অপরাধ

দেশে দুর্নীতির পাট শেষ এখন মালদ্বীপে ব্যাংকের চেয়ারম্যান মাজেদুর

Shaeed আগস্ট ১৬, ২০২৬ 0
দেশে দুর্নীতির পাট শেষ এখন মালদ্বীপে ব্যাংকের চেয়ারম্যান মাজেদুর
প্রিমিয়ার ব্যাংকের

 


নাম কেএএম মাজেদুর রহমান। যিনি ৫ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন মালদ্বীপের একটি ব্যাংকে। তাও আবার চেয়ারম্যান পদে। এর আগে বাংলাদেশে ছিলেন প্রিমিয়ার ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ফলে তার জীবন তো বর্ণাঢ্য বটে। কিন্তু না। খুবই ধূর্ত প্রকৃতির মাজেদুর প্রিমিয়ার ব্যাংকের প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা লুটপাটে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার সিন্ডিকেটে থাকা ২০ জনের বিরুদ্ধে আদালত ইতোমধ্যে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে অর্থ লুটপাটের তথ্য-উপাত্ত মিলেছে। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে পরবর্তী ধাপে আরও বাড়তে পারে।


এদিকে বিদেশে ব্যাংকের শীর্ষ পদে বসে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই কাটছিল তার সময়। কিন্তু বিধিবাম। মাজেদুর দেশে এসে পান দুসংবাদ। অতঃপর তিনি নানা অজুহাতে দেশ ছাড়তে মরিয়া। তবে দুদকের পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও কঠোর অবস্থানের কারণে আদালত তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেননি।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আর্থিক খাতে লুটপাটে জড়িত থেকে পার পেয়ে যাওয়ার কৌশল ভালোই রপ্ত করেছিলেন সুচতুর মাজেদুর রহমান। দেশে দুর্নীতির পাঠ চুকিয়ে এবার বিদেশে গিয়ে আরাম-আয়েশে দিন কাটাবেন, এমনটাই হয়তো ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই হিসাব মেলেনি। দুদকের অনুসন্ধানে একের পর এক অনিয়মের তথ্য ও রেকর্ডপত্র সামনে আসায় বিদেশের নিরাপদ আশ্রয়ও এখন অনিশ্চিত তার জন্য। আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বারবার বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত সফল হননি তিনি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ব্যাংক খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তা না হলে একজনের পর একজন অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশে গিয়ে বহাল তবিয়তে থাকার সুযোগ পাবেন। মাজেদুর রহমানের ক্ষেত্রেও এখন অনুসন্ধান দ্রুত শেষ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

দুদক সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে মালদ্বীপ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। দুদকের অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়, তৎকালীন প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবালের বিভিন্ন অর্থ আত্মসাতের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে অনুসন্ধান দল।

দুদক সূত্র জানায়, এইচবিএম ইকবাল, তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের সঙ্গে মাজেদুর রহমানের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অনুসন্ধানে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রিমিয়ার ব্যাংকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তৎকালীন ব্যাংকের বোর্ডও এসব অনিয়মের বিভিন্ন পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ছিল।

সূত্র জানায়, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদাধিকারবলে নির্বাহী পর্ষদের সদস্য সচিব ছিলেন মাজেদুর। ফলে ব্যাংকের চেক, বিল ও ভাউচার অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় তার ভূমিকা ছিল। অনুসন্ধানকারী দল প্রতিটি আর্থিক অনিয়ম ও লেনদেন আলাদাভাবে যাচাই করছে। এটি দীর্ঘমেয়াদি অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম। রেকর্ডপত্রে যাদের নাম, বোর্ডে যাদের উপস্থিতি এবং যাদের অনুমোদন পাওয়া যাবে, পর্যায়ক্রমে তাদের প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে।


দুদক সূত্র আরও জানায়, মাজেদুর রহমানের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদনও দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে এর আগে কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে একাধিকবার প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য চাওয়া হলে মাজেদুর রহমানের সম্পৃক্ততা ও তার বিরুদ্ধে নেওয়া আইনগত পদক্ষেপের বিস্তারিত জানিয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়।

