রাজধানী ঢাকায় দিনের বেলাতেও ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ছে, যা নগরবাসীর জন্য নতুন এক আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। আগের তুলনায় এখন আর ছিনতাই কেবল রাতের অন্ধকারে সীমাবদ্ধ নেই—শরৎ দুপুর বা কর্মঘণ্টার ব্যস্ত সময়ে রাস্তাঘাটেও ছিনতাইকারীদের দাপট দেখা যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে ব্যস্ত মার্কেট এলাকা, বাসস্ট্যান্ড, ওভারব্রিজ ও যানজটপূর্ণ মোড়গুলোতে এ ধরনের অপরাধ বেড়ে গেছে। সাধারণ মানুষ হেঁটে চলার সময়, মোবাইলে কথা বলার সময় কিংবা বাসে ওঠা-নামার মুহূর্তে ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন। টার্গেট সাধারণত মহিলাদের ব্যাগ, ফোন, গলায় থাকা চেইন বা ছেলেদের মোবাইল ও মানিব্যাগ।
নিউমার্কেট, গাবতলী, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, বনানী, এবং মিরপুর—এইসব এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটছে বলে অভিযোগ করছেন অনেক পথচারী ও স্থানীয় দোকানিরা। অনেক সময় ছিনতাইয়ের সঙ্গে মোটরসাইকেলচালিত অপরাধীরাও জড়িত থাকে, যারা পেছন থেকে হঠাৎ করে টান মেরে পালিয়ে যায়। এমনকি ছিনতাইয়ের সময় আহত হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে, যা জননিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
পথচারীরা বলছেন, পুলিশের টহল থাকলেও অনেক জায়গায় কার্যকর নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি বাড়ানো হলেও তার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ আছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচার না হওয়াও এই অপরাধ বৃদ্ধির একটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরের বেকারত্ব, মাদকের বিস্তার, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশের নিষ্ক্রিয়তা এই সমস্যা বাড়িয়ে তুলেছে। অপরাধীরা জানে, ধরা পড়ার সম্ভাবনা কম, আর যদি ধরাও পড়ে, আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও জটিল। এতে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
জনসাধারণের মধ্যে এখন এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় ফোন ব্যবহার করছেন না, ব্যাগ শক্ত করে ধরে রাখছেন, এমনকি সন্ধ্যার আগেই বাসায় ফেরার চেষ্টা করছেন। নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিরা বেশি আতঙ্কিত, কারণ তারা আত্মরক্ষায় খুব একটা সক্ষম নন।
নগরবাসী চাইছে—পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশন আরও সক্রিয় হোক, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সিসিটিভি বাড়ানো হোক, এবং দ্রুত অপরাধী শনাক্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো, স্বেচ্ছাসেবক টহল দল গঠন এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া টিম (র্যাপিড রেসপন্স) চালু করাও এই সমস্যা মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।
শহরজুড়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে, রাজধানীর নাগরিক জীবন শুধু ঝুঁকিপূর্ণই হবে না—জনগণের আস্থা হারিয়ে যাবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর থেকেও। এখনই সময়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর করে পথে মানুষের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
গণপূর্ত বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী সাজেদুল ইসলাম আইডি নং ১৯৮৬ ২৬৯৪ ২৫৬৪১৮৬৫২ ঘিরে যে অভিযোগপত্র ক্রমে স্তূপীকৃত হচ্ছে, তা নিছক ব্যক্তিগত অপবাদ নয়- বরং রাষ্ট্রীয় অর্থ লুণ্ঠনের অন্ধকার নাটক। অনুসন্ধান বলছে, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি, ভ্যারিয়েশন টেন্ডার বাণিজ্যে ঘুষ, নিম্নমানের কাজ, পক্ষপাতমূলক বিল পরিশোধ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের নামে পোস্টিং-বাণিজ্য- সবখানেই রয়েছে এই প্রকৌশলীর ছাপ। তার অবৈধ সম্পদের মধ্যে রয়েছে ঢাকা মোহাম্মাদপুর আসাদ এভিনিউ ৩৩/সি ৩ তলা একটি ২২০০ স্কয়ার ফিটের বিলাশ বহুল ফ্ল্যাট জার বাজার মূল্য ৩ কোটি ৫০ লক্ষ এবং ইকবাল রোড় ২/১০ একটি ২৫০০ স্কয়ার ফিটের একটা ফ্ল্যাট জার বাজার মূল্য ৪কোটি টাকা এছাডাও তার শুশুর বাড়ি কিশোরগঞ্জ ভৈরব বে মাছের ঘের আছে এবং পূর্বাচলে ২০ কাঠার প্লট আছে এবং তার ব্যক্তি গত একটা দামি ব্যান্ডের গাড়ি ব্যবহার করে । তার স্ত্রী নাম সায়মা সুলতানা আইডি কার্ড নং ১৯৮৬৪৮২১১০২৬৬১২৫৩ নামে বেনামে বিভিন্ন বাংকে এফ ডি আর আছে । তার কন্যা নাম শেহজীন নওমি আই ডি নং ২০১৪২৬৯২৫৩২২৯০০৭০ নামে ও বেনামে বিভিন্ন বাংকে এফ ডি আর আছে । প্রথমত, টেন্ডার দুর্নীতি যেন রীতিমতো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। ভ্যারিয়েশন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নিয়ম ভঙ্গ, এলটিএমের নামে জালিয়াতি ও অযোগ্য ঠিকাদারদের পক্ষে পক্ষপাতমূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যেই প্রকৌশল পেশার মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। দ্বিতীয়ত, ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন পর্যন্ত রক্ষা পায়নি। সংস্কারে নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ উঠেছে। প্রয়োজনহীন প্রকল্পে অর্থ অপচয় করাকে তিনি যেন নিয়মে পরিণত করেছেন। তৃতীয়ত, পছন্দের ঠিকাদারদের পক্ষপাত প্রদানে সাজেদুল ইসলাম অভিযুক্ত। বহিরাগত ঠিকাদার ও আওয়ামীপন্থী কন্ট্রাক্টররা সুবিধা পেয়েছেন তার বিশেষ প্রভাবে, অন্যদিকে অপ্রিয়দের বিল আটকে দেওয়া হয়েছে পরিকল্পিতভাবে। চতুর্থত, সরকারি অর্থ আত্মসাতের নয়া কৌশলও হাতছাড়া হয়নি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের এপিপি প্রকল্পে ৮-১০% হারে কেটে নেওয়া হয়েছে বিল থেকে, আর অধিকাংশ প্রকল্পে চুক্তিমূল্য অতিক্রম করে অতিরিক্ত বিল আদায় করা হয়েছে। পঞ্চমত, প্রকল্প যেন লুটপাটের মডেল। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে দ্বিগুণ ওভার-ইস্টিমেট করে বিল আদায় করা হয়েছে, আরসিসি ও অন্যান্য নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ কাজে সাবেক এমপি নিখিল ও সাবেক প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কথাও উঠে এসেছে। ষষ্ঠত, প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে পোস্টিং-বাণিজ্যের অভিযোগও কম নয়। ঘুষ দিয়ে পছন্দের পদে বসে পরে তা থেকে অবৈধ লেনদেন চালিয়ে যাওয়া- একে এক ধরনের প্রশাসনিক মাফিয়াতন্ত্র হিসেবেই আখ্যা দিচ্ছেন সহকর্মীরা। এছাড়া বিভাগে বিভেদ সৃষ্টি, ভিন্নমত দমন, অসামাজিক কর্মকাণ্ড এবং ঠিকাদারদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের মতো গুরুতর অভিযোগও বিদ্যমান। সাংবাদিকদের বারবার যোগাযোগের চেষ্টা এড়িয়ে যাওয়া তার কর্মকাণ্ডের বৈধতা নিয়ে আরও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সবমিলিয়ে, একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে ঘিরে এমন বহুমুখী অনিয়মের চিত্র শুধু গণপূর্ত বিভাগের সুনামকেই কলঙ্কিত করছে না, বরং রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও প্রকৌশল পেশার মর্যাদাকে নৃশংসভাবে ধ্বংস করছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে- এতসব অভিযোগের মুখে সাজেদুল ইসলাম নীরব কেন? তার এই নীরবতা কি দায়স্বীকার, নাকি আড়ালের কোনো শক্তির পাহারায় দুর্নীতির সাম্রাজ্য রক্ষার চেষ্টা?
শিবগঞ্জ বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার শিবগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে দুই ভাই নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকালে মোকামতলা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন লক্ষ্মীপুর গ্রামের—জামিল উদ্দিনের ছেলে ইয়াছিন আলী (৩৩) ও মোফাজ্জল হোসেনের সুমন মোল্লা (৩৫)। তাঁরা সম্পর্কে চাচাতো ভাই। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে গুরুতর আহত হন ইয়াছিন ও সুমন। ঘটনাস্থলেই ইয়াছিনের মৃত্যু হয়। আহত সুমনকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাহাত মণ্ডল (২১) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান বলেন, জমি–সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
রাজধানীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে গোপনে ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী তরুণীর করা মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্তকে শনিবার গভীর রাতে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত যুবক দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের সঙ্গে পরিচয় গড়ে তোলে। পরে কৌশলে তাদের হোটেল বা ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ করত। সেই ভিডিও পরে ভুক্তভোগীদের হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় বা বিভিন্ন অনৈতিক দাবির চেষ্টা করত সে। ভুক্তভোগী তরুণী জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রথমে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর এক পর্যায়ে দেখা করার প্রস্তাব দেয়। তিনি জানান, তার অজান্তেই ঘরে গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে সামাজিকভাবে হেয় করার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয় এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করলে, পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ থেকে একাধিক নারীর গোপন ভিডিও ও ছবি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ধরনের ঘটনা সমাজে ভয়াবহ বার্তা দেয়। বিশেষ করে তরুণীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরিচিত কারো সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক না হলে এমন ঘটনার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে এবং ব্ল্যাকমেইলের ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোপনে ভিডিও ধারণ এবং ব্ল্যাকমেইলের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া জরুরি। সাইবার অপরাধের এই ধারা রোধে প্রযুক্তিনির্ভর আইন প্রয়োগ, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে মনিটরিং এবং ভুক্তভোগীদের সহজে আইনি সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা করতে না পারলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।