রাজনীতি

ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী

জানিফ হাসান আগস্ট ১১, ২০২৬ 0
ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী
ব্রিকস সম্মেলনে

 


ভারতে অনুষ্ঠেয় বহুল আলোচিত ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকার এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে দিল্লিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঢাকা ও দিল্লির একাধিক কূটনৈতিক সূত্র আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ওই সূত্রগুলো আরো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে তার একজন প্রতিনিধি ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবেন। তবে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

গতকাল সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের ব্যাপারে নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আপনাদের বুঝতে হবে, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে নয়, চেয়ারপারসন অব দ্য বিমসটেককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।


এদিকে, গতকাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রথমবারের মতো সৌজন্য বৈঠক করেছেন । পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বৈঠকে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য দিল্লির প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই বিপ্লবী শরীফ ওসমান হাদির সন্দেহভাজন খুনিদের ফেরত পাঠানোর পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানিয়েছেন।

সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে খলিলুর রহমান বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ভারতকে ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে—দীনেশ ত্রিবেদীকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে হাসিনাকাণ্ডের বিষয়ে বাংলাদেশ যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, আমার মনে হয়েছে— ভারত তার মর্মার্থ বুঝতে পেরেছে


পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কোনোভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয় এমন কোনো কাজ দিল্লি করবে না বলে দীনেশ ত্রিবেদী আশ্বস্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য বৈঠকের আগে গত রোববার আমার সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে ভারতীয় দূতের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর গতকালের বৈঠকে ভারত সফর নিয়ে আলোচনার বিষয়ে একটি কূটনৈতিক সূত্র আমার দেশকে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ভারতে একটি ‘গ্রান্ড ভিজিট’ অর্থাৎ, পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফরের সম্ভাবনা নিয়ে প্রাথমিকভাবে সামান্য কথাবার্তা হয়েছে। ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশ না নেওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে ভারত অবগত রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফরের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। খুব শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে যাবেন, সেই সম্ভাবনা কম।

ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যোগদানের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কূটনীতিক আমার দেশকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেবেন—এ ধরনের কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। সম্মেলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হলে আমার কাছে নির্দেশনা আসত।

এদিকে, ভিভিআইপি ভিজিট নিয়ে কাজ করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর নিয়ে কোনো ধরনের প্রস্তুতির কথা আমার জানা নেই। আমরা এখন প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন নিউ ইয়র্ক সফরের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত আছি। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্ক যাবেন।

গত ১৪ জুলাই বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে তারেক রহমানকে আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ প্রোগ্রামে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন একটি কূটনৈতিক চিঠির মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই আমন্ত্রণ পাঠায়। আমন্ত্রণপত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নামের আগে প্রধানমন্ত্রী শব্দটি কোথাও উল্লেখ করা হয়নি বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তারা জানান, তারেক রহমান আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, পরে তার পদাধিকারবলে বিমসটেক-এর চেয়ারপারসন। আমন্ত্রণপত্রে প্রধানমন্ত্রী শব্দটি উল্লেখ না থাকা অবমাননাকর। ভারত সরকারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল।

এদিকে, কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ দিল্লির একটি কূটনৈতিক ফাঁদ। ভারতের বাংলাদেশের ব্যাপারে একের পর এক আগ্রাসী পদক্ষেপ বিশেষ করে ঢাকাকে চাপে রাখতে হাসিনাকে মাঠে নামানোয় প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ নীতিনিধারক মহলে চরম ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী যখন আপাতত দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, ঠিক সেই মুহূর্তে বিমসটেক-এর চেয়ার হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এটা ভারত সরকারের একটি কৌশলগত চাল।

বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক এম. শহীদুজ্জামান এ ব্যাপারে আমার দেশের সঙ্গে আলাপে বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে হেয় করতেই শুধু বিমসটেক-এর চেয়ার হিসেবে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভারতীয় দূত বারবার বলার চেষ্টা করছেন, দুই প্রধানমন্ত্রী বসলেই নাকি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে! তার এই মিষ্টি কথার গুরুত্ব দেওয়ার কোনো কারণ নেই।

