অপরাধ

জয়েন্ট স্টকে ‘ঘুষই গতি’, নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

হোসেন মাঝি আগস্ট ৩০, ২০২৬ 0
জয়েন্ট স্টকে ‘ঘুষই গতি’, নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়
কেএম নূরুন্নবী

 


ভুক্তভোগীরা জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্টারের উপাধি দিয়েছে একেএম নূরুন্নবী দুর্নীতির মহাকবি। বিভিন্ন সুত্র বলছে জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্টার নুরুন্নবী গত ২ বছরে দুর্নীতি করে কমপক্ষে ২ শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অভিযোগ আছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন দুর্নীতিবাজ কর্মচারী নুরুন্নবীকে অপকর্মে প্রতিপোষণ দিয়েছে।

টাকা দিলে নতুন কোম্পানি বা সোসাইটি কিংবা সংগঠনের সরকারি নিবন্ধন পাওয়া যায় একদিনে। আবেদন দেয়ার একদিন পরেই ১ থেকে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দিলে পাওয়া যায় সংস্থা বা কোম্পানির অনুমতি। তবে ঘুষ না দিলে যতোই নিয়মতান্ত্রিক হোক কিংবা আবেদনকারী ক্ষমতাধর হোক কাউকে নিবন্ধন দেবে না রেজিস্টার নুরুন্নবী। এতেই ভুক্তভোগীরা যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর বা আরজেসির অফিস ভবন বা টিসিবি ভবনের দেয়ালে পোস্টারিং করেছে “রেজিস্টার একেএম নুরুন্নবী দুর্নীতির মহাকবি”। গতকাল সকলে পোস্টার দেখা গেলেও দুপুরে দেয়াল থেকে উধাও হয়েছে রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ছড়ানো পোস্টার।

টিসিবি ভবন ১ নং কারওয়ান বাজারে বসেন দুর্নীতির এই মহাকবি। সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তিনি দুর্নীতি করেও হয়েছেন নাম্বার ওয়ান (১ নং)। তার কার্যালয়ের প্রায় সকল কর্মকর্তা কর্মচারী সরকারি সেবা দেয়ার আগে গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ টাকা ঘুষ লেনদেনের সাথে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। তবে, জয়েন্ট স্টকের সৎ কর্মকর্তা কর্মচারীরা গ্রাহকের সাথে সরাসরি টাকা লেনদেন না করে, দালাল চক্রের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেন করে থাকে। ১নং কারওয়ান বাজার টিসিবি ভবনে বহু সরকারি বেসরকারি অফিসের ব্যবহারের জন্য বৃহৎ ৪টি লিফট থাকলেও শত-শত দালাল লাইন দিয়ে জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে চলাচল করে লিফটগুল সর্বদা ব্যাস্ত রাখে। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে সিঁড়ি দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।

টিসিবি ভবনের নিচ তলা ও তার আশেপাশে কাব্যকস ভবন, তাজ ম্যানশন, এসি ভবন ছাড়াও কম্পিউটার নিয়ে ছড়িয়ে থাকা শতশত দালাল বসে থাকে জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিষ্ট্রেশন করিয়ে দেয়ার জন্য। দোকানের সামনে ঝুলে থাকা ব্যনারে লেখা আছে; “জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিষ্ট্রেশন কনসালটেন্ট ফার্ম”। টিসিবি ভবনের পেছনে পেট্রোবাংলা গলি বা কাঠপট্টির গলিতে এসি ভবন ৩/বি ঠিকানা বসে সোহাগ ভুঁইয়া। সোহাগ ভুঁইয়ার বসার স্থান একটি যতোটুকু তাতে ছোট্ট একটি প্লাস্টিকের চেয়ার বসবে কোনরকমে। তার ছোট্ট একটি চেয়ার ও কম্পিউটার নিয়ে বসার স্থান সামনে পেছনে এক গজ জায়গায় হবে। তার ভিজিটিং কার্ডে লেখা রয়েছে তিনি সিএফ কনসালটেন্সির উপদেষ্টা।

