অপরাধ

তিন পাসপোর্টে আট বছরে অন্তত ২৫ বার বিদেশ ভ্রমণ করেন কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মো. আইয়ুব!

Jamil Saxona সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ 0
তিন পাসপোর্টে আট বছরে অন্তত ২৫ বার বিদেশ ভ্রমণ করেন কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মো. আইয়ুব!
মো. আইয়ুবের

 


কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, গাজীপুরের সহকারী কমিশনার মো. আইয়ুবের বিরুদ্ধে তিনটি সচল পাসপোর্ট ব্যবহার করে আট বছরে অন্তত ২৫ বার বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগ উঠেছে। এসব ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁর ঘন ঘন বিদেশযাত্রা, একাধিক পাসপোর্ট ব্যবহার এবং বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগের সঙ্গে অর্থপাচারের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়ে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। মো. আইয়ুব সরকারি চাকরিতে থাকা সত্ত্বেও তাঁর ব্যক্তিগত পাসপোর্টে পেশা হিসেবে ‘প্রাইভেট সার্ভিস’ উল্লেখ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

দুদকে অভিযোগ দাখিলের কয়েক দিনের মধ্যেই মো. আইয়ুবকে তাঁর কর্মস্থল গাজীপুর থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে ‘বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা’ (ওএসডি) হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মো. আইয়ুবের নামে তিনটি পাসপোর্ট ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে BP03795 নম্বরের পাসপোর্টটি সবচেয়ে পুরোনো। এই পাসপোর্ট ব্যবহার করে ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ২০২০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সাতবার ভারতে ভ্রমণের রেকর্ড রয়েছে।  এরপর A033271 নম্বরের পাসপোর্ট ব্যবহার করে ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারত, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০টি বিদেশ ভ্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ A091834 নম্বরের পাসপোর্ট ব্যবহার করে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত থাইল্যান্ড, চীন ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও আটটি বিদেশ ভ্রমণের রেকর্ড পাওয়া গেছে।  তিনটি পাসপোর্টে মোট অন্তত ২৫টি বিদেশ ভ্রমণের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মো. আইয়ুব ভারত, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), চীন, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর—এই ছয় দেশে অন্তত ২৫ বার ভ্রমণ করেছেন। এর মধ্যে ভারতে ১২ বার, থাইল্যান্ডে সাত বার, সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুই বার, চীনে দুই বার এবং মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে একবার করে ভ্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, তাঁর বর্তমান পাসপোর্টটি ‘সাধারণ’ পাসপোর্ট হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। A091834 নম্বরের এই পাসপোর্টটি ১৩ নভেম্বর ২০২৪ ইস্যু করা হয় এবং এর মেয়াদ ১১ নভেম্বর ২০৩৪ পর্যন্ত। সম্প্রতি বিশ্ব মাস্টার্স অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে এনবিআরের অনুমোদনসংক্রান্ত চিঠিতেও তাঁর এই পাসপোর্ট নম্বর উল্লেখ করা হয়। ওই চিঠিতে আগের পাসপোর্ট নম্বর হিসেবে A033271-এর উল্লেখ রয়েছে। তবে প্রাথমিক অনুসন্ধানে BP03795 নম্বরের আরেকটি পাসপোর্ট ব্যবহারের তথ্যও পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের মনোনয়নে দক্ষিণ কোরিয়ার দেগুতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে এনবিআরের দুই সহকারী কমিশনারকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের একজন ছিলেন মো. আইয়ুব। রাজস্ব ভবন থেকে গত ৩ আগস্ট জারি করা এক চিঠিতে বলা হয়, ২০ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেগুতে অনুষ্ঠিতব্য ওই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে মো. আইয়ুব ও ঢাকা (দক্ষিণ) কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের সহকারী কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে মো. আইয়ুবের বর্তমান পাসপোর্ট নম্বর A091834 উল্লেখ করা হয় এবং আগের পাসপোর্ট নম্বর হিসেবে A033271-এর তথ্য দেওয়া হয়।

সরকারি চাকরিজীবীদের ব্যক্তিগত বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি, ছুটি এবং ক্ষেত্রবিশেষে সরকারি আদেশের প্রয়োজন হয়। তবে দুদকে দেওয়া অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, মো. আইয়ুব তাঁর একাধিক বিদেশ ভ্রমণের আগে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় অনুমতি গ্রহণ করেননি।

অভিযোগকারীর দাবি, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অনুমোদন ছাড়া একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এসব ভ্রমণের ব্যয় কীভাবে বহন করা হয়েছে এবং বিদেশে অবস্থানকালে কোনো আর্থিক লেনদেন বা সম্পদ অর্জনের ঘটনা ঘটেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে।

