দীর্ঘ কয়েক বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বাইরে থাকার পর এবার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। কিন্তু ভোটের মাঠে নামার আগেই দলটির সামনে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের সাংগঠনিক সংকট। প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই চেয়ারম্যান পদে বিএনপির ৭ থেকে ১২ জন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। ফলে নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর মোকাবিলার আগে নিজেদের ঘরের প্রার্থী সামলানোই বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ইতোমধ্যে স্পষ্ট করে দিয়েছে, এক ইউনিয়নে একাধিক দলীয় প্রার্থীকে মাঠে রাখা হবে না। জনপ্রিয়তা, সততা, দলের প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের পাশাপাশি নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার সক্ষমতা বিবেচনা করে একজনকে সমর্থন দেওয়া হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ নির্বাচনে গেলে কঠোর সাংগঠনিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু তৃণমূলে প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা এত নেতার মধ্য থেকে একজনকে বেছে নেওয়ার পর বাকিদের কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে? কারণ সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রায় সবাই নিজেদের দলের দুঃসময়ের ত্যাগী, নির্যাতিত ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে দাবি করছেন।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নেয়নি বিএনপি। দীর্ঘ সময় নির্বাচনের বাইরে থাকায় তৃণমূলের বহু নেতাকর্মীর মধ্যে এবার ইউপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। চেয়ারম্যান-মেম্বার পদে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান জানান দিতে অনেকেই ইতোমধ্যে এলাকায় জনসংযোগ, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন।
দলটির দায়িত্বশীল নেতারা মনে করছেন, একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকলে ভোট ভাগাভাগির সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি কোন্দল তৈরি হতে পারে। নির্বাচনের ফলের পাশাপাশি এর প্রভাব পড়তে পারে দলের সাংগঠনিক কাঠামোতেও।
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। বিভিন্ন জেলা ও মহানগর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একক প্রার্থী নির্ধারণের ওপর জোর দিয়েছেন। নেতাকর্মীদের দল-সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশও দিয়েছেন।
লক্ষ্মীপুরে ৯ ইউনিয়নে ৫৬৭ ফরম
একক প্রার্থী নির্ধারণের কঠিন বাস্তবতার বড় উদাহরণ লক্ষ্মীপুর সদর পশ্চিম থানা বিএনপির অধীন ৯টি ইউনিয়ন। এসব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে ৫৬৭ জন দলীয় ফরম সংগ্রহ করেছেন।
প্রতিটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৭ থেকে ১২ জন বিএনপি নেতা ফরম নিয়েছেন। ২ নম্বর দক্ষিণ হামছাদি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আটজন এবং ৪ নম্বর চররুহিতা ইউনিয়নে ১২ জন ফরম সংগ্রহ করেছেন। সদস্য পদেও প্রতিটি ওয়ার্ডে ১০-১৫ জন প্রার্থী ফরম নিয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপি সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর-২ সংসদীয় আসনের প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে প্রার্থী বাছাইয়ের লক্ষ্যে দলীয় ফরম বিতরণ করা হয়। ফরম জমা দেওয়ার পর প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক ভূমিকা ও এলাকায় কর্মকাণ্ড যাচাই করা হবে। মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত একজনকে দলীয় সমর্থন দেওয়া হবে।
সদর থানা পশ্চিম বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন বিটু পাটোয়ারী আমার দেশকে বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বিজয়ী করার লক্ষ্যেই যাচাই-বাছাই চলছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো হাইকমান্ডের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসেনি।
