“রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯ টায় ফিশারিজ অনুষদের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য রেলি বের হয়। উক্ত রেলিটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে একাডেমিক ভবনের সম্মুখে দিবসটি উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড.মো: সাজেদুল হক এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস.এম হেমায়েত জাহান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম,ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, রেজিস্ট্রার প্রফেসর মোহাম্মদ জামাল হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। আমাদের সংস্কৃতি,অর্থনীতি এবং পুষ্টির অন্যতম প্রধান উৎস্য হলো মৎস্য সম্পদ।আমরা যুগের পর যুগ ধরে নদীকে কেবল শাসন করতে চলেছি।বাঁধ দিয়ে,নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে কিংবা পরিকল্পিত অবকাঠামো তৈরী করে নদীকে খাঁচায় বন্দী করার চেষ্টা করছি। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেএগুলো ধ্বংস হয়েছে, নদীর নাব্যতা কমেছে এবং এতে করে অনেক দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে। তিন বলেন, শুধুমাএ নদীকে শাসন করলেই হবে না,মাছের চাহিদা পূরনে নদীকে লালন করতে হবে।
এর অর্থ হলো নদীকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দেওয়া, নদীর যত্ন নেওয়া,নদীতে দুষনমুক্ত রাখা এবং মাছের প্রাকৃতিক অভয়ারণ্যগুলোকে রক্ষা করা। মাছ যখন নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার পরিবেশ পাবে, তখনই আমাদের নদীগুলো আবার মাছে মাছে ভরে উঠবে।তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের নদী ও সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ রক্ষায় আমাদের গবেষণা নতুন নতুন প্রযুক্তি ও টেকসই মৎস্য চাষের মডেল উদ্ভাবন করেছেন যা সরাসরি আমাদের জেলে ও চাষীদের মৎস্য উতপাদন বাড়াতে সাহায্য করবে।পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীলকমল লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ। এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষা র্থী ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
পটুয়াখালীর বাউফলের ঐতিহ্যবাহী বিলবিলাস আবদুর রশিদ সরদার মাধ্যমিক বিদ্যালয় এর নবনির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো: মাহফুজুর রহমান সবুজ সহ অন্যান্য সদস্যদের শিক্ষক-কর্মচারী,ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা প্রদান ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল বিকেল ৪ টায় বিদ্যালয় অডিটোরিয়ামেপ্রধান শিক্ষক খায়রুল আলম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এ্যাব)এর কেন্দ্রীয় কমিটির ুসদস্যসচিব প্রকৌশলী শোয়েব বাশরী হাবলু।প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাউফল পৌর বিএনপি সভাপতি মো: হুমায়ুন কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শহীদ জিয়া গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আনিসুর রহমান আনিস, জাসাস পটুয়াখালী জেলা শাখার যুগ্ম আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব হোসেন, বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির সাবেক যুব বিষয়ক সম্পাদক ইমতিয়াজ রসুল পান্নু, সূর্যমনি ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মো: মনিরুজ্জামান, কালিশুরি ডিগ্রি কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আরিফুর রহমান, বাউফল প্রেসক্লাবের সভাপতি জলিলুর রহমান,অভিভাবক মো:নুরুল ইসলাম, বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ হোসাইন খান।অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাও: মুহা:আবদুল মান্নান,মো: আমিনুল ইসলাম বাবুল, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নাফিজা ইসলাম,আনিলা তাহসিন, আব্দুল্লাহ আল মারজান প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি ও সংবর্ধিত অতিথিকে ফুলের তোড়া ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।বিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত কমিটির সভাপতি মাহফুজুর রহমান সবুজ সংবর্ধনার জবাবে বলেন," বিদ্যালয়ের কমিটির সভাপতি হিসেবে আমার উপর যে গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়েছে আমি তা সততা,নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও জবাবদিহিতার সাথে পালন করবো। তিনি বলেন,শিক্ষা শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের মাধ্যম নয়,শিক্ষা হলো একটি জাতির মেরুদণ্ড এবং আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর।শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শিক্ষা ও উন্নয়ন দর্শনকে বুকে ধারণ করে আমি এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠকে একটি আধুনিক, মানসম্মত এবং আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই"। প্রধান বক্তা মো:হুমায়ুন কবির বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয় জরুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আনিসুর রহমান আনিস বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ আরও সুন্দর করা, এবং শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে নবনিযুক্ত কমিটি,শিক্ষক ও অভিভাবকদের আন্তরিক হতে হবে।তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শৃঙ্খলা,নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী শোয়েব বাশরী হাবলু বলেন, "শিক্ষাই একটি জাতির উন্নতি ও অগ্রগতির প্রধান ভিত্তি। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন শুধু পরিচালনা কমিটির একার পক্ষে সম্ভব নয়।এজন্য শিক্ষক,শিক্ষার্থী,অভিভাবক ও স্হানীয় সুধীজনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সার্বিক অগ্রগতিতে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বিদ্যালয়ের উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বনায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কমিটির উদ্যোগে কৃষক ও কৃষাণী প্রশিক্ষণ ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠান অদ্য ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টায় উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের জার্মপ্লাজম সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বনায়ন ও সৌন্দর্য বর্ধন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব রব্বানীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য অধ্যাপক ড.এস.এম হেমায়েত জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান,কৃষি বনায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস.এম হেমায়েত জাহান বলেন,"আমি অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত যে, আজ আপনাদের মতো কঠোর ও পরিশ্রমী মানুষের মাঝে উপস্থিত হতে পেরেছি। আপনারা দিন ও রাত পরিশ্রম করে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে আমাদের মুখে অন্ন তুলে দেন। একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু চার দেয়ালের মাঝে শিক্ষা দেবার জায়গা নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান কাজ হলো তার গবেষণার সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। বিশেষ করে পবিপ্রবি'র এই অঞ্চলের কৃষক দের প্রতি একটি গভীর সামাজিক দায়বদ্ধতা ও অধিকার রয়েছে। এই এলাকার কৃষক দের উন্নয়ন মানেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থকতা।আপনাদের যে কোন কৃষিভিত্তিক সমস্যা সমাধানের জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে এবং কাজ করে যাবে। আমরা যে নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করলাম এটা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আপনারা আপনাদের কাজ করার ক্ষেত্রে কি কি সমস্যা ফেস করেন আমাদের বললে আমরা সমাধানের চেষ্টা করবো। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি দিন দিন চ্যালেন্জিং হয়ে উঠেছে। এ চ্যালেন্জ মোকাবেলায় আপনাদের পাশে দাঁড়াতে আমরা যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা আপনাদের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করেছি। এ ওয়ান স্টপ সার্ভিসে এসে আপনারা এক জায়গাতেই কৃষি বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে সরাসরি আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত সমাধান পেয়ে যাবেন। উক্ত কৃষক প্রশিক্ষণে এলাকার ৫০ জন কৃষক কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন। পরে কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. এস.এম হেমায়েত জাহান। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর মো মাহফুজুর রহমান সবুজ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রতিষ্ঠার পর পেরিয়ে গেছে ২০ বছর। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার। কিন্তু এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছে মাত্র একটি ক্যাফেটেরিয়া। এর আসনসংখ্যা মাত্র ৬০। বেশ কিছু আসন আবার ভাঙাচোরা। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিস্তর অভিযোগ খাবারের দাম ও মান নিয়েও। নিম্নমানের খাবার অথচ দাম বেশি—এ কারণে ভোগান্তিতে পড়েন তারা। ফলে কম খরচে খাবারের জন্য ক্যাফেটেরিয়ার ওপর নির্ভরশীল শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনই বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। ৩০০ শিক্ষার্থীর জন্য একটি আসন ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর এই ক্যাফেটেরিয়ায় আসন রয়েছে মাত্র ৬০টি। অর্থাৎ গড়ে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে একটি আসন। এর মধ্যে কিছু চেয়ার-টেবিল নষ্ট থাকায় ব্যবহারযোগ্য আসন সংখ্যা আরো কম। দুপুরের ব্যস্ত সময় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে। টোকেন নেওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থীকে বসার জায়গার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কেউ দাঁড়িয়ে খাবার খান আবার কেউ খাবার নিয়ে ক্যাম্পাসের অন্য কোনো ফাঁকা জায়গায় চলে যান। শিক্ষার্থীদের মতে, ক্লাসের ফাঁকে দ্রুত খাবার শেষ করে পরের ক্লাসে যেতে হয়। কিন্তু বসার জায়গা না থাকায় খাবার হাতে নিয়ে অপেক্ষা করতে হয়। ফলে খাবার খাওয়ার সময়টুকুও অনেকের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাবারে পোকামাকড় ও তেলাপোকা ক্যাফেটেরিয়ার স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে খাবারে পোকামাকড় ও তেলাপোকা পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিভিন্ন সময় খাবারের মধ্যে এ ধরনের পোকামাকড় পাওয়া গেছে। এতে খাবার প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি রান্নার পুরো প্রক্রিয়ায়ই স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে। মান নিয়ে অসন্তোষ শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ক্যাফেটেরিয়ায় তেহারি ৪০ টাকা, ভাতের সঙ্গে এক পিস মুরগি অথবা ছোট মাছ ও পাতলা ডাল ৪০ টাকা, খিচুড়ি ও ছোট ডিম ৪০ টাকা, ছোট পরোটা পাঁচ টাকা এবং ছোট শিঙাড়া চার টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে কম দাম হলেও খাবারের মান ও পরিমাণ নিয়ে সন্তুষ্ট নন শিক্ষার্থীদের অনেকে। তাদের ভাষ্য, স্বল্পমূল্যে খাবার সরবরাহ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। তবে কম দামের অজুহাতে খাবারের মান, পরিমাণ ও নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা উচিত নয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাফেটেরিয়ায় নিয়মিত সীমিত কয়েক ধরনের খাবার পাওয়া যায়। ফলে প্রতিদিন একই ধরনের খাবারের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাদের প্রত্যাশা, স্বল্পমূল্যের মধ্যে কয়েক ধরনের খাবারের ব্যবস্থা রাখা হলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী খাবার বেছে নিতে পারবেন। এছাড়া রান্নাঘরের পরিবেশ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না ও খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে। রান্নার স্থান, খাবার সংরক্ষণ ও পরিবেশনের জায়গায় যথাযথ পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। তাদের মতে, খাবারে পোকামাকড় বা তেলাপোকা পাওয়ার অভিযোগের সঙ্গে রান্নাঘরের পরিবেশের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। রান্নাঘরসহ পুরো ক্যাফেটেরিয়ায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তারা। ‘ফাও’ খাওয়ার অভিযোগ ক্যাফেটেরিয়ার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থী সাইমা মিমের দাবি, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কেউ কেউ নিয়মিত বিনামূল্যে বা ‘ফাও’ খাবার খান। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, টোকেন বিক্রি, খাবারের আয়-ব্যয় এবং বিনামূল্যে খাবার দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ হিসাব রাখা প্রয়োজন। নিয়মিত হিসাব প্রকাশ ও তদারকি থাকলে এ ধরনের অভিযোগের সুযোগ কমবে বলে তারা মনে করেন। ভর্তুকির দাবি জকসুর এদিকে, ক্যাফেটেরিয়ার খাবারে ভর্তুকির দাবি তুলেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু)। গত ১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তিন লাখ টাকা ভর্তুকির প্রস্তাব দিয়ে লিখিত আবেদন করে জকসু। সেখানে চাল, ডাল ও ভোজ্যতেলের মতো মৌলিক খাদ্যপণ্যে ভর্তুকির পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি তদারকি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক নূর মোহাম্মদ বলেন, ক্যাফেটেরিয়ার ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শতভাগ টোকেন ব্যবস্থা, মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং সেবার মান উন্নয়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে ভর্তুকির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা বিনামূল্যে খাবার চান না। নিজেদের সামর্থ্যের মধ্যে নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত খাবার চান। পাশাপাশি মূল্যতালিকা দৃশ্যমান রাখা, আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, খাবারের পরিমাণ ঠিক রাখা এবং বসার ব্যবস্থা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। যা বলছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান ও মূল্য পর্যবেক্ষণে একটি মনিটরিং কমিটি কাজ করছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ড. কেএএম রিফাত হাসান বলেন, ক্যাফেটেরিয়ার মান ও সেবার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ চলমান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপদ খাবার নিশ্চিতের চেষ্টা করছে।