অপরাধ

রাজধানীতে দিনে-দুপুরে ছিনতাই: নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
রাজধানীতে দিনে-দুপুরে ছিনতাই: নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
রাজধানীতে দিনে-দুপুরে ছিনতাই: নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

রাজধানীতে দিনে-দুপুরে ছিনতাই: নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

রাজধানী ঢাকায় দিনে-দুপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। সাধারণ মানুষ বাড়ি থেকে অফিস বা বাজার করার জন্য বের হলেও নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা অনেক সময় উদ্বিগ্ন থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, বিশেষ করে পুলিশের কার্যক্রম ও আইনের শাসনের প্রভাব কতটা রয়েছে তা নিয়ে।

দুপুরের সময় হলেও পথচারী, যাত্রী ও গাড়ি চালকরা ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন। মোবাইল ফোন, ব্যাগ, অর্থসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিস ছিনতাইকারীদের লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ধরনের ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত সম্পদের ক্ষতি নয়, বরং মানুষের মানসিক নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের আলোতে এমন অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে নানা কারণ কাজ করছে। যেমন, বাড়ছে বেকারত্ব, দারিদ্র্য, সামাজিক মূল্যবোধের অবনতি এবং অপরাধীদের মধ্যে ভয়ঙ্কর অস্ত্র বহন। এছাড়া সড়ক পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকাও বড় কারণ।

সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সময়-সময়ে নানা উদ্যোগ নিয়েছে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য। বিশেষ অভিযান, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পেট্রোলিং বাড়ানো ইত্যাদি চেষ্টা হলেও তাতে অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্খিত ফল পাওয়া যায়নি। অনেক এলাকায় অপরাধীরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিচ্ছে।

নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ায় তারা নিজেও সতর্ক হয়ে উঠছেন। ভিড়বহুল এলাকায় বেশি সতর্ক থাকা, বিকল্প পথ ব্যবহার করা, রাতের সময়ে অযথা বাইরে না যাওয়ার মতো অভ্যাস গড়ে উঠেছে। কিন্তু এসব ব্যক্তিগত ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়।

নাগরিক ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সংহতি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। স্থানীয় কমিউনিটি পুলিশিং, সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে অপরাধ কমানো সম্ভব। এছাড়া দ্রুত অপরাধী সনাক্ত ও গ্রেফতারে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সব মিলিয়ে, দিনে-দুপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট হচ্ছে। দেশের রাজধানী হিসেবে ঢাকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ দরকার।

নিরাপত্তা হল এক ধরনের মৌলিক অধিকার, যা প্রত্যেক নাগরিকের থাকা উচিত। তাই সময় নেয়া প্রয়োজন আধুনিক ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার, যাতে সবাই নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

অপরাধ

View more
গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ইএম) আশরাফুল হক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাস্টার
গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ইএম) আশরাফুল হক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাস্টার

  ১১ জনের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে চিফ ইঞ্জিনিয়ারকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে সুপারেন্টেন্ড ইঞ্জিনিয়ার পদে পদোন্নতির জন্য জোর তদবির করছেন গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক। তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০ লাখ টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাদের সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার কোন প্রমান নেই তাদেরকে বিধিমতে কোনোভাবেই পঞ্চম গ্রেডের উপরে পদোন্নতি দেবার সুযোগ নেই। ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বঙ্গভবনের দায়িত্ব পালন করেন।  এসময় তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।  ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালে সংসদ ভবনে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংসদে সীমাহীন দুর্নীতির কারণে তাকে সরিয়ে সমীরণ মিস্ত্রিকে নির্বাহী প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব দেয়া হয়।  যখনি কোন ওয়ার্কিং ডিভিশনে দায়িত্ব পেয়েছেন তখনি শুরু করেছেন লুটপাট। এমনকি পিএন্ডডিতে থাকাকালীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে গণপূর্তের শিডিউলভুক্ত করতে নিয়েছেন বিপুল অংকের অর্থ। দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী আশরাফুল হক দুই ছেলেকে কানাডা পাঠিয়ে নিয়মিত ডলার পাচার করছেন বলে অভিযোগ আছে। টেন্ডার প্রতি ২% টাকা গ্রহণ , টেন্ডারে ভুল ধরে ৫% পর্যন্ত টাকা নিয়ে অবৈধভাবে ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেবার মাস্টারমাইন্ড এই আশরাফুল হক। গভীর জলের মাছ আশরাফুল হক শেখ মুজিবের সমাধির সকল বৈদ্যুতিক কাজের পরিকল্পনা করে দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খুশি করতে।  ডিপার্টমেন্টে তার বিরুদ্ধে অনেকেরই গুরুতর অভিযোগ থাকলেও কেউ ভয়ে মুখ খোলার সাহস পায় না। এসব বিষয়ে কথা বলতে আশরাফুল হক এর সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তা সম্ভব হয়নি। তার ঘুস, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের তথ্য নিয়ে বিস্তারি আসছে দ্বিতীয় পর্বে..  

