বিপ্লবের পছন্দের কর্মকর্তাদের ঢাকা মেট্রো এলাকার বক্সে রাখার মাধ্যমে লটারির ফলাফলকে প্রভাবিত করার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এ নিয়ে গণপূর্তের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রকৌশলীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। যাদের নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজন প্রকৌশলীর বদলি ও পদায়ন নিয়ে বিশেষভাবে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মেহবুবুর রহমান: তার নিজ জেলা ঢাকা। অভিযোগ অনুযায়ী, রমনা-১ থেকে আজিমপুর-পিলখানায় পদায়ন করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—নিজ জেলা ঢাকা এবং বর্তমান কর্মস্থলও ঢাকার মধ্যে থাকার পর আবার ঢাকাতেই পদায়নের সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো? সৌরভ রায়: তার নিজ জেলা ময়মনসিংহ। অভিযোগ রয়েছে, শেরে বাংলা নগর মেডিকেল থেকে তাকে সাভারে পদায়ন করা হয়েছে। অথচ তার লটারি ময়মনসিংহ বিভাগের জন্য হওয়ার কথা থাকলেও লটারির আগেই তার নাম ঢাকা মেট্রোজোনের বক্সে স্থানান্তর করা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। আসাদুজ্জামান সাদ: তার নিজ জেলা টাঙ্গাইল। অভিযোগ অনুযায়ী, হাইকোর্ট সাব-ডিভিশন থেকে তেজগাঁও সাব-ডিভিশনে পদায়ন করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ঢাকায় কর্মরত থাকার পরও কেন তাকে ঢাকার বাইরে লটারির আওতায় নেওয়া হয়নি? এ এস এম সাখাওয়াত ইসলাম (সোহেল): তার নিজ জেলা বগুড়া। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এর আগে ঢাকা ডিভিশন-৪ ও শেরে বাংলা নগর এলাকায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে গাজীপুর থেকে মিরপুরে পদায়নের তথ্য সামনে এসেছে। এ নিয়েও লটারির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। রেজাউল করিম মিঠু: তার নিজ জেলা ফরিদপুর। অভিযোগকারীদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি শেরে বাংলা নগর ও মহাখালীতে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং মতিঝিল থেকে গণপূর্ত সম্পদ বিভাগে পদায়ন পেয়েছেন। এজাজ আহমেদ খান: তার নিজ জেলা নেত্রকোনা। অভিযোগ রয়েছে, তার লটারি ময়মনসিংহ বিভাগের আওতায় হওয়ার কথা থাকলেও লটারির আগে তাকে ঢাকা মেট্রোজোনের বক্সে স্থানান্তর করা হয়। পরে শেরে বাংলা নগর উপবিভাগ-৮ থেকে ধানমন্ডিতে পদায়নের তথ্য সামনে এসেছে। আসরাফুল আউয়াল রানা: তার নিজ জেলা জামালপুর। অভিযোগ অনুযায়ী, তারও ময়মনসিংহ বিভাগে লটারির আওতায় থাকার কথা ছিল। কিন্তু লটারির আগেই ঢাকা মেট্রোজোনের বক্সে নাম স্থানান্তর করা হয় বলে দাবি করা হচ্ছে। পরে সাভার থেকে মতিঝিলে পদায়ন করা হয়েছে। আরও বড় প্রশ্ন উঠেছে ৫৫ ও ৬০ নম্বর নিয়ে অভিযোগকারীদের দাবি, তালিকার ৫৫ ও ৬০ নম্বর ক্রমিকের কয়েকজন কর্মকর্তার নিজ জেলায় নাম ওঠার পরও তাদের সেখানে পদায়ন করা হয়নি। বরং নাম কেটে পাশের জেলায় দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, যেসব কর্মকর্তার নিজ জেলা ও বর্তমান কর্মস্থল-দুটিই ঢাকা, তাদের আবারও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পদায়ন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এ অবস্থায় প্রকৌশলীদের প্রশ্ন-যদি লটারিই বদলি ও পদায়নের মূল ভিত্তি হয়, তাহলে লটারির আগে কোনো কর্মকর্তার নাম নির্দিষ্ট বক্সে স্থানান্তরের সুযোগ কেন থাকবে? স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন গণপূর্ত অধিদপ্তরের লটারিভিত্তিক বদলির অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও বদলি বাণিজ্য বন্ধের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু লটারির আগেই যদি কোনো কর্মকর্তার নাম নির্দিষ্ট এলাকার বক্সে স্থানান্তর করা হয়ে থাকে, তাহলে পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। অভিযোগকারীরা বলছেন, লটারির আগে কোন কর্মকর্তা কোন বক্সে ছিলেন, কার নাম কখন স্থানান্তর করা হয়েছে এবং সেই পরিবর্তনের অনুমোদন কে দিয়েছেন—এসব তথ্য প্রকাশ করা হলে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে। তাদের দাবি, লটারির মূল তালিকা, বক্সভিত্তিক কর্মকর্তাদের তালিকা এবং লটারির আগে-পরে করা পরিবর্তনের রেকর্ড প্রকাশ করা হোক। এখন যে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রয়োজন লটারির আগে কি সত্যিই ৪১ জনের নাম ঢাকা জেলার বক্সে স্থানান্তর করা হয়েছিল? যদি হয়ে থাকে, কোন নীতিমালার অধীনে এবং কার অনুমোদনে এই পরিবর্তন করা হয়েছিল? নিজ জেলা বা নিজ বিভাগের বাইরে থাকার কথা থাকলেও কিছু কর্মকর্তাকে কেন ঢাকা মেট্রোর আওতায় রাখা হলো? আর নিজ জেলায় নাম ওঠার পরও কেন কিছু কর্মকর্তাকে অন্য জেলায় পদায়ন করা হলো? এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলেই বোঝা যাবে- গণপূর্তের লটারি ব্যবস্থা সত্যিই পুরোপুরি স্বচ্ছ ছিল, নাকি লটারির আগেই তৈরি হয়েছিল পছন্দের কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা হিসাব।

News আগস্ট ১৯, ২০২৬ 0
সদরঘাটে চাঁদার ভাগ নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ১

সদরঘাটে চাঁদার ভাগ নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ১

দেশে দুর্নীতির পাট শেষ এখন মালদ্বীপে ব্যাংকের চেয়ারম্যান মাজেদুর

দেশে দুর্নীতির পাট শেষ এখন মালদ্বীপে ব্যাংকের চেয়ারম্যান মাজেদুর

অভিযোগের পর অভিযোগ, মামলা-চার্জশিটেও নাম; গৃহায়নে বহাল শাহীন

অভিযোগের পর অভিযোগ, মামলা-চার্জশিটেও নাম; গৃহায়নে বহাল শাহীন

0 Comments