রাজধানীতে সম্প্রতি সংঘটিত বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর সহিংসতা, দখলবাজি ও নৈরাজ্যের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা এবং সীমাবদ্ধতার বিষয়টি এবার খোলামেলাভাবে আলোচনায় এসেছে। রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা, জনপ্রিয় এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের অফিসে হামলা-ভাঙচুর, আদাবরে বাড়িতে হামলা এবং মোহাম্মদপুরে জমি দখল ও ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটে। উদ্বেগজনক এসব ঘটনায় রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রভাবশালীদের বাধার মুখে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি পুলিশ। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে পুলিশ সদর দপ্তরে গতকাল মঙ্গলবার জরুরি ভিত্তিতে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে বিশেষ মিটিং হয়।
আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে রাজধানীর সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা, কোথায় ভুলত্রুটি ছিল এবং মাঠপর্যায়ে পুলিশের করণীয় কী—তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়। বৈঠকে খোলামেলা আলোচনায় উঠে আসে—রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং দলের সবুজ সংকেত না পেলে পুলিশ সব ধরনের অপরাধ ও প্রভাবশালী অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি পদক্ষেপে যেতে পিছপা হয়। বিশেষ করে মিরপুরে ক্লিনিক গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার নেপথ্যে বিএনপি দলীয় সংরক্ষিত আসনের দুজন এমপির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা থাকায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকশনে যেতে ব্যর্থ হয়। এছাড়া স্থানীয় বিএনপির এমপি এবং প্রভাবশালী নেতাদের সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও রোষানলের আশঙ্কায় পুলিশকে প্রতিটি পদক্ষেপে চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।
বৈঠকে অংশ নেওয়া দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মতে, মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকার বেপরোয়া অপরাধমূলক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে মহানগর বিএনপির নেতারা এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ ইতিবাচক ও স্পষ্ট সবুজ সংকেত না মিললে পুলিশের পক্ষে এককভাবে ‘অলআউট অ্যাকশন’ চালানো কঠিন। তবে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, জমি দখল ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের নমনীয়তা না দেখানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অবশ্য জরুরি বিশেষ বৈঠক ছাড়াও গতকাল পুলিশ সদর দপ্তরে মাসিক ক্রাইম কনফারেন্সে ডিএমপিসহ দেশের সব পুলিশ ইউনিটকে এসব অপরাধীদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখার তাগিদ দেওয়া হয়।
রাজধানীর সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর বিষয়ে ডিএমপির পক্ষ থেকে আত্মপক্ষ সমর্থন করে দাবি করা হয় যে, পরিস্থিতির আকস্মিকতা এবং তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতির কারণে অনেক সময় মাঠপর্যায়ের পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। মিরপুর ডিভিশনের ডিসি (উপ-পুলিশ কমিশনার) বিষয়টি কমিশনারকে সময়মতো অবহিত করেছিলেন কি না এবং করলেও কী ধরনের নির্দেশনা এসেছিল—সে বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের বৈঠকে পরিষ্কার কোনো বক্তব্য মেলেনি।
তা ছাড়া ক্লিনিক গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার দায় শুধু শাহ আলী থানার ওসি বা ডিএমপির মিরপুর ডিভিশনের ডিসির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলেও এর পেছনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নীতিনির্ধারণী বা সিদ্ধান্তহীনতার কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা অত্যন্ত সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এমনকি এসব ঘটনার সুনির্দিষ্ট আগাম গোয়েন্দা তথ্য থাকা সত্ত্বেও কেন সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হলো না এবং এর দায় শেষ পর্যন্ত কার ওপর বর্তায়—তাও বৈঠকে অস্পষ্ট থেকে গেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গণমাধ্যমে এই ঘটনাগুলো জোরালোভাবে প্রকাশিত না হলে এবং জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না হলে রাড্ডা ক্লিনিক গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও অতীতের বহু অনিয়মের মতো পর্দার অন্তরালেই ঢাকা পড়ে যেত
বৈঠকে বেশকিছু সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন বিভাগে স্থাপিত মনিটরিং কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা সচল ও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সারা দেশে চলমান বিশেষ অভিযান আরো কঠোর ও গতিশীল করার তাগিদ দেওয়া হয়। বৈঠকে কেউ কেউ মন্তব্য করেন যে, ঢাকার মতো জনবহুল ও বিশাল মেগাসিটিতে মাত্র ৩৫ হাজার পুলিশ সদস্যের মাধ্যমে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন। এ অবস্থায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ নাগরিকদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে নতুন আঙ্গিকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রস্তাব আসে।
পাশাপাশি, মাদকসেবীদের চেয়ে মাদক কারবারিদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে মাসিক অপরাধ সভায় মাঠপর্যায়ে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জমিসংক্রান্ত বিরোধ বা দখলদারিত্বের অভিযোগগুলো আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে মোকাবিলার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার জন্য ক্রাইম কনফারেন্সে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আলোচনার একপর্যায়ে কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রতিও অভিযোগের আঙুল তোলেন। তাদের মতে, আশির দশকের সেই পুরোনো ধাঁচের প্রতিবেদনের মতোই বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামান্য অবনতি হলেই পুলিশকে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ প্রতিপন্ন করে গণমাধ্যমে একপেশে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়।
