দেশজুড়ে

শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযানে ৬০ পিস ইয়াবাসহ ১ জন আটক

রতন লাল সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ 0
শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযানে ৬০ পিস ইয়াবাসহ ১ জন আটক
(৫৯ বিজিবি) শিবগঞ্জ

 

​মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

​সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) শিবগঞ্জ সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৬০ পিস ইয়াবা ও ১টি মোবাইল ফোনসহ ১ জন আসামিকে আটক করেছে।  
​গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ আনুমানিক রাত ১২:৪৫ টায় অত্র ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ চকপাড়া বিওপির একটি বিশেষ টহল দল এই অভিযান পরিচালনা করে। সীমান্ত পিলার ১৮২/৫-এস থেকে আনুমানিক ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের উনিশবিঘা গ্রামস্থ জনৈক সাদিকুলের আমবাগানে এই অভিযান চালানো হয়।  
​উক্ত অভিযানে টহল দল মো. রুবেল হক (২৬)—কে ৬০ পিস ইয়াবা ও ১টি মোবাইল ফোনসহ আটক করে। আটককৃত রুবেল হক শিবগঞ্জ উপজেলার উনিশবিঘা গ্রামের মৃত আবু সাঈদের ছেলে এবং তার ডাকঘর মোল্লাটোলা। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।  
​এ বিষয়ে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “বিজিবি দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং সকল প্রকার চোরাচালান রোধে বিজিবি’র এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিল প্রধান তিন বিরোধী দল

ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।

দেশজুড়ে

View more
শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযানে ৬০ পিস ইয়াবাসহ ১ জন আটক
শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযানে ৬০ পিস ইয়াবাসহ ১ জন আটক

  ​মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ​সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) শিবগঞ্জ সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৬০ পিস ইয়াবা ও ১টি মোবাইল ফোনসহ ১ জন আসামিকে আটক করেছে।   ​গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ আনুমানিক রাত ১২:৪৫ টায় অত্র ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ চকপাড়া বিওপির একটি বিশেষ টহল দল এই অভিযান পরিচালনা করে। সীমান্ত পিলার ১৮২/৫-এস থেকে আনুমানিক ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের উনিশবিঘা গ্রামস্থ জনৈক সাদিকুলের আমবাগানে এই অভিযান চালানো হয়।   ​উক্ত অভিযানে টহল দল মো. রুবেল হক (২৬)—কে ৬০ পিস ইয়াবা ও ১টি মোবাইল ফোনসহ আটক করে। আটককৃত রুবেল হক শিবগঞ্জ উপজেলার উনিশবিঘা গ্রামের মৃত আবু সাঈদের ছেলে এবং তার ডাকঘর মোল্লাটোলা। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।   ​এ বিষয়ে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “বিজিবি দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং সকল প্রকার চোরাচালান রোধে বিজিবি’র এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

News সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ 0
ধানমন্ডি লেকে ভাসছিল কনসালট্যান্টের লাশ, পকেটের এনআইডিতে মিলল পরিচয়

ধানমন্ডি লেকে ভাসছিল কনসালট্যান্টের লাশ, পকেটের এনআইডিতে মিলল পরিচয়

তেলের টাকাই উঠছে না মেয়েদের পিংক বাসে, দিনে ভর্তুকি ৫০ হাজার

তেলের টাকাই উঠছে না মেয়েদের পিংক বাসে, দিনে ভর্তুকি ৫০ হাজার

দূরপাল্লায় ৮, সিটিতে ১০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব যাত্রী কল্যাণ সমিতির

দূরপাল্লায় ৮, সিটিতে ১০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব যাত্রী কল্যাণ সমিতির

আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন থমকে গেলেও ভ্যানে পোশাক বেচে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন ইমাম
আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন থমকে গেলেও ভ্যানে পোশাক বেচে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন ইমাম