দুদক সূত্রের দাবি, প্রিমিয়ার ব্যাংকসংশ্লিষ্ট ইতোমধ্যে প্রায় ১৬টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মাজেদুর রহমানের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা হয়েছে। কমিশন কার্যকর থাকলে অনুসন্ধান থেকে মামলার সংখ্যা আরও বাড়ত।

২৮ হাজার কোটি টাকা লুটের অনুসন্ধান : প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা অনুসন্ধানের অংশ হিসাবেই মাজেদুরের নাম এসেছে। দুদকের নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ইকবাল ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রিমিয়ার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ইকবাল সেন্টারসহ বিভিন্ন শাখার অফিস ভাড়া বাবদ ১ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে লুটপাট ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ বিতরণ দেখিয়ে ৪ হাজার ৮১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন স্টেশনারি খাতে ব্যয় দেখিয়ে ১ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এর তথ্যপ্রমাণও পেয়েছে দুদক।

এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তির নামে এফডিআর খুলে অবৈধভাবে অতিরিক্ত মুনাফা দেওয়ার মাধ্যমে শতকোটি টাকা আত্মসাৎ, প্রিমিয়ার ব্যাংক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অর্থ লুটপাট এবং বিপিএল ও টেলিভিশনে ভুয়া প্রচার দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগও অনুসন্ধানে এসেছে।

বিদেশ যেতে মরিয়া : ২০২৫ সালের নভেম্বরে মাজেদুর রহমানসহ ২০ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। এরপর থেকেই বিদেশে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন অজুহাতে আদালতের অনুমতি চেয়ে আসছেন মাজেদুর। দুদকের আশঙ্কা, তাকে বিদেশে যেতে দেওয়া হলে চলমান অনুসন্ধান ও পরবর্তী তদন্ত বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণেই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার পক্ষে আদালতে অবস্থান নিয়েছে সংস্থাটি।


মাজেদুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার ব্যাংকের স্পষ্ট দুটি অনিয়মের নথিতে দেখা গেছে, ২০১৩ সালের ১০ এপ্রিল প্রিমিয়ার ব্যাংকের নির্বাহী পর্ষদের ৯০১ নম্বর সভায় ‘কালার ওয়েব’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ৮৫ হাজার বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরির জন্য ৬ কোটি ২২ লাখ ২০ হাজার টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ওই সভার সদস্য সচিব ছিলেন তৎকালীন এমডি মাজেদুর রহমান। কিন্তু অনুসন্ধানে পাওয়া রেকর্ড ও সংশ্লিষ্ট ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য অনুযায়ী, ৮৫ হাজারের জায়গায় তৈরি করা হয় মাত্র ২৫ হাজার বার্ষিক প্রতিবেদন। এজন্য প্রতিষ্ঠানটিকে দেওয়া হয় মাত্র ৬৫ লাখ টাকা।

দুদকের হিসাবে, কার্যাদেশের ৬ কোটি ২২ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে ৬৫ লাখ টাকা বাদ দিলে দাঁড়ায় ৫ কোটি ৫৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

এরপর একই ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ ৬৫ হাজার ক্যালেন্ডার তৈরির জন্য ২০১২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ৩ কোটি ৭৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তখনও নির্বাহী পর্ষদের সভার সদস্য সচিব ছিলেন মাজেদুর রহমান। কিন্তু সরবরাহ করা হয় মাত্র ৯০ হাজার ক্যালেন্ডার। এজন্য ভেন্ডরকে পরিশোধ করা হয় ৬২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। বাকি ৩ কোটি ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। দুই কার্যাদেশে মোট ৮ কোটি ৬৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা আত্মসাতের তথ্য পেয়েছে দুদক।

