দেশের প্রতি উপজেলায় অন্তত একটি করে মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছে এম.ফিল-পিএইচ.ডি ডিগ্রিধারী মাদ্রাসা শিক্ষক ফোরাম। সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে পাঠানো এক স্মারকলিপিতে এ দাবি জানান ফোরামের সভাপতি ড. মোহা. আহমাদুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক ড. মোহাম্মদ তোফায়েল উদ্দিন।
স্মারকলিপিতে তারা বলেন, বাংলাদেশে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী ধারক হিসেবে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার পরও আলিয়া মাদ্রাসাসমূহ দীর্ঘদিন ধরে উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি জ্ঞান-বিজ্ঞান ও আধুনিক শিক্ষা প্রদান করে একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৩-এর তথ্য তুলে ধরে স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৬২৮টি, সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৬৩টি, সরকারি কলেজ ৬৩৭টি এবং টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩১৭টি। অথচ সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার সংখ্যা মাত্র তিনটি। এরকম চরম বাস্তবতা ও পাহাড়সম বৈষম্য নিয়ে দেশ ও জাতির উন্নয়নে মাদ্রাসা শিক্ষার অবদান গৌরব করার মতো। তাই শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও টেকসই করতে মাদ্রাসা শিক্ষাসহ সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি।
এতে আরও বলা হয়, তবে সীমাবদ্ধতার কারণে এক সাথে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ সম্ভব না হলে প্রতি উপজেলায় অন্তত একটি করে মাদ্রাসা জাতীয়করণ করা অত্যন্ত জরুরি ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলে বিবেচিত। তাতে বৈষম্য কিছুটা হলেও কমবে।
জাতীয় স্বার্থে ও মাদ্রাসা শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতি উপজেলায় অন্তত একটি করে মাদ্রাসা জাতীয়করণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে শিক্ষামন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন ফোরামের নেতারা।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের সার্বিক প্রচেষ্টা ও সমন্বয়ে দীর্ঘদিন আগে চুরি হয়ে যাওয়া স্মার্টফোন ফিরে পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার ডাকসু সভাকক্ষে এক আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে উদ্ধার হওয়া মুঠোফোনগুলো তুলে দেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। ডাকসু সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই তিন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত মুঠোফোন চুরি হয়ে যায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা বিষয়টি ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদককে জানালে তিনি ১৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), রাঙামাটির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ ও নিবিড় সমন্বয় শুরু করেন। পুলিশের দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তথ্যপ্রযুক্তিগত তৎপরতায় ফোনগুলো উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রকৃত মালিকানা যাচাই-বাছাই শেষে আজ তা শিক্ষার্থীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্মার্টফোন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব জায়গা থেকে আমাদেরকে ব্যর্থ প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে পদে পদে বাধা তৈরি করা হয়েছে। তবে সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত সমস্যা থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক সংকট—সব ক্ষেত্রেই আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।’ ডাকসুর কাজ নিয়ে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অনেকে সমালোচনা করে বলতে চান—এটা কি ডাকসুর কাজ? শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রত্যাশা পূরণ করাই তো ডাকসুর কাজ। আর শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা মেটাতে যা যা করা দরকার, আমরা ঠিক তা-ই করার চেষ্টা করছি। ফোনগুলো ফিরে পেয়ে শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে যে আনন্দের ঝিলিক দেখেছি, সেটিই আমাদের কাজের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।’ ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থী টিউশনির টাকা জমিয়ে কষ্ট করে একটা ফোন কেনেন। কিন্তু অনেক সময় তা ছিনতাই বা চুরি হয়ে যায়। থানায় জিডি করলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর অগ্রগতি হয় না। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের এমন ভোগান্তি নিরসনে আমরা সরাসরি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছি।’ দ্রুততম সময়ে ফোনগুলো ট্র্যাকিং ও উদ্ধারে সহায়তার জন্য ১৮ এপিবিএন রাঙামাটির অধিনায়ক রেজাউল করিমসহ সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান তিনি। রিজওয়ান মানসুরীর সঞ্চালনায় উক্ত মুঠোফোন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আহমেদ শাকিলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