News জুলাই ২৭, ২০২৬ 0
প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আওয়ামী দোসর শফিউল্লাহ আল মুনিরের বিরুদ্ধে

প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আওয়ামী দোসর শফিউল্লাহ আল মুনিরের বিরুদ্ধে

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো প্রাইভেটকারে ৬ হাজার ইয়াবা

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো প্রাইভেটকারে ৬ হাজার ইয়াবা

পিপিআর লঙ্ঘন ও ভ্যাট আত্মসাতের অভিযোগ  দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে।

পিপিআর লঙ্ঘন ও ভ্যাট আত্মসাতের অভিযোগ  দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে।

নওগাঁর নিতপুর সীমান্তে ৭৪৫০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সহ ২ চোরাকারবারী আটক"
নওগাঁর নিতপুর সীমান্তে ৭৪৫০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সহ ২ চোরাকারবারী আটক"

  ​নওগাঁ থেকে (স্টাফ রিপোর্টার) মোঃ আকতার হোসেন। নওগাঁর পোরশা নিতপুর  সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সহ ২ চোরাকারবারীকে আটক করেছে নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি)। মঙ্গলবার ০৭ জুলাই ২৬ বিকেলে নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের দিয়াড়াপাড়া নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। ​আটককৃতরা  হলেন  উপজেলার নিতপুর মাস্টার পাড়া গ্রামের মোঃ কালুর ছেলে মোঃ নয়ন (৪০) এবং একই গ্রামের মোঃ হানিফের ছেলে মোঃ আনারুল (৩২)। ​বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার  বিকেল আনুমানিক ৪:৫০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিতপুর বিওপির টহল কমান্ডার নায়েব সুবেদার মোহাম্মাদ আলীর নেতৃত্বে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল দিয়ারাপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে ৭ হাজার ৪৫০ পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ ২ চোরাকারবারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। ​নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ আরিফুল ইসলাম মাসুম (পিএসসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটককৃত আসামীদের বিরুদ্ধে পোরশা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যসহ আসামীদের পোরশা থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তরের প্রস্তুতি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ​তিনি আরও জানান, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে অবৈধ সীমান্ত পারাপার, গবাদিপশু ও মাদক পাচারসহ যেকোনো ধরনের চোরাচালান রোধে বিজিবির এই সর্বাত্মক ও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

News জুলাই ৮, ২০২৬ 0
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে এনবিআর সহিদুলের অবৈধ  সম্পদের পাহাড়

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে এনবিআর সহিদুলের অবৈধ সম্পদের পাহাড়

গণপূর্ত ই/এম ৫ এর নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদ হোসেনের কয়েক কোটি টাকার টেন্ডার কেলেঙ্কারির অভিযোগে লিগ্যাল নোটিশ

গণপূর্ত ই/এম ৫ এর নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদ হোসেনের কয়েক কোটি টাকার টেন্ডার কেলেঙ্কারির অভিযোগে লিগ্যাল নোটিশ

"নওগাঁর পোরশায় এইচএসসি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে মূল পরীক্ষার্থীসহ ২ যুবকের কারাদন্ড"

"নওগাঁর পোরশায় এইচএসসি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে মূল পরীক্ষার্থীসহ ২ যুবকের কারাদন্ড"

ভারতীয় নাগরিক হয়েও প্রধান শিক্ষকের পদে দীপক চন্দ্র
ভারতীয় নাগরিক হয়েও প্রধান শিক্ষকের পদে দীপক চন্দ্র

