আঃজলিল,স্টাফ রিপোর্টারঃ----
যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের আফিল জুট মিলের সামনে বিজিবি অভিযানে ২৪ লক্ষ টাকা মু্ল্যের ১১৬.৬৫ গ্রাম ওজনের ১টি স্বর্ণবারসহ এক স্বর্ণ পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি সদস্যরা।
আটক আসামী হলেন,পিরোজপুর জেলার কালিবাড়ি উপজেলার জিয়া নগর থানার চর বারইখালী গ্রামের মৃত কাসেম আলী শেখের ছেলে জালাল উদ্দিন শেখ (৫৫)।
সোমবার ( ২৬ অক্টোবর ২০২৬) ভোর সাড়ে পাচটার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এর একটি অভিযান টহলদল যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের আফিল জুট মিলের সামনের পাকা রাস্তার উপর অভিযান পরিচালনা করে ১১৬.৬৫ গ্রাম ওজনের ১টি স্বর্ণের বার, ১টি মোবাইল এবং নগদ ৩২৪০/-টাকাসহ এক স্বর্ণ পাচারকারীকে আটক করে।
আটককৃত ব্যক্তির শরীরে বিশেষভাবে লুকায়িত অবস্থায় উক্ত স্বর্ণের বারটি পাওয়া যায়। আটককৃত আসামীকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে ঢাকা থেকে যশোর হয়ে বেনাপোল দিয়ে ভারতে পাচার করার উদ্দেশ্যে স্বর্ণের বার নিয়ে যাচ্ছিল।
আটককৃত স্বর্ণের মূল্য ২৪,৪২,০৬৭/- টাকা ও ১টি মোবাইল এর মূল্য ২০,০০০/- টাকা এবং নগদ ৩২৪০/- টাকাসহ সর্বমোট সিজার মূল্য ২৪,৬৫,৩০৭/- (চব্বিশ লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার তিনশত সাত) টাকা।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, জানান, কিছুদিন যাবত বাংলাদেশ হতে ভারতে স্বর্ণ পাচারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। উক্ত স্বর্ণসহ পাচারকারী আটকের নিমিত্তে বিজিবি’র আভিযানিক কার্যক্রম ও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় যশোর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে স্বর্ণসহ পাচারকারী আটক করতে সক্ষম হচ্ছে।
সীমান্তে বিজিবির এ ধরনের অভিযান কার্যক্রম সবসময়ই অব্যাহত থাকবে এবং আটককৃত আসামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের মাধ্যমে আসামীকে শার্শা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান বিজিবি।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৫/১ এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত অথরাইজড অফিসার সাইদা ইসলামের বিরুদ্ধে ভবন নকশা অনুমোদন, ফাইল নিষ্পত্তি এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নামে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী বাড়ির মালিক ও সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক সূত্রের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, জোনটিতে সেবা নিতে আসা সাধারণ নাগরিকদের জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হচ্ছে। সরকারের নির্ধারিত ফি ও বৈধ প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে একটি শক্তিশালী অনিয়মের সিন্ডিকেট। অনুমোদনহীন ও অবৈধ ইমারত উচ্ছেদ বা নিয়মমাফিক আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে মোবাইল কোর্টের নামে কেবল লোকদেখানো ও প্রতীকী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যা রাজউকের সার্বিক প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অভিযোগকারীদের বর্ণনা অনুযায়ী, জোন-৫/১ এলাকায় ৫ থেকে ৬ তলা বিশিষ্ট ছোট বা মাঝারি আবাসিক ভবনের নকশা (Plan Approval) অনুমোদনের জন্য ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ ঘুষ দাবি করা হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, ভবন ৬ তলা হোক কিংবা ১০ থেকে ১২ তলা—এমন কোনো ফাইল নেই যেখানে ৫ লাখ টাকার কমে লেনদেন হচ্ছে। একজন ভুক্তভোগী বাড়ির মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সরকারি ফি এবং নির্মাণ ব্যয়ের বাইরে যদি কেবল নকশা পাস করাতেই ৫ লাখ টাকা গুনে দিতে হয়, তবে সাধারণ মানুষ কীভাবে বাড়ি নির্মাণ করবে? সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ঘুষের এই মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণ নিয়ে ভুক্তভোগীরা আপত্তি তুললে অথরাইজড অফিসার সাইদা ইসলাম নাকি সাফ জানিয়ে দেন যে, “এই টাকা একা আমার পকেটে যায় না; পরিচালক থেকে শুরু করে ওপরের মহলের সবাইকে ভাগ দিতে হয়।” ক্ষমতার এই অপব্যবহার ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নাম জড়ানোর ঘটনায় পুরো রাজউক কার্যালয়ে তীব্র গুঞ্জন ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনুমোদিত নকশা বহির্ভূত বা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বহুতল ভবনের বিরুদ্ধে রাজউকের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে মারাত্মক বৈষম্য ও শিথিলতার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হলেও ইমারত সম্পূর্ণ অপসারণ, সিলগালা বা আইনানুগ কঠোর ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে কেবল বিদ্যুৎ সংযোগ বা গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং সাময়িক মিটার খুলে নেওয়ার মতো দায়সারা ও প্রতীকী পদক্ষেপে অভিযান সীমাবদ্ধ রাখা হয়। ফলে অভিযানের পরদিনই পুনরায় অননুমোদিত নির্মাণ কাজ চালু হয়ে যায়। তাছাড়া, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী ইমারত পরিদর্শকদের (Buildings Inspectors) দাপ্তরিক কাজেও অযাচিত হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ রয়েছে সাইদা ইসলামের বিরুদ্ধে। কোনো পরিদর্শক আইনগত নিয়ম মেনে কোনো ইমারতের বিরুদ্ধে নোটিশ বা ব্যবস্থা নিতে চাইলে তাকে কড়া সুরে বলা হয়— “আমাকে না জানিয়ে কিছু করবেন না।” নির্দিষ্ট কিছু প্রভাবশালীর ভবনের ক্ষেত্রে অভিযান নামমাত্র রক্ষা করার সংস্কৃতি জোনটিতে স্থায়ী রূপ নিয়েছে। অথরাইজড অফিসার সাইদা ইসলামের দাপ্তরিক কাজের ধীরগতি ও ফাইল নিষ্পত্তির স্থবিরতা নাগরিকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, তাঁর ব্যক্তিগত আইডিতে বর্তমানে অর্ধশতাধিক অনুমোদনের ফাইল দিনের পর দিন আটকে বা ঝুলে রয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রয়োজনীয় ফাইলের নামমাত্র অনুমোদন সম্পন্ন হলেও বিপুলসংখ্যক আবেদন টেবিলবন্দী করে রাখা হয়েছে। অভিযোগকারীদের সুনির্দিষ্ট দাবি, নির্ধারিত অতিরিক্ত ঘুষের চাহিদা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওই ফাইলগুলো এক ইঞ্চিও সামনে এগোয় না, যার ফলে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের মাসের পর মাস রাজউকের বারান্দায় ঘুরতে হচ্ছে। ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী, নির্ধারিত নকশা ও শর্ত ভঙ্গ করে ভবন নির্মাণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। রাজউকের অথরাইজড অফিসারদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব হলো সম্পূর্ণ আইনসম্মতভাবে নকশা যাচাই করা এবং অবৈধ নির্মাণ তাৎক্ষণিকভাবে উচ্ছেদ বা সিলগালা করা। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী, সরকারি পদে থেকে কোনো কর্মকর্তা ঘুষ বা উৎকোচ গ্রহণ করা এবং ওপরের মহলের নাম ভাঙিয়ে অবৈধ আর্থিক লেনদেনে জড়িত থাকা সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে চাকরিচ্যুতিসহ কঠোর আইনি শাস্তির বিধান রয়েছে। রাজউকের মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ নগর উন্নয়ন সংস্থায় দুর্নীতি ও ফাইল বাণিজ্যের এই চিত্র শহরবাসীর মৌলিক অধিকার ও নাগরিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। প্রকাশিত অভিযোগের বিষয়ে রাজউকের সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে, অভিযুক্ত সাইদা ইসলাম সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর সরাসরি উত্তর না দিয়ে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মনীতি ও বিধিমালার প্রসঙ্গ তুলে পুরো বিষয়টি এড়িয়ে যান। নগর পরিকল্পনাবিদ ও সচেতন মহলের জোর দাবি, অবিলম্বে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে সাইদা ইসলামের আমলের ফাইল জট, ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হোক। জোন-৫/১-এ সুশাসন ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) প্রধান কাজ হলো সার উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করা। এর পাশাপাশি রাসায়নিক ও অন্যান্য শিল্পকারখানা পরিচালনার মাধ্যমে দেশের শিল্পোন্নয়নে অবদান রাখা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের একটি সিন্ডিকেট সেই সার উৎপাদন ও সরবরাহে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছে। বিসিআইসির চেয়ারম্যান শাহ মো. ইমদাদুল হক এবং ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান বিসিআইসির অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কতিপয় কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে নিয়োগ, পদোন্নতি, পদায়ন, কেনাকাটা ও ঠিকাদারি কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এসব অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে। দুদক ও বিসিআইসি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান শাহ মো. ইমদাদুল হক, চিটাগাং ইউরিয়া সার কোম্পানির (সিইউএফএল) ও ডিএপিএফসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান, উপ-প্রধান প্রকৌশলী আবীদ আল হাসানসহ অন্যদের বিরুদ্ধে নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ দুদকে জমা হয় ২০২৫ সালের মার্চ মাসে। কমিশন অভিযোগটি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। সংস্থাটির একজন সহকারী পরিচালক অভিযোগটি অনুসন্ধান করছেন। দুদকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান শাহ মো. ইমদাদুল হক, সিইউএফল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান এবং ডিএপিএফসিএল-এর ব্যবস্থাপক মো. আলমগীর জলিলসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ লোপাটের অভিযোগ অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। দুদকের একজন কর্মকর্তা অভিযোগটি অনুসন্ধান করছেন। অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করাসহ অভিযুক্ত কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুসন্ধান কর্মকর্তা দ্রুত সময়ে অনুসন্ধান শেষ করে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। দুদকের কাছে থাকা অভিযোগে বলা হয়েছে, সাবেক চেয়ারম্যানের দায়িত্বকালে বিসিআইসির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও পদায়নকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেন, স্বজনপ্রীতি এবং প্রভাব বিস্তারের ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে কয়েকটি সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ, নিয়োগ-বাণিজ্য, পদোন্নতি, পরিবহন ঠিকাদারি, ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথডে (ডিপিএম) কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হয়েছে। এসব দুর্নীতির সঙ্গে বিসিআইসির সাবেক ও বর্তমান একাধিক কর্মকর্তার নাম রয়েছে। এর মধ্যে বেশি অভিযোগ বিসিআইসির চেয়ারম্যান হিসেবে শাহ মো. ইমদাদুল হকের বিরুদ্ধে। তিনি ২০২১ সালের জুনে বিসিআইসিতে যোগদান করেন। এর আগে তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ছিলেন। বিসিআইসিতে যোগদানের পর তিনি সিইউএফএলসহ কয়েকটি সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি করেন। এর মধ্যে এক কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চাকরি থেকে সাসপেন্ড হওয়া মিজানুর রহমানকে ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএপিএফসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেন। এ ছাড়া ইমদাদুল হক তার নিকট আত্মীয়ের ছেলেকে বিসিআইসির প্রধান কার্যালয়ের নির্মাণ বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেন। সিন্ডিকেটের সেকেন্ড ইন কমান্ড এমডি মিজান বিসিআইসির চেয়ারম্যান ইমদাদুল হকের সিন্ডিকেটের সেকেন্ড ইন কমান্ড হলেন ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে, শাহজালাল সার কারখানায় দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৭ সালে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ ঘটনায় তিনি মামলা করেন এবং মামলায় জয়ী হন। এরপর তিনি চেষ্টা-তদবির করে কোম্পানির পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। শাহ মো. ইমদাদুল হক বিসিআইসির চেয়ারম্যান হওয়ার পর তাকে এক কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে মিজানুর রহমান পরিচালক থেকে ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক হওয়ার পর চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগসাজশ করে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। অভিযোগে বলা হয়, মিজানুর রহমান ডিএপিএফসিএলের এমডি হওয়ার পর বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় খরচ করে এফডিআর ফান্ডের ৯৭৫ কোটি খরচ করে ফান্ড শূন্য করেন। তিনি সিইউএফএল-এ প্রতি মাসে ১৪৫ জন আনসারের স্থলে ২০০ জন আনসারের বিল উত্তোলন করেন। আনসার কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান ও হাবিলদার কমল বড়ুয়ার মাধ্যমে তিনি এ কাজ করেন। তিনি ২০২৩ সালে সর্বনিম্ন দরদাতাকে নিয়োগ না দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতাকে পরিবহন ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেন। তিনি হিসাব ক্যাডারের কর্মকর্তা হয়েও সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন। এর আগে নন-টেকনিক্যাল কাউকে এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তিনি একমাত্র ঠিকাদার আইয়ুব আলীকে ছাড়া অন্য কোনো ঠিকাদারকে কাজ দেন না। তিনি আউটসোর্সিং কর্মচারীদের কাজ থেকে কমিশন নেন। তিনি ২০২২ সালের দৈনিক হাজিরাভিত্তিক শ্রমিক মানিক নাথের স্ত্রী, বোন, ভাতিজিকে জনপ্রতি ৮ লাখ করে টাকা নিয়ে চাকরি দেন। মিজানুর রহমানের ঘোষণা হলো টাকা দেন, সুবিধা নেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কারখানায় পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কেনাকাটা, পরিবহন ঠিকাদারি, শ্রমিক নিয়োগসহ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। মিজানুর রহমান বর্তমানে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মিজানুর রহমান জানান, তিনি অভিযোগ অনুসন্ধানের বিষয়ে অবগত আছেন। দুদকের অনুসন্ধান চলমান থাকায় এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। ১১ হাজার ৫০০ টাকার ইউনিফর্ম ভাতা দুদকে দেওয়া অভিযোগে ইউনিফর্মের অর্থ নয়ছয় করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিদিন শ্রমিক-কর্মচারী-কর্মকর্তার জন্য বছরে ১১ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু বরাদ্দের ৮০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা কেটে