অপরাধ

স্বৈরাচার পূণঃ বাসনে ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মা গণপূর্ত প্রকৌশলী ফযসাল আলম!

Jamil Saxona সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ 0
স্বৈরাচার পূণঃ বাসনে ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মা গণপূর্ত প্রকৌশলী ফযসাল আলম!
ফযসাল আলম!

 


হৃদয়ে স্বৈরাচার লালন ও মননে ফ্যাসিবাদ যিনি ধারণ করেন তিনিতো স্বৈরাচার আওয়ামী ঠিকাদারদের আর্থিকভাবে পূণ: বাসন করবেন-এটাই স্বাভাবিক। বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন আমুর পালিত পুত্র হিসেবে পরিচিত ফয়সাল আালম গত তিন বছর ধরে ফ্যাসিবাদকে আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালন করে আসছেন সরকারি অফিসকে ব্যবহার করে। আমুর প্রভাবে প্রথমে ঝালকাঠি পরবর্তীতে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পদে দায়িত্ব বাগিয়ে নিয়ে এই গণপূর্ত কর্মকর্তা বেনামী ঠিকাদারী ব্যবসা টেন্ডার বাণিজ্যসহ নির্মাণ মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ কাজগুলোতে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে বরাদ্দের মোটা অংকের অর্থ প্রতিবছর লোপাট করে আসছেন। অবৈধ উপায়ে আয়কৃত অর্থের একটি অংশ তিনি আ’লীগের বিতর্কিত একতরফা দ্বাদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পালিত বাবা আমির হোসেন আমু ও বিএনপি থেকে নৌকায় চড়ে বসা ব্যারিষ্টার শাহজাহান ওমরের নির্বাচনী কাজে ব্যয় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বরিশালে স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র-জনাতার আন্দোলন দমাতেও ছাত্রলীগের মাধ্যমে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন তিনি। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অতীতের ন্যায় তিনি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগে আ’লীগ সমর্থক ঠিকাদারদের বেশীরভাগ কাজ পাইয়ে দিয়েছেন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির আাশ্রয় নিয়ে। এরকম বহু প্রমাণ ‘বাঙালি সংবাদ’ এর হস্তগত হয়েছে।  ১২৫৬৪২১নং ওটিএম টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মেসার্স এস এ এন্টারপ্রাইজকে ১৮০০৯৬৫.০০০ টাকা চুক্তিমূল্যে  বরিশালে গণপূর্ত বিভাগের PWD) আওতাধীন সরকারি কার্যালয়, বাসভবন এবং পরিদর্শন বাংলোগুলির এয়ার-কুলারের বার্ষিক সার্ভিসিং ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজটি পাইয়ে দেওয়া হয়। এস এ এন্টারপ্রাইজ এর মালিক ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও টুঙ্গিপাড়া নিবাসী দীন ইসলাম। তিনি জুলাই অদ্ভ্যুত্থানের পর থেকে পলাতক আছেন। অথচ তার প্রতিষ্ঠানের নামে এরকম বহু কাজ পাইয়ে দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম নিজস্ব লোকজনের মাধ্যমে নিজেই করছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়।  


বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমরের সাথে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে নৌকা প্রতীকে জয়ী হন তিনি।


একইভাবে একই প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১২৬৮৬৩৩নং ওটিএম টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে ৮৮৭৭০২.৮২৬ টাকা চুক্তিমূল্যে বরিশাল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বরিশালের অন্যান্য ভবন ও কাঠামোর মেরামত, সংস্কার এবং বৈদ্যুতিক কাজ; ৩৮২১৩০.৮৪৭ টাকা চুক্তিমূল্যে ১১৪৫৬৯৯নং ওটিএম টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে একই প্রতিষ্ঠানকে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের চতুর্থ তলায় অবস্থিত দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এজলাস কক্ষে টাইলস স্থাপন এবং এজলাস কক্ষ ও স্টেনোগ্রাফারের কক্ষের কাঠের আসবাবপত্রে বার্নিশ ও রং করার কাজ; ১১৪৫৬৪৩ আইডির ব্যবহার করে ৪৪৯০৩০.৫০২ টাকা চুক্তিমূল্যে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র সহকারী বিচারকের ব্যক্তিগত কক্ষের অভ্যন্তরীণ সজ্জা, আলোকসজ্জা এবং আনুষঙ্গিক বৈদ্যুতিক কাজ; ১১৪৪০৫৪ নং টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে ৮৬৩১১১.৮৪৪ টাকা চুক্তিমূল্যে বরিশাল জেলা জজ কোয়ার্টারের ফাল্গুনী ভবনের দ্বিতীয় তলায় সিভিল, স্যানিটারি ও আনুষঙ্গিক বৈদ্যুতিক কাজ; ১১৪২৬৫৬ নং টেন্ডার আইডি ব্যবহার করে ৫৯১২১৫.৯৫৮ টাকা চুক্তিমূল্যে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারকের ব্যক্তিগত কক্ষে অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ও সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক কাজ; ১১৪৫২৫৬নং টেন্ডার আইডির মাধ্যমে ৬৩৩২৭৫.৮০২ টাকা চুক্তিমূল্যে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারকের ব্যক্তিগত কক্ষে অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ও সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক কাজগুলো পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ১১৪৫২৫৬ ও ১১৪২৬৫৬নং টেন্ডার আইডি দুটোর কাজ একই জায়গায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারকের কক্ষে একই ধরণের দুইটি কাজের বাস্তবায়ন দেখিয়ে ৬৩৩২৭৫.৮০২+ ৫৯১২১৫.৯৫৮= ১২২৪৪৯১.৭৬ টাকার অনিয়ম করা হয়েছে। এই কাজের মাধ্যমে বরাদ্দে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আালম কোন ধরণের কাজ না করেই লোপাট করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়।