ভবনের গলিতে মানুষ চলাচল করলে এই উপদেষ্টার বসার চেয়ারে ধ্বাক্কা লাগে। উপদেষ্টা সোহাগ ভুঁইয়া সেই স্থানে বসতে মাসিক ভাড়া দেয় ৩৫ হাজার। এর পরে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের টাকা দেয়া ছাড়াও অন্য অন্য খরচ করতে হয় তাকে। সোহাগ ভুঁইয়া বলেছেন তিনি ইউনুস সরকারের (ইন্টেরিয়াম সরকার) শুরু থেকে আজ পর্যন্ত কয়েকশো সোসাইটি ও কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন নেয়ার আবেদন করিয়েছে। চোর, ডাকাত, মাদকাসক্ত, চোরাকারবারি, ছিনতাইকারী, পলাতক আসামি, খুনি, বখাটে, হিরোইনখোর, (নতুন ভোটার হয়েছে এমন) নানাপ্রকার কিশোর অপরাধীরা নামে-বেনামে কোম্পানি ও সংগঠন রেজিষ্ট্রেশন করিয়ে নিয়েছে। সোহাগ ভুঁইয়ার বিকাশ নাম্বার চেক করলে বের হবে কতো লাখ টাকা লেনদেন হয় মাসে।

সোহাগ ভুঁইয়ার মতো শতশত দালাল ওঁৎ পেতে বসে আছে কম্পিউটার নিয়ে, নানাবিধ কনসালটেন্সি ফার্মের নাম দিয়ে। তাদের বক্তব্য গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই যাচাই-বাছাই করে না এই সুযোগ গ্রহণ করছে জয়েন্ট স্টকের লোকসহ সকলে। সবচেয়ে বেশি সুবিধাজনক অবস্থায় আছে জয়েন্ট স্টকের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। আবেদন দেয়ার সাথে সাথেই রেজিষ্ট্রেশন। শুধু দরকার হবে নগদ টাকা। সোহাগ ভুঁইয়া মতো শতশত উপদেষ্টা, পরিচালক, এমডি, প্রোপ্রাইটর পরিচয় দিয়ে একটি গঠনতন্ত্র সকল মানুষের প্রয়োজনে ব্যবহার করে। শুধু সোসাইটি বা কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে মালিকানা সংশোধন এবং উদ্যোক্তাদের নাম ছবি পরিচয় পরিবর্তন করেই নতুন সংস্থা বা কোম্পানির কাগজ তৈরি করে আবেদন জমা দেয়। জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিষ্ট্রেশন ব্যবস্থা করে দিতে এই কম্পিউটার অপারেটারদের ক্ষমতা লক্ষনীয়। তারা চাইলে এক দিনের মধ্যেই রেজিস্টেশন হয়। বেশি দিন লাগলে সর্বোচ্চ দুই দিন। নামের ছাড়পত্রের জন্য ২৩ শতো এবং রেজিষ্ট্রেশনের জন্য সরকারি ফি ১৮ হাজার, মোট ২০ হাজার পাচ শতো খরচ। সোসাইটির গঠনতন্ত্র ও কমিটির নাম ছবি সাজিয়ে দিতে কম্পিউটার অপারেটরেরা গ্রাহকদের নিকট থেকে নেয় ১৫ হাজার। টোটাল খরচ ৩৫ হাজার। ১৫ হাজার টাকা নিয়ে এক ঘন্টায় কাজ কমপ্লিট করে। ১৫ হাজার টাকার এই কাজ অন্য কোথাও করলে খরচ হওয়ার কথা সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা।

কম্পিউটার অপারেটর সোহাগ ভুঁইয়ার জবানবন্দিতে জানা জায় তিনি “বাংলাদেশ সার্ভেয়ার সোসাইটি” নামের একটি সংস্থার অনুমতি এনে দিতে ৭০ হাজার টাকা ঘুষ লেনদেনেরের সাথে যুক্ত হয়। সোহাগ ভুঁইয়া নিজে ওই সংস্থার সব ধরনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে জয়েন্ট স্টকে রেজিস্টেশনের জন্য আবেদন জমা দেয়। ২০২৬৩৯৭৩২৭ আবেদনটির সাবমিট নাম্বার। রেজিস্ট্রারের নিকট থেকে সংস্থাটির রেজিষ্ট্রেশন এনে দিতে পারবে এমন একজন সাংবাদিকের সাথে সোহাগ ভুঁইয়া কন্টাক্ট করে ৪০ হাজার টাকায়। বাংলাদেশ সার্ভেয়ার সোসাইটি নামের ওই সংস্থা অনুমতি নেয়ার ব্যাপারে করা কন্টাক্ট ২দিন পরেই প্রত্যাহার করে সোহাগ ভুঁইয়া ওই সাংবাদিককে জানায় লাইসেন্স হয়েগেছে। জুলাই এর ২ তারিখ বাংলাদেশ সার্ভেয়ার সোসাইটি জয়েন্ট স্টকের কম্পিউটার অপারেটর রিয়াজ উদ্দিনের টেবিলে পরীক্ষাধীন ছিলো। রিয়াজ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করে জানাযায় তার টেবিল থেকে ফরোয়ার্ড করে যথাযথ কর্মকর্তার কাছে দেয়া হয়েছে। সংস্থাটির অনুমতিতে কোন ঘুষ লেনদেন হওয়ার ব্যাপারে এই কম্পিউটার অপারেটার কোন মন্তব্য করতে চায়নি।