তিনি বলেন, বিমসটেক একটি অকার্যকর সংস্থা। সার্কের বিকল্প হিসেবে এটাকে দাঁড় করাতে চাইছে ভারত। তাই বিমসটেক-এর চেয়ার হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। ভারত যতদিন তার বাংলাদেশ নীতি না বদলাচ্ছে, ততদিন দেশটির সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে চলা উচিত।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাৎ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খ‌লিলুর রহমা‌ন পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল‌য়ে সাংবা‌দিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, আলোচনায় দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করার বিষয়টি উঠে এসেছে। আমরা তাদের বলেছি, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য। আমরা আশা করি, ভারত এ ব্যাপার একটি ইতিবাচক দিকে এগোবে। এছাড়া, শহীদ হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীরা, আপনারা জানেন, ধরা পড়েছে। ভারত যেসব কাগজপত্র চেয়েছিল সবকিছু তাদের দিয়েছি। আমাদের জন্য হাদি ইস্যুটা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় । হত্যাকারীদের যত দ্রুত সম্ভব আমাদের কাছে প্রত্যর্পণ করার জন্য আমরা বলেছি।

দুদেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার জন্য যে সহায়ক পরিবেশ দরকার, সেই ধরনের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য গুরত্বারোপ করা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সাক্ষাতে সীমান্ত হত্যা ও পুশইন নিয়ে আলোচনার প্রশ্নে খলিলুর রহমান বলেন, এগুলো আলোচনা হয়েছে। এগুলো খুব সংক্ষেপে আলোচনা হয়েছে। এগুলো তো প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনার নয়। আমার সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

৫ আগস্টের ঘটনা নিয়ে ভারতকে একটি চিঠির মাধ্যমে অসন্তোষ জানানো হয়েছে। আজকের আলোচনায় বিষয়টি এসেছে কি না-জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের ব্যাপারে আমাদের যে অবস্থান আমরা স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছি এবং সেটা গুরুত্বের সঙ্গে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছেন। এটা আমাকে তারা জানিয়েছেন, আজকেও তারা প্রধানমন্ত্রীকে সেটা বলেছেন।

৫ আগস্টের জন্য হাসিনা যা ঘটিয়েছেন সেটার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, এখানে দুঃখ প্রকাশের ব্যাপার নয় তো। আপনাকে ভালো করে বুঝতে হবে কী হয়েছে জিনিসটা। একটা রাষ্ট্রের তিনটা স্তম্ভ থাকে—নির্বাহী, আইন এবং বিচার বিভাগ। দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনা, তার জায়গা হলো জুডিশিয়ারি। বাংলাদেশের একটা কোর্ট তার বিচার করেছে, তাকে দণ্ড দিয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিষয়ে কি হয়? তাকে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং তার যদি কিছু বক্তব্য থাকে, আত্মপক্ষ সমর্থনের কিছু থাকলে সেটা আদালতে বলবে।

তিনি বলেন, ৫ তারিখ হাসিনা যে কাজটা করেছে, সেটা হলো বাংলাদেশের জুডিশিয়ারি, রাষ্ট্রের একটি স্তম্ভের প্রতি বিদ্বেষ ছড়িয়েছে এবং সেই কাজটি ভারত সরকার করতে দিয়েছে। আমি বলেছি, আমাদের পুরো রাষ্ট্রের কাঠামোর প্রতি আমরা চাই সব দেশ শ্রদ্ধাশীল হোক এবং আমরা আশা করব, আমাদের এই বিষয়টি ভারত সরকার অনুধাবন করতে পেরেছে।

