স্টাফ রিপোর্টার,
কবির হোসেন শান্ত
বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম চর্চাকারীদের সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান।
তিনি বলেন, ‘যেসব গণমাধ্যম ইন্টেলেকচুয়াল বা বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা-চেতনায় ফ্যাসিজমকে সাপোর্ট করে, প্রমোট করে, কিংবা চর্চা করে তাদের সামাজিকভাবে ধিক্কার ও বয়কট করা ছাড়া আমরা কিছু করতে পারি না।’
মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে তথ্যমন্ত্রী সরকারের ৬ মাসের বিশেষ অর্জন বিষয়ে তথ্য অধিদফতর প্রকাশিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান: গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ৬ মাস’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।
গণমাধ্যমের স্বাধীন ভূমিকার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রী ‘বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম’ (ইন্টেলেকচুয়াল ফ্যাসিজম)-এর কঠোর সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘ইন্টেলেকচুয়াল চিন্তা-চেতনায় যদি কেউ ফ্যাসিজমকে সাপোর্ট বা প্রমোট করে, সেই জিনিসটাকে সামাজিকভাবে ধিক্কার জানানো ছাড়া আমাদের অন্য কিছু করার থাকে না। যারা মুক্ত বাংলাদেশ এবং নতুন স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনায় বিশ্বাস করে না, সামাজিকভাবে বয়কট হওয়াই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় বিচার।’
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্র বিশ্বাস করাটা একটি মানসিকতার বিষয়। গত ১৭ বছর যে মানসিকতা আমরা দেখেছি, তা ছিল সমালোচনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।
কিন্তু বর্তমান সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রীর দিক থেকে মিডিয়ার স্বাধীনতা বন্ধ করে দেওয়া বা গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো মানসিকতা নেই।’
বিগত শাসনামলের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৭ বছরে দেশের সব সিস্টেম দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল। এমন একটি ভঙ্গুর অবস্থার পর দায়িত্ব নিয়ে সরকার দেশের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় পার করছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা আপনাদের কাছ থেকে বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা আশা করি, যাতে আমরা ভুলত্রুটি শুধরে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে পারি।’
শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী বিষয়টি আদালত বা বিচারিক প্রক্রিয়ার (জুডিশিয়ারি) মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে। তবে বাংলাদেশ সরকারের স্পষ্ট দাবি হলো জুলাই আন্দোলনসহ বিগত সময়ের সব অপরাধের সঠিক বিচারের স্বার্থে যাদের নামে মামলা রয়েছে, তাদের সবাইকে ফেরত আনা হবে।
এছাড়া সংবাদপত্রের ভুয়া প্রচারসংখ্যা বন্ধের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, কম পত্রিকা ছাপিয়ে লক্ষাধিক সার্কুলেশন দেখানোর অসত্য প্রক্রিয়া বন্ধে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জোরালোভাবে কাজ শুরু করেছে।
ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘অতীতেও বলেছি, সরকারের বিরুদ্ধে বলার স্বাধীনতা সকলেরই আছে। সরকারের বিরুদ্ধে হোক কিংবা পক্ষে জনগণের কথা তুলে ধরাই গণতন্ত্র। বিটিভি ও সরকারি মাধ্যমে এখন থেকে আনুপাতিক হারে বিরোধী দলগুলোর খবরও প্রচার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, সাংবাদিকদের কল্যাণে ট্রাস্ট ফান্ডের অনুদান দ্বিগুণ করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। অসুস্থ ও অসচ্ছল সাংবাদিকদের জন্য ইতোমধ্যে এক কোটি টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় ঢাকা-শরীয়তপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এসময় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। গতকাল সোমবার নড়িয়া উপজেলার গাগরীজোড়া এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির ১ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ‘১৫ আগস্ট উপলক্ষে শোক র্যালি’ লেখা একটি ব্যানার নিয়ে শতাধিক ব্যক্তি ঢাকা-শরীয়তপুর সড়ক ধরে হাঁটছেন। তারা শেখ মুজিবুর রহমান, ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেনের নাম নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের কোটাপাড়া সেতুর ঢালে গাগরীজোড়া এলাকায় অনেকগুলো মোটরসাইকেল নিয়ে শোভাযাত্রা করছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এতে সড়কের দুই পাশে যান চলাচল ব্যাহত হয়। ঘটনাস্থল পালং মডেল থানার কাছাকাছি হওয়ায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে তিনটি মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন শরীয়তপুর সদর উপজেলার তুষার আহমেদ (২৩), আল আমিন সরদার (২৬) ও রিয়াদ মুন্সি (৪৯)। সোমবার রাতে তাদের