নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি চাকরিতে থেকে বেসরকারি আবাসন ব্যবসায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভবনের ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির সঙ্গে কথিত যোগাযোগ, ডেভেলপার ব্যবসায় সম্পৃক্ততা এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয় তদন্তের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুদক চেয়ারম্যান বরাবর দেওয়া অভিযোগে আব্দুর রউফের কথিত ডেভেলপার ব্যবসায় সম্পৃক্ততা, ফ্ল্যাট-অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, ব্যাংক লেনদেন, আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়।
ফ্ল্যাট বিক্রির কথোপকথনের অভিযোগ
অভিযোগকারীর দাবি, আব্দুর রউফকে মোবাইল ফোনে কোনো ভবনের কোন তলার কোন ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি করা হবে—এমন বিষয়ে কথা বলতে শোনা গেছে।
এখানেই উঠছে মূল প্রশ্ন—একজন সরকারি প্রকৌশলী কেন ব্যক্তিগত আবাসন প্রকল্পের ফ্ল্যাট বিক্রির বিষয়ে সম্ভাব্য ক্রেতা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন?
তবে কথোপকথনটি কার সঙ্গে, কোন প্রকল্পের বিষয়ে এবং এর সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেন জড়িত ছিল কি না—তা নিশ্চিত করতে মূল অডিও/ভিডিও, কলের প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা প্রয়োজন।
ওয়াশপুর টাওয়ারের অফিস ঘিরে প্রশ্ন
দুদকে দেওয়া অভিযোগে মোহাম্মদপুরের ওয়াশপুর টাওয়ারের একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের ঠিকানার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে ঠিকানা হিসেবে দেওয়া হয়েছে—অফিস-২, ১৮/৪, নিচতলা, ওয়াশপুর টাওয়ার, ওয়াশপুর, মোহাম্মদপুর-বসিলা ব্রিজসংলগ্ন, ঢাকা।
অভিযোগকারীর দাবি, এই ঠিকানার সঙ্গে আবাসন ব্যবসার কার্যক্রমের সম্পর্ক রয়েছে। তবে আব্দুর রউফ ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক, অংশীদার, কর্মী, প্রতিনিধি বা কেবল পরিচিত—কোন ভূমিকায় ছিলেন, সেটি কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন, মালিকানা ও আর্থিক নথি যাচাই ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
ডেভেলপার নেটওয়ার্কে যোগাযোগের অভিযোগ
অভিযোগে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ভবন নির্মাণ এবং ফ্ল্যাট বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ডেভেলপার নেটওয়ার্কের কথাও বলা হয়েছে। আব্দুর রউফের সঙ্গে এই নেটওয়ার্কের কী ধরনের সম্পর্ক ছিল, তিনি কোনো প্রকল্পে কমিশন বা আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন কি না—তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডার তালিকা, ট্রেড লাইসেন্স, প্রকল্পের নথি, ফ্ল্যাট বিক্রির রসিদ, ব্যাংক হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেন যাচাই করলেই অভিযোগের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
সরকারি চাকরি ও ব্যবসা—স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা সরকারি নির্মাণকাজের প্রাক্কলন, তদারকি ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। ফলে একই সময়ে কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে নির্মাণ বা আবাসন ব্যবসায় জড়িত থাকলে সেখানে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন উঠতে পারে।
এ কারণে আব্দুর রউফ কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, থাকলে কী পদে ছিলেন, কোনো অনুমোদন নিয়েছিলেন কি না এবং ব্যবসা থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন কি না—এসব বিষয় যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।
দুদকের কাছে যেসব তথ্য যাচাইয়ের দাবি
অভিযোগে আব্দুর রউফের—
ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক;
ফ্ল্যাট বিক্রির কথিত যোগাযোগ;
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন;
ব্যাংক হিসাব ও অর্থের উৎস;
আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য;
স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ;
কোম্পানি বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে মালিকানা/অংশীদারত্ব;
পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে কোনো ব্যবসায়িক স্বার্থ গোপন রাখা হয়েছে কি না—
এসব বিষয় অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়েছে।
প্রমাণ যাচাই হলেই বেরিয়ে আসবে প্রকৃত চিত্র
আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কথিত ফ্ল্যাট বিক্রির যোগাযোগ এবং ডেভেলপার ব্যবসার সঙ্গে তাঁর প্রকৃত সম্পর্ক। এসব বিষয়ে মূল অডিও-ভিডিও, কোম্পানির নথি, ফ্ল্যাট বিক্রির কাগজপত্র এবং আর্থিক লেনদেন পাওয়া গেলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সহজ হবে।
তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আব্দুর রউফকে দোষী বলা যায় না। তাঁর বক্তব্য, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অবস্থান এবং দুদকের অনুসন্ধানের ফলাফলই নির্ধারণ করবে অভিযোগগুলোর বাস্তব ভিত্তি কতটা।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।
নিয়োগ–পদায়ন, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্য, টেন্ডার ও উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন। এর সঙ্গে বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে ভিলা ও ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগ। সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে এমন বিস্তর অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রাপ্ত অভিযোগে আর্থিক অনিয়ম ও লেনদেনের যেসব অঙ্ক উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো যোগ করলে পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুদক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সূত্র জানায়, এর মধ্যে দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ সবচেয়ে বড় অঙ্কের। বাকি অর্থের অভিযোগ রয়েছে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও বিভিন্ন পদে নিয়োগ, প্রকল্প, টেন্ডার এবং ঘুস লেনদেন ঘিরে। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ৪ জনের দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ বদলি, কেনাকাটা সিন্ডিকেটের মাধ্যমেসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। দুদক জানায়, আগের অভিযোগের সঙ্গে নতুন অভিযোগটি সংযুক্ত করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। দুদক বলছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। একইভাবে সারা দেশে ৩৬ জন ডিসি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে। ৩৬ জনের ক্ষেত্রে অভিযোগে উল্লেখিত সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ অঙ্ক হিসাবে সম্ভাব্য লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭২ কোটি থেকে ৩৬০ কোটি টাকা। বিষয়টি অনুসন্ধানে যাচাই করবে দুদক। এছাড়াও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গেও আসিফ মাহমুদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আবেদনে। ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। ওই প্রকল্পের বরাদ্দ ও অর্থ গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিয়ে ১০ কোটি টাকা উৎকোচ নেওয়ার বিষয়টিও অনুসন্ধান করছে দুদক। এলজিইডির সাবেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুর রশীদ খানকে ৫২ কোটি টাকা ঘুসের বিনিময়ে নিয়োগ এবং ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সিইও হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতেও কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। বিদেশে ১১ হাজার কোটি: দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে দুদক। চার দেশে মোট অর্থপাচারের অভিযোগ ১১ হাজার কোটি টাকা। এসব অর্থ দিয়ে বিভিন্ন দেশে বিলাসবহুল ভিলা কেনা এবং ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার অভিযোগও করা হয়েছে। দুদকে দেওয়া আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, আসিফ মাহমুদের দুই বোন জামাই ও এক ভাগ্নের মাধ্যমে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। অভিযোগে আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেন ও এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধেও ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ করা হয়েছে। তার পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ঘুস লেনদেনে তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া হেলিকপ্টারে কম্বল বিতরণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় এবং বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে গুলিভর্তি ব্যাগ নিয়ে প্রবেশের ঘটনাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ তারকা হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও গাড়ি ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এসব বিষয়েই অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। এর আগেও আসিফ মাহমুদসহ সচিব মো. মাহবুব–উল–আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ওই অনুসন্ধানে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়নের মাধ্যমে ৭৬ লাখ টাকা, ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দের জায়গায় পদায়নের জন্য ২ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের টেন্ডার, কেনাকাটা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগের কথাও বলা হয়। চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিমকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন অভিযোগে একাধিক মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন, উন্নয়ন প্রকল্প, নিয়োগ–পদায়ন এবং চার দেশে অর্থপাচারের অভিযোগ একসঙ্গে এসেছে। বিশেষ করে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের তথ্য থাকায় বিষয়টি বড় পরিসরে অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার বাজার মসজিদের দ্বিতীয় তলা থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ২০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আড়াইহাজার পৌরসভার বাজার মসজিদের দ্বিতীয় তলার দক্ষিণ পাশে কোরআন রাখার তাকের ওপর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এই অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সূত্র জানায়, মসজিদের মোয়াজ্জিন নাসির উদ্দিন অস্ত্রগুলো দেখতে পেয়ে আড়াইহাজার থানায় নিয়ে গিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেনের কাছে হস্তান্তর করেন। আড়াইহাজার থানার এসআই শফিউল ইসলাম বলেন, উদ্ধার করা ৯ এমএম পিস্তলটি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আড়াইহাজার থানা থেকে লুট হওয়া পুলিশের অস্ত্র বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। উদ্ধার করা অস্ত্র ও গুলির বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জাহিদুল