গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোর কাজের অদক্ষতা ও অবহেলার তথ্য পাওয়া গেছে। জানা গেছে, প্রয়োজনীয় জবাব ও প্রমাণের অভাবে ঝুলে আছে ওই মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ২৩টি অডিট আপত্তি। একই সঙ্গে গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) আটটি বিভাগীয় মামলা দীর্ঘ দিন ধরে অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে, যার মধ্যে দুটি এক বছরের বেশি সময় ধরে আটকে আছে।
এদিকে চিঠিপত্র নিষ্পত্তিতেও দেখা গেছে কর্মকর্তাদের উদ্যোগের ঘাটতি। এই পরিস্থিতিতে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গণপূর্ত সচিব মো. ওবায়দুর রহমান। তিনি অডিটে আর্থিক দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া অনিষ্পন্ন নথি ও চিঠি দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি দাপ্তরিক কার্যক্রম গতিশীল করতে চার মাসের মধ্যে ‘ডি-নথি’র ব্যবহার ৮০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য বেঁধে দেওয়া হয়েছে। গত ২৭ আগস্ট সচিবালয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ওই মাসের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় সভার আলোচনায় উঠে এসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এমন অদক্ষতা ও অবহেলার চিত্র। ওই সমন্বয় সভার কার্যপত্র বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
সভার কার্যপত্র সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই মাসে ২৮টি অডিট আপত্তির জবাব নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও মাত্র পাঁচটি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। একই সময়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) আটটি বিভাগীয় মামলা অনিষ্পন্ন রয়েছে। এর মধ্যে দুটি এক বছরের বেশি এবং ছয়টি ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে। তবে মন্ত্রণালয়ের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শাখায় চিঠিপত্র নিষ্পত্তির হার ৮৫ থেকে ৯৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে বলেও তাতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কার্যপত্র অনুযায়ী, জুলাই মাসে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার ১৯টি অডিট আপত্তির ব্রডশিট জবাব নিয়ে কাজ করে অডিট শাখা-১। এর মধ্যে মাত্র দুটি আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য পূর্ত অডিট অধিদপ্তরে সুপারিশসহ পাঠানো হয়। বাকি ১৭টির জবাব যথাযথ না হওয়ায় এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ না থাকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থাকে পুনরায় জবাব দিতে বলেছে পূর্ত অডিট কর্তৃপক্ষ।
অডিট শাখা-২ জুলাই মাসে আরও ৯টি অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে তিনটি আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো হলেও ছয়টি অডিট আপত্তির প্রয়োজনীয় প্রমাণ না থাকায় পুনরায় জবাব চেয়েছে। দুই শাখার হিসাব অনুযায়ী, মোট ২৮টি অডিট আপত্তির মধ্যে ২৩টির ক্ষেত্রেই জবাব বা প্রমাণের ঘাটতি রয়েছে। এসব আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দুটি অডিট কমিটি গঠন করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি অডিটে আর্থিক দুর্নীতি চিহ্নিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। গুরুতর আপত্তির ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও নির্দেশ দিয়েছে সচিব মো. ওবায়দুর রহমান।
বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি বেশ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়েছে সমন্বয় সভায়। সভায় জানানো হয়েছে, জুলাই মাসে গণপূর্ত অধিদপ্তরে মোট ১১টি বিভাগীয় মামলা ছিল। এর মধ্যে তিনটি নিষ্পত্তি হয়েছে। অবশিষ্ট আটটি বিভাগীয় মামলা এখনো নিষ্পত্তি করা যায়নি। এসব মামলার ৬টি ছয় মাসের বেশি এবং দুটি এক বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার ছয় মাস ও এক বছরের বেশি সময় ধরে অনিষ্পন্ন বিভাগীয় মামলার সঠিক পরিসংখ্যান পরবর্তী সমন্বয় সভায় উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কার্যপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অধিদপ্তর ও সংস্থাগুলোর চিঠিপত্র নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে বলে সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছ। জুলাই মাসে ভূমি ব্যবস্থাপনা শাখা-২-এ ১১৬টি চিঠির মধ্যে ১০০টি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ১৬টি অনিষ্পন্ন রয়েছে। এ শাখায় নিষ্পত্তির হার ৮৬ দশমিক ২০ শতাংশ। পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা শাখা-১-এর ১০১টি চিঠির মধ্যে ৯৫টি নিষ্পত্তি হয়েছে, অনিষ্পন্ন রয়েছে ছয়টি। শাখা-২-এর ১৩টি চিঠির মধ্যে সাতটি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ছয়টি অনিষ্পন্ন রয়েছে। এ দুই শাখায় নিষ্পত্তির হার যথাক্রমে ৯৪ দশমিক ৫ ও ৮৪ দশমিক ৬২ শতাংশ।
অনিষ্পন্ন চিঠি দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নথিতে উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন গণপূর্ত সচিব। এ সময় প্রতিটি শাখাকে প্রতি মাসের প্রথম তিন কার্যদিবসের মধ্যে আগের সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ প্রশাসন শাখায় পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এদিকে মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষসহ ছয়টি নবগঠিত কর্তৃপক্ষের প্রবিধানমালা ও সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির কাজ এখনো চলমান রয়েছে বলে সভার কার্যপত্র সূত্রে জানা গেছে।