ভুক্তভোগীর বক্তব্য ; সজল নামের নারায়নগঞ্জের একজন বাসিন্দার সাথে সাক্ষাৎ হয়। তিনি বলেন তার জন্মস্থান এলাকা বরিশালের একটি গ্রামীণ উন্নয়ন সোসাইটির রেজিষ্ট্রেশনের জন্য তিনি এসে বহুরকম হয়রানির স্বীকার হয়েছেন। এক পর্যায়ে জয়েন্ট স্টক কোম্পানির নিবন্ধকের সহকারী খায়েরকে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে তার সোসাইটি অনুমোদন পেয়েছে। ঘুষ নেয়ার অভিযোগের সত্যতা জানতে জয়েন্ট স্টেকের উচ্চমান সহকারী মোহাম্মদ আবুল খায়ের (পিএ টু রেজিস্ট্রার) কোন মন্তব্য করেনি। তার হটসঅ্যপে টেক্সট দিয়ে উত্তর জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে। একই দিনে মোঃ শামসুদ্দিন শামস নামের আরো একজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, জয়েন্ট স্টক কোম্পানির অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারী ঘুষ লেনদেনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। এরা এক হাতে টাকা নেয় অন্য হাতে রেজিষ্ট্রেশন দেয়। নিবন্ধক একেএম নূরুন্নবী কবির, রণজিৎ কুমার রায় উপ নিবন্ধক, যাদব কুমার পোদ্দার সহকারী নিবন্ধক, আবুল খায়ের পিএ টু রেজিস্ট্রার ছাড়াও কয়েকজন কর্মকর্তা শামসুদ্দিন শামসের কাছে সরাসরি টাকা চেয়ে বলেন, টাকা ছাড়া আসলে কোন সোসাইটি বা সংস্থার অনুমতি হয় না। রেজিস্ট্রার স্যারের নির্ধারিত খাম রাখতে হয়, এর পরেই রেজিষ্ট্রেশন। লেনদেন কম বা চাহিদা মাফিক না হওয়ায় এক পর্যায়ে শামসুদ্দিন শামসের সাথে আবুল খায়ের পিএ টু রেজিস্ট্রার বাদানুবাদে জড়িয়ে পরে। এই ভুক্তভোগী বলেছেন, তার সোসাইটির অনুমতির জন্য তিনি হাইকোর্ট যাবেন এবং জয়েন্ট স্টক কোম্পানির কর্মকর্তাদের দুর্নীতি তদন্ত ও বিচার চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অবহিত করবেন।

খুঁটির জোর: মন্ত্রণালয় সাংবাদিক ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আলম বলেন মন্ত্রণালয়ের অনেকেই জয়েন্ট স্টকের রেজিস্ট্রার নুরুন্নবীর নিকট থেকে কোটি কোটি টাকা ঘুষের অংশ গ্রহণ করে। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে টাকা দিলেই কোম্পানি বা সংস্থা অনুমতির জন্য ঘুষ লেনদেনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের শুরু থেকে তার সংগঠনের অনুমোদন পেতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টিও শাখায় আবেদন করে অনুমতির জন্য। মন্ত্রী ও সচিব এবং টিও শাখার মহাপরিচালক সকলের কাছে যেতে যেতে বহু হয়রানি হওয়ার এক পর্যায়ে টিও শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব আশরাফুল সিদ্দিক স্বাক্ষরিত একটি পত্র পেয়েছেন সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আলম। চার মাস হয়রানির পরে পাওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে- জয়েন্ট স্টকের রেজিস্ট্রারের কাছে যেতে। জয়েন্ট স্টক রেজিস্ট্রার নুরুন্নবী তার সহকারী আবুল খায়েরকে দেখিয়ে ফয়সাল আলমকে বলেন তার সাথে যোগাযোগ রাখতে। পরের দিন আবুল খায়ের ১৪ লাখ টাকা চেয়ে ফয়সাল আলমকে জানিয়েছে আগামীকাল আপনার ফাউন্ডেশন রেজিষ্ট্রেশন হবে। এতে বিস্মিত হয়ে ফয়সাল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠি নিয়ে গেলাম, রেজিস্ট্রার মন্ত্রণালয়ের চিঠি গুরুত্ব দিলো না। বিষয়টি মন্ত্রণালয় সাংবাদিক ফোরাম এর সাধারণ সভায় উপস্থাপন করলে পরে খারিজ হয়ে যায়। টাকা দিয়ে সংস্থা অনুমতি নিতে আগ্রহী নয় তার কমিটির সদস্যরা।