    খুলনার পাইকগাছায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ভারতীয় নাগরিকত্ব থাকার প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে স্কুলে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ওই শিক্ষকের দ্বৈত নাগরিকত্বসহ বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও তিনি এখনো চাকরিতে বহাল রয়েছেন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। জানা গেছে, পাইকগাছার লস্কর উপজেলার খড়িয়া নবারুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের ভারতীয় নাগরিকত্ব রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিবন্ধন আধিকারিকের দপ্তর থেকে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় তার নাম রয়েছে। দীপক চন্দ্র সরকার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর বর্ধমানের শক্তিগড় থানার ২ নং বরশুল গ্রামের ১ নং মনমোহন দে রোডের পশ্চিমাংশের বাসিন্দা। তিনি আবার পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া ঢেমশাখালী গ্রামের ভোটার। দীপকের স্ত্রী অপর্ণা সররকার, মেয়ে জয়শ্রী সরকার, বড় ভাই দুলাল চন্দ্র সরকার ও তার স্ত্রী সুশীলা সরকার, ছোট ভাই তাপস সরকার ও তার স্ত্রী বর্ণালী সরকার ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা ও ভোটার। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীপক তার পরিবারের লোকদের ভারতে পাঠিয়ে দিলেও বাংলাদেশে থেকে স্কুলকে পুঁজি করে অর্থবিত্ত তৈরি করছেন। স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে ২০২৪ সালে স্কুলে পরিচ্ছন্নতা কর্মী, নিরাপত্তা কর্মী ও আয়া নিয়োগ দেন। এই নিয়োগে অন্তত ৩০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। এলাকাবাসী জানান, গোপনে নিয়োগ প্রক্রিয়া চললেও বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে মিছিল, সমাবেশ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে খড়িয়া নবারুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রণোদনা অনুদান বাবদ বরাদ্দ পাঁচ লাখ টাকা খরচের ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে। বরাদ্দকৃত টাকার মধ্যে দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা শিক্ষক, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যয় করা হয়। বাকি দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকায় স্কুলের বিভিন্ন সামগ্রী কেনাকাটা এবং বিল্ডিংয়ের রিপেয়ারিংয়ের কাজ করার কথা বলা হলেও তদন্ত রিপোর্ট কাজের মান নিয়ে সংশয় এবং বিল ভাউচার যথাযথ নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, হেড স্যারের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। তিনি ভারতের নাগরিক। নিয়োগের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে তিনি ওপারে পাচার করেন। স্কুলের নামে বরাদ্দ এলেও ভুয়া বিল ভাউচার করে তহবিল তছরূপ করেন। এ নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে অভিযোগ দিলেও ফলাফল শূন্য অভিযোগ করেন তিনি। নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, প্রাপ্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনও’র নির্দেশে উপজেলা রিসোর্স অফিসার মো. ঈমান উদ্দিন ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর ইউএনও’র নির্দেশে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহজাহান আলীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি আরেকটি প্রতিবেদন জমা দেয়। একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা শিক্ষা অফিসার এস এম ছায়েদুর রহমান পুনরায় তদন্ত করেন। এছাড়া, চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরিত প্রতিবেদনে ইউএনও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের ভারতীয় নাগরিকত্ব রয়েছে বলে ভোটার তালিকা থেকে জানা যায়। এমপিও সংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হয়। বিদেশি নাগরিক এমপিওভুক্ত পদে থাকার বিষয়টি প্রশ্নসাপেক্ষ ও বিতর্কিত। এদিকে ইউএনও’র প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা ২৬ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালককে প্রেরিত এক প্রতিবেদনে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর ও স্পর্শকাতর হওয়ায় সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান। তবে চার মাস পরেও এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই বলে জানা গেছে। তবে জানতে চাইলে দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দীপক চন্দ্র সরকার। তিনি বলেন, আমি ভারতের ভোটার না। বাংলাদেশের নাগরিক। স্কুলের অনুদান আত্মসাৎ কিংবা নিয়োগ নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগও সত্য নয় বলেও দাবি করেন তিনি।  

News জুন ২৯, ২০২৬ 0
রাজশাহীর হত্যা মামলার আসামি মিরপুরে গ্রেপ্তার

রাজশাহীর হত্যা মামলার আসামি মিরপুরে গ্রেপ্তার

রাজধানীর মোতালেব প্লাজা থেকে বিপুল জাল নোট উদ্ধার

রাজধানীর মোতালেব প্লাজা থেকে বিপুল জাল নোট উদ্ধার

আওয়ামী দোসার নাফরিজা শ্যামার ‘ডলার বাণিজ্য’ কমিশন নিয়ে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ, কাজ না করেই বিল তোলার পায়তারা!

আওয়ামী দোসার নাফরিজা শ্যামার ‘ডলার বাণিজ্য’ কমিশন নিয়ে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ, কাজ না করেই বিল তোলার পায়তারা!

0 Comments