বিশেষ করে একই ব্যক্তির নামে একাধিক পাসপোর্ট ব্যবহারের বিষয়টি কীভাবে হয়েছে, বিভিন্ন সময়ে পাসপোর্টে পেশাগত পরিচয়ের তথ্য কেন ভিন্ন ছিল এবং সরকারি অনুমোদন ছাড়াই বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগের সত্যতা কতটা—এসব বিষয় যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। 

উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. আইয়ুবের বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিল প্রধান তিন বিরোধী দল

ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।

অপরাধ

View more
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের সাক্ষাৎ
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের সাক্ষাৎ

  রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। রোববার বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। ভাইস চ্যান্সেলরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নাজমুল হোসাইন, স্নাতকপূর্ব শিক্ষা বিষয়ক স্কুলের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. আশেক কবির চৌধুরী, রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন, আঞ্চলিক কেন্দ্র সমন্বয় দপ্তরের পরিচালক মো. আমিনুল আক্তার এবং অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা দপ্তরের পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন। সাক্ষাৎকালে ভাইস-চ্যান্সেলর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রমের সার্বিক চিত্র রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর গত দুই বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এর মাধ্যমে যেসব পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে, সেসব বিষয়েও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন তিনি। এ সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জেলাভিত্তিক পারফর্মিং আর্টস কলেজ প্রতিষ্ঠা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ, দ্রুততম সময়ে পরীক্ষার ফল প্রকাশ, ইংরেজি ও আইসিটি শিক্ষাকে আরও গুরুত্ব দেওয়া, দেশব্যাপী শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি প্রান্তিক অঞ্চলের কলেজগুলোর শিক্ষার মান উন্নয়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কেও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব উদ্যোগের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে চ্যান্সেলর হিসেবে প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা প্রদানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকালে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ বাস্তবায়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কেও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা হয়। কারিকুলাম ও সিলেবাস সংস্কারের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, কর্মমুখী ও সময়োপযোগী করার জন্য ইতোমধ্যে গৃহিত উদ্যোগগুলোর কথাও তুলে ধরেন ভাইস-চ্যান্সেলর। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

News সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ 0
শিল্পকলার শামীম আকতারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-জালিয়াতির অভিযোগ

শিল্পকলার শামীম আকতারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-জালিয়াতির অভিযোগ

তিন পাসপোর্টে আট বছরে অন্তত ২৫ বার বিদেশ ভ্রমণ করেন কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মো. আইয়ুব!

তিন পাসপোর্টে আট বছরে অন্তত ২৫ বার বিদেশ ভ্রমণ করেন কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মো. আইয়ুব!

অধ্যাপক জাফর ইকবাল ও ঢাবির সাবেক ভিসি ড. মাকসুদ কামালের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

অধ্যাপক জাফর ইকবাল ও ঢাবির সাবেক ভিসি ড. মাকসুদ কামালের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়’
বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়’

  কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেছেন, আইফোন ছিনিয়ে নিতে বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করা হয়, পরে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। তিনি জানান, হত্যার ঘটনায় তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া আটক করা হয়েছে সিয়াম নামে আরো একজনকে। রোববার দুপুরে কুমিল্লায় কিশোর অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মো. আনিসুজ্জামান বলেন, জিডির ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করা হয়। সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, তুহিন অপ্রতিমকে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়। এর ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়। পরে নিখোঁজ অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন স্বীকার করে, আইফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল ফাহাদ। পরে ফাহাদকে আটক করা হলে জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ জানায়, কামরুলও জড়িত ছিল। এরপরই তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুহিনের বাসা থেকে আইফোন উদ্ধার করা হয়। দুই দফা জানাজার নামাজ শেষে কুমিল্লার কোটবাড়ির বাগমারা গোরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাগমারা কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে (মসজিদের সামনে) এবং দ্বিতীয় জানাজা বাগমারা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার আর নতুন করে কিছু বলার নেই, আমি কেবল আমার সন্তান হত্যার উপযুক্ত বিচার দেখতে চাই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এখনো পর্যন্ত আমার পূর্ণ আস্থা আছে। তবে সামান্য একটা আইফোনের জন্য আমার ছেলেকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে—এ কথা আমার মন কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছে না। আমার মাত্র ১৩ বছর বয়সি নিষ্পাপ ছেলেটা তো কোনো অপরাধ করেনি; তবে কেন তাকে এভাবে প্রাণ দিতে হলো? এই মুহূর্তে আমি শুধু ঘাতকদের কঠোর বিচার চাই।’ আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আমার ছেলে যাদের সঙ্গে গিয়েছিল, তাদের সে নিজের বন্ধু ভেবে বিশ্বাস করেছিল। তাদের কাঁধে স্নেহের হাত রেখে আমার ছেলে হাসিমুখে হাঁটতে হাঁটতে ওই পাহাড়ের দিকে গিয়েছিল। সে মনে করেছিল ওগুলো বন্ধুর ভালোবাসার হাত, কিন্তু সেই বিশ্বাসের হাতগুলোই শেষ পর্যন্ত আমার মাসুম বাচ্চাটাকে হত্যা করল!’ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের লাশ শনিবার দুপুরে কুবি ক্যাম্পাসসংলগ্ন লালমাই সানন্দা পাহাড়ি এলাকার একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়। আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে পরিকল্পনা করে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।

News সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ 0
স্বৈরাচার পূণঃ বাসনে ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মা গণপূর্ত প্রকৌশলী ফযসাল আলম!