খলিলুর রহমান বলেন, আমার ধারণা হচ্ছে, তারা এই বিষয়টি বুঝতে পেরেছে এবং আশা করব আমাদের রাষ্ট্রের কোনো স্তম্ভকে অবজ্ঞা করার মতো কিছু তারা আর করবে না। তাদের সঙ্গে আমার যা কথা হয়েছে আমি কিছুটা হলেও আশ্বস্ত, এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না। সম্পর্ক স্বাভাবিক কবে নাগাদ হবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রথম কথা হলো আমি গণক নই। সুতরাং বলতে পারব না কোনদিন এটা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি, দাওয়াত দেওয়া হয়েছে চেয়ারপারসন অব বিমসটেককে। এই পার্থক্যটা আপনাদের বোঝার চেষ্টা করতে হবে। এর আগে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠি লিখেছিলেন, যা সরকার গঠনের দিন হস্তান্তর করা হয়েছিল, সেখানে তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেটা আমরা দেখব।

গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, হাইকমিশনারের সঙ্গে হওয়া বৈঠকটি ছিল সম্পূর্ণ সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ। একজন হাইকমিশনারের সঙ্গে সরকারপ্রধানের বৈঠকে সাধারণত চুক্তি বা এ ধরনের সুনির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় না।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে দীনেশ ত্রিবেদীর এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর স‌ঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর সাক্ষাৎ নি‌য়ে ভারতীয় হাইক‌মিশন এক বার্তায় জা‌নি‌য়ে‌ছে, ভারতীয় হাইকমিশনার ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তা‌রেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান এবং বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও দূরদর্শী মনোভাব নিয়ে একত্রে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।

তারা পারস্পরিক আগ্রহের বিষয়গুলোর ব্যাপারে মতবিনিময় করেন এবং জনগণকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করার উপায়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠক করেন দিনেশ ত্রিবেদী। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন জনপরিচিত ব্যক্তি এবং তার সঙ্গে দেখা করে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছেন। প্রথমবার দেখা হলেও তার সঙ্গে এমন মনে হয়নি যে এটি প্রথম সাক্ষাৎ। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক ও বিনয়ী।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এবং দুই দেশের মধ্যে আলোচনার বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক আলোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যু থাকা স্বাভাবিক। তবে দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনা হলে তার অনেক কিছুই সমাধান সম্ভব। ভারতের জনগণ ও দেশটির প্রধানমন্ত্রীও এই বিষয়ে ইতিবাচক।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশেরই নিজস্ব কিছু ইস্যু থাকবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটাই—দুই দেশের সম্পর্ক ভালো থাকুক। সম্পর্ক ভালো থাকলে তা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। দুই দেশ শুধু সীমান্তই ভাগাভাগি করে না, তারা স্বপ্নও ভাগাভাগি করে। আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক আরো ভালো হবে। একই সঙ্গে দুই পক্ষকেই বিদ্যমান ইস্যুগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে


 

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

রাজনীতি

View more
দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস
দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস

  না দরপত্রে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রি সংক্রান্ত ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালে দায়ের করা ১৫ মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মির্জা আব্বাসকে খালাস দিয়েছেন আদালত।  বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান এ রায় দেন।

News আগস্ট ২৭, ২০২৬ 0
শেখ হাসিনার কবর এ দেশের মাটিতে হবে না—রাঙামাটিতে সারজিস আলম

শেখ হাসিনার কবর এ দেশের মাটিতে হবে না—রাঙামাটিতে সারজিস আলম

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক চলছে সরকারদলীয় এমপিদের

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক চলছে সরকারদলীয় এমপিদের

শরীয়তপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, গ্রেপ্তার ৩

শরীয়তপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, গ্রেপ্তার ৩

বাদামতলীর অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদে ডিএসসিসি প্রশাসকের নির্দেশ
বাদামতলীর অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদে ডিএসসিসি প্রশাসকের নির্দেশ