  স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা শেষ করে একদিন আইনজীবী হবেন। মেধাবী ছাত্র হিসেবে স্কুলেও ছিল সুনাম। কিন্তু পরিবারের নির্মম অভাব-অনটন সেই স্বপ্নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ২০২২ সালে এসএসসি পরীক্ষার পর আর এগোয়নি শিক্ষাজীবন। তবে প্রতিকূলতার কাছে হার না মেনে পরিবারের হাল ধরতে বেছে নেন কঠোর পরিশ্রমের পথ। শার্ট-প্যান্ট বিক্রির চাকরি ছেড়ে ধারদেনা করে ৬০ হাজার টাকা পুঁজিতে শুরু করেন ভ্যানগাড়িতে ভ্রাম্যমাণ পোশাকের ব্যবসা। অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে সেই ইমাম হাসান এখন প্রতিদিন দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকার পোশাক বিক্রি করছেন, যার মাধ্যমে মাসে আয় হচ্ছে লাখ টাকারও বেশি। ২৩ বছর বয়সি সফল এই তরুণ চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খিল মুরারী এলাকার মোহাম্মদ ইউনুস মিয়া ও রোকসানা আক্তার দম্পতির বড় ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তার বাবা পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবার সীমিত আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো। ছোটবেলা থেকেই বাবার এই কষ্ট ও হাড়ভাঙা খাটুনি দেখেছেন ইমাম। পড়াশোনায় প্রবল আগ্রহ ও ভালো ফলাফল সত্ত্বেও পরিবারের আর্থিক টানাপোড়েনে এসএসসি পরীক্ষার পর তার পড়ালেখার পাঠ চুকে যায়। শিক্ষাজীবন থেমে যাওয়ার পর পরিবারের ওপর বোঝা না হয়ে কাজ নেন একটি কাপড়ের দোকানে। সেখানে দীর্ঘদিন কাজ করার সুবাদে কাপড় কেনাবেচা, ক্রেতাদের মনস্তত্ত্ব ও চাহিদা বোঝা এবং বিক্রির বিভিন্ন কৌশল দক্ষতা ও সাফল্যের সঙ্গে রপ্ত করেন। কিন্তু দোকানের সামান্য বেতনে পরিবারের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছিল না। তাই একপর্যায়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর কঠোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পরবর্তীতে পরিবার ও স্বজনদের কাছ থেকে ধারদেনা করে মাত্র ৬০ হাজার টাকা পুঁজি সংগ্রহ করেন ইমাম। সেই টাকা দিয়ে শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্টসহ নানা রঙের পোশাক কিনে ভ্যানগাড়িতে করে বিক্রি শুরু করেন। প্রতিদিন বিকেলে ভ্যান সাজিয়ে বসেন ব্যস্ত বারইয়ারহাট পৌর বাজারে, যেখানে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে তার বিকিকিনি। ব্যবসায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে ইমাম হাসান বলেন, প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকার পোশাক বিক্রি হয়। এতে মাসে লাখ টাকারও বেশি আয় হচ্ছে। দিনের বেলায় মা-বাবাকে সংসারের কাজে সাহায্য করি, আর বিকেলে ভ্যান নিয়ে বাজারে চলে যাই। এভাবেই ব্যবসার পাশাপাশি পরিবারের হাল ধরেছি। অতীতের স্মৃতিকাতরতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ছোটবেলায় আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম। পড়াশোনাতেও ভালো ছিলাম। কিন্তু অভাবের কারণে পড়ালেখাটা চালাতে পারলাম না। তবে কাপড়ের দোকানে কাজ করার সময় শুধু তো বেতন পাইনি, ব্যবসার অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছি। সেই অভিজ্ঞতাই আজ আমার মূল পুঁজি। এখন নিজের উপার্জনে পরিবারকে সহযোগিতা করতে পারছি—একজন সন্তানের কাছে এটাই সবচেয়ে বড় তৃপ্তি। সমাজ কী বলবে—সেই লোকলজ্জার চিন্তা না করে নিজের মেধা, অভিজ্ঞতা ও শ্রমকে পুঁজি করে স্বাবলম্বী হওয়ার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ইমাম হাসান। আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন বদলে গেলেও থেমে থাকেনি তার জীবনসংগ্রাম। অদম্য সাহসে তিনি গড়ে তুলেছেন নিজের নতুন ভবিষ্যৎ।

News সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ 0
৫০ কোটি টাকার আইটি সেন্টার, চালু হয়নি তিন বছরেও

৫০ কোটি টাকার আইটি সেন্টার, চালু হয়নি তিন বছরেও

হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের হামলায় ৪ আনসার আহত

হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের হামলায় ৪ আনসার আহত

টিসিবি থেকে ৫৯ লাখ সুবিধাভোগীকে বাদ দেওয়া হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

টিসিবি থেকে ৫৯ লাখ সুবিধাভোগীকে বাদ দেওয়া হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

ধনবাড়ীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান
ধনবাড়ীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান

  মোঃ জাকির খান  ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে সরকারি জায়গায় নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ধনবাড়ী পৌরসভার থানা চত্বর থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত এলাকায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সরকারি রাস্তার জায়গা দখল করে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। ধনবাড়ী বাসস্ট্যান্ড ও এর আশপাশের সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা স্থাপনাও উচ্ছেদ করা হয়েছে। পৌর প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাঁচ দিন ধরে মাইকিং করা হয়। পাশাপাশি নোটিশ দিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনা অপসারণের জন্য বলা হয়। ওই সময়ের মধ্যে স্থাপনা অপসারণ না করায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক দিল-আফরোজের নেতৃত্বে অভিযানে ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুস সালাম সিদ্দিকসহ পুলিশ সদস্য, আনসার সদস্য এবং পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও সচেতন নাগরিকও অভিযানে উপস্থিত ছিলেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরজাহান আক্তার সাথী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক দিল-আফরোজ বলেন, সরকারি রাস্তার জায়গা দখলমুক্ত করা এবং জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কের জায়গা দখলমুক্ত হওয়ায় পথচারীদের চলাচলে সুবিধা হবে। একই সঙ্গে বাসস্ট্যান্ড ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এলাকায় যানজট কমাতে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন বলেও তারা মত দেন।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
সকল বিভাগের  শিক্ষার্থীকে এইচ আর ক্লাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে

সকল বিভাগের  শিক্ষার্থীকে এইচ আর ক্লাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার বিশেষ অভিযান

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার বিশেষ অভিযান

দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে দুদকের অভিযান

দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে দুদকের অভিযান

0 Comments