নড়িয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে মঙ্গলবার সকালে নড়িয়া থানার এক এসআই বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। এ বিষয়ে নড়িয়া থানার এসআই জসিম উদ্দিন বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু লোক ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কে মিছিল ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করেন। সেখান থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। কর্মসূচির ভিডিও দেখে অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সকাল ৭টায় আমরা ঐতিহাসিক বহু আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শাপলা চত্বরে সমবেত হয়ে সেখান থেকে চট্টগ্রামের আরেক সব আন্দোলনের সূতিকাগার লালদীঘির ঐতিহাসিক ময়দানে আমরা গন্তব্যে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করব। এই লং মার্চে অন্তত ছয়-সাতটি পয়েন্টে আমাদের নেতৃবৃন্দ পথসভা করবেন। শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সেইসব পথসভা সফল করবেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক বিফ্রিংয়ে তিনি এসব কথা জানান। তিনি বলেন, শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পথে পথে মহাসড়কের দুই পাশের জেলা, থানা, উপজেলা, গ্রাম, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের জনগণের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করা হচ্ছে। মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, লং মার্চের প্রস্তুতি নিয়ে ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নয়টি জেলা ও মহানগর শাখার নেতাদের নিয়ে বৈঠক চলছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে শুরু করে মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী হয়ে চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলা সংশ্লিষ্ট নয়টি শাখাকে এর সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব শাখার আমির ও নেতৃবৃন্দ, ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ এবং শ্রমিক নেতৃবৃন্দ সকাল ১০টা থেকে লং মার্চ প্রস্তুতির বৈঠক করছেন। তিনি বলেন, এই অভিযানের অন্তত ছয়-সাতটি পয়েন্টে আমাদের নেতৃবৃন্দ পথসভা করবেন। শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সেইসব পথসভা সফল করবেন। এই বিরাট লং মার্চের যে কাফেলা চলবে সেখানে হাজারের ঊর্ধ্বে গাড়ি এই লং মার্চে সংযুক্ত থাকবে ইনশাআল্লাহ। আর পথে পথে নানান গাড়ি যুক্ত হতে থাকবে হাজার হাজার, যেটার কোনো পরিসংখ্যান হয়তো এক্ষুনি আমাদের কাছে নেই, তখনও হয়তো থাকবে না। স্বতঃস্ফূর্ত জনগণ আমাদের এই কাফেলায় ইনশাআল্লাহ যোগ দেবে। লং মার্চের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন বিভাগ গঠন করা হয়েছে বলে জানান জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, আমরা এই রোডমার্চের ডিসিপ্লিন সম্পর্কে অনেকগুলো বিভাগ করেছি। অভ্যর্থনা বিভাগ করেছি, মেডিকেল বিভাগ করেছি, পরিবহন বিভাগ করেছি। আমরা প্রচার-প্রকাশনা, আইটি বিভাগ, স্বেচ্ছাসেবক বিভাগ, সাংস্কৃতিক বিভাগ, নিরাপত্তা বিভাগ, প্রশাসনিক যোগাযোগের বিভাগ, চিকিৎসা বিভাগ এবং পরিবহন বিভাগের দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছি। এসব বিভাগীয় দায়িত্বশীলদের নিয়ে সমন্বয় সভাও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, লং মার্চ সকাল ৭টায় শুরু হয়ে রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে লালদীঘিতে শেষ হবে। এ দীর্ঘ সময়ে সম্ভাব্য সমস্যাগুলো মোকাবিলায় সংশ্লিষ্টদের বিস্তারিত গাইডলাইন দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সমস্ত শাখাগুলো লিফলেট, পোস্টার, স্টিকার, ব্যানার, ফেস্টুন, কালচারাল প্রোগ্রাম, সংগীত, থিম সং এবং প্রত্যেক এই সড়কের চারপাশ ঘিরে প্রতিটি গ্রামে-গঞ্জে, উপজেলায় এই লং মার্চ সফল করার জন্য একটা ব্যাপক আলোড়ন, একটা সাড়া পড়ছে। তিনি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-রংপুর, ঢাকা-খুলনা এবং ঢাকা-সিলেট রুটের কর্মসূচি নিয়ে পুলিশকে লিখিতভাবে শিডিউল দেওয়া হয়েছে। সিলেটের রুটে ট্রেনে কর্মসূচি হবে বলেও জানান তিনি। খুলনার রুট কুষ্টিয়া পর্যন্ত যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কোথায় কোথায় আমাদের স্পট হবে, কোথায় কোথায় জনসভা হবে, সেসব বিষয়ে আমরা অবগত করেছি এবং উনাদেরকে আমরা অনুরোধ করেছি সংশ্লিষ্ট সমস্ত রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ সুপার, তারপরে থানাগুলোর যারা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকবেন, তাদের ট্রাফিক সিস্টেম, পুলিশের সঙ্গে রিলেটেড ইন্টেলিজেন্স সবাইকে যেন উনারা উনাদের দায়িত্বে এই সবগুলো অবহিত করেন এবং আমাদের এই লং মার্চ সফল করতে তারা যেন সহযোগিতা করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করার কথা জানিয়ে তিনি জানান, স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতিটি স্থানে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে লং মার্চ সফল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জামায়াতের এই সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, গণতান্ত্রিক সংগ্রামে জনগণের বৈধ ও ন্যায্য দাবি আদায়ের নিয়মতান্ত্রিক পথের মধ্যে লং মার্চ একটি কর্মসূচি। এটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক হবে এবং কোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থাকবে না। তিনি বলেন, আমরা আশা করব, পুলিশ প্রশাসন এবং সরকারের সব ইন্টেলিজেন্স এবং এর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ট্রাফিকসহ যারা নিয়োজিত থাকেন, তারা আমাদের এই চারটি রোড মার্চের ব্যাপক কর্মসূচি জনগণের পাশে থেকে আমাদের রোডমার্চকে শান্তিপূর্ণ এবং সাফল্যমণ্ডিত করবেন। বিএনপি, সরকারি দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরাও একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে এই নিয়মতান্ত্রিক জনগণের দুর্ভোগ, গণদাবি, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, এগুলো সবই মানুষের গণ আকাঙ্ক্ষা। এই পূরণের দাবিতে আশা করি অন্যান্য রাজনৈতিক দল, ১১ দলের বাইরে যারা আছেন, তাদেরকেও আমরা আন্তরিকভাবে সহযোগিতা কামনা করি, তাদের দোয়া কামনা করি। লং মার্চে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাবল রোড থাকায় একটি রোড দিয়ে লং মার্চ পরিচালনা করে অন্য রোডটি সাধারণ যানবাহনের জন্য ফাঁকা রাখার চেষ্টা করা হবে। তবে হাজার হাজার গাড়ির বহর চলাচলের কারণে কোথাও কোথাও যাত্রাবিরতি ও পথসভায় সাময়িক যানজট হতে পারে বলেও স্বীকার করেন তিনি। দেশবাসীর কাছে আগাম ক্ষমা চেয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শাপলা চত্বর থেকে নিয়ে লালদীঘি পর্যন্ত এই অঞ্চলের রাস্তার দু’ধারের সব মানুষ, যানবাহন, দোকানদার, ফেরিওয়ালা, রিকশাওয়ালা, দিনমজুর যারা ব্যবসা করবেন, এই লং মার্চ সফল করার প্রয়োজনে দেশ-জাতি-গণতন্ত্রের সঙ্গে যাদের একটু কষ্ট হবে, একটু যানজট হবে, একটু ভোগান্তি যদি হয়, আমি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাদের সবার কাছে আগাম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকারের বিরোধী দল হিসেবে ১১ দলের ঐক্যের সবচেয়ে বৃহৎ একটি রাজনৈতিক প্রথম কর্মসূচি লংমার্চ। এসময় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও সংসদ সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত ছাত্রীদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনর্বহালের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান। তিনি জানান, বৈঠকে মেয়েদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনর্বহাল করা হলে সম্ভাব্য ব্যয়, উপকারভোগীর সংখ্যা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং এর প্রত্যাশিত সামাজিক ও শিক্ষাগত প্রভাব বিশ্লেষণ করে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। উপ-প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের চলমান কার্যক্রম, এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তাদের ঝরে পড়া রোধে ট্রাস্টের ভূমিকা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়। একই সঙ্গে ছেলেদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপবৃত্তি দেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার আমলে মেয়েদের জন্য চালু হওয়া সর্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচির প্রভাব ও অর্জন নিয়ে আলোচনা হয়। ওই সময় মেয়েদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং বাল্যবিবাহ নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে সর্বজনীন উপবৃত্তির ইতিবাচক প্রভাবের বিষয়গুলো উঠে আসে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকেও শিক্ষার মানোন্নয়নের সঙ্গে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সময় বিদ্যালয় পর্যায়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনা, খাবারের পুষ্টিমান এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ খাদ্য প্রস্তুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করা খাবার যাতে পুষ্টিকর, নিরাপদ ও মানসম্মত হয় এবং কোনোভাবেই খাদ্যের মানের সঙ্গে আপস না করা হয়, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, মিড-ডে মিল কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যয়, ব্যবস্থাপনার দক্ষতা, স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ এবং খাবারের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয় বিবেচনায় রেখে দুটি বিকল্প পদ্ধতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। উভয় পদ্ধতির কার্যকারিতা, বাস্তবায়নযোগ্যতা ও সম্ভাব্য ফলাফল যাচাই করতে পৃথক দু’টি জেলায় প্রতিটি পদ্ধতির পাইলট প্রকল্প চালুর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।