  পুরান ঢাকার বাদামতলী মার্কেট সংলগ্ন সব অবৈধ পার্কিং ও অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বাদামতলী এলাকার অবৈধ স্থাপনা ও পার্কিং সমস্যা নিরসনে ডিএসসিসি প্রশাসকের কাছে সহায়তা চান। বিষয়টি অবগত হওয়ার পরপরই প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের অবৈধ পার্কিং ও স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। ডিএসসিসি প্রশাসকের এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) বলেন, সরকারি কোনো দপ্তর থেকে এমন দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত পাওয়া সত্যিই প্রেরণাদায়ক। ডিএসসিসি প্রশাসকের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে আমরা দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে পারব এবং বাদামতলী এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন করা সম্ভব হবে। এদিকে একটি জাতীয় দৈনিকে বাবুবাজার ব্রিজ এলাকায় সিটি করপোরেশনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি ডিএসসিসির নজরে এসেছে। এর প্রেক্ষিতে ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুবাজার ব্রিজের নিচে নবনির্মিত কার পার্কিংয়ের ‘এ’ থেকে ‘ডি’ পর্যন্ত ৪টি ব্লকের ২৮,০৫১.১২ বর্গফুট খোলা জায়গায় পরিচালিত চলমান কার পার্কিংয়ের সব কার্যক্রম পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সিটি করপোরেশন জনগণের সেবার জন্য। সুতরাং নাগরিকদের ভোগান্তি সৃষ্টি হয় বা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো কাজ সিটি কর্পোরেশন নিজে করবে না এবং অন্য কাউকেও করতে দেওয়া হবে না।

News আগস্ট ২৫, ২০২৬ 0
বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম চর্চাকারীদের সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম চর্চাকারীদের সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে নবগঠিত রাঙামাটি জেলা পরিষদের শ্রদ্ধা

জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে নবগঠিত রাঙামাটি জেলা পরিষদের শ্রদ্ধা

শাপলা চত্বর থেকে লালদীঘি পর্যন্ত জামায়াতের লং মার্চ, পথে পথে হবে পথসভা

শাপলা চত্বর থেকে লালদীঘি পর্যন্ত জামায়াতের লং মার্চ, পথে পথে হবে পথসভা

রাজনীতিতে ত্যাগীরা শ্রমিকের মতো, সুবিধা ভোগ করে এসি রুমে বসে টিভি দেখা সুবিধাবাদীরা: নয়ন
রাজনীতিতে ত্যাগীরা শ্রমিকের মতো, সুবিধা ভোগ করে এসি রুমে বসে টিভি দেখা সুবিধাবাদীরা: নয়ন

  যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়ন দলের দুঃসময়ে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন এবং সুবিধাবাদীদের প্রাধান্য পাওয়া নিয়ে আক্ষেপ করেছেন। তিনি বলেছেন, রাজনীতিতে ত্যাগীরা শ্রমিকের মতো—তারা কঠোর পরিশ্রম করলেও সেই পরিশ্রমের সুফল ভোগ করতে পারেন না। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ২০১৮ সালের ঈদের দিনের একটি পুরোনো ছবি শেয়ার করে নিজের স্মৃতিচারণ করেন রবিউল ইসলাম নয়ন। ছবিটি ২০১৮ সালের ১৬ জুনের বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, সেসময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে ছিলেন। রবিউল ইসলাম নয়ন লেখেন, ‘ছবিটা ১৬ জুন ২০১৮, শনিবার, ঈদের দিনের। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তখন জেলে। ঈদের দিন সকালবেলা, তখন সময় আটটা। হঠাৎ রুহুল কবির রিজভী ভাই ফোন করলেন। বললেন—‘নয়ন, তোমার লোকজন নিয়ে পল্টন পার্টি অফিসের সামনে চলে এসো। আমরা দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে মিছিল করব।’ সেদিনের আবহাওয়ার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, বাইরে তখন তুমুল বৃষ্টি ছিল। ঈদের দিন হওয়ায় নেতাকর্মীদের জড়ো করাও কঠিন ছিল। তবে রুহুল কবির রিজভী তাকে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। নয়নের ভাষায়, ‘বাইরে তুমুল বৃষ্টি, ঈদের দিন। আমি বললাম—বাইরে তুমুল বৃষ্টি, ঈদের দিন। নেতাকর্মীদের পাওয়া খুব দুষ্কর হবে। রিজভী ভাই বললেন—‘নয়ন, আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সৈনিকেরা ঝড়-বৃষ্টি, আঁধার রাতে সব সময় রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম ও স্লোগানে প্রমাণ করেছি, আমরা সর্বদা থাকি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পাশে।’ এরপর নেতাকর্মীদের নিয়ে দ্রুত পল্টন কার্যালয়ের সামনে গিয়ে বৃষ্টির মধ্যেই মিছিল করার কথা জানান তিনি। মিছিল শেষে পার্টি অফিসের সামনে রাজপথে বসে রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্য শোনার স্মৃতিও তুলে ধরেন। নয়নের দাবি, বর্তমানে রুহুল কবির রিজভী দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ায় বিষয়টি তার জন্য আনন্দ ও আবেগের। তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের রিজভী ভাই দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হয়েছেন। এটা আমাদের জন্য বড় খুশির, আবেগের।’ তবে দলের দুঃসময়ে যারা রাজপথে ছিলেন এবং যারা ছিলেন না—তাদের বর্তমান অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন যুবদল নেতা। তিনি লেখেন, ‘তখন রিজভী ভাই রাজপথে অনেককে ডেকে পাননি। যাদের পাননি, তারা এখন ক্ষমতার অলিন্দে সর্বত্র। আবার যারা তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা করে, ঈদের আনন্দ নিরানন্দ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির মিছিলে ছুটে গিয়েছিল, তারা এখন দলের থেকে, ক্ষমতার বৃত্ত থেকে বহু দূরে ছিটকে গেছেন। কেউ কেউ অভিমান করে রাজনীতি থেকেই দূরে রয়েছেন।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদেরও ত্যাগীদের ইতিহাস দেখার আহ্বান জানান নয়ন। তিনি বলেন, ‘এখন যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় বড় বড় কথা বলেন, ২৪-এর পর জুলাই যোদ্ধা সেজেছেন, যারা দিনরাত রাজনীতির ভাষায় রাজা-উজির মারেন আর যাকে তাকে ট্যাগ দেন, তারা ছবিটা ভালো করে দেখেন। বোঝার চেষ্টা করেন, ত্যাগীরা দলের দুঃসময়ে কতটা ত্যাগ স্বীকার করেছে, কতটা লড়াই-সংগ্রাম করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কতটা দলপাগল হলে বৃষ্টি ও ঈদের আনন্দ উপেক্ষা করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির মিছিলে রাজপথে হেঁটেছে। কষ্ট হয় যখন দেখি, সুবিধাবাদীদের ভিড়ে ত্যাগীরা হারিয়ে যাচ্ছেন।’ নয়ন লেখেন, ‘রাজনীতিতে ত্যাগীরা আসলে শ্রমিকের মতো। তারা শরীরের ঘাম পায়ে ফেলে, রক্ত পানি করে পণ্য উৎপাদন করে, কিন্তু সেই পণ্যে তাদের কোনো অধিকার থাকে না।’ তিনি আরও লেখেন, ‘ত্যাগীরা জীবন বাজি রেখে রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম করে আর সুবিধা ভোগ করে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে এসি রুমে বসে টিভি দেখা সুবিধাবাদীরা।’

News আগস্ট ২৫, ২০২৬ 0
রাজধানীর ৫৪ ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু জামায়াতের

রাজধানীর ৫৪ ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু জামায়াতের

প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে দিল্লির অস্থিরতা

প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে দিল্লির অস্থিরতা

মেয়েদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনর্বহালের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

মেয়েদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনর্বহালের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

0 Comments