স্বৈরাচার নেতা আমির হোসেন আমুর সাথে একান্ত আলাপ-চারিতায় প্রকৌশলী ফয়সাল আলম 

এস এ এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে বাস্তাবয়নকৃত অন্যান্য কাজগুলোতেও ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে বরাদ্দে বড় অংশ লুটপাট ভাগ-বাটোয়ারা করার অভিযোগ রয়েছে।
অপরদিকে, ওটিএম টেন্ডার আইডি নং ১২৩১৬০১ এর মাধ্যমে গোপালগঞ্জের প্রতিষ্ঠান মেসার্স সৌরভ ট্রেডার্স একই অর্থবছরে ২৯৪৪৬৩৩৩.৫৫১  চুক্তিমূল্যে গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, বরিশাল, রংপুর, জামালপুর এবং যশোর জেলায় BITAC-এর ৬ (ছয়) কেন্দ্র স্থাপন (বরিশাল-এ একটি) উপ-প্রধান: আনুষঙ্গিক পণ্য সরবরাহ ও স্থাপন কাজটি পাইয়ে দেন লুটেরা নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির মালিক একজন আওয়ামী নেতা বলে জানা গেছে।


টেন্ডার আইডি নং ১২৭৪৩৭৪ ব্যবহার করে বরিশালে সরকারি শিশু হাসপাতালের নির্মাণ কাজের অবশিষ্ট অংশ এর অন্তভূক্ত বিষয়সমূহ ১০০০ কেভিএ (KVA) সাব-স্টেশন সরঞ্জাম সরবরাহ ও স্থাপন; ৪০০ কেভিএ জরুরি জেনারেটর সরবরাহ ও স্থাপন; ২০ হর্সপাওয়ার (HP) সাবমার্সিবল পাম্প-মোটর সেট ও ১০ হর্সপাওয়ার সেন্ট্রিফিউগাল পাম্প-মোটর সেট সরবরাহ ও স্থাপন; অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র সরবরাহ ও স্থাপন; শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, বজ্রপাত নিরোধক ও আর্থিং ব্যবস্থা, এলটি (LT) ওভারহেড লাইন, কম্পাউন্ড ও গার্ডেন লাইটিং, পিএবিএক্স (PABX) কাম ইন্টারকম ব্যবস্থা, এলটি ফিডার ক্যাবল, অন-গ্রিড সোলার সিস্টেম, ডিজিটাল সাইনবোর্ড, সিসি (CC) ক্যামেরা ব্যবস্থা, ডিজিটাল কনফারেন্স সিস্টেম এবং পিএ (পিএ/সাউন্ড সিস্টেম সরবরাহ ও স্থাপন কাজটি সাবেক এক আওয়ামী মন্ত্রীর মেয়ে জামাইয়ের প্রতিষ্ঠান মেসার্স আল-মদিনা এন্টারপ্রাইজকে চুৃক্তিমূল্য ৪২৭৭৯৯৬৭.১৯৬ টাকা চুক্তিমূল্যে পাইয়ে দেওয়া হয়। এই কাজে সিডিউল বহির্ভূতভাবে অত্যন্ত নি¤œমাণের যন্ত্রপাতি ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সরবরাহ ও স্থাপন দেখিয়ে বরাদ্দে পুরো অর্থ উঠিয়ে নেওয়ার পায়তারা করছেন নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আালম।  
শুধু তাই নয়, স্বৈরাচারের দোসর ও আওয়ামী আমলে দেশব্যাপী একচেটিয়া কাজ করা বাবর এসাসিয়েটস্ নামক প্রতিষ্ঠানটিকে  ১১২৩৪৩৬ নং টেন্ডার আইডি ব্যবহার করে ১২৫৬০৭৯.৯২৮ টাকা চুক্তিমূল্যে বরিশাল জেলা জজ আদালত চত্বরে অবস্থিত ৪-তলা বিশিষ্ট জেলা জজ আদালত ভবনের প্লাস্টার ও ডিসটেম্পারের বিশেষ মেরামত কাজ ও ১১২৩৪৩৪ নং ওটিএম টেন্ডার আইডির মাধ্যমে একই প্রতিষ্ঠানকে ১১৪৭৯৬৩.৪৯১ টাকা চুক্তিমূল্যে বরিশাল জেলা জজ আদালত চত্বরে অবস্থিত ৪-তলা বিশিষ্ট জেলা জজ আদালত ভবনে সিলিকন পেইন্টসহ বিশেষ মেরামত কাজ দুটি পিপিআর বহির্ভূত ভাবে বিশেষ কৌশলে পাইয়ে দেওয়া হয়। এই কাজ দুটি সিডিউল বহির্ভূতভাবে অত্যন্ত নিমাণের নির্মাণ উপকরণ ব্যবহার করে এর বাস্তবায়নের অভিযোগ রয়েছে। 
১১৫৩২৯৩ নং ওটিএম টেন্ডার আইডি ব্যবহার করে ২৭৯৩৫৫৫৪.৮২০ টাকা চুক্তিমূল্যে গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, বরিশাল, রংপুর, জামালপুর এবং যশোর জেলায় BITAC-এর ৬ (ছয়) কেন্দ্র স্থাপন বরিশালে একটি (সাব হেড: ফায়ার ডিটেকশন অ্যান্ড প্রোটেকশন সিস্টেম) ব্যবস্থা সরবরাহ ও স্থাপন কাজটি বাবর এসোসিয়েটস্-এইএল জেভিকে পাইয়ে দেওয়া হয়। জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানী দুটিই ফ্যাসিবাদের দোসর বলে অভিযোগ রয়েছে। পূর্ববর্তী অর্থবছরগুলোতেও প্রকৌশলী ফয়সাল আলম একইভাবে আ’লীগ ছাত্রলীগ যুবলীগ এর কথিত ঠিকাদারদের টেন্ডার পাইয়ে দিয়ে আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।    


আরো জানা যায়, আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের সুবিধাভোগী ফয়সাল আলম সরকারি কর্মকর্তা হয়ে নৌকার ব্যাজ বুকে লাগিয়ে সর্বত্র বিচরণ করতেন ওই সময়ে। নিজেকে তিনি জাহির করতেন মস্তবড় আ’লীগার। অভিযোগ উঠে-নিজে ছাত্রলীগ নেতার পরিচয় গোপণ করে স্বৈরাচারের শাসনামলের মতো দাপিয়ে বেড়াতে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পরও পদ পদবী ও আধিপত্য ধরে রাখতে বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন প্রকৌশলী ফয়সাল আলম। সে ধারাবাহিকতায় তিনি নিজেকে বিএনপি ঘরোনার ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে নানা কায়দায় অপতৎপরতা চালিয়ে আসছেন। খোলস পাল্টিয়ে আওয়ামী জার্সি পরিত্যাগ করে তিনি ইতোমধ্যে বিএনপিপন্থী কর্মকর্তাদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। অবৈধ অর্থের জোড়ে চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) এর বরিশালে নবগঠিত কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান পদে আসীন হন বহুল বিতর্কিত নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল।
অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বৈরাচারের শক্তিতে ক্ষমতাবান হয়ে তিনি একইসাথে বরিশাল ও ঝালকাঠি ডিভিশনের দায়িত্ব ধরে রাখেন প্রায় ৭ মাস। সে সময়ে অর্থ্যাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঝালকাঠি ডিভিশনে ভূয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে লোপাট করেন প্রায় কোটি টাকা। প্রয়োজনের অতিরিক্ত টেন্ডার করেও ডিভিশনটিকে দেনায় ডুবিয়ে আসেন। নভেম্বর ২০২২ইং থেকে ২০২৪ জুন ফাইনাল পর্যন্ত ঝালকাঠির দায়িত্বে থেকে এই প্রকৌশলী এলটিএম টেন্ডারে ব্যাপক জালিয়াতি বেনামী ঠিকাদারী ব্যবসার পাশাপাশি ঝালকাঠি সদর মডেল মসজিদ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ঝালকাঠি সদর হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ জেলা সমাজ সেবা কমপ্লেক্স এনএসআই ভবন পুলিশ লাইনে পুলিশ অফিসার্স মেস নির্মাণ কাজগুলোতে ব্যাপক জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। এ সকল বিষয় নিয়ে পরবর্তীতে দুদকে অভিযোগ দেওয়া হলেও ফ্যাসিবাদের ক্ষমতায় তার কিছুই হয়নি। ফলে তিনি দুর্নীতি লুটপাটে তিনি আরো অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন।
অনুসন্ধানী সূত্রগুলো বলছে, ৩২তম বিসিএস’র বহুল বিতর্কিত ফয়সাল আলমের গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার শুক্তঘর এলাকায়। খুলনায় তিনি পড়ালেখা করেছেন। ছিলেন খুয়েট ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক। প্রভাবশালী আ’লীগ নেতা আমির হোসেন আমুর অত্যন্ত আস্থাভাজন (পালিত ছেলে হিসাবে পরিচিত) হিসেবে ফয়সাল আলম ঝালকাঠিতে দীর্ঘদিন একই চেয়ার আঁকড়ে ধরে স্বৈরাচার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নিজেকে বড় আ’লীগার হিসেবে জাহির করতেন তিনি। ঝালকাঠিতে আমুর প্রভাবে ব্যাপক দুর্নীতিতে জড়িয়ে সাধারণ ঠিকাদারদের তোপের মুখে পড়েছিলেন তিনি। এক পর্যায়ে ঝালকাঠির ঠিকাদাররা দুদকে অভিযোগও দিয়েছিলেন। দোর্দন্ড প্রভাবশালী আমুর আর্শিবাদপুষ্ট হওয়ায় কোনভাবেই তার লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হয়নি সে সময়ে। ঝালকাঠি থেকে বরিশাল গণপূর্তে দায়িত্ব নেওয়ার পর সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠজন বনে গিয়ে নানা ধরণের অন্যায়-অনিয়মে জড়িয়ে পড়লেও তৎকালীন সময়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। উল্টো গোপণ সিন্ডিকেট তৈরী করে বেনামী ঠিকাদারী ব্যবসায় একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেন। প্রতিবাদীদের বিভিন্নভাবে নাজেহাল করেন তিনি। অভ্যুত্থানের পরেও তিনি ফ্যাসিবাদের লোকদের বেশীরভাগ কাজ পাইয়ে দিয়ে আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং করছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গোপালগঞ্জের দীন ইসলামের এসএ এন্টারপ্রাইজকে কয়েক কেবাটি টাকার কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। ঢাকার বাবর এসোসিয়েটসকে বড় বড় অসংখ্য কাজ দিয়েছেন। স্থানীয় কেআইসি ট্রেডার্স, খান বিল্ডার্স, খান এন্টারপ্রাইজ, খান ট্রেডার্স, নয়ন এন্টারপ্রাইজ, আঞ্জুম ট্রেডার্স ও আবির এন্টারপ্রাইজসহ আরো ২/৩টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে সাথে নিয়ে অত্যন্ত প্রভাবশালী লুটেরা সিন্ডিকেট তৈরী করেছেন তিনি।
আরো জানা যায়, শেবাচিম হাসপাতালে ক্যান্সার ইউনিট নির্মাণে ২দফা ব্যয় বাড়িয়ে বরাদ্দ হয় ২ শৎ ৩৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯৯ কোটি ৪১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যে বেজমেন্টসহ ১৫ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে। প্রকৌশলী ফয়সাল আলমের গোপণ ব্যবসায়িক পার্টনার খান বিল্ডার্স নামক প্রতিষ্ঠানটি এ কাজের বাস্তবায়নে রয়েছে। ভবন নির্মাণ পুরোপুরি শেষ না হলেও ২০৩৪-২৪ অর্থবছরে ৪,৮৪,১০,৫০৮/-টাকা চুক্তিমূল্যে ওই ভবনের জন্য পিবিএক্স সিএটিভি/ডিস পিএ সিস্টেম ডিজিটাল কনফারেন্স সিস্টেম সোলার সিস্টেম পিএবিএক্স সিসিটিভি কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং গ্রীড সোলার সিস্টেম নার্স মনিটরিং সিস্টেম ডিঙ্কিং ওয়াটার পিউরিফায়ার সিস্টেম; একই অর্থবছরে ৫,৯৫,৮০,০০০/- টাকা চুক্তিমূল্যে মেডিকেল ওয়াস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম; ৫,৩৬,১৬,৪৭৪/- টাকা চুক্তিমূল্যে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি), ৫,৯৪,৪৩,৯৮০/- টাকা চুক্তিমূল্যে ডিস্ট্রিবিউশন লাইনসহ মেডিকেল গ্যাস সিস্টেম সরবারহ ও স্থাপণ; ৩,১৪,১৯,৫১৩/- টাকা চুক্তিমূল্যে ফায়ার ফাইটিং ম্যানেজমেন্ট সিষ্টেম সরবরাহ ও স্থাপন কাজ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১০,৮৮,৯৮,৮৮৪/- টাকা চুক্তিমূল্যে ২টি ১৫০০ কেভি সাবস্টেশন এইচটি এলটি সার্ভিস ক্যাবল ৫০০ কেভি জেনারেটর ও পাম্প মোটর সেট সরবরাহ কাজগুলোতে মালামাল সরবরাহ দেখিয়ে ঠিকাদারদের পুরো বিল পরিশোধ করে প্রায় ২ কোটি টাকা লোপাট করেছেন প্রকৌশলী ফয়সাল আলম। অথচ এ সকল মালামাল নির্দিষ্ট সাইটে স্থাপণের প্রয়োজনীয় জায়গার সংকুলান হয়নি এখনও। চাইনজ ব্র্যান্ডের নি¤œমাণের মালামাল সরবরাহ নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে  ডিভিশনটির প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে।  
একইভাবে বরিশালে নভোথিয়েটার স্থাপণ প্রকল্পে ভবন নির্মাণের কাজ অর্ধেক শেষ না হলেও শূধুমাত্র কোটি টাকা লোপাটের উদ্দেশে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬,২১,৭৭,৪৫২/- টাকা চুক্তিমূল্যে ফিডার ক্যাবলসহ ২০০০ কেভিএ সাবষ্টেশন ৪০০ কেভি জেনারেটর ৪০০ কেভি সাবস্টেশন ১৫০ কেভি জেনারেটর; ১১,৪৯,৯৯,০০০/- টাকা চুক্তিমূল্যে এসি সরবরাহ ও স্থাপন ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে সংশ্লিষ্ট কাজসহ পাম্প মোটর সেট পিএবিএক্স ও ইন্টারকম সিস্টেম সাউন্ড/পিএ কনফারেন্স সিসেস্টম অডিটোরিয়াম সাউন্ড সিসেবটম স্টেজ লাইট ও ভিডিও ওয়াল অডিটোরিয়াম স্টেজ কারটেইন সরবরাহ ও স্থাপণ কাজগুলোর সকল মালামাল সরবরাহ দেখিয়ে ঠিকাদারের বিল পরিশোধ করা হয়েছে। নি¤œমাণের মালামাল সরবরাহ করা হয়েছে এই ক্ষেত্রেও। 
এছাড়াও ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বকয়েক কোটি টাকা বরাদ্দে দুর্গাসাগর ট্যুরিজম ফ্যাসালিটিজ প্রকল্প, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১,৪৭,৮২,৭৭০/- টাকা চুক্তিমূল্যে সার্কিট হাউজ, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১,০৭,৯৫,০৩২/-টাকা চুক্তিমূল্যে জেলা প্রশাকের বাসভবনে বিভিন্ন ধরণের মেরামত পুণঃ বাসন কাজগুলোেেত ওভার ইষ্টিমেটের মাধ্যমে ৩/৪গুণ বেশী বরাদ্দ করিয়ে বেশীরভাগ অর্থ লোপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।     
উল্লেখ্য, খান বিল্ডার্স ও খান ট্রেডার্সের স্বত্তাধিকারী মিজান খান ওরফে কাশি মিজান এবং নাসির খান বিগত আ’লীগ সরকারের শাসনামলে সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর ক্রেডিট কার্ড নামে পরিচিত পান। এরা বিগত স্বৈরাচারের শাসনামলে প্রকৌশলী ফয়সালের সহায়তায় একচেটিয়া গণপূর্তের কাজ ভাগিয়ে নিয়েছেন। ৫ আগস্টের পর দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও বহুল বিতর্কিত এই দুই প্রতিষ্ঠান এখনও বরিশাল গণপূর্ত বিভাগে অদৃশ্য শক্তিতে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। এক্ষেত্রে আওয়ামী ফ্যাসীবাদের সুবিধাভোগী দোসর হিসেবে আখ্যায়িত নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম এর সঙ্গে বিতর্কিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলোর গভীর সখ্যতা বজায় রেখে তাদেরকে কাজ পাইয়ে দিয়ে আসছেন। ৫ আগস্টে পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে ফয়সাল আলমের বদলীর আদেশও হয়। স্বার্থ হাসিলের জন্য উক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দুটি নানা কলকাঠির মাধ্যমে ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় তার বদলীর আদেশ বাতিল করে স্বস্থানে বহাল রাখতে সক্ষম হন।
নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, নিয়ম ভঙ্গ করে তিনি একচেটিয়েভাবে ঝালকাঠির বাসিন্দা নাসির খানের মালিকানাধীন খান বিল্ডার্স ও শহরতলীর কাশিপুরের বাসিন্দা মিজান খানের খান ট্রেডার্স নগরীর বড়-ছোট সকল ধরণের বাজেটের শত শত কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। বরিশাল মেরিন একাডেমি, বঙ্গবন্ধু নভো থিয়েটার, ক্যান্সার হাসপাতাল, বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক), শায়েস্তাবাদের তালতলী মডেল মসজিদ, আব্দুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বরিশাল মেট্রােপলিটনের এয়ারপোর্ট থানা, আমানতগঞ্জে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রিপেয়ারিংয়ের কাজ সহ আরো অনেক কাজ প্রতিষ্ঠান দুটিকে মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে পাইয়ে দিয়েছেন এবং দিযে আসছেন। এর মধ্যে মডেল মসজিদ ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে পরবর্তীতে তা ক্ষমতার দাপুটে শক্তিতে ধামাচাপা দেওয়া হয়। বিশেষ করে ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ও নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলমের যোগশাজসে ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণে খান বিল্ডার্সকে ৯০ কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। পরবর্তীতে হাসপাতাল নির্মাণ কাজে আরো ৮০ কোটি ভাগিয়ে নেওয়ার কৌশলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি অর্থ বর্ধিতকরণের জন্য রিভাইস স্টিমেট দাখিল করে নানামুখী দৌঁড়ঝাপ চালিয়ে বরাদ্দ বাড়িয়ে নিয়েছেন।
আরো জানা যায়, দুটি উপজেলা মডেল মসজিদের (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ইং) টেন্ডার ওপেনিংয়ের দিনক্ষণ নির্ধারণ করে গণপূর্ত বিভাগ। তবে তিনটি প্রতিষ্ঠানের ওয়ার্ক ক্যাপাসিটি না থাকার কারণে তিন মাস পর উক্ত টেন্ডার দুটি বাতিল করা হয়। বাতিলকৃত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- খান ট্রেডার্স, খান বিল্ডার্স, ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স। চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারী বাতিলকৃত দুটি মডেল মসজিদসহ আরো তিনটি মডেল মসজিদের ড্রপিংয়ের দিনক্ষণ ধার্য করে গণপূর্ত বিভাগ। এর পর গোপণ সমাঝোতার মাধ্যমে নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বাবর এ্যাসোসিয়েট ও খান ট্রেডার্স (জেবি) এবং এস.এ এন্টারপ্রাইজ ও খান বিল্ডার্স (জেবি)কে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য টেন্ডারের নিয়ম কানুন ভঙ্গ করে নানা ধরণের কুটকৌশল অবলম্বন করে তাদেরকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়। সাধারণ ঠিকাদারদের প্রশ্ন- যে প্রতিষ্ঠানগুলো ওয়ার্ক ক্যাপসিটি না থাকার কারণে এক মাস আগে টেন্ডার রিটেন্ডার করেছে সেই একই প্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে পূণরায় জেভির মাধ্যমে পরবর্তীতে একই টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে? প্রসঙ্গত : জেভির শর্তাবলীতে লিড পার্টনার ৪০%, সহযোগী পার্টনারস ২৫% টেন্ডারের শর্তবলীতে উল্লেখ থাকলেও সেই শর্তাবলী ভঙ্গ করে লিড পার্টনার ১০%, সহযোগী পার্টনার ৯০% এর কথা বলে নির্বাহী প্রকৌশলী তার পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়েছেন মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে। 
বিষয়গুলো নিয়ে  কথা বলার জন্য প্রকৌশলী ফয়সালের মোবাইলে বেশ কয়েকদিন একাধিকবার ফোন দিলেও তার রেসপন্স না পাওয়ায় মতামত গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

অপরাধ

View more
দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ সার্বিয়ায় ৫০০ সাধারণ কর্মী (জেনারেল ওয়ার্কার) পাঠানোর একটি প্রক্রিয়া ঘিরে বড় ধরনের নথি জালিয়াতি ও আর্থিক প্রতারণার প্রমাণ মিলেছে। সার্বিয়ার একটি অতিক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানের নামে তৈরি করা চাহিদাপত্রে স্পষ্ট জালিয়াতি এবং আদালতের সি
সার্বিয়ায় ৫০০ কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া ঘিরে বিতর্ক, অভিযোগের কেন্দ্রে রোম দূতাবাস

দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ সার্বিয়ায় ৫০০ সাধারণ কর্মী (জেনারেল ওয়ার্কার) পাঠানোর একটি প্রক্রিয়া ঘিরে বড় ধরনের নথি জালিয়াতি ও আর্থিক প্রতারণার প্রমাণ মিলেছে। সার্বিয়ার একটি অতিক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানের নামে তৈরি করা চাহিদাপত্রে স্পষ্ট জালিয়াতি এবং আদালতের সিলের তারিখে দুই বছরের গরমিল থাকার পরও কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাতে সরকারি সত্যায়ন (অ্যাটেস্টেশন) দিয়েছে ইতালির রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সার্বিয়ার যে প্রতিষ্ঠানটি ৫০০ কর্মী নেওয়ার চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে, তাদের সারা বছরের পরিচালন আয়ের অঙ্ক দিয়ে কর্মীদের এক দিনের বেতন দেওয়াও সম্ভব নয়। অন্যদিকে ঢাকায় দূতাবাস সত্যায়িত চাহিদাপত্র দেখিয়ে কর্মীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার তোড়জোড় চললেও কর্মীদের ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ভিন্ন শর্ত ও কম বেতনের চুক্তিপত্র। এমনকি চাহিদাপত্র ও আমমোক্তারনামা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) যে রিক্রুটিং এজেন্সির নামে এসেছিল, তাদের বাদ দিয়ে অন্য একটি এজেন্সি জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে কর্মী পাঠানোর সরকারি অনুমোদনও বের করে নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অস্তিত্বহীন ও কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে কর্মী পাঠানোর এই প্রক্রিয়া মূলত বলকান রুট দিয়ে ইউরোপে মানবপাচারের একটি বড় ফাঁদ। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করে সার্বিয়ায় যাওয়া শত শত কর্মী চরম বিপদে পড়বেন। আবাসিক ফ্ল্যাটে অফিস, বাৎসরিক আয়ে এক দিনের বেতনও অসম্ভব নথিপত্র অনুযায়ী, সার্বিয়ার ভোজভোদিনা অঞ্চলের সোমবোর (Sombor) শহরের ‘ইন্টারস্টাফ সার্ভিস ডিওও সোমবোর’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৫০০ কর্মীর চাহিদাপত্র তৈরি করা হয়েছে। সার্বিয়ার করপোরেট ও অর্থনৈতিক তথ্যভান্ডার (কোম্পানিওয়াল বিজনেস সার্বিয়া) পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এটি মূলত একটি অতিক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান (মাইক্রো-এন্টারপ্রাইজ)। সরকারি নথিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় দেখানো হয়েছে সোমবোরের ‘প্রোতে মাতেয়ে নেনাদোভিচা ২৪’ ভবনের ৫ নম্বর আবাসিক ফ্ল্যাটে। প্রতিষ্ঠানটি ‘অস্থায়ী কর্মসংস্থান সংস্থা’ (কোড: ৭৮.২০) হিসেবে নিবন্ধিত। এর অর্থ হলো, তাদের নিজস্ব কোনো কারখানা বা শিল্প প্রকল্প নেই, এরা মূলত বাইরে থেকে শ্রমিক এনে স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দিনমজুর বা সাব-কন্ট্রাক্টে ভাড়া দেয়। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী ঘেঁটে দেখা যায়, পুরো বছরে তাদের মোট পরিচালন আয় ছিল মাত্র ৯ লাখ ৪৫ হাজার সার্বিয়ান দিনার (আরএসডি), যা বাংলাদেশি মুদ্রায় পৌনে ৯ লাখ টাকার সমপরিমাণ (প্রায় ৮ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার)। অথচ কর্মীদের চাহিদাপত্রে প্রতি মাসে মূল বেতন ধরা হয়েছে ৭৫ হাজার দিনার। ৫০০ কর্মীকে এই বেতন দিতে গেলে প্রতি মাসে প্রয়োজন পড়বে ৩ কোটি ৭৫ লাখ দিনার। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির সারা বছরের যে মোট আয়, তা দিয়ে ৫০০ কর্মীর এক দিনের বেতন দেওয়াও সম্ভব নয়। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কর্মীদের বিনা খরচে আবাসন, খাবার, উড়োজাহাজের টিকিট ও চিকিৎসা বিমা দেওয়ার অঙ্গীকার পুরোটাই কাগুজে প্রতারণা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ২০২৪ সালের নোটারি সিলে ২০২৬ সালের তথ্য প্রত্যয়ন! নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রধান আইনি দলিল হলো সার্বিয়ান ভাষায় করা আমমোক্তারনামা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি)। এই নথিতে পাওয়া গেছে জালিয়াতির সুস্পষ্ট প্রমাণ। অনূদিত দলিলের ৩ নম্বর পৃষ্ঠায় দেখা যায়, সার্বিয়ার নোভি সাদ মৌলিক আদালতের পাবলিক নোটারির কার্যালয়ের সই ও সিলমোহর রয়েছে ১৮ জুলাই ২০২৪ তারিখের। অথচ সেই একই নোটারি প্রত্যয়নে বলা হয়েছে, কোম্পানিটির তথ্য যাচাই করা হয়েছে সার্বিয়ার বিজনেস রেজিস্ট্রি এজেন্সির (এপিআর) ৭ জুন ২০২৬ তারিখের তথ্য অনুযায়ী। আবার সার্বিয়ান ভাষায় মূল আমমোক্তারনামার তারিখ দেখানো হয়েছে ১৫ মে ২০২৬ এবং এর ইংরেজি অনুবাদের প্রত্যয়ন দেওয়া হয়েছে ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে। আইনবিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোনো আদালত বা নোটারি কীভাবে দুই বছর পরের (২০২৬ সালের জুন) তথ্য প্রত্যয়ন করতে পারে? নথিপত্র বিশ্লেষণ করে বোঝা যায়, অতীতের কোনো পুরোনো দলিলের নোটারি সিল ও স্বাক্ষরের পাতা স্ক্যান করে জালিয়াতির মাধ্যমে এই দলিলের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মূল