স্বৈরাচার পূণঃ বাসনে ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মা গণপূর্ত প্রকৌশলী ফযসাল আলম!

গণপূর্ত প্রকৌশলী তামজিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ধর্ষণের অভিযোগ

গণপূর্ত প্রকৌশলী তামজিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ধর্ষণের অভিযোগ

ক্যাবের ‘আলাদিনের চেরাগ’ প্রকৌশলী শাহিনুর

ক্যাবের ‘আলাদিনের চেরাগ’ প্রকৌশলী শাহিনুর

সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র বড় সাফল্য ৩ কোটির ও বেশি টাকার চোরাচালানী পণ্য জব্দ
সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র বড় সাফল্য ৩ কোটির ও বেশি টাকার চোরাচালানী পণ্য জব্দ

  মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ  চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ​চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট সীমান্তে সফল অভিযান পরিচালনা করে তিন কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিপুল পরিমাণ চোরাচালানী পণ্য জব্দ করেছে।​১ম অভিযান: সোনামসজিদ বিওপি গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৮:৪৫ ঘটিকায়, মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) এর ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার এডি সেখ মনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে সোনামসজিদ বিওপির একটি চৌকস টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। টহল দলটি সীমান্ত পিলার ১৮৪/২-এস হতে আনুমানিক ৩ কি.মি. বাংলাদেশের অভ্যন্তরে, শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের মুসলিমপুর গ্রামস্থ শাহাবাজপুর কলেজের সম্মুখস্থ পাকা রাস্তায় একটি মালিকবিহীন ভারতীয় ট্রাক (রেজিঃ নম্বরবিহীন) তল্লাশী করে। এসময় ট্রাকে রক্ষিত পাথরের মধ্যে অত্যন্ত সুকৌশলে লুকায়িত অবস্থায় ৭০৮ পিস ভারতীয় ট্রাকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং ৫টি বেনারসি শাড়ী উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত ভারতীয় ট্রাক এবং চোরাচালানী পণ্যগুলোর সর্বমোট আনুমানিক মূল্য ২,৫৭,৭৯,০০০ (দুই কোটি সাতান্ন লক্ষ ঊনআশি হাজার) টাকা। ​২য় অভিযান: খড়কপুর বিওপি পরের দিন, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ আনুমানিক সকাল ৮:৪০ ঘটিকায়, খড়কপুর বিওপি’র একটি বিশেষ টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানটি সীমান্ত পিলার ২০১/৮৩-এস হতে আনুমানিক ১ কি.মি. বাংলাদেশের অভ্যন্তরে, ভোলাহাট উপজেলার ভোলাহাট ইউনিয়নের আলীমোড় গ্রামস্থ পাকা রাস্তায় চালানো হয়। টহলদলটি ১৩৫টি ভারতীয় বিভিন্ন মডেলের চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করে এবং ১টি ইজিবাইক জব্দ করে। জব্দকৃত মালামাল এবং ইজিবাইকটির মোট আনুমানিক মূল্য ৪৯,১৫,০০০ (ঊনপঞ্চাশ লক্ষ পনের হাজার) টাকা। বিজিবি’র উপস্থিতি টের পেয়ে ইজিবাইকের চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ​বিজিবি'র প্রতিক্রিয়া: জব্দকৃত চোরাচালানী পণ্যের বিষয়ে বিজিবি’র পক্ষ হতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।  মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, "বিজিবি সকল প্রকার চোরাচালানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং দেশের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।"

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
স্ত্রীসহ আসিফ মাহমুদের তথ্য চেয়ে বিএফআইইউকে দুদকের চিঠি

স্ত্রীসহ আসিফ মাহমুদের তথ্য চেয়ে বিএফআইইউকে দুদকের চিঠি

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যেই পদোন্নতির দৌড়ে এ কে এম সোহরাওয়ার্দী

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যেই পদোন্নতির দৌড়ে এ কে এম সোহরাওয়ার্দী

উত্তরপ্রদেশে স্কুলের সামনে মুসলিম শিক্ষককে গুলি করে হত্যা

উত্তরপ্রদেশে স্কুলের সামনে মুসলিম শিক্ষককে গুলি করে হত্যা

0 Comments