১৪ লাখে সোসাইটির নিবন্ধন দেয়ার ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রেফারেন্স ব্যবহার করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সাংবাদিক ফোরাম অনুমতি চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টিও শাখায় আবেদন করেন ফয়সাল আলম। আবেদনের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জয়েন্ট স্টকের রেজিস্ট্রারের কাছে যাওয়া অনুরোধ করলে ফয়সাল আলম ওই রেজিস্ট্রারের সহযোগিতা চায়। একদিন পরে ফয়সাল আলমকে ফোন করে রেজিস্ট্রার বলে, আপনার নামে অন্য এক সাংবাদিক অভিযোগ দিয়েছে তাই আপনার সংগঠন অনুমতি পেতে বিলম্ব হবে। এর পরের দিন আবু তালেব নামের একজন লোক এই সংস্থার অনুমতি দিতে পারবে বলে ১৪ লাখ টাকা দাবি করে। জয়েন্ট স্টকের পাশে “কাব্যকস” নামের একটি ভবনে আবু তালেবের অফিস রয়েছে। জয়েন্ট স্টক থেকে কোম্পানির অনুমতি পাইয়ে দিতে ক্লায়েন্টকে আইনি সহায়তা দিয়ে থাকেন এই আবু তালেব। ফয়সাল আলম বলছেন জয়েন্ট স্টকের চারপাশে এরকম শতাধিক আবু তালেব আছে, যারা রেজিস্ট্রার নুরুন্নবীর ঘুষ লেনদেনের সহযোগীতা করার জন্য অফিস খুলে বসছে। ফয়সাল আলম নিশ্চয়তা দিয়ে অভিযোগ পুনঃব্যক্ত করেছেন; রেজিস্ট্রার নুরুন্নবী ইশারা ইঙ্গিতে টাকা চেয়েছে।

ফয়সাল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টিও শাখার ডিজি যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দারকে নজরদারি করেছি তিন মাসের বেশি সময়। পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, সচিব দুর্নীতি করবেই এটা স্বাভাবিক। তবে তাকে নানাভাবে দুর্নীতির পথ দেখায় আশেপাশের কর্মচারীরা। সচিবের দুর্নীতির বড় সহায়তাকারী হচ্ছে দুর্নীতিবাজ কর্মচারী বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালক যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দার। বাণিজ্য সংগঠনের অনুমতি নিতে আসা লোকজনের নিকট থেকে এই মহাপরিচালক নানারূপের সুবিধা ও সহায়তা গ্রহণ করে। ফয়সাল আলম বলেন, তিনি সরকারের অসৎ কর্মচারী। তার দুর্নীতির পাল্লা খুবই ভার। তিনি রাষ্ট্রের সামান্য কর্মচারী হয়েও সর্বক্ষণ তার অফিস কক্ষ ভেতর থেকে লক করে রাখে। মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ এরিয়া রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টনীতে রয়েছে। যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত অফিস করেন। সেখানে একজন সামান্য যুগ্মসচিব নিজের কক্ষে ভেতর থেকে তালা দিয়ে রাখে। নাজমুল নামের একজন অফিস সহকারী মহাপরিচালকের কক্ষের দরজায় দাঁড়ানো থাকে সশস্ত্র বাহিনীর নিরাপত্তা কর্মীর স্টাইলে। এমন স্টাইলে দেখা যায় না কোন সচিবের নিরাপত্তা কর্মীকেও। মন্ত্রণালয়ে আরো শতাধিক যুগ্মসচিব আছে। সকলের কক্ষ সর্বসাধারণের জন্য স্বাভাবিক ভাবেই খোলা দেখা যায়। সেখানে প্রবেশ করা যায়, সেবা নেয়া যায়। কিন্তু এই মহাপরিচালক নিশ্চয়ই মহাদুর্নীতি করে আত্মরক্ষার জন্য এভাবে অফিস রূদ্ধ করে রাখে। কিছুদিন আগে তিনি এক মাসের বেশি সময় যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেছেন। কি কারনে এই দীর্ঘ ছুটিতে ছিলো সেই সম্পর্কে কেউ কিছু জানে না।

