খুলনার কলেজগুলোর পাসের হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মেট্রোপলিটন কলেজ খুলনার সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালের পাশে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজটিতে ৪১ শতক জমি রয়েছে এবং ২৯ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মরত আছেন। এ বছর কলেজটি থেকে ৪৯ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১০ জন পাস করেছেন। গত বছর ৬৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬ জন পাস করেছিলেন।শহীদ জিয়া ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ে ৩৯০ শতক জমির ওপর ২০ জন শিক্ষক রয়েছেন। এ বছর কলেজটি থেকে ৫৩ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৯ জন পাস করেছেন। খুলনার বেশিরভাগ বেসরকারি কলেজে শিক্ষকের সংখ্যা শিক্ষার্থীর চেয়ে বেশি হলেও পাসের হার কম।বানরগাতির সিটি গার্লস কলেজ থেকে ৩৯ ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১৩ জন পাস করেছেন। খুলনা কলেজে ৪২ জন শিক্ষক রয়েছেন এবং ৮৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৩০ জন পাস করেছেন। আইডিয়াল কলেজ থেকে ৮৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১৮ জন পাস করেছেন। মুহসিন মহিলা কলেজ থেকে ২৯৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৫৪ জন পাস করেছেন। হাজী মালেক ইসলামিয়া কলেজ থেকে ১৪১ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৪৬ জন পাস করেছেন।শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে ২০২৫ সালে ১৮৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৩৫ জন পাস করেছেন। খুলনার ১০টি কলেজের পাসের হার কম নিয়ে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা ও নিয়োগ বাণিজ্যের কারণে অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে।যশোর শিক্ষা বোর্ড কলেজগুলোর লেখাপড়ার মান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার আস্করপুর গ্রামের দুই বোন আয়েশা আক্তার তোয়া এবং খাদিজা আক্তার তানহা একই দিনে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং একই স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করেছেন।দুই বোন এসএসসিতে জিপিএ ৫ এবং এইচএসসিতেও জিপিএ ৫ অর্জন করেছেন। তাদের বাবা পেশায় রডমিস্ত্রি এবং সংসারে তিনিই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।তাদের পরিবারে পাঁচ সদস্য রয়েছে এবং বাড়ির সামান্য ভিটা ছাড়া কোনো জমিজমা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও উচ্চশিক্ষার খরচ নিয়ে তাদের মা-বাবা চিন্তিত।তারা একসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারে যোগ দিতে চান। সরদহ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. সামসুল হক বলেছেন যে তোয়া ও তানহা শিক্ষার্থী হিসেবে ভালো।
সাম্প্রতিক এইচএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি, অ্যাকাউন্টিং এবং আইসিটি বিষয়ে সর্বাধিক ফেল হয়েছে।বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ব্যুরো (BANBEIS) জানিয়েছে, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২,৮৪২টি শিক্ষক পদ খালি রয়েছে।MPO-তালিকাভুক্ত বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৭৭,২২৭টি শূন্য পদের তথ্য পাওয়া গেছে।গ্রেড ছয় থেকে বারো পর্যন্ত মোট ৮০,০৬৯টি শিক্ষক পদ খালি রয়েছে।দেশব্যাপী ৩,৮৬১টি বিদ্যালয়ে আইসিটি শিক্ষকের অভাব রয়েছে।এছাড়া ২,৬২৫টি বিদ্যালয়ে ইংরেজি শিক্ষক এবং ২,৭৪৪টি বিদ্যালয়ে গণিত শিক্ষকের অভাব রয়েছে।২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার পাসের হার ৫২.১২%। এটি গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেক ফেল করেছে। ইংরেজিতে ২,৪৩,৫২৮ জন এবং আইসিটিতে ১,৩৮,৪৯৩ জন শিক্ষার্থী ফেল করেছে।যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, ফলাফল সঠিক মূল্যায়নের প্রতিফলন এবং তারা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।