" জাপান-বাংলাদেশ যৌথ গবেষণা প্রকল্পের (জেএসপিএস-ইউজিসি বাই-লেটারাল জয়েন্ট রিসার্চ প্রজেক্ট) প্রজেক্ট মেম্বার ও জেএসপিএসের গবেষণা ফেলো হিসেবে গবেষণার কাজে জাপান যাচ্ছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড.এ. বি.এম. সাইফুল ইসলাম। ৫ অক্টোবর ২০২৬ গবেষণাসংক্রান্ত কাজে জাপানের তোহোকু ইউনিভার্সিটির আমন্ত্রণে রাতে চায়না সাউদার্ণ এয়ারলাইন্সে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি। জাপানে অবস্থানকালে তাঁর গবেষণার যাবতীয় ব্যয় জাপান সরকার বহন করবে। মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট মৃত্তিকা বিজ্ঞানী ড.এ. বি.এম. সাইফুল ইসলাম “Reduction of arsenic contamination from rice fields through engineered biochar application: A fundamental understanding of metallomics at the soil-biochar interface.” শিরোনামে জাপান-বাংলাদেশ যৌথ গবেষণা প্রকল্পের একজন অন্যতম গবেষক ও ফেলো। উক্ত গবেষণা প্রকল্পের গবেষক টিমের জাপান সাইডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তোহুকু বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান এর অধ্যাপক ড. তোময়ুকি মাকিনো এবং বাংলাদেশ সাইডে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধ্যাপক ড. এ.বি.এম. সাইফুল ইসলাম। প্রকল্পের অন্য গবেষকরা হলেন পবিপ্রবির আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিষয়ক পরিচালক ড. হাচিব মোহাম্মদ তুষার, বিএআরআই এর প্লানিং ডাইরেক্টর ড. হাবিব মোহাম্মদ নাসের এবং উক্ত প্রকল্পের প্রধান গবেষক ও কো-অর্ডিনেটর হিসেবে আছেন পবিপ্রবির কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীম মিয়া যিনি বর্তমানে অষ্ট্রেলিয়ার নিউ ইংল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। উল্লেখ্য অধ্যাপক ড. এ.বি.এম. সাইফুল ইসলাম একজন বিশিষ্ট পেডোলজিস্ট ইতোপূর্বে তিনি বাংলাদেশের চলন বিলের মাটির শ্রেণীবিভাগ নিয়ে গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি পবিপ্রবির উপ-উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন। উক্ত সফরের জন্য তিনি সকলের নিকট দোয়া কামনা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর মো: মাহফুজুর রহমান সবুজ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর আইডিয়াল কলেজ ও ঢাকা কলেজের মধ্য সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আইডিয়াল কলেজের সামনে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। পরবর্তীতে দুপুর ১২টায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শতাধিক শিক্ষার্থীকে সাইন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন। এ ঘটনায় সাইন্সল্যাবে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ সময় জলকামানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর আগে বেলা ১১টার দিকে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন ভিসি নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা কলেজে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে ঢাকা কলেজ মিছিল নিয়ে থেকে সাইন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে নিউমার্কেট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আইয়ুব বলেন, সাইন্সল্যাবে ঢাকা কলেজ আর আইডিয়াল কলেজের ছাত্রদের মধ্যে একটু উত্তেজনা ছিল। সেটা যাতে না হয়, এজন্য পুলিশ সাইন্সল্যাবে অবস্থান করছে। কোনো অঘটন যাতে না ঘটে এজন্য পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি বলেন, উভয় কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা কলেজের ভেতরে আছে। বাইরে থেকে কোনো ধরনের কেউ কাউকে ঢিল বা পাথর নিক্ষেপ না মারতে পারে, সেজন্য আমরা শক্ত অবস্থান নিয়েছি। সাইন্সল্যাবে ৬০ জনের মতো পুলিশ আছে। নিউমার্কেট, কলাবাগান এবং ধানমন্ডি তিন থানা থেকে আলাদা আলাদা স্থানে পুলিশ অবস্থান করছে।