 
এ ব্যাপারটা তার মন্তব্য নিতে মহাপরিচালক মোস্তফা জামাল হায়দারের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে তার কক্ষে প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ও নিষিদ্ধ থাকায় তার সাথে সাক্ষাৎ করা সম্ভব হয়নি। মোবাইলে কল করলেও তিনি পরে কল ব্যক করবেন বলে সক্রিয় টেক্সট দেন। কিন্তু পরে আর কথা বলেন না।

রেজিস্ট্রারের বক্তব্য : টাকা নিয়ে সনদ কোম্পানি বা সোসাইটির অনুমতি দেয়ার অভিযোগ নিয়ে ২০ আগষ্ট বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় জয়েন্ট স্টকের রেজিস্ট্রার নুরুন্নবী কবিরকে জিগ্যেস করলে তিনি বলেন; “আজ আমার চাকুরি জীবনের শেষ বৃহস্পতি। আপনি আরো কয়েকদিন ফোন করেছিলেন, ধরতে পারিনি অফিসে খুব বিজি থাকি। এই মুহুর্তে আমার সামনে ১০ লোক, ২টি হাত দিয়ে কাজ করি আরো ২টি হাত বেশি থাকলে আরেকটু বেশি কাজ করতে পারতাম। আমি আগামী রবিবার অফিস করবো না। সোমবার আসবো, সেদিন আপনি আসেন”। পরের সপ্তাহে অর্থাৎ ২৫ আগস্ট ২০২৬ ইং রেজিস্ট্রার নুরুন্নবী সরকারি চাকুরি থেকে অবসরে যাবেন। সুত্র বলছে, অবসরের সাথে সাথেই তিনি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সকল প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। কিছুদিন আগে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল কাগজ হারিয়ে যাওয়ার করা বলে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। বিজ্ঞাপনে দেখা যায় এ, কে, এম, নূরুন্নবী কবির (৫৮), পিতা: মোঃ জয়েন উদ্দিন, মাতা: মোসাঃ নুরজাহান বেগম, ঠিকানা (বর্তমান)-কাওরান বাজার টিসিবি ভবন, গ্রাম-কাওরান বাজার, ইউনিয়ন/ওয়ার্ড-ওয়ার্ড নং-নতুন-২৬ (পুরাতন-৩৯), থানা-তেজগাঁও, জেলা-ঢাকা। এস.এস.সি, সাল ১৯৮২, রোল নং – ৫৯৯০৯, রেজি: নং – ৪১২৫৯, এইচ.এস.সি সাল ১৯৮৪, রোল নং-১২৯২৬, রেজি: নং- ২৪১৪ উভয় ঢাকা বোর্ড এবং বি.এস.সি. (সম্মান), রসায়ন বিভাগ, সাল-১৯৮৭ এবং এম.এস.সি. সাল-১৯৮৮, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তেজগাঁও থানা জিডি নং: ১৮৬৯ তারিখ: ২৯/০৬/২০২৬। তার সরকারি সার্ভিস আইডি নং ৫৯১৪ ভোটার আইডি 19675611076707257
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দপ্তরের এক কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলছেন, জয়েন্ট স্টকের এ.সি.আর অত্যন্ত অসন্তোষজনক। কোন পক্ষ যদি মন্ত্রী পরিষদের কাছে অভিযোগ দেয় তা যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করে দেখা হতে পারে। বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এ.সি.আর) হ‌চ্ছে কো‌নো সরকারি কর্মচারীর কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন ক‌রে তার অব্যবহিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রদত্ত প্রতিবেদন। শুধু কর্মদক্ষতা মূল্যায়নই নয়, এতে তার আচরণ, চ‌রিত্র এবং সততা সম্পর্কেও সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ উ‌ল্লেখ করা হয়।

জয়েন্ট স্টকে কর্মরত আইনজীবী ও স্টেক হোল্ডাররা উক্ত দুর্নীতিবাজ রেজিস্ট্রার নুরুন্নবী কবিরসহ আরজেএসসির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

অপরাধ

View more
চাকরিতে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য, এলজিইডির CRALEP প্রকল্পে নওরিনকে ঘিরে অভিযোগ
চাকরিতে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য, এলজিইডির CRALEP প্রকল্পে নওরিনকে ঘিরে অভিযোগ

  প্রকল্প কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারের যোগসাজশের অভিযোগ, পিডি সনিয়া নওরিনকে ঘিরে উঠছে নানা প্রশ্ন। কাগজে উন্মুক্ত টেন্ডার, নির্ধারিত মূল্যায়ন পদ্ধতি ও সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্প সবই আছে। কিন্তু এর আড়ালেই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) জলবায়ু সহনশীল ও জীবিকা উন্নয়ন প্রকল্প (সিআরএএলইপি)-এর আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগকে ঘিরে বড় ধরনের অর্থবাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের পিএমইউ ও পিআইইউ ইউনিটে জনবল সরবরাহের সুযোগকে কেন্দ্র করে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে পদভেদে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার চেষ্টা চলছে। আর এ প্রক্রিয়ায় প্রকল্পের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। অভিযোগের তীর উঠেছে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) সনিয়া নওরিনের দিকেও। তাঁর নেতৃত্বাধীন প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। কেউ কেউ তাঁর বিরুদ্ধে ‘একনায়কতান্ত্রিকভাবে’ প্রকল্প পরিচালনা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই প্রয়োজন এবং অভিযোগের বিষয়ে পিডি সনিয়া নওরিনের বক্তব্যও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। টেন্ডার নথি অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন এলজিইডির প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় থেকে CRE_NCS_1001 প্যাকেজের আওতায় পিএমইউ ও পিআইইউ ইউনিটের জন্য আউটসোর্সিং কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টেন্ডার/প্রস্তাব আইডি 1308828 এবং প্রকল্প কোড 224421900। ক্রয় পদ্ধতি রাখা হয়েছে উন্মুক্ত টেন্ডারিং পদ্ধতি (OTM)। টেন্ডার সিকিউরিটি ৩০ লাখ টাকা, ডকুমেন্টের মূল্য ৪ হাজার টাকা এবং মূল্যায়নে পাসিং পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০। নথি অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানকে প্রায় চার বছর ধরে প্রকল্পে জনবল সরবরাহ করতে হবে। সম্ভাব্য সেবা শুরুর তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এবং সমাপ্তির তারিখ ২৯ আগস্ট ২০৩০। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি এই সরকারি প্রকল্পে জনবল সরবরাহের সুযোগকে ঘিরে বিপুল অর্থের লেনদেনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৪–৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে। শুধু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন নয়, প্রকল্পের অভ্যন্তরের একটি অংশও প্রার্থী বাছাই, তালিকা প্রস্তুত ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে উন্মুক্ত টেন্ডার ও নির্ধারিত মূল্যায়ন পদ্ধতির আড়ালে যদি আগে থেকেই প্রার্থী নির্ধারণ হয়ে থাকে, তাহলে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা কতটা নিশ্চিত? বিশেষ করে প্রকল্প পরিচালক সনিয়া নওরিনের প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও অভিযোগকারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। প্রকল্পের নিয়োগ ও জনবল ব্যবস্থাপনায় তাঁর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের ভূমিকা কী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কারা যোগাযোগ রাখছেন এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ দাবির অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে এসব প্রশ্নের উত্তর এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চার বছর মেয়াদি জনবল সরবরাহের এই টেন্ডারকে ঘিরে যদি সত্যিই জনপ্রতি লাখ লাখ টাকা লেনদেনের চেষ্টা হয়ে থাকে, তাহলে তা শুধু নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ নয়; সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। অভিযোগের বিষয় পিডি সনিয়া নওরিনের কাছে জানতে চাইলে, তিনি কোন মন্তব্য করেননি

News আগস্ট ৩০, ২০২৬ 0
জয়েন্ট স্টকে ‘ঘুষই গতি’, নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

জয়েন্ট স্টকে ‘ঘুষই গতি’, নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

আইন অমান্য করে প্রাইজ পোস্টিং! গণপূর্তের তৈমুর আলমের ‘ই/এম সিন্ডিকেটে’ পুড়ছে সরকারি অ

আইন অমান্য করে প্রাইজ পোস্টিং! গণপূর্তের তৈমুর আলমের ‘ই/এম সিন্ডিকেটে’ পুড়ছে সরকারি অ

ঋণসুবিধা নিয়েও রাজউকের ৫ আমলার দখলে সরকারি গাড়ি

ঋণসুবিধা নিয়েও রাজউকের ৫ আমলার দখলে সরকারি গাড়ি

জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকা ওয়াসার সদস্য হিসেবে নিয়োগ নিলেন ৭১ টিভির সিইও শফিক আহমেদ!
জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকা ওয়াসার সদস্য হিসেবে নিয়োগ নিলেন ৭১ টিভির সিইও শফিক আহমেদ!