কভিড-১৯ মহামারির পর অনলাইন শিক্ষা ও ডিজিটাল মূল্যায়নের ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। এই প্রেক্ষাপটে, সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির চার শিক্ষার্থী একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন, যার নাম চিটলক।চিটলকের লক্ষ্য পরীক্ষার সময় সম্ভাব্য অনিয়ম শনাক্ত করা এবং পরীক্ষার পরিবেশ পর্যবেক্ষণকে কার্যকর করা। এটি শিক্ষার্থীদের আচরণ ও পরিবেশ থেকে সম্ভাব্য অনিয়ম শনাক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করে।চিটলকের প্রযুক্তিগত কাঠামোয় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, কম্পিউটার ভিশন এবং অডিও বিশ্লেষণ ব্যবহার করা হয়েছে। এর কার্যক্রমের মধ্যে মুখের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ, মাথার অবস্থান বিশ্লেষণ এবং নিষিদ্ধ ডিভাইস শনাক্তকরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।একটি শ্রেণিকক্ষে ১০০ শিক্ষার্থীর পরীক্ষার দায়িত্বে এক বা দুজন শিক্ষক থাকেন। চার শিক্ষার্থী আট মাসের প্রচেষ্টায় চিটলক তৈরি করেছেন।
সুনামগঞ্জের শাতক উপজেলার কালুরুকা ইউনিয়নের হাজি কোমর আলী হাই স্কুল ও কলেজের প্রথম বোর্ড পরীক্ষায় ৩৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২ জন পাস করেছে।এতে পাসের হার ৫.২৬%। শিক্ষকদের অভাব এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে এই ফলাফলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।কলেজের জন্য কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি, ফলে ক্লাসগুলো পরিচালনা করেছেন স্কুলের শিক্ষকরা।মানবিক বিভাগের প্রধান জানিয়েছেন, অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত ছিলেন না।এছাড়া, কলেজের পরবর্তী ব্যাচের জন্য নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়নি।অস্থায়ী কমিটির সভাপতি পরীক্ষার পরিবেশ এবং নকল প্রতিরোধের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন, তবে পরে শিক্ষকদের অভাব নিশ্চিত করেছেন।
ফরিদপুরের মাদুখালী উপজেলায় অনুষ্ঠিত এইচএসসি, টেকনিক্যাল ও আলিম পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মোট ১,৬৮৭ জনের মধ্যে মাত্র ৫৯৩ জন পাস করেছে।এতে করে উপজেলাটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৩৫.১৫%। দুইটি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করেনি।মেগচামি আদর্শ স্কুল ও কলেজ এবং কাজী সিরাজুল ইসলাম গার্লস স্কুল ও কলেজের সকল পরীক্ষার্থী ফেল করেছে।শুকুর মাহমুদ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ৬৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ২১ জন পাস করেছে।সরকারি আইনুদ্দিন কলেজে ৬৭৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, তাদের মধ্যে ১৯৩ জন পাস করেছে।সরকারি বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ কলেজে ৪০১ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, ১২৪ জন পাস করেছে।এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে।
বগুড়ার গাবতলীর তাসলিম উদ্দিন তারফদার কলেজের ৪৬ শিক্ষার্থী যারা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল, তারা সবাই ফেল করেছে। এই ফলাফলের কারণে স্থানীয় জনগণ প্রতিবাদ জানাতে সোনাডাহ বাজারে একটি মানব চেইন তৈরি করে।স্থানীয় বাসিন্দারা রবিবার দুপুরে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। কলেজটি ১৯৯৬ সালে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত হয়।শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বগুড়ার চারটি অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও সকল শিক্ষার্থী ফেল করেছে।এই প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিও-অবৈতনিক। গোসাইবাড়ী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ জানান, আর্থিক সমস্যার কারণে শিক্ষকেরা কার্যকরভাবে পড়াতে পারছেন না।জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১০০% ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে।
ড. মোহাম্মদ মনিনুর রশিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের হিট প্রজেক্টে কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করছেন।মনিনুর রশিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি এবং ইউনিভার্সিটি ব্রুনাই দারুসসালাম থেকে পোস্ট-ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছেন।তিনি পাবনায় জন্মগ্রহণ করেন। এবারের এইচএসসি ও সমমানের ফল ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার দেখিয়েছে। তিনি বলেছেন, এবারের পরীক্ষার ফলের পেছনে অনেক ফ্যাক্টর রয়েছে।তিনি উল্লেখ করেছেন যে, প্রায় ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করছে। এছাড়া তিনি বলেছেন, পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে শিক্ষকরা পর্যাপ্ত সময় পান না।মনিনুর রশিদ আইইএলটিএস পরীক্ষার উদাহরণ দিয়ে মূল্যায়নের স্ট্যান্ডার্ড ঠিক করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