এ ছাড়া সভায় মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কার্যক্রমেও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আগামী চার মাসের মধ্যে মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কার্যক্রম ডি-নথিতে নোট নিষ্পত্তির হার ৮০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নথির নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পুরোনো নথির কাভার পরিবর্তন এবং দাপ্তরিক নথি ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ‘সচিবালয় নির্দেশমালা-২০২৪’ অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
এবার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগের পর রাতেই মা‘রা গেছেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থককে নিয়ে গণসংযোগ করেন তিনি। এ সময় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আলোচনা প্রসঙ্গে খোকন বলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’ গণসংযোগ শেষে রাত ৯টার দিকে বাড়ি ফেরেন তিনি। রাত ১২টার দিকে হঠাৎ শরীরে ব্যথা অনুভব করলে স্বজনরা তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃ‘ত ঘোষণা করেন। তার মেজো ছেলে মো. সাঈদ জানান, সারাদিন প্রচারণায় ব্যস্ত থাকার পর সুস্থভাবেই বাড়ি ফিরেছিলেন তার বাবা। রাতে হঠাৎ বুক ব্যথায় তার মৃ‘ত্যু হয়। সাইফুল ইসলাম খোকনের মৃ‘ত্যু‘তে শোক জানিয়েছেন কুমিল্লা–৭ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন। এর আগে খোকন চান্দিনা উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী সংসদীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি কার্যপ্রণালি-বিধি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ও পিটিশন কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন। বাংলাদেশ সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধির সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসরণ করে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিন সংবিধান ও কার্যপ্রণালি-বিধি মেনে সংসদ নেতার অনুমতিক্রমে তার পক্ষে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি কমিটিগুলোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে স্পিকার পিটিশন কমিটি গঠন করেন। কার্যপ্রণালি-বিধি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধির ২৬৪ বিধি অনুযায়ী ২৬৩ ও ২৬৫ বিধিতে বর্ণিত কাজ ও দায়িত্ব পালনের জন্য ১২ সদস্যের কার্যপ্রণালি-বিধি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমকে। কমিটির সদস্যরা হলেন-ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (নেত্রকোনা-১), সালাহউদ্দিন আহমদ (কক্সবাজার-১), নূরুল ইসলাম মনি (বরগুনা-২), মো. আসাদুজ্জামান (ঝিনাইদহ-১), এ. এম. মাহবুব উদ্দিন (নোয়াখালী-১), মুহাম্মদ নওশাদ জমির (পঞ্চগড়-১), সাকিলা ফারজানা (মহিলা আসন-৮), সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের (কুমিল্লা-১১), শাহজাহান চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৫), মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (পাবনা-১) এবং আখতার হোসেন (রংপুর-৪)। পিটিশন কমিটিও স্পিকারের নেতৃত্বে সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধির ২৩১ ও ২৩২ বিধি অনুযায়ী নাগরিকদের পিটিশন পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনের জন্য ১০ সদস্যের পিটিশন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সভাপতিও মনোনীত হয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। পিটিশন কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (নেত্রকোণা-১), নূরুল ইসলাম মনি (বরগুনা-২), এ. বি. এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) (লক্ষ্ণীপুর-৪), রকিবুল ইসলাম (খুলনা-৩), এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু (নাটোর-২), মো. জি কে গউছ (হবিগঞ্জ-৩), মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু (শরীয়তপুর-৩), নাহিদ ইসলাম (ঢাকা-১১) এবং মো. রফিকুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ-৪)। এ ছাড়া সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটি এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
খুলনায় প্রথম দফায় ৯টি ইউনিয়নের ২৩ হাজার ১০৫ জন কৃষক কৃষি কার্ড পাবেন। বর্তমান সরকারের আমলে ৫ বছরে পর্যায়ক্রমে জেলায় কৃষি কার্ড পাবেন ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৬০৩ জন কৃষক। খুলনা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা যায়, কৃষকদের সুবিধার লক্ষ্যে ৯ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এসব ইউনিয়নগুলো কয়েকটি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। এরইমধ্যে দুটি ব্লকের (এরিয়া) জরিপের কাজ শেষ হয়েছে। তৃতীয় ব্লকের জরিপের কাজ চলছে। ইউনিয়নগুলো হলো, রূপসা উপজেলার নৈহাটি, বটিয়াঘাটা উপজেলার আমিরপুর, দিঘলিয়া উপজেলার গাজিরহাট, ফুলতলা উপজেলার সদর, ডুমুরিয়া উপজেলার ভান্ডারপাড়া, তেরখাদা উপজেলার ছাগলাদাহ, দাকোপ উপজেলার সদর, পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালি ও কয়রা উপজেলা সদর। কৃষি দপ্তর আরো জানায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ৭ সদস্যের কমিটি এ ৯ ইউনিয়নের ২৩ হাজার ১৫০ জন কৃষক কার্ড পাওয়ার যোগ্য বলে শনাক্ত করেছেন। এ কমিটির সদস্যরা মধ্য আগস্ট পর্যন্ত ১৮ হাজার ৪৭৯ জন কৃষকের নাম চূড়ান্ত করে তালিকা ব্যাংকে পাঠিয়েছে। কৃষকরা জনতা, সোনালী ও কৃষি ব্যাংক থেকে বার্ষিক অনুদানের অর্থ পাবে। প্রত্যেক কৃষক বছরে আড়াই হাজার টাকা করে অনুদান পাবেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কার্ডধারী কৃষকরা ন্যায্য মূল্যে সেচ, প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি, রোগ বালাই দমনে পরামর্শ, কৃষি পণ্য বিক্রির সুবিধা, কৃষি বিমা প্রশিক্ষণ, ভর্তুকি-প্রণোদনা, ঋণ ও কৃষি উপকরণ পাবেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. তৌহিদীন ভুঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষকরা কার্ড পাবেন। এটি ডেবিট কার্ড হিসেবে গণ্য হবে। এ কার্ডের মাধ্যমে প্রতিবছর কৃষকরা আড়াই হাজার টাকা করে সরকারি অনুদান পাবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।