  গত ৩০ জুলাই এক প্রজ্ঞাপনে ঢাকা সাংবাদিক ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক আহমেদকে সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেয়।  ১৭ ই আগষ্ট বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বিএফইউজে এর সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী বরাবর এক অভিযোগ করেন।  সেখানে দাবি করা হয়, একাত্তর টিভির সিইও সাংবাদিক শফিক আহমেদ জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকা ওয়াসায় নিয়োগ নিয়েছেন। যা বিএফইউজের মহাসচিব সভাপতি সহ সংগঠনের কার্যনিবাহী কমিটির ১৯ সদস্যের কেউ জানেন না। এমনকি শফিক আহমেদ বিএফইউজের ১৯ সদস্যের নির্বাহী কমিটিতেও নেই। জাল জালিয়াতির মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঢাকা ওয়াসার সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়া শফিক আহমেদ একজন আপাদমস্তক স্বীকৃত দুর্নীতিবাজ। তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে বিএফইউজে।

News আগস্ট ২৭, ২০২৬ 0
বিএমইটি ঘিরে একচেটিয়া প্রভাবের অভিযোগ

বিএমইটি ঘিরে একচেটিয়া প্রভাবের অভিযোগ

এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বেলালের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ; তদন্তে দুদক

এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বেলালের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ; তদন্তে দুদক

পিপিআর মানেননি কামরুল-ফিরাদুল, সমাজসেবায় পৌনে ৭ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

পিপিআর মানেননি কামরুল-ফিরাদুল, সমাজসেবায় পৌনে ৭ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

৮৮৪ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে পছন্দের ঠিকাদারকে সুবিধা দিতে প্যাকেজ তৈরির অভিযোগ
৮৮৪ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে পছন্দের ঠিকাদারকে সুবিধা দিতে প্যাকেজ তৈরির অভিযোগ

  বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পে প্রায় ৮৮৪ কোটি টাকার কাজের টেন্ডার প্যাকেজ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের কাজগুলো এমনভাবে বড় বড় প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছে, যাতে হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য ঠিকাদারদের দরপত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট খাতের একাধিক ঠিকাদারের দাবি, অতীতে ট্র্যাক মেরামত ও পুনর্বাসনের কাজ ২ থেকে ৫ কিংবা ৭ কোটি টাকার ছোট প্যাকেজে দেওয়া হলেও এবার বিভিন্ন এলাকার কাজ একত্র করে বড় আকারের প্যাকেজ তৈরি করা হয়েছে। ফলে বড় কাজের অভিজ্ঞতা ও আর্থিক সক্ষমতার শর্ত পূরণ করতে না পারায় ছোট ও মাঝারি ঠিকাদাররা প্রতিযোগিতা থেকে কার্যত বাদ পড়ছেন। তাদের অভিযোগ, এতে দরপত্রে প্রতিযোগিতা কমে গিয়ে নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আটটি প্যাকেজে ৮৮৩ কোটি ৭২ লাখ টাকার কাজ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সরঞ্জামসহ প্রায় ১ হাজার ৭৬১ কোটি টাকার ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় ট্র্যাক-সংক্রান্ত কাজের জন্য ৮৮৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় অনুমোদন দেওয়া হয় ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই। এই কাজগুলো মোট আটটি প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছে। প্যাকেজগুলোর মধ্যে রয়েছে— চট্টগ্রামের ষোলশহর-ফতেয়াবাদ-নাজিরহাট এবং ফতেয়াবাদ-চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অংশে প্রায় ৫৮ কোটি ৯০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। লাকসাম-নোয়াখালী সেকশনে ৪৬ কোটি ৩০ লাখ ৯ হাজার টাকা। জয়দেবপুর-শ্রীপুর অংশে ৩৯ কোটি ৭৬ লাখ ২৮ হাজার টাকা। ময়মনসিংহ-বেগুনবাড়ি, ময়মনসিংহ-মোহনগঞ্জ, শ্যামগঞ্জ জংশন-জারিয়া জাঞ্জাইল ও গৌরীপুর-ময়মনসিংহ জংশন-আঠারোবাড়ী অংশে ২৩৫ কোটি ৬ লাখ ১৭ হাজার টাকা। বেগুনবাড়ী-দেওয়ানগঞ্জ বাজার, জগন্নাথগঞ্জ ঘাট-তারাকান্দি এবং তারাকান্দি-বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব অংশে ২০০ কোটি ২২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ভৈরব বাজার জংশন-আঠারোবাড়ী অংশে ৫৩ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আখাউড়া-সাটিয়াজুরী অংশে ৫৯ কোটি ২৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা। সিলেট-সাটিয়াজুরী অংশে ১৯০ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ছোট ও মাঝারি ঠিকাদারদের অংশগ্রহণে সংকটের অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণ খাতের একাধিক ঠিকাদার জানান, বড় প্যাকেজের কারণে স্থানীয় এবং ছোট-মাঝারি ঠিকাদারদের অংশগ্রহণের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তাদের ভাষ্য, আগে একই ধরনের কাজ ছোট ছোট প্যাকেজে ভাগ করে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হতো। কিন্তু এবার বিভিন্ন এলাকার কাজ একত্র করে বড় প্যাকেজ করায় নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্যদের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। একজন ঠিকাদার বলেন, কাজের পরিধি অনুযায়ী মাত্র দুই থেকে চারটি প্রতিষ্ঠানের এসব প্যাকেজে অংশ নেওয়ার মতো যোগ্যতা রয়েছে। প্রতিযোগিতা সীমিত হলে স্বাভাবিকভাবেই দরপত্রের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো নথি বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সীমিত দরদাতা নিয়ে প্রশ্ন রেলের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সম্প্রতি আহ্বান করা দুটি টেন্ডারে খুবই সীমিতসংখ্যক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। তাদের দাবি, ২৩৫ কোটি টাকার একটি প্যাকেজে মাত্র একটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিয়েছে। অন্যদিকে ৩৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকার আরেকটি প্যাকেজে দুটি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, একক দরদাতা থাকা সত্ত্বেও ওই প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। তবে দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও তুললেন ঠিকাদাররা কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যারা রেলওয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যবসায়িক সুবিধা পেয়েছিলেন, তাদের একটি অংশ এখনও বিভিন্ন কাজ পাওয়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অনেক ঠিকাদার অতীতে রাজনৈতিক হয়রানি ও মামলা-মোকদ্দমার কারণে ব্যবসায়িকভাবে পিছিয়ে পড়েছেন বলেও তারা দাবি করেন। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব বা দুর্নীতির অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্যাকেজ ছোট করার দাবি, রেলওয়ের ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের দাবি, বড় প্যাকেজ ভেঙে ছোট ছোট প্যাকেজে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হলে প্রতিযোগিতা বাড়বে। এতে অধিকসংখ্যক যোগ্য ঠিকাদার অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন এবং সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী এবং ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. তানভীরুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া হলেও চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে ২০২৫ সালে। কাজের পরিধি বড় হওয়ায় প্রতিযোগিতা কম হয়েছে। তিনি জানান, ২০০ কোটি ও ১৯০ কোটি টাকার দুটি বড় প্যাকেজ ইতোমধ্যে ভেঙে অতিরিক্ত দুটি প্যাকেজ করা হয়েছে। তানভীরুল ইসলাম আরও বলেন, যদি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে প্যাকেজ আরও ছোট করার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে পিপিআর-২০২৫ অনুসরণ করেই দরপত্র প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টেন্ডার বাতিল বা সংশোধন করা হবে।

News আগস্ট ২৭, ২০২৬ 0
পাঁচ প্রকল্পে অনিয়মের পাহাড়

পাঁচ প্রকল্পে অনিয়মের পাহাড়

ইসলামিক ফাউন্ডেশনে কুরআন কিনতেও মহালুটপাট!

ইসলামিক ফাউন্ডেশনে কুরআন কিনতেও মহালুটপাট!

স্ত্রীর কর ফাইলের আড়ালে ১০ কোটি টাকা সাদা করার অভিনব জালিয়াতি: কাঠগড়ায় বিপুল দাস

স্ত্রীর কর ফাইলের আড়ালে ১০ কোটি টাকা সাদা করার অভিনব জালিয়াতি: কাঠগড়ায় বিপুল দাস

0 Comments