জাতীয়

মোবাইল অপারেটরদের কলড্রপ কমানোর নির্দেশ মন্ত্রীর

হোসেন মাঝি আগস্ট ১৯, ২০২৬ 0
মোবাইল অপারেটরদের কলড্রপ কমানোর নির্দেশ মন্ত্রীর
ফকির মাহবুব আনাম।

 


মোবাইল ফোনে কলড্রপ কমাতে অপারেটরদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। একই সঙ্গে ডাটা প্যাকেজের দাম ও মেয়াদ নিয়েও গ্রাহকদের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৯ আগস্ট) মোবাইল অপারেটর রবি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ নির্দেশ দেন।

টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, মোবাইল অপারেটরদের শুধু শহরকেন্দ্রিক নেটওয়ার্ক উন্নয়নে গুরুত্ব দিলে হবে না। গ্রামের মানুষও যেন মানসম্মত মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা পান, সে জন্য গ্রামাঞ্চলে নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করতে হবে।

অনুষ্ঠানে কলড্রপের ভোগান্তির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি জানান, সাধারণ মানুষের হাতে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে।

এদিকে অনুষ্ঠানে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. এমদাদ উল বারী জানান, ২০২৯ সালের মধ্যে দেশে টুজি সেবা বন্ধ করার পরিকল্পনা নেই।

গ্রাহকদের অভিযোগ, কথা বলার সময় হঠাৎ কল কেটে যাওয়া, ইন্টারনেটের ধীরগতি এবং অনুমতি ছাড়াই ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস চালুর মতো সমস্যায় নিয়মিত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের।

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, গত সাড়ে পাঁচ বছরে মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে ৬৬ হাজার ৭০৫টি অভিযোগ জমা পড়েছে। ফলে কলড্রপ ও অন্যান্য মোবাইল সেবার মান উন্নয়নে অপারেটরদের ওপর নতুন করে চাপ বাড়ছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
প্রধানমন্ত্রী আট প্রশ্নের উত্তর দিলেন, সব প্রশ্নই সরকারি দলের, কী বললেন স্পিকার
প্রধানমন্ত্রী আট প্রশ্নের উত্তর দিলেন, সব প্রশ্নই সরকারি দলের, কী বললেন স্পিকার

  বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দেওয়ার জন্য নির্ধারিত তারকা চিহ্নিত সবকটি প্রশ্নই সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। বুধবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ বিষয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আজ প্রধানমন্ত্রীর জন্য যে প্রশ্নোত্তর রাখা হয়েছে, সেখানে আটটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নই সরকারি দলীয় সংসদ সদস্যদের। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরাও প্রশ্ন জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু আগে আপনি (স্পিকার) আমাদের চারটি সুযোগ দিলেও আজকে আটটির সবগুলোই ছিল সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের।’ সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা যত বেশি প্রশ্ন করবেন, জবাবদিহিতার সংস্কৃতি তত বেশি শক্ত হবে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখার জন্য স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। নাহিদ ইসলামের এই অভিযোগের জবাবে সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সরকার সবসময়ই জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে চায় এবং সরকার জবাবদিহিমূলক। তবে প্রশ্ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে নিয়ম ও অগ্রগণ্যতার বিষয়টি প্রাধান্য পায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখানে সরকারি দল বা বিরোধী দল বলে কথা নয়। নিয়ম অনুযায়ী যিনি প্রশ্ন আগে জমা দেবেন, তিনি আগে সুযোগ পাবেন—এটাই হলো পদ্ধতি এবং এটি সিলেক্ট করেন মাননীয় স্পিকার।’ বিরোধী দলের সদস্যরা পিছিয়ে পড়লে তা তাদের নিজস্ব অসুবিধা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এখন থেকে সবাই সময়মতো প্রশ্ন জমা দেওয়ার প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম প্রশ্ন জমার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রশ্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সিরিয়ালকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে স্পিকার বলেন, ‘আমার পরিষ্কার মনে আছে, অতীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বিছানাপত্র নিয়ে আগের রাতেই প্রশ্ন জমা দেওয়ার অফিসের সামনে পজিশন নিতেন। আরও দুই-একজন সদস্য আছেন, যারা আগের রাত সেখানে শুয়ে থাকতেন। এ ছাড়া অনেক সদস্য তাদের প্রাইভেট সেক্রেটারিকে সেখানে পাঠাতেন।’ সংসদ সদস্যরা আগে থেকেই এসে নিজেদের প্রায়োরিটি নিশ্চিত করেন জানিয়ে স্পিকার বলেন, প্রশ্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের মধ্যে একটি তুমুল প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। তাই বিরোধী দলের সদস্যদেরও এই ঐতিহ্য ও নিয়ম অনুসরণ করে আগে প্রশ্ন জমা দেওয়ার চেষ্টা করার পরামর্শ দেন তিনি। সেই সঙ্গে বিষয়টি ভবিষ্যতে যথাযথভাবে বিবেচনা করার আশ্বাসও দেন স্পিকার।

News সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ 0
২ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের দাবি নাকচ করলো মালয়েশিয়া

২ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের দাবি নাকচ করলো মালয়েশিয়া

জাতীয় সংসদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরোপুরি সোলারের ওপর নির্ভরশীল হবে: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরোপুরি সোলারের ওপর নির্ভরশীল হবে: প্রধানমন্ত্রী

এআই বিচারব্যবস্থার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে

এআই বিচারব্যবস্থার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে

ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের দুটি সার্ভিস লেন উন্মুক্ত, থাকবে টোলমুক্ত: সেতুমন্ত্রী
ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের দুটি সার্ভিস লেন উন্মুক্ত, থাকবে টোলমুক্ত: সেতুমন্ত্রী

  এবার ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ধউর–আশুলিয়া রুটের দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে সেতু দুটির উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলার সময় সাভার, আশুলিয়া ও ঢাকার মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং স্থানীয় মানুষের ভোগান্তি কমাতে বিকল্প হিসেবে এসব সার্ভিস সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সেতু দুটি টোলমুক্ত রাখা হয়েছে। সাধারণ যানবাহনের পাশাপাশি পথচারীরাও এগুলো ব্যবহার করতে পারবেন। নিরাপদ চলাচলের জন্য সেতু দুটিতে যানবাহনের উচ্চতার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সীমার বেশি উচ্চতার যানবাহন সেতুতে উঠতে পারবে না। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সার্ভিস সেতু চালুর ফলে উত্তরা থেকে আশুলিয়া এবং আশুলিয়া থেকে ঢাকামুখী যানবাহনের চলাচল সহজ হবে। একই সঙ্গে মূল এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ইপিজেড থেকে আশুলিয়া হয়ে কাওলায় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হবে। এর মাধ্যমে বিমানবন্দর থেকে কুড়িল, বনানী, তেজগাঁও হয়ে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পর্যন্ত প্রায় ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নিরবচ্ছিন্ন উড়ালসড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে। এ ছাড়া সাভার ও বাইপাইল এলাকার যানজট কমাতে বাইপাইল মোড়ে মাল্টি–লেভেল ইন্টারচেঞ্জ, বিমানবন্দরে প্রবেশের জন্য বিশেষ র‌্যাম্প এবং মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন–১ স্টেশনে যাতায়াতের পৃথক সংযোগ নির্মাণ করা হচ্ছে।

News সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ 0
উত্তরার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দুদকের অভিযান

উত্তরার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দুদকের অভিযান

দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁও আসতেছেন রাষ্ট্রপতি

দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁও আসতেছেন রাষ্ট্রপতি

জরিমানা ছাড়াই ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ৩ সুবিধা দিল বিআরটিএ

জরিমানা ছাড়াই ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ৩ সুবিধা দিল বিআরটিএ

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার

  টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। ব্যাটারিসহ ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে প্রতি ইউনিটের জন্য সর্বোচ্চ ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাবেন গ্রাহকরা। মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রতি ইউনিট ৮ টাকা। এর সঙ্গে ২০ শতাংশ মুনাফা ও ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যোগ করে গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা। নেট মিটারিং নির্দেশিকা ২০২৫ অনুযায়ী, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে যারা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করবেন এবং নিজেদের ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেবেন, তারা ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত এই দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন। তবে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির পর স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এই বিশেষ প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না। গ্রাহকরা নির্ধারিত ৮ টাকার চেয়ে কম খরচে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারলে সাশ্রয় হওয়া অর্থ তাদের লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রণোদনার অর্থ সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে পাঠানো হবে। কোনোভাবেই নগদ অর্থ দেওয়া হবে না। এ ছাড়া সৌর প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার ও মিটারসহ সব সরঞ্জামকে BSTI ও SREDA নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড মেনে চলতে হবে। সরকার জানিয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকেই এই বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ কার্যকর হয়েছে।

News সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ 0
মিয়ানমারে পাচার হচ্ছিল ৪১০ বস্তা ইউরিয়া সার, জব্দ করলো কোস্ট গার্ড

মিয়ানমারে পাচার হচ্ছিল ৪১০ বস্তা ইউরিয়া সার, জব্দ করলো কোস্ট গার্ড

রাস্তার পাশে বাস থামিয়ে রাখলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে: ট্রাফিক কমিশনার

রাস্তার পাশে বাস থামিয়ে রাখলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে: ট্রাফিক কমিশনার

চার শর্ত পূরণ না করলে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না : অর্থমন্ত্রী

চার শর্ত পূরণ না করলে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না : অর্থমন্ত্রী

0 Comments