চাহিদাপত্রে তারিখ দেওয়া রয়েছে ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, অথচ আমমোক্তারনামায় চাহিদাপত্রের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১৫ মে ২০২৬। ফলে আইনিভাবে এই আমমোক্তারনামা দিয়ে সেপ্টেম্বর মাসের চাহিদাপত্র কার্যকর করার কোনো সুযোগ নেই। কোনো যাচাই ছাড়াই রোম দূতাবাসের সিলমোহর সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কোনো আবাসিক মিশন নেই। ফলে ইতালির রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসই সার্বিয়ার কূটনৈতিক ও শ্রমের বিষয়গুলো অনাবাসিক হিসেবে দেখভাল করে। নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর রোম দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম ও কল্যাণ) আসিফ এনাম সিদ্দিকী কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই এই বিতর্কিত চাহিদাপত্র ও আমমোক্তারনামায় সত্যায়ন (রেফারেন্স: Rec. RM. Ser 2026/20(1) ও 20(2)) দেন। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুযায়ী, ইউরোপের কোনো অচেনা বা ঝুঁকিপূর্ণ দেশে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক কর্মীর চাহিদাপত্র এলে সংশ্লিষ্ট শ্রম কর্মকর্তার দায়িত্ব হলো প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সক্ষমতা, কর পরিশোধের তথ্য এবং কাজের পরিবেশ সরেজমিন বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা। কিন্তু রোম দূতাবাস কোনো তদন্ত ছাড়াই এই নথিতে সিলমোহর দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং সিন্ডিকেটের সুবিধা নিশ্চিত করতেই তড়িঘড়ি করে এই সত্যায়ন দেওয়া হয়েছে। চাহিদাপত্র এক এজেন্সির, ছাড়পত্র অন্যের চাহিদাপত্র ও আমমোক্তারনামা অনুযায়ী, সার্বিয়ার প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে তাদের আইনি প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিল মেসার্স মোহাম্মদী ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে (লাইসেন্স নং: RL-919)। অথচ এই একই চাহিদাপত্র ব্যবহার করে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে ১৫ জন কর্মীর নিয়োগানুমতি বের করে নিয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি প্রতিষ্ঠান—মেসার্স এইচ.পি ওভারসীজ লিমিটেড (লাইসেন্স নং: RL-1388; ব্যবস্থাপনা পরিচালক: প্রবীর বণিক)। বিএমইটির তথ্যে দেখা যায়, ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর এইচ.পি ওভারসীজের অনুকূলে এই ১৫ জনের নিয়োগানুমতি (অনুমোদন নম্বর: RS-RL1388-2026-615276) দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এক এজেন্সির চাহিদাপত্র অন্য এজেন্সির কাছে বিক্রি করে কর্মী পাঠানোর যে অবৈধ চক্র সক্রিয়, এটি তারই অংশ। চুক্তিপত্রে মাসে ১৮ হাজার টাকা গায়েব রোম দূতাবাস যে চাহিদাপত্র সত্যায়ন করেছে, তার সঙ্গে কর্মীদের ধরিয়ে দেওয়া ব্যক্তিগত নিয়োগপত্র (জব অফার লেটার) ও সার্বিয়ান ভাষার মূল শ্রমচুক্তির (উগোভর ও রাদু) শর্তে বড় ধরনের গরমিল রয়েছে। দূতাবাস সত্যায়িত চাহিদাপত্রে কর্মীদের জন্য সপ্তাহে দুই দিন ছুটি এবং মাসিক মূল বেতন ৭৫ হাজার সার্বিয়ান দিনার উল্লেখ ছিল। কিন্তু কর্মীদের হাতে যে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে, তাতে সপ্তাহে মাত্র এক দিন ছুটি এবং মাসিক বেতন কমিয়ে ৬০ হাজার দিনার করা হয়েছে। অর্থাৎ কাগজে-কলমে উচ্চ বেতন ও দুই দিন ছুটির কথা বলে দূতাবাস থেকে সরকারি অনুমোদন নেওয়া হলেও বাস্তবে বাংলাদেশ থেকেই কর্মীদের কম বেতনের চুক্তিতে সই করিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে প্রতি কর্মীর বেতন থেকে প্রতি মাসে ১৫ হাজার দিনার বা প্রায় ১৮ হাজার টাকা করে হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। বলকান রুটে মানবপাচারের শঙ্কা আন্তর্জাতিক অভিবাসন নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সার্বিয়া, বসনিয়া ও ক্রোয়েশিয়া হয়ে বলকান রুট দিয়ে ইতালি ও ইউরোপের দেশগুলোতে প্রবেশের জন্য মানবপাচারকারী চক্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের আড়ালে ৫০০ সাধারণ কর্মী নেওয়ার এই প্রক্রিয়া মূলত মানবপাচারেরই বড় ফাঁদ। কর্মীরা সার্বিয়ায় পৌঁছানোর পর কাজ না পেয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে আটক কিংবা অমানবিক বন্দিদশায় পড়তে পারেন। নথিপত্রে এমন গুরুতর অসংগতি থাকার পরও কেন সত্যায়ন দেওয়া হলো, তা জানতে রোম দূতাবাসের প্রথম সচিব আসিফ এনাম সিদ্দিকীর দাপ্তরিক ই-মেইল ও অফিশিয়াল টেলিফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো সাড়া মেলেনি। এইচ.পি ওভারসীজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রবীর বণিকের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনিও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রামরুর (RMMRU) এক জ্যেষ্ঠ ফেলো ন্যাশনাল ভয়েস নিউজ বাংলা একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা না থাকা এবং নোটারির তারিখে দুই বছরের গরমিল থাকার পরও দূতাবাস কীভাবে তাতে সিল মারল, তা বোধগম্য নয়। অবিলম্বে রোম দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া দরকার এবং এই চাহিদাপত্রের অধীনে সব ধরনের ছাড়পত্র বাতিল করা উচিত। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ন্যাশনাল ভয়েস নিউজ বাংলা দূতাবাস সত্যায়িত নথিতে জালিয়াতির প্রমাণ থাকলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। রোম মিশন ও বিএমইটির সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