রাখা হয়েছে। অথচ কর্মীদের কাছ থেকে ১১ হাজার ৫০০ টাকা বুঝে পাওয়ার স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। শুধু ইউনিফর্ম থেকে প্রায় ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মী তালিকা, বরাদ্দের অফিস আদেশ, ব্যাংক হিসাব, ভাউচার, রসিদ এবং কর্মীদের জবানবন্দি নিয়ে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে। নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেন চেয়ারম্যানের দায়িত্বকালে শাহ মো. ইমদাদুল হক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিসিআইসিতে কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পদে একই পরিবার, একই এলাকা বা একই গ্রামের একাধিক ব্যক্তির নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে কর্মচারী মো. জাকির হোসেনসহ নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত। ১২০০ কোটি টাকার সার আত্মসাতের সুযোগ অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের একটি পরিবহন টেন্ডারে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কাজ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৭০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে। যাদের পরিবহন ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারা প্রভাবশালী হওয়ায় সরকারি ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার সার আত্মসাৎ করেছে। এর মধ্যে নবাব অ্যান্ড কোম্পানি সাতটি চুক্তির আওতায় ৬৬ হাজার ৮৭৪ টন ইউরিয়া সার লোপাট করেছে। যার মূল্য প্রায় ৬১৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। আর পোটন ট্রেডার্সের সাতটি চুক্তির বিপরীতে ৭১ হাজার ৮০১ টনের বেশি সার লোপাট করেছে। যার মূল্য প্রায় ৫৮১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। ডিপিএম কেনাকাটায় পছন্দের ঠিকাদার বিসিআইসির বিভিন্ন কারখানায় ডিপিএম পদ্ধতিতে কেনাকাটায় অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা বিভিন্ন কারখানার ডিপিএম কেনাকাটায় প্রভাব বিস্তার এবং তদবিবের মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের প্রতিটি কারখানার ডিপিএম ক্রয় প্রক্রিয়ায় একই প্রতিষ্ঠান কতবার কাজ পেয়েছে, একই কর্মকর্তা কতগুলো ক্রয় কমিটিতে ছিলেন, বাজারমূল্যের তুলনায় পণ্যের দাম কত বেশি ছিল এবং কেন প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান না করে ডিপিএম করা হয়েছে এসব তথ্য যাচাই করছে দুদক। অভিযোগে সিন্ডিকেটের কয়েকজন কর্মকর্তার নামে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ফ্ল্যাট, জমি ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান থাকার তথ্য দেওয়া হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা রাজধানীর মুগদা থানাধীন দক্ষিণ মান্ডা এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য বিকৃত করে প্রকাশ, অশালীন মন্তব্য এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে মুগদা থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রিয়া চৌধুরী (২৪) নামে এক তরুণী। অভিযোগপত্রে প্রিয়া চৌধুরী উল্লেখ করেন, গত ২৪ অক্টোবর ২০২৪ থেকে অথবা অভিযোগে বর্ণিত সময় অনুযায়ী, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয় তৈরি করেন। তাঁর দাবি, ‘kasem k’ ও ‘investigation’ নামের দুটি ফেসবুক আইডি থেকে তাঁর ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য বিকৃত করে আপত্তিকর, অশালীন ও মানহানিকর পোস্ট ও মন্তব্য প্রকাশ করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগে তিনি আরও দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি মানসিক চাপের পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। প্রিয়া চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। অভিযোগের সমর্থনে তিনি স্ক্রিনশট, সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডির লিংকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ সংযুক্ত করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে। এ অবস্থায় অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। তদন্তের দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে কারও ব্যক্তিগত ছবি বিকৃত করা, অনুমতি ছাড়া তা প্রকাশ এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট আইডির তথ্য, পোস্টের লিংক, স্ক্রিনশট ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত পরীক্ষা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত—উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তবে অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের পরিচয়, ঘটনার সত্যতা এবং অপরাধে সংশ্লিষ্টতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে মুগদা থানা পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।