আলম চিঠির পরও নড়েনি ডিপিডিসি! রাজধানীর ধলপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর আবাসিক স্টাফ কোয়ার্টারে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকা মিটারগুলোর সংযোগ বিচ্ছিন্নের জন্য লিখিতভাবে অনুরোধ জানানোর পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি লিখিত চিঠিতে ওই কোয়ার্টারের ১৮০টি ফ্ল্যাটের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। চিঠিটি পাঠানো হয়েছে এনওসিএস মানিকনগর, ডিপিডিসির নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে। ফলে লিখিতভাবে বিষয়টি অবহিত হওয়ার পরও যদি বকেয়া সংযোগ বিচ্ছিন্ন না হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন উঠছে—সরকারি রাজস্ব আদায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভূমিকা কী ছিল? চিঠির ভাষ্য অনুযায়ী, ১০ নম্বর আবাসিক স্টাফ কোয়ার্টারে মোট ১৮০টি ফ্ল্যাট রয়েছে এবং প্রতিটি ফ্ল্যাটের বিপরীতে ডিপিডিসি কর্তৃক বৈদ্যুতিক মিটার স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিল আদায়ের স্বার্থে যেসব মিটারের বিপরীতে বকেয়া রয়েছে, সেসব মিটারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব ফ্ল্যাটে বৈদ্যুতিক মিটার নেই, সেসব স্থানেও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রয়োজন রয়েছে। লিখিত চিঠিই যখন প্রমাণ এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—ডিপিডিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি মৌখিকভাবে নয়, লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। এরপরও যদি সংযোগ বিচ্ছিন্ন না হয়ে থাকে, তাহলে এর কারণ কী? চিঠিতে স্পষ্টভাবে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল এবং সংযোগ বিচ্ছিন্নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি চিঠিতে বলা হয়েছে, এর আগে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য ডিপিডিসির কাছে পত্র পাঠানো হয়েছিল। অর্থাৎ, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অজানা ছিল—এমন দাবি করার সুযোগও সীমিত হয়ে যায়। তাহলে ব্যবস্থা কোথায়? এনওসিএস মানিকনগরের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিমের দায়িত্বাধীন এলাকায় এই চিঠি পাওয়ার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল—এখন সেটিই তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত। কতটি মিটার পরিদর্শন করা হয়েছে? কতটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে? কত টাকা বকেয়া রয়েছে? বকেয়া আদায়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? আর কোনো সংযোগ অবৈধভাবে চালু থাকলে তা বন্ধ করা হয়নি কেন? এসব প্রশ্নের জবাব এখন প্রয়োজন। ‘লাইন কাটতে গেলে চড়াও হতে পারে’—তাহলে প্রশাসনিক সহায়তা নেওয়া হলো না কেন? এর আগে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এনওসিএস মানিকনগরের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিম বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সেখানে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে সংশ্লিষ্টরা ডিপিডিসির লোকজনের ওপর চড়াও হতে পারে। নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা থাকলে সেটি অবশ্যই গুরুত্ব পাওয়ার বিষয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চেয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না? সরকারি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে প্রশাসনের সহায়তা নেওয়াই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু প্রশাসনিক সহায়তা চাওয়া হয়ে থাকলে তার প্রমাণ কোথায়, আর না চাওয়া হয়ে থাকলে কেন চাওয়া হয়নি—সেটিও তদন্তের বিষয়। দুই সংস্থার চিঠি চালাচালি, ক্ষতি সরকারি কোষাগারের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগের তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বজলুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে ডিপিডিসিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ডিপিডিসির সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী ওহিদুজ্জামান বলেছেন, সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সহযোগিতা করলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা সহজ হবে। দুই সংস্থার বক্তব্যে সহযোগিতার ঘাটতির বিষয়টি সামনে এলেও ১৮০টি ফ্ল্যাটের বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের দায় শেষ পর্যন্ত সরকারি রাজস্বের ওপরই পড়ছে। অনুসন্ধানের দাবি চিঠির ভিত্তিতে এখন ডিপিডিসির সংশ্লিষ্ট নথি পরীক্ষা করলেই বেরিয়ে আসতে পারে প্রকৃত চিত্র— ১৮০টি মিটারের মধ্যে কতটি মিটারে বকেয়া? মোট বকেয়ার পরিমাণ কত? কতদিন ধরে বকেয়া? কোন কোন মিটার এখনো চালু? চিঠি পাওয়ার পর কতটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে? কোনো সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে থাকলে তার লিখিত কারণ কী? এ বিষয়ে ডিপিডিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে এনওসিএস মানিকনগরের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিমের দপ্তরে চিঠি পাওয়ার পর কী কার্যক্রম নেওয়া হয়েছিল, তার নথিও প্রকাশ্যে আনা উচিত। নথি বলছে: ধলপুর ১০ নম্বর আবাসিক স্টাফ কোয়ার্টারের ১৮০টি ফ্ল্যাটের বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে ডিপিডিসিকে লিখিতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।