News অক্টোবর ১৫, ২০২৬ 0
বন অধিদপ্তরে কালো বিড়ালের থাবা—প্রকল্পের নামে শত শত কোটি টাকা লোপাট!

বন অধিদপ্তরে কালো বিড়ালের থাবা—প্রকল্পের নামে শত শত কোটি টাকা লোপাট!

অফিসার্স ক্লাব থেকে সাবেক সচিবের মরদেহ উদ্ধার

অফিসার্স ক্লাব থেকে সাবেক সচিবের মরদেহ উদ্ধার

গণপূর্তের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্বে আওয়ামী লীগ নেতার সন্তান প্রকৌশলী রেজা তৈমূর মালিক

গণপূর্তের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্বে আওয়ামী লীগ নেতার সন্তান প্রকৌশলী রেজা তৈমূর মালিক

দুর্নীতির মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের ৪ বছরের কারাদণ্ড
দুর্নীতির মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের ৪ বছরের কারাদণ্ড

  জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) আলোচিত সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে ৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীর এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রায় ঘোষণার আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুদক ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিনটি ধার্য করা হয়েছিল। এ মামলায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে আদালত। পরবর্তীতে ২৪ সেপ্টেম্বর আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছিলেন সিয়াম। এর আগে গত ১৭ জুন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিল একই আদালত। মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছরের ৫ জানুয়ারি সিয়ামের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। তদন্তে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। উল্লেখ্য, সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম পিএসসির প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আলোচিত ড্রাইভার আবেদ আলীর ছেলে। সিয়াম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

News অক্টোবর ১৫, ২০২৬ 0
জুলাই হত্যা মামলায় মাইটিভির সাথী আবারও গ্রেপ্তার

জুলাই হত্যা মামলায় মাইটিভির সাথী আবারও গ্রেপ্তার

ঢাকায় ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার, ৪ কেজি কুশ উদ্ধার

ঢাকায় ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার, ৪ কেজি কুশ উদ্ধার

ঢাকায় ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার, ৪ কেজি কুশ উদ্ধার

ঢাকায় ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার, ৪ কেজি কুশ উদ্ধার

বিপুল সম্পদের মালিক ময়মনসিংহের খাদ্য পরিদর্শক খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ
বিপুল সম্পদের মালিক ময়মনসিংহের খাদ্য পরিদর্শক খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ

,  ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ডেপুটেশনে (প্রেষণে) কর্মরত খাদ্য পরিদর্শক শাহ মাজহারুল ইসলাম কামালের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, প্রশাসনিক ব্ল্যাকমেইল এবং অঢেল অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) এক সাধারণ সেচপাম্প মেরামতকারীর সন্তান হয়েও সরকারি চাকরির সুবাদে তিনি কোটি কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের মালিক হয়েছেন। ১৫ অক্টোবর ২০২৬ প্রাপ্ত বিস্তৃত অনুসন্ধানী তথ্য ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরাতে জানা যায়, বিগত দুই যুগ ধরে নিজ মূল কর্মস্থলে না ফিরে ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ে অবস্থান করে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। সরকারি পদে অবস্থান সত্ত্বেও বদলি-বাণিজ্য, পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগে তদবির এবং অবৈধ অর্থের লেনদেনে জড়িয়ে পড়ার দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বিভাগীয় তদন্তের জোর দাবি উঠেছে। প্রাপ্ত অনুসন্ধানী নথি সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালের ২৬ ডিসেম্বর সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আলতাফ হোসেন গোলন্দাজের জোরালো সুপারিশ ও রাজনৈতিক প্রভাবে খাদ্য বিভাগে যোগদান করেন শাহ মাজহারুল ইসলাম কামাল। চাকরিতে প্রবেশের পূর্বে তিনি গফরগাঁও সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের পদধারী নেতা এবং তৎকালীন কলেজ ছাত্র সংসদের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শুধু প্রশাসনিক দুর্নীতিই নয়, ১৯৯৭ সালের ২৯ এপ্রিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গফরগাঁও সফরকালে বিএনপির জনসমাবেশমুখী বহরে হামলাকারী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অন্যতম সদস্য হিসেবেও তাঁর নাম স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে উঠে এসেছে। পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের জুলাই মাসে ময়মনসিংহের ফুলপুর এলএসডিতে ধান সংগ্রহের সময় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে তাঁকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করে নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় পদায়ন করা হয়। তবে রহস্যজনকভাবে সেখান থেকে কয়েক মাসের মধ্যে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় বদলি হয়ে কৌশলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে প্রেষণে (ডেপুটেশনে) যুক্ত হন তিনি। এরপর থেকে আর মূল কর্মস্থলে ফেরেননি তিনি। জেলা কার্যালয়ে দীর্ঘ অবস্থানের সুযোগে সহকর্মীদের বদলি-পদায়ন নিয়ন্ত্রণ, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং কোনো কর্মকর্তা প্রতিবাদ জানালে নিজস্ব অনুগত সাংবাদিকদের লেলিয়ে দিয়ে হেনস্তা করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি এবং সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে চরম অসংগতিপূর্ণ বিপুল পরিমাণ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন কামাল। তাঁর দৃশ্যমান ও বেনামি সম্পদের তালিকার মধ্যে রয়েছে— ময়মনসিংহের আবাসন ও সম্পত্তি: শহরের মফিজ উদ্দিন ইনডেক্স প্লাজায় ৭সি নম্বরের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, আমলাপাড়া মাদ্রাসার পাশে একটি আস্ত ফ্ল্যাট, দুর্গাবাড়ী রোডে একটি বাণিজ্যিক দোকান এবং কাঁচিঝুলি এলাকায় দুই ভাইয়ের নামে চারতলা নির্মিত (ছয়তলা ফাউন্ডেশন) আবাসন। এ ছাড়া নতুন বাজার ফারহান কমপ্লেক্সে দুটি নতুন ফ্ল্যাট বুকিং দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বাণিজ্যিক জমি ও অন্যান্য: ময়মনসিংহের ঢাকা বাইপাস মোড়ে এসএসসি-৯৩ ব্যাচের বন্ধুদের সঙ্গে কেনা মূল্যবান জমিতে তাঁর তিনটি নিজস্ব শেয়ার রয়েছে। একই সঙ্গে গফরগাঁও জামতলা মোড়ে একটি দোকান এবং ইমামবাড়ী ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন বাজারে একাধিক বাণিজ্যিক পজিশন রয়েছে। রাজধানীর সম্পত্তি ও বিলাসবহুল গাড়ি: ঢাকার উত্তরা অভিজাত এলাকায় একটি ফ্ল্যাট এবং ঢাকা মেট্রো-গ-৪৩-২৬৪৭ নম্বরের একটি উন্নত টয়োটা প্রিমিও গাড়ি ব্যবহার করেন তিনি। তবে বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটি সাবেক যুবলীগ নেতা ও খাদ্য বিভাগের পরিবহন ঠিকাদার আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে আজাদের নামে নিবন্ধিত, যা কামালের ইনডেক্স প্লাজার গ্যারেজে সংরক্ষিত থাকে। স্বজনদের নামে বিনিয়োগ: নিজের স্ত্রী নূরজাহান বেগম, ছোট ভাই শাহ ইশতিয়াক রুবেল এবং বেকার শ্যালক ফাহিমের এনআইডি ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার জমি, ব্যবসা ও বেনামি ব্যাংকিং বিনিয়োগ গড়ে তোলারও সুনির্দিষ্ট তথ্য উঠে এসেছে। খাদ্য পরিদর্শকের অনিয়মের মাত্রা কেবল সম্পদ অর্জনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ময়মনসিংহ নগরীর নতুন বাজার কাঁচাবাজারে অবস্থিত ‘ময়মনসিংহ খাদ্য পরিদর্শক সমিতির কার্যালয়ে’ প্রতিরাতে কোটি কোটি টাকার অবৈধ জুয়ার আসর বসানোর সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়েছে অনুসন্ধানী মহল। সেখান থেকে তথাকথিত ‘বিডার’ হিসেবে কামাল দৈনিক গড়ে এক থেকে দেড় লাখ টাকা অবৈধ কমিশন আয় করেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সহকর্মীরা নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহমুদুল হাসান ফোনে জানান, তিনি প্রশাসনিক প্রশিক্ষণে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং জেলায় ফিরে বিষয়গুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ খোঁজ নেবেন। অন্যদিকে, ময়মনসিংহ আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি ফুড) আশরাফুল আলম স্পষ্ট জানান, কামাল তাঁর যোগদানের পূর্ব থেকেই জেলা কার্যালয়ে অবস্থান করছেন এবং তাঁর মেয়াদে কোনো প্রেষণ আদেশ জারি হয়নি। তিনি উত্থাপিত অভিযোগগুলো প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী তাঁর বৈধ ও ঘোষিত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জন করলে তা শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ (জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন)। এ ছাড়া সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী, প্রেষণ বা ডেপুটেশনের সুনির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে মূল কর্মস্থলে যোগদান না করা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করা চরম প্রশাসনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (পিপিএ) লঙ্ঘন করে সরকারি পরিবহনের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ বা অন্যের নামে গাড়ি ব্যবহার করা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর অধীনে অনুসন্ধানযোগ্য বিষয়। সরকারি পদের অপব্যবহার করে অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিপরীতে আয়কর বিবরণী ও ব্যাংক নথি তদারকি করা এখন আইনি বাধ্যবাধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি জানতে চাইলে খাদ্য পরিদর্শক শাহ মাজহারুল ইসলাম কামাল তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেন। তবে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সরেজমিন অনুসন্ধান এবং খাদ্য বিভাগের সহকর্মীদের দেওয়া দাপ্তরিক প্রমাণের ভিত্তিতে জানা যায়, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অনিয়মের বিবরণী শতভাগ বস্তুনিষ্ঠ এবং বাস্তব সম্পদের পরিমাণ লিখিত রূপের চেয়েও বহুগুণ বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, একজন নিম্নপদস্থ সরকারি কর্মচারীর এই অভূতপূর্ব প্রশাসনিক বেপরোয়া ভাব রাষ্ট্রের রাজস্ব খাত ও খাদ্য বিভাগের ভাবমূর্তিকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে। সাধারণ নাগরিকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গোয়েন্দা সেল, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কামালের অবৈধ সম্পদের সুষ্ঠু অনুসন্ধান চালিয়ে উপযুক্ত শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।  

News অক্টোবর ১৫, ২০২৬ 0
ধানমন্ডিতে রাস্তায় বয়স্ক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনায় যুবক আটক

ধানমন্ডিতে রাস্তায় বয়স্ক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনায় যুবক আটক

আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দোকানমালিকদের হয়রানির অভিযোগ, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এনামুল হক বশিরের বিরুদ্ধে

আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দোকানমালিকদের হয়রানির অভিযোগ, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এনামুল হক বশিরের বিরুদ্ধে

গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামানকে শুনানিতে হাজিরের অনুরোধ

গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামানকে শুনানিতে হাজিরের অনুরোধ

0 Comments