বিএফআইইউর তালিকায় ৭ নম্বরে মাজেদুল : ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই বিএফআইইউ প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল, তার পরিবার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আত্মসাৎ, তছরুপ, ঋণ জালিয়াতি ও অন্যান্য অনিয়ম নিয়ে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন দেয়। দুদকের নথি অনুযায়ী, ওই প্রতিবেদনে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তালিকায় ৭ নম্বরে রয়েছে কেএএম মাজেদুর রহমানের নাম। তাকে অন্যতম অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বনানীর ইকবাল সেন্টার সিলগালা : এদিকে রাজধানীর বনানীতে সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবালের মালিকানাধীন ‘ইকবাল সেন্টার’ সিলগালা করেছে দুদক। এ ভবনেই ২৬ বছর ধরে প্রধান কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করেছে ব্যাংকটি। রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওই ভবনে অভিযান চালায় দুদক। পরে তল্লাশি শেষে তার চেম্বারসহ সেন্টার সিলগালা করে দেওয়া হয়।


দুদক সূত্র জানায়, তল্লাশিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ অর্থ বা মূল্যবান সামগ্রী পাওয়া না গেলেও বিপুল পরিমাণ নথি ও রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নথি অনুসন্ধান ও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তল্লাশি ও জব্দের বিষয়ে কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে আরও প্রতিবেদন দেওয়া হতে পারে।

দুদক সূত্র জানায়, প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল, তার পরিবার ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানটি বড় পরিসরে চলছে। একাধিক আর্থিক অনিয়মের পৃথক পৃথক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেসব অনিয়মে যার সম্পৃক্ততা ও অনুমোদনের প্রমাণ পাওয়া যাবে, অনুসন্ধানের পর্যায়ক্রমে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বক্তব্য : কেএএম মাজেদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘অফিশিয়ালি আমাদের এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। পত্রপত্রিকায় যতটুকু দেখেছি ততটুকুই জানি। ক্যালেন্ডার ও টিভি বিজ্ঞাপনের বিষয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলোর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। ভেন্ডর যদি আলাদাভাবে কোনো অনিয়ম করে থাকে, সেটা তার বিষয়।

তিনি বলেন, ‘আমাকে বোর্ডের সদস্য সচিব বলা হচ্ছে, সেটাও ভুল। ব্যাংকে সদস্য সচিব বলে কোনো পদ নেই। কোম্পানি সেক্রেটারি শুধু রেকর্ড সংরক্ষণ করেন। আর এমডি পদাধিকার বলে বোর্ডের সদস্য হলেও তার ভোট দেওয়ার অধিকার নেই। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলোর কোনো প্রমাণ থাকলে তা দেখানো উচিত। দুদকের যে রিপোর্টের কথা বলা হচ্ছে, সেটি আসলে থার্ড পার্টির অডিট রিপোর্ট। দুদক এখনো কোনো তদন্ত করেনি।’


 

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

অপরাধ

View more
গণপূর্তের ইএম জোনে বসতে কোটি টাকার ‘চিঠি’! আলমগীর খানকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ
গণপূর্তের ইএম জোনে বসতে কোটি টাকার ‘চিঠি’! আলমগীর খানকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ

  গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইএম জোনের দায়িত্ব পেতে কোটি টাকা দিয়ে একটি চিঠি কিনেছেন আরেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আলমগীর খান। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী এই চিঠি দিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে। অথচ এর আগে অন্য এক কর্মকর্তাকে এ পদে পদোন্নতি দিতে চিঠি দিয়েছিলেন তিনি। গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই অধিদপ্তরের ইএম জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশ্রাফুল হক আগামী ৩১ আগস্ট অবসরে যাচ্ছেন। তার শূন্য পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের জন্য প্রায় ১ মাস আগে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিলেন প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী। যে চিঠিতে তিনি বিসিএস ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তা মাহাবুবুল হক চৌধুরীর নাম প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু আচমকা আরেকটি চিঠি পাঠানোয় এ নিয়ে কানাঘুষা শুরু হয়। বলা হয়, বড় অঙ্কের বিনিময়ে তিনি এই চিঠি দিয়েছেন। এমনিতেই গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বদলি ও পদোন্নতির অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিস্ট প্রমাণ থাকায় গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন লটারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর্মকর্তাদের বদলি ব্যবস্থা চালু করেন। ইতিমধ্যে প্রায় ১ হাজার উপ-সহকারী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী বদলি করেছেন। গণপূর্ত ইএম পিএন্ডডি জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আলমগীর খান দীর্ঘদিন ইএম জোনের দায়িত্বে ছিলেন। আবারও তিনি এই পদে নিয়োগ পেতে উঠে-পড়ে লেগেছেন। এ জন্য তিনি প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে ম্যানেজ করে চিঠি নিয়েছেন। ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ের সচিব ওই চিঠির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন। তবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি মন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। রোববার অথবা সোমবারের মধ্যে আশ্রাফুল হকের শূন্য পদে নিয়োগ দিতে হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রীর নির্দেশনা পাওয়া গেলে রোববারই এ সম্পর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে। আশ্রাফুল হককে অবসর প্রদান করে ইতিমধ্যেই মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

News সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ 0
অস্ত্র হাতে কয়েকজন যুবকের ভিডিও ভাইরাল, মামলা হয়নি

অস্ত্র হাতে কয়েকজন যুবকের ভিডিও ভাইরাল, মামলা হয়নি

বেকার যুবক থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক! ১৬ বছরে জুয়েলের সম্পদের পাহাড়

বেকার যুবক থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক! ১৬ বছরে জুয়েলের সম্পদের পাহাড়

চলন্ত ট্রেনে নারী ধর্ষণের ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

চলন্ত ট্রেনে নারী ধর্ষণের ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে লাশ ফেলতেন জিয়াউল আহসান
পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে লাশ ফেলতেন জিয়াউল আহসান

  সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে শতাধিক গুম-খুনের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক। এ সময় তিনি ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেছেন জিয়াউল আহসানের লোমহর্ষক কর্মকাণ্ডের বর্ণনা। ট্রাইব্যুনালকে তিনি জানিয়েছেন, জিয়াউল আহসান মাঝরাতে বন্দি নিয়ে সুন্দরবনসংলগ্ন চরদুয়ানি বাজারে আসতেন। বন্দিদের গুলি করে পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে বলেশ্বর নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। অনেক বন্দিকে সুন্দরবনে গুলি করে হত্যা করা হতো, পরে সাংবাদিক ডেকে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজানো হতো। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে মামলাটির দশম সাক্ষী হিসেবে হাজির হয়ে ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক এসব কথা বলেন। তিনি জানান, কীভাবে ২০১০ এবং ২০১১ সালে র‍্যাবের তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান বন্দিদের গুলি করে হত্যা করতেন এবং লাশ গুম করতে পেট কেটে ও সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দিতেন। মাঝরাতে বন্দি নিয়ে আসত র‍্যাব সাক্ষ্যে আব্বাস মল্লিক জানান, যেদিন এলাকায় অভিযান হতো, সেদিন বিকালে সাদা পোশাকে দুইজন র‍্যাব সদস্য এসে স্থানীয় দোকানদারদের সন্ধ্যার পর দোকান বন্ধ রাখতে এবং বাতি নিভিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন। এরপর রাত ১১টা থেকে ১২টার দিকে র‍্যাবের ৪ খেকে ৫টি মাইক্রোবাস বরফ মিলের সামনে এসে থামত। ঢাকা থেকে চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় বন্দিদের নিয়ে এসে ট্রলারে তোলা হতো। বোট ছাড়ার সময় র‍্যাব সদস্যরা সঙ্গে করে রশি ও সিমেন্টের বস্তা নিতেন। আব্বাস মল্লিকের জবানবন্দি অনুযায়ী, বন্দিদের নিয়ে ট্রলারটি বলেশ্বর নদী হয়ে গভীর পানির দিকে নিয়ে যাওয়া হতো। গভীর পানিতে যাওয়ার পর ট্রলারের গতি কমিয়ে দেয়া হতো এবং ট্রলারের ভেতর থেকে চোখ-হাত বাঁধা বন্দিদের বের করে আনা হতো। ট্রলারের দুই পাশে থাকা সাপোর্ট নামের অংশে বন্দিকে দুইজন র‍্যাব সদস্য চেপে ধরে রাখতেন। এরপর জিয়াউল আহসান নিজে এসে ওই বন্দির মাথায়, কানে অথবা বুকে গুলি করতেন। পেট চিরে ও বস্তা বেঁধে নদীতে লাশ গুম গুলির পর মৃতদেহের গলায় অথবা পায়ে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। লাশ যেন পানিতে ভেসে না ওঠে, সে জন্য লাশ নদীতে ফেলার আগে পেট কেটে ফেলা হতো। এরপর সুন্দরবনে নিয়ে অন্য বন্দিদের বোট থেকে নামিয়ে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হতো এবং সাংবাদিকদের ডেকে থানায় লাশ হস্তান্তর করা হতো। হত্যাকাণ্ড শেষে বরফ মিলে ফিরে আসার পর মাঝিদের খামে করে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হতো বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন আব্বাস মল্লিক। নিখোঁজ ছোট ভাই আলকাছ প্রত্যক্ষদর্শী এই মাঝি ট্রাইব্যুনালে তার ছোট ভাই আলকাছ মল্লিকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, আলকাছের দুটি ট্রলার ছিল এবং তিনি র‍্যাবের সঙ্গে কাজ করতেন। কিন্তু র‍্যাবের এই বর্বর কর্মকাণ্ডের কথা আলকাছ বাজারে আলোচনা করায় স্থানীয় অন্য বোটের মালিকরা তাকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, র‍্যাব তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে আছে। পরে ২০১১ সালের মাঝামাঝি সময়ে একদিন দুপুরের খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হন আলকাছ, কারণ র‍্যাব থেকে তাকে ফোন করে জানানো হয়েছিল যে, ‘জিয়া স্যার’ তাকে বটতলা মানিকখালীতে ডেকেছেন। ওইদিন সন্ধ্যা থেকেই আলকাছের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং আজ পর্যন্ত তার আর কোনো সন্ধান মেলেনি। ঘটনার পর খুলনা, পটুয়াখালী, বরিশাল এবং ঢাকার র‍্যাব কার্যালয়ে ঘুরেও ভাইয়ের কোনো খোঁজ পাননি আব্বাস মল্লিক। পাথরঘাটা থানায় জিডি করতে গেলেও পুলিশ সেখানে জিয়াউল আহসান ও র‍্যাবের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানায় বলে সাক্ষ্যে উঠে আসে। সাক্ষ্যের শেষ পর্যায়ে কাঠগড়ায় উপস্থিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে সরাসরি শনাক্ত করে আব্বাস মল্লিক ট্রাইব্যুনালের কাছে তার ছোট ভাই নিখোঁজের বিচার দাবি করেন।

News সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ 0
৭ কোটি টাকার সিটি করপোরেশনের জমি ৫০ লাখে হাতছাড়া!

৭ কোটি টাকার সিটি করপোরেশনের জমি ৫০ লাখে হাতছাড়া!

ঘুষ-নোটিশ বাণিজ্যে রাজউক পরিচালক হামিদুলের ‘অবৈধ বিপুল সম্পদের পাহাড়’

ঘুষ-নোটিশ বাণিজ্যে রাজউক পরিচালক হামিদুলের ‘অবৈধ বিপুল সম্পদের পাহাড়’

কেনাকাটায় অনিয়ম, মোজার দাম ১৫০০ টাকা  পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের

কেনাকাটায় অনিয়ম, মোজার দাম ১৫০০ টাকা  পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের

দেড় বছরেও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই, ৫২ কেজি গাঁজা উদ্ধারে ২০ কেজি নিয়ে প্রশ্ন
দেড় বছরেও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই, ৫২ কেজি গাঁজা উদ্ধারে ২০ কেজি নিয়ে প্রশ্ন