একাধিক কর্মকর্তা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে দৃশ্যমান উন্নতি ঘটছে এবং বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রাজনৈতিক নেতাদের পূর্ণ সদিচ্ছা থাকলে পুলিশ যেকোনো অপরাধীকে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে গ্রেপ্তার করতে বিন্দু পরিমাণ পিছপা হবে না—মর্নিং মিটিংয়ে এই বিষয়টি অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে উঠে আসে। একাধিক কর্মকর্তা গতকালের বৈঠকে এটিকে একটি বড় অর্জন হিসেবেই দেখছেন
অতীতে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান যেমন সীমাবদ্ধ ছিল, বর্তমান বাস্তবতায়ও প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া পুলিশের জন্য সব সময় সহজ হয় না—এমন বাস্তবতাও বৈঠকে আলোচনা হয়।
এদিকে দেশজুড়ে অপরাধ পরিস্থিতি ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য দমনে মাঠপর্যায়ে কঠোর নির্দেশনার পাশাপাশি পুলিশ সদর দপ্তরে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা হয়েছে। আইজিপি আলী হোসেন ফকির এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অতিরিক্ত আইজিপি মো. সায়েদুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও এসপিরা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
সভায় আইজিপি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেন, মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কঠোর হাতে দমন করতে হবে; অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই। মাদকে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করার পাশাপাশি আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে এবং সামাজিক মাধ্যমে গুজব রোধে সাইবার মনিটরিং জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত আইজি সায়েদুর রহমান কিশোর গ্যাংয়ের নেপথ্যের প্রভাবশালী মদদদাতাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা, দুর্গাপূজাকেন্দ্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং পুলিশ সদস্যদের বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের তাগিদ দেন। এছাড়া সভায় আগস্ট মাসের অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে গুরুতর মামলার অগ্রগতি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল ও সাজার হার বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
বকেয়া বেতন পরিশোধ ও সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা মূল বেতনের দাবিতে রাজধানীর উত্তরায় টানা পঞ্চম দিনের মতো রাজপথে নামার চেষ্টা করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। শনিবার (১৭ অক্টোবর) শুরুতেই পুলিশের বাধার মুখে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। সড়ক অবরোধ ঠেকাতে পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পোশাক শ্রমিকরা শনিবার সকালে উত্তরা রাজলক্ষ্মী এলাকার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়, এতে আহত হন কয়েকজন পুলিশ সদস্য। ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রেজাউল করিম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। তাদের রাস্তা অবরোধ করতে দেওয়া হয়নি। সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী ও চোরাচালানবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট সীমান্তে অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন ৪৩ বোতল নেশাজাতীয় কোডিনযুক্ত সিরাপ জব্দ করেছে ৫৯ বিজিবি (মহানন্দা ব্যাটালিয়ন)।বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ মধ্যরাত আনুমানিক ১২:৪০ ঘটিকায় (০২৪০ ঘটিকা) মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ ভোলাহাট বিওপির একটি বিশেষ টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। টহল দলটি সীমান্ত পিলার ১৯৬/৪-এস হতে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভোলাহাট উপজেলার ১নং ভোলাহাট ইউনিয়নের চামুচা গ্রামে অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৪৩ বোতল নেশাজাতীয় ‘ইস্কাফ’ সিরাপ উদ্ধার ও জব্দ করতে সক্ষম হয়।জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কাজী আল-আমিন অপু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "যুবসমাজ ও দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে সব ধরনের মাদক ও চোরাচালান রোধে বিজিবি’র এই কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন উপলক্ষে ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল নাঈমের সভাপতিত্বে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুল হুদা মনির, উপজেলা কৃষি অফিসার শাকুরা নাম্নী, উপজেলা প্রকৌশলী কে এস আর এম জি কিবরিয়া, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আনোয়ার হোসেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম, আইসিটি অফিসার আহসান হাবিব, সহকারী শিক্ষা অফিসার হেলাল উদ্দিন আরিফ রব্বানী, বিএনপি নেতা শেখ মো. ইসহাক, এ কে এম আনসার উদ্দিন, প্রেসক্লাব সভাপতি আজহারুল হক, দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির নেতা দিলীপ কুমার রায়সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। বক্তারা শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানের বিষয়ে বিস্তর আলোচনা করেন। পাশাপাশি নিরবছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহেরও দাবি করেন পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা।