অপরাধ

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালক

আওয়ামী দোসার নাফরিজা শ্যামার ‘ডলার বাণিজ্য’ কমিশন নিয়ে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ, কাজ না করেই বিল তোলার পায়তারা!

লিটন আলী জুন ২৫, ২০২৬ 0
আওয়ামী দোসার নাফরিজা শ্যামার ‘ডলার বাণিজ্য’ কমিশন নিয়ে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ, কাজ না করেই বিল তোলার পায়তারা!
নাফরিজা শ্যামার

 

দেশের জেলা হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ ও সংস্কার প্রকল্পের আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আগেই বিল দেয়ার পাঁয়তারা চলছে। কাজ না করেই বিল তুলে ভাগাভাগিতে জড়িত খোদ এই প্রকল্পের পরিচালক নাফরিজা শ্যামা। যিনি কাজ শুরুর আগেই ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর বিদেশ সফরে এই কমিশনের অর্থ ডলারে দিতে হবে বলে ঠিকাদারদের কাছ থেকে টাকা তুলেছেন গণপূর্তের এক নির্বাহী প্রকৌশলী।

সম্প্রতি দেশের জেলা হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ ও সংস্কার প্রকল্পে আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেশের দুটি প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এর মধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে দেয়া হয় ৩০০ কোটি টাকার আসবাবপত্র সরবরাহের দায়িত্ব। গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাঠের কারখানা বিভাগ-১ সম্প্রতি তড়িঘড়ি করে দেড়শ’ কোটি টাকার টেণ্ডার আহ্বান করে। যাতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গণপূর্ত কাঠের কারখানা বিভাগ-২ থেকেও এ কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হলেও এখন পর্যন্ত শেষ করা হয়নি।

আগামী ৩০ ‍জুন চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছর আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলেও এর পেমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে ২৩ জুনের মধ্যে। যেখানে এই কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়াই সম্পন্ন হয়নি সেখানে তড়িঘড়ি করে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করেন এই প্রকল্পের পরিচালক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাফরিজা শ্যামা। সম্প্রতি তিনি আমেরিকা সফর করেন। 

এর আগেই এই অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। আসবাবপত্র সরবরাহ তো দূরের কথা যেখানে টেন্ডার প্রক্রিয়াই সম্পন্ন হয়নি সেখানে কেনো তিনি তড়িঘড়ি করে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছেন, সাধারণত: এ ধরনের প্রকল্পের ক্ষেত্রে অর্থ বরাদ্দ করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালককে অনানুষ্ঠানিক সম্মান জানানোর রেওয়াজ প্রচলিত রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে ঘটনা ঘটেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই অর্থ বরাদ্দের জন্য প্রকল্প পরিচালক না-কি  তিন পার্সেন্ট হারে টাকা নিয়েছেন বলে গণপূর্ত কাঠের কারখানা বিভাগে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। বিশেষ করে এর দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী তাঁর নাম করে দরপত্রে অংশ নেয়া ঠিকাদারদের কাছ থেকে এ হারেই টাকা তুলেছেন। একটি বড় ফার্নিচার কোম্পানি এতো বেশি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দরপত্রে তারা যেখানে ৮টিতে সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছে,সেখানে তাদের মাত্র ১টি কাজ দেয়া হয়েছে।

ওই নির্বাহী প্রকৌশলী ঠিকাদারদের জানিয়েছেন, প্রকল্প পরিচালক ম্যাডাম বিদেশ সফরে যাবেন তাকে ডলারে পেমেন্ট দিতে হবে। এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক নাফরিজা শ্যামার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বলেন, আমি তো বিদেশ সফর শেষ করে এসেছি। কাজ শুরুর আগেই গণপূর্তকে কেনো ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে চাননি। এটা কোন অনিয়ম না বলেই তিনি ফোন কেটে দেন। পরে আবার ফোন করলে তিনি ক্ষেপে গিয়ে বলেন, সরকারি ছুটির দিনেও আপনাদের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। এই বলে তিনি তাঁর মোবাইল বন্ধ করে দেন। শনিবার সারাদিনও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে ইতিমধ্যেই অবহিত হয়েছেন এর দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন। প্রথমে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী ও ইএম-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হককে মন্ত্রণালয়ে তলব করে এর ব্যাখ্যা চেয়েছেন। পরে জাতীয় সংসদ ভবনে তাঁর কার্যালয়ে এ নিয়ে আবার ব্যাখ্যার জন্য ডেকেছিলেন মন্ত্রী। সেখানে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহাবুবুল হক চৌধুরী মন্ত্রীকে জানিয়েছেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোন অনিয়ম ও ‍দুর্নীতি হয়নি। 

টেকনিক্যাল জ্ঞান না থাকায় প্রকৌশলীদের এই ব্যাখ্যাই তিনি মেনে নিয়েছেন। অথচ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পরতে পরতে প্রকাশ্য দিবালোকের মতো দুর্নীতির ছাপ স্পষ্ট।
গত ৮ জুন পর্যন্ত আহ্বান করা মোট ১২টি দরপত্রের ৮টিতেই সর্বনিম্ন দরদাতা হয় দেশের সবচেয়ে নামকরা ফার্নিচার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘হাতিল ফার্নিচার’। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি এর মধ্য থেকে মাত্র ১টি কাজের কার্যাদেশ দিলেও বাকি ৭টি কাজের আদেশ ঝুলিয়ে রাখে মুলত গণপূর্তের প্রকৌশলী ত্রয়ের অতিরিক্ত অর্থ দাবির আবদার মেটাতে না পারায়।

এই বিষয়ে ন্যায়সঙ্গত: আচরণ পেতে হাতিল কমপ্লেক্স লিমিটেডের কোম্পানি সেক্রেটারি মো. রেজাউল করিম গত ৮ জুন গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রকৌশলী (ই/এম) জোন আশ্রাফুল হকের কাছে আবেদন করেন।

সেখানে তিনি জেলা হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ ও সংস্কার প্রকল্পের পরিচালক থেকে শুরু করে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অভিযোগ করেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের কাছেও। মন্ত্রী বিষয়টি আমলে নিয়ে গণপূর্তের প্রকৌশলীদের তলব করলেও প্রকৌশলীরা মন্ত্রীকে ‘ভুল’ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আর তাতেই সন্তষ্ট হয়েছেন তিনি।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিল প্রধান তিন বিরোধী দল

ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।

অপরাধ

View more
সুপ্রিম কোর্টের ভবন নির্মাণে ৬.৩২ কোটি টাকা আত্মসাতের সত্যতা পেয়েছে দুদক
সুপ্রিম কোর্টের ভবন নির্মাণে ৬.৩২ কোটি টাকা আত্মসাতের সত্যতা পেয়েছে দুদক

  বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পে বিধিবহির্ভূতভাবে আটটি প্যাকেজে ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বিল পরিশোধের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের অভিযানে অন্তত চারটি প্যাকেজের কাজের কোনো ভৌত অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। কাজের অস্তিত্ব না থাকলেও বিল পরিশোধের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষতিসাধনের সত্যতা মিলেছে।   বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এ অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ ও কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এমন তথ্য পেয়েছে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা পোস্টকে বলেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্প'–এর কাজের ক্ষেত্রে প্যাকেজ বিভাজনে অনিয়ম, ই-জিপি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারসাজি, কাজের অস্তিত্ব ছাড়া বিল পরিশোধ এবং সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে এনফোর্সমেন্ট টিম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, দুদকের এনফোর্সমেন্ট অভিযানে সংগৃহীত নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিপিপি, আরডিপিপি কিংবা হেড অব প্রোকিউরমেন্টের অনুমোদন ছাড়াই একই খাতের কাজকে আটটি পৃথক প্যাকেজে বিভক্ত করে ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে এসব প্যাকেজের কার্যাদেশ দেওয়া হয় আটটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। তাদের অনুকূলে মোট ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। দুদক জানায় ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য রেকর্ড ভবন নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত মূল্য ২৭৯ কোটি ৫৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। প্রকল্পের মূলধন অংশের ‘অনাবাসিক ভবন’ খাতে সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট প্রোকিউরমেন্ট কমিটি (সিসিজিপি) অনুমোদিত একমাত্র কাজ ছিল ডব্লিউ-১ প্যাকেজ। ডিপিপি ও আরডিপিপি অনুযায়ী, ওই একটি প্যাকেজের আওতায় কাজ করার অনুমোদন ছিল। এর কার্যাদেশ ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে (এনডিইএল) দেওয়া হয়। কার্যাদেশের মূল্য ছিল ১৫৫ কোটি ৭০ লাখ ৪ হাজার টাকা। কিন্তু ডিপিপি, আরডিপিপি কিংবা হেড অব প্রোকিউরমেন্টের অনুমোদন ছাড়াই একই খাতের কাজকে আরও আটটি পৃথক প্যাকেজে বিভক্ত করে ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে এসব প্যাকেজের কার্যাদেশ দেওয়া হয় আটটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। তাদের অনুকূলে মোট ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হয়।   দুদকের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, বিভাজিত আটটি প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস স্পোর্টস কমপ্লেক্সের পাশে নতুন বেকারি ও ক্যান্টিন নির্মাণ, রেকর্ড ভবনের তিনটি বেসমেন্ট ফ্লোর নির্মাণের জন্য অস্থায়ী ট্রিপল ওয়ার্ক স্থাপন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য ভেন্যু সংস্কার, ব্র্যান্ডিং ও ক্যাটারিং, গাইড ওয়াল-মাস্টার ড্রেন-র‌্যাম্প ও হাই-টেনশন কেবল লাইন অপসারণ, অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ, অস্থায়ী ড্রেন ও সিআই শিটের বেড়া নির্মাণ এবং বালু ভরাট, বৃষ্টির পানি অপসারণ ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ।

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
এনওসিএস মানিকনগরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিমের দায়িত্বাধীন এলাকায় রাজস্ব আদায় নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন

এনওসিএস মানিকনগরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিমের দায়িত্বাধীন এলাকায় রাজস্ব আদায় নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন

রিকশাচালকের ছেলে শতকোটি টাকার মালিক: কার ছত্রছায়ায় সোহেলের এই উত্থান?

রিকশাচালকের ছেলে শতকোটি টাকার মালিক: কার ছত্রছায়ায় সোহেলের এই উত্থান?

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৫০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৫০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের ফাঁসি চাইলেন ছাত্রদল নেতা টিপুর স্ত্রী
শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের ফাঁসি চাইলেন ছাত্রদল নেতা টিপুর স্ত্রী

  বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ক্রসফায়ারে দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চারজনের ফাঁসি দাবি করেছেন ছাত্রদল নেতা টিপু হাওলাদারের স্ত্রী সুমা আক্তার। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীরের একক বেঞ্চে জবানবন্দি শেষে তিনি এ বিচার চান। এ মামলায় ২০ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।  জবানবন্দির একপর্যায়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুমা আক্তার বলেন, আমার দুটি মেয়ে রয়েছে। স্বামী হত্যাকাণ্ডের সময় তারা খুব ছোট ছিল। দেশে যেন এমন কোনো ঘটনা আর না ঘটে, সেজন্য নিজে ও সন্তানদের পক্ষে আমি বরিশাল-১ আসনের সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) একেএম এহসান উল্লাহসহ গ্রেপ্তার যে দুই পুলিশ সদস্য আমার স্বামীকে ক্রসফায়ারে হত্যা হত্যা করেছে, তাদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়ার প্রার্থনা করছি। এসব কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সাক্ষী।  টিপু আগৈলঝাড়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের শিকার অপরজন হলেন একই উপজেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা। এদিন সকালে এ মামলায় গ্রেপ্তার উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও এএসআই জসিম উদ্দিনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাদের উপস্থিতিতেই জবানবন্দি দেন টিপুর স্ত্রী। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ। এর আগে, ২০ মে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২  প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, টিপু ও কবির ছিলেন আবুল হাসানাতের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। এজন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করেন তিনি। এ কাজ বাস্তবায়ন করতে তৎকালীন এসপি একেএম এহসান উল্লাহকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর মিথ্যা মামলায় ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি দুজনকে গ্রেপ্তার করে উজিরপুর থানা পুলিশ। এরপর মাহাবুল ও জসিমকে দিয়ে গৌরনদী-গোপালগঞ্জ হাইওয়ের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের পাশে টিপু ও কবিরকে ক্রসফায়ারের নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হয়।  

News সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ 0
গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যত অভিযোগ

গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যত অভিযোগ

নানা অপকর্মের পরও কুয়েত স্টেশনে বহাল বিমানের ‘প্রভাবশালী’ শাহজাহান-শামীমা দম্পতি

নানা অপকর্মের পরও কুয়েত স্টেশনে বহাল বিমানের ‘প্রভাবশালী’ শাহজাহান-শামীমা দম্পতি

রাজউকের পরিচালক হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

রাজউকের পরিচালক হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

বদলি-বাণিজ্য থেকে কমিশন আদায়ের বিস্তর অভিযোগ
বদলি-বাণিজ্য থেকে কমিশন আদায়ের বিস্তর অভিযোগ

  বদলি থেকে টেন্ডার, পদোন্নতি থেকে প্রকল্প—গণপূর্ত অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব সিদ্ধান্তেই প্রভাব বিস্তার করেন প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ তিন প্রকৌশলী। গণপূর্ত অধিদপ্তরের এ তিন কর্মকর্তার পরিচিতি ‘তিন পাণ্ডব’ নামে। তারা হলেন সংস্থাপন শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ সারোয়ার জাহান, ঢাকা সার্কেল-১ থেকে সদ্য বদলিকৃত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খান এবং ঢাকা সার্কেল-২-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. আবু নাসের চৌধুরী। অভিযোগ রয়েছে, এ বলয়ের মাধ্যমেই বদলি-বাণিজ্য, পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, টেন্ডার কমিশন আদায় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ গণপূর্তে আনতে প্রকৌশলীদের কাছ থেকে কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহ করা হয় এ তিন পাণ্ডবের নেতৃত্বে। অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত হওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া এবং পছন্দের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। বদরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই: তথ্য বলছে, মন্ত্রীদের সরকারি বাংলো দ্রুত মেরামতের কথা বলে টেন্ডার ছাড়াই পরিচিত ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া, প্রকৃত ব্যয়ের চেয়ে অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে পরে অর্থ ভাগাভাগি, পছন্দের ঠিকাদারকে বড় প্রকল্প পাইয়ে দেওয়া এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারে সম্পৃক্ততা রয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সার্কেল-১-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের। প্রকল্পের অর্থছাড়ে অনিয়ম এবং সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কাজে অনিয়ম, সম্পদ অর্জন ও নারীঘটিত বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি মাসে মন্ত্রণালয়ের আদেশে তাকে বদলি করে রিজার্ভে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। জানা গেছে, সাভার সার্কেলে দায়িত্ব পালনের পর নিজের আস্থাভাজন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হেজবুল কবিরকে গাজীপুরে দায়িত্ব দিয়ে তার মাধ্যমে ঠিকাদারদের সঙ্গে বিভিন্ন কাজের সমন্বয় এবং পছন্দের ঠিকাদারদের মধ্যে কাজ ভাগ করে দিতেন বদরুল। সরকারি চাকরির পাশাপাশি ডেভেলপার ব্যবসা ও বিভিন্ন সম্পদের মালিকানা নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীর উত্তর বাসাবো, উত্তরা ও বাড্ডায় সম্পত্তি এবং গাজীপুরে জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব সম্পদের কিছু তার ভাইবোনদের নামে থাকলেও নেপথ্যে রয়েছেন বদরুলই। গাজীপুরে তার দায়িত্বকালীন বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রায় ৫ কোটি টাকার কৃষি বিপণন ভবন, ১৫ কোটি ৪১ লাখ টাকার বিএসটিআই সিভিল, ২০ কোটি ২৪ লাখ টাকার মেট্রোপলিটন সদর থানা, ১৪ কোটি ৬১ লাখ টাকার সদর উপজেলা মডেল মসজিদ, প্রায় ১০ কোটি টাকার কালিয়াকৈর থানা, ১৬ কোটি ২৪ লাখ টাকার পুবাইল থানা এবং প্রায় ১৫ কোটি ৮২ লাখ টাকার কোনাবাড়ী থানা নির্মাণ প্রকল্পে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বদরুলের বিরুদ্ধে। গাজীপুরের তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অডিটোরিয়াম নির্মাণে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত ব্যয় কমানোর নির্দেশনা উপেক্ষা করে অন্য খাতের অর্থ দিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে বদরুলের বিরুদ্ধে। প্রকল্পের ঠিকাদারকে প্রায় ৪ কোটি টাকা অগ্রিম বিল দেওয়া হলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। কাজ শেষ করতে আরও ৬ থেকে ৮ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। মিরপুরের পাইকপাড়া আবাসিক প্রকল্প ও পুলিশের ১০৭ থানা নির্মাণ প্রকল্পের ভাসানটেক থানার কাজেও কমিশনের বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ময়মনসিংহে ভবনের নকশা অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগে তাকে ওএসডি করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আরও বেশি কাজ গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে করানোর জন্য তহবিল সংগ্রহের অভিযোগও রয়েছে বদরুলের বিরুদ্ধে। এর পাশাপাশি বদরুলের বিরুদ্ধে নারীঘটিত বিষয় ব্যবহার করে প্রকৌশলীদের ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলী। তাদের দাবি, পরিচিত নারীদের মাধ্যমে প্রকৌশলীদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার পর বিভিন্নভাবে ফাঁদে ফেলা হতো এবং পরে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হতো। বিষয়টি জটিল হলে বদরুল সমাধানের উদ্যোগ নিতেন বলে অভিযোগ তাদের। গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন কাজে অনিয়ম এবং নারীঘটিত বিষয় নিয়ে বিতর্কের কারণে সম্প্রতি তাকে ওএসডি করেছে মন্ত্রণালয়। খুলনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় দায়িত্ব পালনকালে এক নারী তাকে ফোন করে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করেন। ওই নারীর সঙ্গে বদরুল আলমের পরিচয় রয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। পরে বিষয়টি সমাধান করার জন্য বদরুল তাকে বলেছিলেন। আতিকুলের দাবি, এ ঘটনায় প্রথমে তাকে দায়িত্ব থেকে ক্লোজ করা হয় এবং প্রায় ছয় মাস পর খুলনায় বদলি করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলম খানকে একাধিকবার ফোন করা হয় এবং হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠানো হয়। তবে তার সাড়া মেলেনি। বদলি বাণিজ্যের কলকাঠি নাড়েন সারোয়ার জাহান: প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামানের ঘনিষ্ঠ আরেকজন প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান। তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) হিসেবে কাজ করেন। তথ্য বলছে, সম্প্রতি বদলি বাণিজ্য ঠেকাতে মন্ত্রণালয় লটারির মাধ্যমে বদলি শুরু করেছে। তবে লটারির আগে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সিভিলের ঢাকা জেলার বাক্সে ৪১ জনের নাম যুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে সারোয়ারের বিরুদ্ধে। জানা যায়, গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ১০ লাখ টাকার সিকিউরিটি মানির পে-অর্ডার অবৈধভাবে নগদায়নের অভিযোগ ওঠে সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে। ঠিকাদারের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট গণপূর্ত অধিদপ্তর তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় বলে জানা গেছে। তবে পরে শাস্তির বদলে তিনি পদোন্নতি পেয়ে অধিদপ্তরের প্রভাবশালী সংস্থাপন শাখার দায়িত্ব পান। দায়িত্ব পাওয়ার পর গত ৩ মার্চ এক দিনে ৫০ জনেরও বেশি প্রকৌশলীকে বদলি করার ঘটনায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বদলি নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ না করে এই আদেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নের বিনিময়ে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ‘বদলি-বাণিজ্য’ হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। পরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে ওই গণবদলি আদেশ স্থগিত করা হয়। এর আগে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে গত বছরের ৯ ডিসেম্বর বেশ কয়েকজন উপসহকারী প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়। এ-সংক্রান্ত অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে গেলে মো. হাসানুজ্জামান, মো. খাইরুল ইসলাম ও মো. এরশাদুল হকের বদলি আদেশ স্থগিত করা হয়। সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে মুহাম্মদ সারোয়ার জাহান বলেন, বদলির সব বিষয় মন্ত্রণালয় জানে। উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের লটারির বাক্সে আগে থেকেই নাম লিখে রাখার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব কিছু জানি না। মন্ত্রণালয় বদলি করেছে, তারাই সব জানে। প্রধান প্রকৌশলীর পরামর্শক আবু নাসের চৌধুরী: ঢাকা সার্কেল-২ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. আবু নাসের চৌধুরীও বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। অন্য প্রকৌশলীদের দাবি, নিজেদের অবস্থান সুসংহত রাখতে আবু নাসের চৌধুরী পরামর্শকের ভূমিকায় থাকেন। কাজের অগ্রগতির চেয়ে বেশি বিল প্রদান, অতিরিক্ত ব্যয়, পরিচিত ঠিকাদারকে কাজ দিতে নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে খারাপ আচরণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া সরকারি অর্থ অপচয়সহ নানা বিষয়ে তার সার্কেলের বিভিন্ন কাজে শতাধিক অডিট আপত্তি রয়েছে। ঢাকা সার্কেল-২ একটি গুরুত্বপূর্ণ এরিয়া। সচিবালয়, হাইকোর্ট ও আশপাশের সরকারি হাসপাতালের দায়িত্বে তিনি। এসব জায়গায় তিনি মেরামত থেকে শুরু করে সব কাজই পরিচিত ঠিকাদারকে দেওয়ার নির্দেশনা দেন নির্বাহী প্রকৌশলীদের। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে মেরামত কাজের বিল দ্বিগুণ করা হয় এবং উপবিভাগীয় ও সহকারী প্রকৌশলী মিলে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তিতে কাজ করান। এসব অনিয়ম জেনেও দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি আবু নাসের চৌধুরী। এ ছাড়া বগুড়ায় থাকতে টেন্ডার জালিয়াতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্ত অধিদপ্তর সার্কেল-২ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু নাছের চৌধুরী বলেন, স্যার আমাকে বগুড়া থেকে ঢাকা নিয়ে এসেছেন; কিন্তু কোনো সিন্ডিকেট-অনিয়মের সঙ্গে আমি জড়িত না। যা বলছেন সচিব: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, প্রধান প্রকৌশলীর সিন্ডিকেটের কথা ও তাদের বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ শুনছি। এ নিয়ে বিভিন্ন লেখালেখি হচ্ছে, আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করায় তার মধ্যে একজনকে ওএসডি করা হয়েছে। প্রমাণ পেলে অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

News সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ 0
বিমানের ভুয়া বিল দেখিয়ে ১,১৩৮ কোটি টাকা পাচার লন্ডনে!!দুই সরকারের আমলেই রমরমা লুটপাট!

বিমানের ভুয়া বিল দেখিয়ে ১,১৩৮ কোটি টাকা পাচার লন্ডনে!!দুই সরকারের আমলেই রমরমা লুটপাট!

দুই দিনে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা তুলে নিলো কারা, হদিস নেই অনেক প্রকল্পের

দুই দিনে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা তুলে নিলো কারা, হদিস নেই অনেক প্রকল্পের

অস্ট্রেলিয়ায় ১১ বছর কেটেও পদোন্নতি, জাল সনদে প্রধান প্রকৌশলী: খালেকুজ্জামানকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড়

অস্ট্রেলিয়ায় ১১ বছর কেটেও পদোন্নতি, জাল সনদে প্রধান প্রকৌশলী: খালেকুজ্জামানকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড়

0 Comments