তার ভাষায়, লক্ষ্মীপুর বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে এখানে অনেকেই ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং নির্যাতিত হয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে একজনকে বেছে নেওয়া সহজ নয়।
জামালগঞ্জে ছয় ইউনিয়নে মাঠে ১৯ জন
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ছয় ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ১৯ জন। ভীমখালী ইউনিয়নে রয়েছেনÑউপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহিনুর রহমান, বর্তমান চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান তালুকদার এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহজাহান। জামায়াতের ইউনিয়ন সভাপতি হাফিজ সাইফুল ইসলাম জায়গীরদারও সম্ভাব্য প্রার্থী।
ফেনারবাক ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন বাবলু, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফজলুল কাদের চৌধুরী তৌফিক এবং জুলফিকার চৌধুরী রানা মাঠে রয়েছেন।
সদর ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান সাজ্জাদ মাহমুদ তালুকদার, নূরে আলম ফরাজি, নাজিম উদ্দীন ও তৌফিকুর রহমান সম্ভাব্য প্রার্থী। জামায়াতের সদর ইউনিয়ন সভাপতি হাবিবুর রহমানও রয়েছেন প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে।
সাচনা বাজার ইউনিয়নে উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুক মিয়া, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান তালুকদার, ইউনিয়ন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুন নূর আখুঞ্জি, মিছবাহ উদ্দিন রুমি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জায়েদ আহমদ প্রার্থী হতে আগ্রহী।
উত্তর ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলী আক্কাস মুরাদ এবং জামায়াতের কর্মী কামাল হোসেন সম্ভাব্য প্রার্থী। বেহেলী ইউনিয়নে রয়েছেন জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুজ্জামান উকিল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সামছুজ্জামান ধন মিয়া, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আলম আখুঞ্জি এবং ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নজির আলি।
ফেনীতে এক ইউনিয়নে ১১ চেয়ারম্যান প্রার্থী
ফেনী সদরের মোটবী ইউনিয়নে বিএনপির ১১ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেনÑমীর মোশাররফ হোসেন (মানিক), শাহ আলম, নিজামুদ্দিন, ফখরুল ইসলাম (মাসুক), দেলোয়ার হোসেন, গোলাম মহিউদ্দিন ভূঁইয়া, ইসমাইল হোসেন ও রাকিব উদ্দিন। এছাড়া বিএনপি ঘরানার প্রবাসী রহমান রাজু, নুরুল আমিন ও আবুল কালাম মজুমদারও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান।
এদিকে পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নেও বিএনপি থেকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী সাতজন। তারা হলেনÑদেলোয়ার হোসেন দেলু, কামাল উদ্দিন আহমেদ, কাবুল হোসেন, নুর নবী, কামাল উদ্দিন মজুমদার, মওদুদ আহমেদ রনি ও ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর কবির।
একজনকেই সমর্থন দেবে বিএনপি
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স আমার দেশকে বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তাই এবার অনেকে প্রার্থী হতে চাইবেন, এটাই স্বাভাবিক। তবে ইউপি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করতে একজনকেই দলীয় সমর্থন দেওয়া হবে।
বিএনপির তৃণমূলের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একজনকে বেছে নেওয়ার পর বাকিরা কী করবেন? সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রত্যেকেই নিজেদের দুঃসময়ের ত্যাগী হিসেবে তুলে ধরছেন। আবার তৃণমূলের একটি অংশের অভিযোগ, দলের কঠিন সময়ে এলাকায় ছিলেন না, এমন অনেক নেতাও এখন এমপি-মন্ত্রীদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে চেয়ারম্যান হওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের ঠেকাতেও কেউ কেউ প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ কারণে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় সামান্য ভুলও স্থানীয় পর্যায়ে বড় বিরোধ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিএনপির নেতারা।
সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির তৃণমূলেও প্রার্থী বাছাই নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
তফসিল যত এগিয়ে আসছে, বিএনপির সামনে তত স্পষ্ট হচ্ছে তিনদিকের চ্যালেঞ্জ। প্রথমত, নিজ দলের একাধিক প্রার্থীকে একজনের পেছনে ঐক্যবদ্ধ করা। দ্বিতীয়ত, জামায়াত ও এনসিপির প্রার্থীদের মোকাবিলা করা। তৃতীয়ত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনি মাঠে আসা ঠেকানো বা মোকাবিলার কৌশল ঠিক করা।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ধারণা, আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী বর্তমানে পলাতক থাকলেও তফসিল ঘোষণার পর বিভিন্ন এলাকায় ভেতরে ভেতরে একজন করে প্রার্থী ঠিক করে মাঠে নামার চেষ্টা করতে পারেন। তবে তাদের মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা, নিজেদের ঘরের একাধিক প্রার্থীর প্রতিযোগিতাকে দলীয় ঐক্যে রূপ দেওয়া।
এ পরীক্ষায় হাইকমান্ড সফল না হলে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলার আগেই বিএনপির শক্তি ক্ষয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর একক প্রার্থী ঠিক করে বিদ্রোহ ঠেকাতে পারলে দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকারের তৃণমূলের রাজনীতিতে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির বড় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে দলটি।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহিলা ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য ঘোষিত এ কমিটিতে সভানেত্রী মনোনীত হয়েছেন নূরুস সাবিহা এবং সম্পাদিকার দায়িত্ব পেয়েছেন আলেমা মাফরুহা। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ মারকাজ ভবনের মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কমিটি ঘোষণা ও নবনির্বাচিত দায়িত্বশীলদের শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সভ্যতা নির্মাণে নারীর ভূমিকাই প্রধান। মানব শিশুর মানসিক বিকাশ ও সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনের মূল ভিত্তি নারী। তাই আমাদের হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ইসলামের সুমহান শিক্ষার আলোকে নারীকে সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদায় ভূষিত করতে হবে এবং সমাজে তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, ‘বর্তমানে তথাকথিত পশ্চিমা ভাবধারার আলোকে নারীর অধিকার ও মর্যাদা নির্ধারণের অপচেষ্টা চলছে, যা নারীকে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ইসলামি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজে নারীর প্রকৃত মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে নবগঠিত মহিলা ইউনিটকে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।’ অনুষ্ঠানে ঘোষিত ২০২৭-২৮ সেশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা: • সভানেত্রী: নূরুস সাবিহা • সহ-সভানেত্রী: জাকেরা রহমান, ফাতিমা আক্তার ও সাইয়েদা মাকসুদা আক্তার • সম্পাদিকা: আলেমা মাফরুহা • সহ-সম্পাদিকা: হাফেজা বুশরা • সাংগঠনিক সম্পাদিকা: রেক্সোনা জাহান জুবাইদা • সহ-সাংগঠনিক সম্পাদিকা: সাওদা মাসরুবা • ছাত্রী সংগঠন পরিচালিকা: মারিয়া কামাল (কেন্দ্রীয়), আফরোজা জান্নাত (বিশ্ববিদ্যালয়), আলেমা রাফিয়া আহমাদ (কওমি মাদরাসা), সায়মা জান্নাত (আলিয়া মাদরাসা), হাফিজা খাতুন (কলেজ) ও ফারজানা নাদিরা (স্কুল) • বিষয়ভিত্তিক সম্পাদকীয় পদসমূহ: o ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদিকা: মরিয়ম আক্তার রূপা o প্রশিক্ষণ সম্পাদিকা: হালিমাতুস সাদীয়া (সহ-প্রশিক্ষণ: পাপিয়া খাতুন) o দপ্তর সম্পাদিকা: নেবিন্নাহার (সহ-দপ্তর: মাহমুদা আক্তার) o অর্থ সম্পাদিকা: খাদিজাতুল কুবরা (সহ-অর্থ: হালিমা সাদীয়া রুবা) o প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদিকা: মোসাম্মাৎ তাহেরা বেগম (সহ-প্রচার: ইসরাত জাহান মারিয়াম) o নির্বাচন ও জনপ্রতিনিধি সম্পাদিকা: সৈয়দা নায়লা কারীম (সহ-নির্বাচন: খাদিজা আহমাদ) o যোগাযোগ সম্পাদিকা: মোর্শেদা বেগম (সহ-যোগাযোগ: আলেমা ফাওজিয়া মাসরুবা) • নির্বাহী সদস্য: আকলিমা খাতুন, সৈয়দা ফেরদৌসী বেগম, কোহিনুর বেগম, মোসা. মাকসুদা আক্তার, সুমাইয়া আক্তার, মোসা. মাহমুদা আক্তার, আনোয়ারা বেগম, আমেনা খাতুন ও বুশরা জান্নাত।
