জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে আবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন গুরুতর আহত ও তিনজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে অর্থনীতি বিভাগের ২১তম আবর্তনের এক শিক্ষার্থীর হাত ভেঙে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আহত শিক্ষার্থী আলাউদ্দিন অনির।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে ক্যাম্পাসের ভিক্টোরিয়া পার্কের গেটসংলগ্ন এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে সংঘর্ষ ক্যাম্পাসের কাঠালতলা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে রড ও পাইপ ব্যবহার করে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফীন এবং ১৭ নম্বর যুগ্ম-আহ্বায়ক নাহিয়ন বিন হক অনিকের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষার্থী আলাউদ্দিন অনির বলেন, আগের রাতে ১৫তম ব্যাচের ইমন ও সায়েব তাকে অনিকের সঙ্গে রাজনীতি করার কারণে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না দেওয়া এবং মারধরের হুমকি দেন। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আলাউদ্দিন অনিরের দাবি, পরদিন তারা ভিক্টোরিয়া পার্কের গেটের পাশে বসে চা খাওয়ার সময় কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই অতর্কিতভাবে তাদের ওপর রড নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে তিনি নিজেসহ আরও তিনজন গুরুতর আহত হন। এ সময় অর্থনীতি বিভাগের ২১তম আবর্তনের এক শিক্ষার্থীর হাত ভেঙে যায় বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের ১৭ নম্বর যুগ্ম-আহ্বায়ক নাহিয়ন বিন হক অনিক বলেন, শামসুল আরেফিনের গ্রুপের সঙ্গে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী ও বহিরাগত তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে বাংলা বিভাগের ইমন, ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন সাইফসহ আরও কয়েকজন ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অনিক বলেন, হামলার আগের রাতেও তাদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে রবিবার ভিক্টোরিয়া পার্কের গেটের পাশে চা খাওয়ার সময় তাদের ওপর রড ও পাইপ নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শামসুল আরেফিনের গ্রুপের অধিকাংশ নেতাকর্মীর ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের কাছে অস্ত্র রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। হামলার ঘটনায় ক্যাম্পাসের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান অনিক।
এ দিকে সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান বলেন, ‘দুই গ্রুপের নাম জানি না, তবে সংঘর্ষ হয়েছিল। আমরা পুলিশ ডেকে নিয়ে আসছি। এখন মোটামুটি পরিস্থিতি শান্ত আছে। উল্লেখযোগ্যভাবে কেউ আহত হয়নি। টুকটাক হয়তো লেগেছে।’
ঘটনার বিষয়ে জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সামসুল আরেফিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে জানান। পরে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের নবীনবরণের কনসার্ট শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সামনে কাঁঠালতলা এলাকায় সংগঠনটির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক সুমন সরদার , যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমিকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহিলা ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য ঘোষিত এ কমিটিতে সভানেত্রী মনোনীত হয়েছেন নূরুস সাবিহা এবং সম্পাদিকার দায়িত্ব পেয়েছেন আলেমা মাফরুহা। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ মারকাজ ভবনের মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কমিটি ঘোষণা ও নবনির্বাচিত দায়িত্বশীলদের শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সভ্যতা নির্মাণে নারীর ভূমিকাই প্রধান। মানব শিশুর মানসিক বিকাশ ও সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনের মূল ভিত্তি নারী। তাই আমাদের হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ইসলামের সুমহান শিক্ষার আলোকে নারীকে সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদায় ভূষিত করতে হবে এবং সমাজে তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, ‘বর্তমানে তথাকথিত পশ্চিমা ভাবধারার আলোকে নারীর অধিকার ও মর্যাদা নির্ধারণের অপচেষ্টা চলছে, যা নারীকে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ইসলামি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজে নারীর প্রকৃত মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে নবগঠিত মহিলা ইউনিটকে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।’ অনুষ্ঠানে ঘোষিত ২০২৭-২৮ সেশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা: • সভানেত্রী: নূরুস সাবিহা • সহ-সভানেত্রী: জাকেরা রহমান, ফাতিমা আক্তার ও সাইয়েদা মাকসুদা আক্তার • সম্পাদিকা: আলেমা মাফরুহা • সহ-সম্পাদিকা: হাফেজা বুশরা • সাংগঠনিক সম্পাদিকা: রেক্সোনা জাহান জুবাইদা • সহ-সাংগঠনিক সম্পাদিকা: সাওদা মাসরুবা • ছাত্রী সংগঠন পরিচালিকা: মারিয়া কামাল (কেন্দ্রীয়), আফরোজা জান্নাত (বিশ্ববিদ্যালয়), আলেমা রাফিয়া আহমাদ (কওমি মাদরাসা), সায়মা জান্নাত (আলিয়া মাদরাসা), হাফিজা খাতুন (কলেজ) ও ফারজানা নাদিরা (স্কুল) • বিষয়ভিত্তিক সম্পাদকীয় পদসমূহ: o ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদিকা: মরিয়ম আক্তার রূপা o প্রশিক্ষণ সম্পাদিকা: হালিমাতুস সাদীয়া (সহ-প্রশিক্ষণ: পাপিয়া খাতুন) o দপ্তর সম্পাদিকা: নেবিন্নাহার (সহ-দপ্তর: মাহমুদা আক্তার) o অর্থ সম্পাদিকা: খাদিজাতুল কুবরা (সহ-অর্থ: হালিমা সাদীয়া রুবা) o প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদিকা: মোসাম্মাৎ তাহেরা বেগম (সহ-প্রচার: ইসরাত জাহান মারিয়াম) o নির্বাচন ও জনপ্রতিনিধি সম্পাদিকা: সৈয়দা নায়লা কারীম (সহ-নির্বাচন: খাদিজা আহমাদ) o যোগাযোগ সম্পাদিকা: মোর্শেদা বেগম (সহ-যোগাযোগ: আলেমা ফাওজিয়া মাসরুবা) • নির্বাহী সদস্য: আকলিমা খাতুন, সৈয়দা ফেরদৌসী বেগম, কোহিনুর বেগম, মোসা. মাকসুদা আক্তার, সুমাইয়া আক্তার, মোসা. মাহমুদা আক্তার, আনোয়ারা বেগম, আমেনা খাতুন ও বুশরা জান্নাত।
হবিগঞ্জের মাধবপুরে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) দেলোয়ার হোসেনকে উদ্দেশ্য করে উপজেলা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আতাউস সামাদ বাবুর দেওয়া একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সে সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরে ছাত্রলীগ নেতা সিরাজ গ্রেপ্তার হয়েছেন বলেও স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন তিনি। স্ট্যাটাসে আতাউস সামাদ বাবু লেখেন, দেলোয়ার সাহেবদের নাম-ঠিকানা আমরা রাখছি, কারণ তারাও পেনশন নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।” একই সঙ্গে রাজনীতি করতে গিয়ে কয়েকবার জেল মেনে নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে আতাউস সামাদ বাবুর এই বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন এএসআই দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, “ফেসবুকে এভাবে বাবু সাহেব আমার নামে যে ভিত্তিহীন কথা লিখেছেন, তার কোনো অস্তিত্ব নেই। আমি মাদকের একটি তদন্তে তার গ্রামের পাশে গিয়েছিলাম। সেটাকে কেন্দ্র করে তিনি ফেসবুকে যে লেখালেখি করেছেন, তা নিতান্তই বোকামি। স্বীয় দায়িত্ব ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার বাইরে ব্যক্তিগতভাবে আমাদের কিছু করার সুযোগ নেই। জানা যায়, এএসআই দেলোয়ার হোসেন মাধবপুর থানাধীন কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্ব পালন করছেন। ওয়ারেন্ট তামিলে ভালো কাজের জন্য তিনি হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার কর্তৃক পুরস্কৃত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। অন্যদিকে, আতাউস সামাদ বাবু মাধবপুর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের এখন এই অবস্থা হয়েছে যে গরু-মহিষকে ঘাস খাওয়াতে হলেও চাঁদা দিয়ে খাওয়াতে হয়। চাঁদা না দিলে খামারের মাছের খাবারে বিষ মেশানো হয়।’ শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার প্রত্যন্ত পাকশিমুল ইউনিয়নের জয়দরকান্দি গ্রামের ১ ও ২ নং ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন রুমিন ফারহানা। এ সময় নিজ এলাকায় চাঁদাবাজি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাজপথে নামারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। সভায় তিনি বলেন, আমার এলাকায় চাঁদাবাজি হলে আমি কাউকে চিনি না। আমি তার বিরুদ্ধে রাস্তায় দাঁড়াব। ডান পাশে বালু চোর আর বাম পাশে মামলাবাজ নিয়ে আমি রাজনীতি করতে চাই না। নিজের আত্মীয়স্বজনকে কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, আমার কোনো আত্মীয় নেই, যাকে সারের ডিলারশিপ দিতে হবে। আমার কোনো আত্মীয় নেই, যাকে রাস্তার কাজের ঠিকাদারি দিতে হবে। আমার কোনো আত্মীয় নাই, যাকে চাঁদা দিয়ে আপনাদের ব্যবসা করতে হবে। নিজের কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা জানানোর আহ্বান জানিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, আমার কোনো কর্মীর বিষয়ে যেকোনো অভিযোগ থাকলে নাম-পরিচয় গোপন রেখে লিখিতভাবে আমাকে জানাবেন। আপনাদের পরিচয় আমি প্রকাশ করব না। কিন্তু সেই কর্মীর ব্যাপারে যে ব্যবস্থা নেওয়ার, আমি সে ব্যবস্থা নেব। আমার কোনো কর্মী যদি আমার কোনো ভোটারের সঙ্গে একটুও বেয়াদবি করে, আমার ওই কর্মীর নাম আমার কাছে জমা দেবেন, বাকি ব্যবস্থাটা আমি করব। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ১৭ বছর আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। আমরা আশা করেছিলাম, আমরা জনগণের একটা সরকার পাব, যারা বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করবে, গ্যাসের সমস্যা সমাধান করবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাবে, জিনিসপত্রের দাম নাগালের মধ্যে রাখবে। আমাদের এমন দুর্ভাগ্য, ৮০-৯০ টাকা কেজির নিচে সবজি নাই। ঢাকা শহরে একটা ডিমের দাম ১৫ টাকা। গরিব খাবে কী?