কমিলার মোনহরগঞ্জে অবস্থিত নীলকণ্ঠ সরকারি ডিগ্রি কলেজে ৩০০ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।এ বছর পরীক্ষায় ৫৩ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে, বাকিরা অর্থাৎ ২৪৭ জন ফেল করেছে। পাসের হার ১৭.৬৭%।স্থানীয় ছাত্র সংগঠনের নেতারা ফলাফলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের ফুল উপহার দেন।অধ্যক্ষ নাজমা বেগম জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত কলেজে আসেন না এবং অভিভাবক সভায় কোনো সাড়া মেলেনি।তিনি আরও জানান, পর্যবেক্ষণ ও নিয়মিত ক্লাসের পরেও শিক্ষার্থীদের কলেজে আসার প্রতি আগ্রহ নেই, যা ফলাফলে প্রভাব ফেলছে।
আইএসইউতে নবীন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান ০২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানটি আইএসইউর মহাখালী ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল আউয়াল খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের মেম্বার সেক্রেটারি হাসনাত মোশাররফ।উপাচার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য সম্পর্কে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে আইএসইউর ট্রেজারার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং বিভাগের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল ২ নভেম্বর প্রকাশিত হয়েছে। ফলাফল অনুযায়ী, অনেক ছাত্র প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে পারেনি।ছাত্রদের তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে চিন্তা করতে এবং উন্নতির জন্য ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।এছাড়া, ছাত্রদের তাদের অধ্যয়ন অভ্যাস, সময় ব্যবস্থাপনা এবং পরীক্ষার কৌশল বিশ্লেষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।ভবিষ্যতের একাডেমিক অর্জনের জন্য স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।অভিযোগ করা হয়েছে যে, হতাশাজনক ফলাফলের পর ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখার গুরুত্বও উল্লেখ করা হয়েছে।ছাত্রদের তাদের দুর্বল বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি অধ্যয়ন রুটিন তৈরি করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে।অধ্যয়ন সেশনের মধ্যে নিয়মিত বিরতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে মনোযোগ বজায় রাখা যায়।ব্যক্তিগত নোট তৈরি করা এবং অধ্যায়গুলোর সারাংশ তৈরি করার মতো অধ্যয়ন কৌশলও সুপারিশ করা হয়েছে।পূর্ববর্তী বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্ন অনুশীলন করার জন্যও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে পরীক্ষার ফরম্যাট বোঝা যায়।
হাইকোর্ট ফজিল ও কামিল মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে।এই স্থগিতাদেশ সোমবার জারি করা হয়। বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রেজি এবং ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই সিদ্ধান্ত নেয়।মাদ্রাসাগুলোর পরিচালনা কমিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত ইসলামিক আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ অক্টোবর জারি করা হয়েছিল।এই সিদ্ধান্ত ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ৪৩তম সিন্ডিকেট সভার ভিত্তিতে নেওয়া হয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. এ কে মুহা. নুরুল ইসলাম এই অফিস আদেশে স্বাক্ষর করেন।নতুন একটি অস্থায়ী কমিটি গঠন করা হবে, যা তৃতীয় সংবিধান-২০২৩ অনুযায়ী পরিচালিত হবে।জেলা প্রশাসকদের জেলা শহরে অবস্থিত মাদ্রাসার সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হবে।জেলা শহরের বাইরে অবস্থিত মাদ্রাসার জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের মনোনীত করা হবে।জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের পরামর্শক সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হবে।মাদ্রাসাগুলোকে অস্থায়ী কমিটির অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।