হবিগঞ্জের মাধবপুরে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) দেলোয়ার হোসেনকে উদ্দেশ্য করে উপজেলা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আতাউস সামাদ বাবুর দেওয়া একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সে সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরে ছাত্রলীগ নেতা সিরাজ গ্রেপ্তার হয়েছেন বলেও স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন তিনি। স্ট্যাটাসে আতাউস সামাদ বাবু লেখেন, দেলোয়ার সাহেবদের নাম-ঠিকানা আমরা রাখছি, কারণ তারাও পেনশন নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।” একই সঙ্গে রাজনীতি করতে গিয়ে কয়েকবার জেল মেনে নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে আতাউস সামাদ বাবুর এই বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন এএসআই দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, “ফেসবুকে এভাবে বাবু সাহেব আমার নামে যে ভিত্তিহীন কথা লিখেছেন, তার কোনো অস্তিত্ব নেই। আমি মাদকের একটি তদন্তে তার গ্রামের পাশে গিয়েছিলাম। সেটাকে কেন্দ্র করে তিনি ফেসবুকে যে লেখালেখি করেছেন, তা নিতান্তই বোকামি। স্বীয় দায়িত্ব ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার বাইরে ব্যক্তিগতভাবে আমাদের কিছু করার সুযোগ নেই। জানা যায়, এএসআই দেলোয়ার হোসেন মাধবপুর থানাধীন কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্ব পালন করছেন। ওয়ারেন্ট তামিলে ভালো কাজের জন্য তিনি হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার কর্তৃক পুরস্কৃত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। অন্যদিকে, আতাউস সামাদ বাবু মাধবপুর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের এখন এই অবস্থা হয়েছে যে গরু-মহিষকে ঘাস খাওয়াতে হলেও চাঁদা দিয়ে খাওয়াতে হয়। চাঁদা না দিলে খামারের মাছের খাবারে বিষ মেশানো হয়।’ শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার প্রত্যন্ত পাকশিমুল ইউনিয়নের জয়দরকান্দি গ্রামের ১ ও ২ নং ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন রুমিন ফারহানা। এ সময় নিজ এলাকায় চাঁদাবাজি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাজপথে নামারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। সভায় তিনি বলেন, আমার এলাকায় চাঁদাবাজি হলে আমি কাউকে চিনি না। আমি তার বিরুদ্ধে রাস্তায় দাঁড়াব। ডান পাশে বালু চোর আর বাম পাশে মামলাবাজ নিয়ে আমি রাজনীতি করতে চাই না। নিজের আত্মীয়স্বজনকে কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, আমার কোনো আত্মীয় নেই, যাকে সারের ডিলারশিপ দিতে হবে। আমার কোনো আত্মীয় নেই, যাকে রাস্তার কাজের ঠিকাদারি দিতে হবে। আমার কোনো আত্মীয় নাই, যাকে চাঁদা দিয়ে আপনাদের ব্যবসা করতে হবে। নিজের কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা জানানোর আহ্বান জানিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, আমার কোনো কর্মীর বিষয়ে যেকোনো অভিযোগ থাকলে নাম-পরিচয় গোপন রেখে লিখিতভাবে আমাকে জানাবেন। আপনাদের পরিচয় আমি প্রকাশ করব না। কিন্তু সেই কর্মীর ব্যাপারে যে ব্যবস্থা নেওয়ার, আমি সে ব্যবস্থা নেব। আমার কোনো কর্মী যদি আমার কোনো ভোটারের সঙ্গে একটুও বেয়াদবি করে, আমার ওই কর্মীর নাম আমার কাছে জমা দেবেন, বাকি ব্যবস্থাটা আমি করব। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ১৭ বছর আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। আমরা আশা করেছিলাম, আমরা জনগণের একটা সরকার পাব, যারা বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করবে, গ্যাসের সমস্যা সমাধান করবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাবে, জিনিসপত্রের দাম নাগালের মধ্যে রাখবে। আমাদের এমন দুর্ভাগ্য, ৮০-৯০ টাকা কেজির নিচে সবজি নাই। ঢাকা শহরে একটা ডিমের দাম ১৫ টাকা। গরিব খাবে কী?