মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুক কর্মীদের মেডিক্যাল পরীক্ষা আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর) থেকে অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টারগুলোতে শুরু হবে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় থেকে আরও বলা হয়, এর আগে কোনও মেডিক্যাল পরীক্ষা করা বা করানো যাবে না। অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টারের তালিকা খুব শিগগিরই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত মেডিক্যাল সেন্টারগুলোর বিষয়ে খোঁজখবর রাখার জন্য কর্মীদের অনুরোধ করা হয়। নির্দেশনা পরিপালন ও সক্ষমতার ভিত্তিতে কিছু মেডিক্যাল সেন্টার তালিকা থেকে বাদ পড়তে বা নতুন করে যুক্ত হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, ৩১ অক্টোবরের আগে করা কোনও মেডিক্যাল পরীক্ষা গ্রহণযোগ্য হবে না এবং ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্সের জন্য প্রক্রিয়াকরণ করা হবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘কোনও মেডিক্যাল সেন্টার বা রিক্রুটিং এজেন্সি মন্ত্রণালয়ের সরকারি নির্দেশনা ও অনুমোদন ছাড়া কর্মীদের মেডিক্যাল পরীক্ষা করতে বা করাতে পারবে না। কিছু দালাল ও অসাধু এজেন্সি অনুমতি ছাড়া মেডিক্যাল পরীক্ষা করানোর কথা বলে কর্মীদের নিকট থেকে পাসপোর্ট ও টাকা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। কর্মীদের এ ধরনের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ার এবং অনুমোদন নিশ্চিত না হয়ে কারও কাছে পাসপোর্ট বা টাকা জমা না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিএমইটি ছাড়পত্রের জন্য আবেদনকারী এজেন্সিগুলোকে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র এবং ভিডিআর ভিসার কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
‘নির্দেশনা অমান্যকারী মেডিক্যাল সেন্টার ও রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী যথাসম্ভব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্দেশনা অমান্যকারী মেডিক্যাল সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ, সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির বিদেশে কর্মী নিয়োগের কার্যক্রম স্থগিত এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাতিল করা হতে পারে।
‘অবৈধ বা অনুমোদনহীন মেডিক্যাল পরীক্ষা কিংবা এ ধরনের কার্যক্রমের তথ্য জানা থাকলে ঘটনার তারিখ, স্থান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম এবং প্রমাণসহ মন্ত্রণালয়কে জানানোর জন্য কর্মীদের অনুরোধ করা হচ্ছে (ইমেইল-secretary@probashi.gov.bd)।’
কর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় মন্ত্রণালয় এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে নজরদারি অব্যাহত রাখবে বলে জানানো হয়। পাশাপাশি সব সংশ্লিষ্ট কর্মী, রিক্রুটিং এজেন্সি ও মেডিক্যাল সেন্টারকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হয়।
জনস্বার্থে সরকারি এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো জিগফ্রিড রেঙ্গলি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী সুইজারল্যান্ডের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদানের প্রশংসা করেন এবং সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে সুইস বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ এখন আর সাহায্য নয়, বরং ব্যাপক বিনিয়োগ চায়। বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিনিয়োগ বাড়লে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবে। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি সুইজারল্যান্ডের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে সুইজারল্যান্ডের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি এ ক্ষেত্রে দেশটির সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে তার দেশের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সংসদীয় কার্যক্রম শক্তিশালী করতে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। সাক্ষাৎকালে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, দক্ষতা উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক বিনিময়, কারিগরি শিক্ষা এবং শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক এবং সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের উপমিশনপ্রধান দিপাক এলমার উপস্থিত ছিলেন।
‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর আইজিপি পদে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। শীর্ষ এই পদের জন্য বিসিএস ১৫তম ব্যাচের চার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম বিবেচনায় রয়েছে। আলী হোসেন ফকিরও একই ব্যাচের কর্মকর্তা। এরই মধ্যে জ্যেষ্ঠ চার কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্য সংবলিত নথি (ফাইল) তলব করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এ বিষয়ে অবগত একাধিক সূত্র এশিয়া পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই কর্মকর্তারা হলেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ, অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবিব পলাশ এবং ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। প্রথম তিনজন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পদোন্নতিসহ বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। আর পেশাদারত্ব বিবেচনায় আলোচনায় আছেন মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। জাপান সফর শেষে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তিনি ফেরার পর আইজিপি পদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সূত্র বলছে, নতুন নিয়োগ সম্পূর্ণভাবে সরকারপ্রধানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। সেক্ষেত্রে আলোচনায় থাকা চারজনের বাইরে নতুন কোনও নামও সামনে আসতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন, তার অতীত কার্যক্রম এবং দায়িত্ব পালনের সক্ষমতার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বর্তমান আইজিপির সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও সরকারি পর্যায়ে প্রকাশ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী ওই মন্তব্যকে সরকারের জন্য ‘বিব্রতকর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানান, দেশে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনা করবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য ‘ঠিক হয়নি’ এবং এ বিষয়ে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রয়েছে। তার