    নিজস্ব প্রতিবেদক রাজধানীর মুগদা থানা এলাকার মানিকনগর ফাঁড়িকে ঘিরে মাদক ব্যবসা, জুয়ার আসর, আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন অপরাধী চক্রের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কয়েকজন কথিত মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়। অভিযোগ রয়েছে, দেড় বছর ধরে মানিকনগর ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা এসআই কাইম বাহাদুরের সময়ে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে নথিপত্র, মামলার রেকর্ড, জব্দ তালিকা, ভিডিও ও কল রেকর্ড যাচাই করে তদন্ত করা প্রয়োজন। যেসব ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে অনুসন্ধানে স্থানীয়ভাবে কথিত মাদক ব্যবসা ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগে মিল্লাত, শরিফ, দেলা, নিঝু, রিনা, লতা, তুষার, কয়লা ও লতার মা—এই নামগুলো উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তুষার স্টুডিয়াম এলাকায়, কয়লা সবেদাতলা এলাকায়, লতার মা কুমিল্লা পট্টি এলাকায়, মিল্লাত মানিকনগর ডালে এলাকায়, দেলা চান্দা গলিতে, রিনা কমিশনার গলিতে, লতা বালুর মাঠ এলাকায় এবং নিঝু ওয়াসা রোড এলাকায় অবস্থান করে মাদক ব্যবসা বা সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এ ছাড়া দেলা ও লতার কাছ থেকে কথিতভাবে নিয়মিত টাকা উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ‘চিনি বাবু’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে সাপ্তাহিক টাকা সংগ্রহের ঘটনা ঘটে। তবে এই অর্থের পরিমাণ, সংগ্রহের উদ্দেশ্য এবং কার কাছে তা পৌঁছায়—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন। মাদক ও জুয়ার স্পট ঘিরে অভিযোগ স্থানীয়দের অভিযোগ, মানিকনগর প্রেম গলি, চান্দা গলি, কমিশনার গলি, বালুর মাঠ, ওয়াসা রোড, সবেদাতলা, কুমিল্লা পট্টি ও মানিকনগর বিশ্বরোড এলাকায় মাদক ও জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ড রয়েছে। এ ছাড়া মান্ডা এলাকার বিভিন্ন মাদক ও জুয়ার স্পট থেকেও নির্দিষ্ট হারে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং ডিজিটাল প্রমাণ যাচাই করা জরুরি। জুয়ার আসর ও কল রেকর্ড স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘দাতভাঙা সিরাজ’ দাবি করেছেন, ভোট চলাকালে তিনি ফাঁড়ির ইনচার্জকে টাকা দেওয়ার বিষয়ে মেসেজ করেছিলেন। এ সংক্রান্ত একটি কল রেকর্ড সাংবাদিকদের হাতে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে কল রেকর্ডটির সত্যতা, কথোপকথনে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় এবং রেকর্ডটি কোন প্রেক্ষাপটে করা হয়েছিল—এসব স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এদিকে সাংবাদিকদের হাতে আসা একটি ভিডিওতে কথিত জুয়ার আসরের সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে টাকা নেওয়ার দৃশ্য রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওটির ধারণের সময়, স্থান এবং দৃশ্যমান ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা হলে অভিযোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ লেনদেন হয়েছে। অভিযোগে ফাতেমাকে হিরনসহ আটকের ঘটনায় ৩০ হাজার টাকা, বিল্লালকে হিরনসহ আটকের ঘটনায় ২০ হাজার টাকা এবং লতার ভাইকে হিরনসহ আটকের ঘটনায় ১৯ হাজার টাকা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া একটি মোটরসাইকেল আটকের ঘটনায় ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট জিডি, মামলা, আটকের রেকর্ড, জব্দ তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সরকারি মোটরসাইকেলের ৬০ লিটার অকটেনের হিসাব কোথায়? অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে, ফাঁড়ির সরকারি মোটরসাইকেল ব্যবহারের জন্য মাসে ৬০ লিটার অকটেন বরাদ্দ রয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—বরাদ্দকৃত জ্বালানি যদি সম্পূর্ণ ব্যবহার না হয়, তাহলে অব্যবহৃত জ্বালানির অর্থ বা হিসাব কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়? এ ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলের লগবুক, জ্বালানি গ্রহণের রেজিস্টার, বিল-ভাউচার ও মাসিক ব্যবহার বিবরণী যাচাই করলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। ২৫ কেজি তামা আত্মসাতের অভিযোগ মানিকনগর বিশ্বরোডে একটি ভাঙারি দোকান ও পাম্পের পাশের এলাকা থেকে প্রায় ২৫ কেজি তামা আত্মসাতের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগের বিষয়ে আলামিন বাদী হয়ে বিষয়টি সামনে আনতে চাইলে তাকে মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো এবং মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এমনকি তাকে সাক্ষী হিসেবে হাজির না হওয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং বিভাগীয় তদন্তের নথি যাচাই করা জরুরি। ৫২ কেজি গাঁজা উদ্ধার, থানায় জমা ৩২ কেজি—বাকি ২০ কেজি কোথায়? সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মানিকনগর এলাকায় একটি প্রাইভেটকার থেকে ৫২ কেজি গাঁজা উদ্ধারের ঘটনা ঘিরে। অভিযোগকারীদের দাবি, অভিযানে মোট ৫২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হলেও থানার মালখানায় জমা দেখানো হয়েছে ৩২ কেজি। তাহলে বাকি ২০ কেজি গাঁজা কোথায় গেল—এ প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। এ ঘটনায় প্রকৃত সত্য জানতে জব্দ তালিকা, এজাহার, আলামত গ্রহণের রসিদ, মালখানা রেজিস্টার, মামলার নথি, আদালতে পাঠানো আলামতের পরিমাণ এবং অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগ রয়েছে, বাকি গাঁজা ছাড়িয়ে দেওয়ার নামে চাঁদা নেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়। ইনচার্জের বক্তব্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন অভিযোগগুলোর বিষয়ে মানিকনগর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কাইম বাহাদুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি লেনদেন প্রসঙ্গে বক্তব্য দেন বলে জানা গেছে। তার বক্তব্যের একটি রেকর্ড সাংবাদিকের কাছে পাঠানোর পর তা আবার মুছে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে মুঠোফোনে তার বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানোর আশঙ্কাও করছেন কেউ কেউ। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে মতিঝিল জোনের ডিসি মো. হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বিষয়টি বিভাগীয়ভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে প্রকৃত সত্য মানিকনগর ফাঁড়িকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা—তা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে ৫২ কেজি গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় ৩২ কেজি জমা দেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে বাকি ২০ কেজির হিসাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কথিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পূর্বের মামলা, জিডি, গ্রেপ্তার ও অভিযানসংক্রান্ত তথ্য, জুয়ার স্পটের ভিডিও, কল রেকর্ড, অর্থ লেনদেনের তথ্য এবং সরকারি মোটরসাইকেলের জ্বালানি ব্যবহারের হিসাবও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। অভিযোগের বিষয়ে মানিকনগর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কাইম বাহাদুর, মুগদা থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

News আগস্ট ৩১, ২০২৬ 0
বরিশাল গণপূর্তে লটারির কাজ হস্তান্তর ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ, পটপরিবর্তনের পরও ‘পুরোনো বলয়’ সক্রিয়

বরিশাল গণপূর্তে লটারির কাজ হস্তান্তর ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ, পটপরিবর্তনের পরও ‘পুরোনো বলয়’ সক্রিয়

হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর, ভূমি অফিসে গিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী

হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর, ভূমি অফিসে গিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী

চাকরিতে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য, এলজিইডির CRALEP প্রকল্পে নওরিনকে ঘিরে অভিযোগ

চাকরিতে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য, এলজিইডির CRALEP প্রকল্পে নওরিনকে ঘিরে অভিযোগ

0 Comments