এই বক্তব্যের পর আইজিপি পদে সম্ভাব্য পরিবর্তনের আলোচনা আরও গতি পায়। আলী হোসেনে ফকিরের সাম্প্রতিক ওই মন্তব্যের পর পুলিশ সদর দফতর থেকে অবশ্য এ নিয়ে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ‘রূপক’ অর্থে পুলিশ মহাপরিদর্শক ক্রসফায়ারের কথা বলেছেন। এছাড়া সাংবাদিকরা মাদকের টাকার ভাগ পায়; তার এমন মন্তব্যও ছিল ‘অসাবধানতাবশত’। বিবৃতি দিয়ে এই কর্মকর্তার পক্ষে সাফাই গায় পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে এশিয়া পোস্ট। তবে কেউ বাহিনী প্রধানের বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা জানান, পুলিশ মহাপরিদর্শকের সাম্প্রতিক মন্তব্যে বাহিনীর সবাই কমবেশি বিব্রত। সাবেক পুলিশ প্রধান মুহাম্মদ নূরুল হুদা এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘পুলিশ মহাপরিদর্শকের চেয়ারে বসে এমন মন্তব্য পেশাদারিত্বের লঙ্ঘন। বর্তমান সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমাজে এক ধরনের অস্বস্তি আছে। এই প্রেক্ষাপটে আইজিপি এমন মন্তব্য করলে সেটি শুধু সরকারকে বিব্রতই করে না, বাহিনীর পেশাদারত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠারও সুযোগ তৈরি করে দেয়।’ কী বলেছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক পুলিশ মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুরান ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে পুলিশ ক্রসফায়ারে যেতে দ্বিধাবোধ করবে না।’ একই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে তাদের ফ্যাসিস্ট আখ্যা দেওয়া হয়, আর নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্বল বলা হয়।’ আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। দাবি করেন, সাংবাদিকরা মাদকের টাকার ভাগ না পেলে লেখেন; পুলিশ অকার্যকর হয়ে গেছে। অনুষ্ঠানে ক্রসফায়ার নিয়ে তার দেওয়া বক্তব্য রাজনৈতিক মহল ও মানবাধিকার সংস্থাসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। সমালোচনার মুখে ওই রাতেই এর একটি ব্যাখ্যা দেয় পুলিশ সদর দপ্তর। এতে বলা হয়, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারবহির্ভূত শাস্তি বোঝাতে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ বোঝাতে তিনি রূপক অর্থে শব্দটি ব্যবহার করেছেন। আলোচনায় চার কর্মকর্তা এপিবিএন-এর প্রধান হাসিব আজিজ: বর্তমানে অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদায় এপিবিএন-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাসিব আজিজ। ১৫তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের এই কর্মকর্তা ১৯৯৫ সালে বাহিনীতে যোগ দেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর গত মার্চে তাকে এপিবিএন প্রধান করা হয়। সিএমপি প্রধান হওয়ার আগে তিনি সিআইডির অধীনে ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুলের কমান্ড্যান্ট ছিলেন। কর্মজীবনে তিনি ইন্টারপোল ডেস্কের প্রধান, টাঙ্গাইল পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট এবং এপিবিএন সদর দপ্তরের বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন। ১৯৭১ সালে শরীয়তপুরে জন্মগ্রহণ করা হাসিব আজিজ সাবেক আইজিপি এম আজিজুল হকের সন্তান; যিনি ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। সিআইডি প্রধান মোশাররফ হোসেন: অতিরিক্ত আইজিপি মোশাররফ হোসেন ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই সিআইডি প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৫তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের এই কর্মকর্তা ১৯৯৫ সালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাহিনীতে যোগ দেন। তিনি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর এবং যুক্তরাজ্যে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন। সিআইডি প্রধান হওয়ার আগে প্রেষণে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) পরিচালক ছিলেন। সেখানে দায়িত্ব পালনকালেই অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পদোন্নতি পান। মাঠ পর্যায়ে তিনি পিরোজপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) ছিলেন। এছাড়া সিআইডি সদর দপ্তর এবং এর চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা ইউনিটেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, ডিএমপি, সিএমপি, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং পুলিশ সদর দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। এসআরবি প্রধান হাবিব পলাশ: অতিরিক্ত আইজিপি আহসান হাবিব পলাশ নবগঠিত এসআরবি-র প্রথম মহাপরিচালক (ডিজি)। এর আগে তিনি র্যাবের সর্বশেষ ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৫তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা পলাশ ১৯৯৫ সালে এএসপি হিসেবে বাহিনীতে যোগ দেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়া থেকে পেশাগত প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। চলতি বছরের মার্চে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে র্যাবের মহাপরিচালক নিযুক্ত হন এবং ২৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গত সেপ্টেম্বরে এসআরবি-এর প্রথম প্রধান হন। র্যাবের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) ছিলেন। এর আগে নানা সময়ে ডিএমপি, সিএমপি, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ, এপিবিএন, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং বিভিন্ন জেলায় মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ: মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার। তিনি বিসিএস ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ১৯৯৫ সালে বাহিনীতে যোগ দেন। ডিএমপি কমিশনারের দায়িত্ব পাওয়ার আগে সিআইডি প্রধান ছিলেন। এর আগে পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন ডিরেক্টরেটের অতিরিক্ত আইজিপি ছিলেন। এ ছাড়া ডিএমপি ও সিএমপিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। কুষ্টিয়া, ভোলা ও শেরপুরসহ বিভিন্ন জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতিসংঘের আফ্রিকান ইউনিয়ন-ইউনাইটেড নেশনস হাইব্রিড অপারেশন ইন দারফুরেও অংশ নিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফরের অংশ হিসেবে দেশটির চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে অবস্থিত ‘জেরা’র স্থলভিত্তিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় বেলা আড়াইটার দিকে প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, পররাষ্ট্রসচিব ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।