বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলামকে হত্যার উদ্দেশ্যে দপ্তরে প্রবেশ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে একটি মামলা এখন নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে। মামলাটি করেছেন বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী তমাল দাস।
আসামি করা হয়েছে চট্টগ্রামের আবাসন ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার মোহাম্মদ আলমগীর, তাঁর সহযোগী মো. মনির হোসেন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ছয়-সাতজনকে। তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মামলার নেপথ্যে রয়েছে পাঁচ কোটি টাকার উন্নয়নকাজের ঠিকাদারি কার্যাদেশকে ঘিরে কথিত ৫০ লাখ টাকা লেনদেনের একটি অভিযোগ, যা পুরো ঘটনাকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের চান্দগাঁও থানায় মামলাটি (নম্বর ০৯) দায়ের হয় ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি। এজাহারে ঘটনার তারিখ দেখানো হয়েছে ৪ জানুয়ারি। মামলায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩ ও ৫০৬ ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
এজাহারের ভাষ্য অনুযায়ী, আসামিরা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে দপ্তরের উঁচু দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখান ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। দেয়াল টপকে প্রবেশের এই দাবির পক্ষে প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নথি বা অন্য কোনো দালিলিক প্রমাণ আছে কি না, তা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। মামলার তদন্তভার চান্দগাঁও থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ ফয়সলের ওপর ন্যস্ত।
মামলার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রথম প্রশ্নটি উঠেছে এখতিয়ার নিয়ে। এজাহারে ঘটনাস্থল হিসেবে পাঁচলাইশ থানাধীন বিএডিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তরের ঠিকানা উল্লেখ আছে, অথচ মামলা নেওয়া হয়েছে চান্দগাঁও থানায়।
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৬(১) ধারায় থানার স্থানীয় এখতিয়ারের ভিত্তিতে আমলযোগ্য অপরাধ তদন্তের বিধান আছে, আর ১৭৭ ধারায় সাধারণত অপরাধ সংঘটনের এলাকার আদালতেই বিচার ও অনুসন্ধানের কথা বলা হয়েছে। অপরাধের স্থান অনিশ্চিত হলে, একাধিক এলাকায় ঘটলে কিংবা ধারাবাহিক প্রকৃতির হলে ১৮২ ধারায় ভিন্ন এলাকার এখতিয়ার খাটতে পারে। কিন্তু এই মামলায় সেরকম কোনো ব্যাখ্যা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।
পাঁচলাইশ থানায় আগে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না, সেখান থেকে চান্দগাঁওয়ে পাঠানো হয়েছিল কি না, নাকি ঘটনার সঙ্গে অন্য এলাকার সংশ্লিষ্টতা ছিল, তা স্পষ্ট নয়। যথাযথ তথ্যপ্রমাণ ছাড়া পাঁচলাইশ থানাকে নিষ্ক্রিয় বলার সুযোগও নেই। দুই থানার রেকর্ড, অভিযোগ গ্রহণের তথ্য ও এখতিয়ারসংক্রান্ত নথি দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে, আর সে জন্য বাদী, সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষ ও মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
মামলার পেছনের ঘটনা খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, হাসিমপুরের বাসিন্দা আলমগীরের সঙ্গে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক নুরুল ইসলামের ব্যবসায়িক যোগাযোগ ছিল।
আলমগীরের দাবি, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার কাজের কার্যাদেশ পাওয়ার আশায় তিনি তিন কিস্তিতে মোট ৫০ লাখ টাকা দিয়েছেন। তাঁর হিসাবে প্রথম কিস্তিতে একজন ঠিকাদারের মাধ্যমে পাঁচ লাখ, পরে সরাসরি ৩৫ লাখ এবং সবশেষ আরও ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। টাকা দেওয়ার সময় দুজন ঠিকাদার উপস্থিত ছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন।
আলমগীরের অভিযোগ, টাকা দেওয়ার পরও কার্যাদেশ না মেলায় তিনি একাধিকবার বিষয়টি জানতে চেয়েছেন, তাতেই বিরোধের সূত্রপাত, এবং এর জেরেই তাঁকে ফাঁসাতে মামলাটি করা হয়েছে। তবে এই অর্থ লেনদেন, এর উৎস, গ্রহণকারী ও কথিত কার্যাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এখনো স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি। উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য, আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ এবং দরপত্র ও কার্যাদেশের নথি যাচাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বক্তব্য এসেছে খোদ মামলার বাদীর কাছ থেকে। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপে সহকারী প্রকৌশলী তমাল দাস দাবি করেন, এ ধরনের মামলা করার ব্যক্তিগত আগ্রহ তাঁর ছিল না; তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল ইসলামের চাপের মুখেই তিনি মামলা করেছেন।
একজন সরকারি কর্মকর্তা যদি ঊর্ধ্বতনের চাপে এজাহারে স্বাক্ষর করে থাকেন, তবে সেই চাপের স্বরূপ ও প্রেক্ষাপট কী ছিল, তা জানা জরুরি। বাদীর এই বক্তব্য এজাহারের অভিযোগের সঙ্গে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ এবং তিনি কেন এমন বলছেন, তা-ও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার দাবি রাখে।
আর্থিক অভিযোগের ক্ষেত্রে অনুসন্ধানের সূত্র হিসেবে সামনে এসেছে চট্টগ্রাম শহরের দুটি ব্যাংক শাখা। অভিযোগ আছে, নুরুল ইসলাম তাঁর দুই-তিনজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে কথিত অর্থ জমার ব্যবস্থা করতেন; কখনো নিজে শাখায় যেতেন, কখনো একান্ত সহকারীদের দিয়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে পাওয়া টাকা জমা দেওয়াতেন। শাখা দুটির একটি এনসিসি ব্যাংকের কামাল বাজার, অন্যটি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মুরাদপুর।
অভিযোগের নির্দিষ্ট তারিখ ও লেনদেনের সময় মিলিয়ে এই দুই শাখার সিসিটিভি ফুটেজ দেখা গেলে তাঁর বা তাঁর সহকারীদের উপস্থিতির দৃশ্যমান প্রমাণ মিলতে পারে। তবে শুধু ব্যাংকে উপস্থিতি ঘুষ গ্রহণের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়; এর সঙ্গে জমা স্লিপ, জমাদানকারীর পরিচয়, লেনদেনের পরিমাণ, হিসাবধারীর সঙ্গে সম্পর্ক ও ব্যাংকের সংরক্ষিত অন্যান্য নথিও যাচাই করতে হবে। ফুটেজ নির্দিষ্ট সময় পর মুছে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় আইনগত প্রক্রিয়ায় দ্রুত তা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
তবে—নুরুল ইসলাম এসব অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে আসছেন। ৫০ লাখ টাকা গ্রহণ, আত্মীয়দের হিসাব ব্যবহার এবং বাদীকে চাপ দেওয়ার প্রতিটি অভিযোগই তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। অভিযোগ বা তাঁর বক্তব্যের সত্যতা নিরূপণে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা বিচারিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য, ব্যাংক নথি, ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করাই একমাত্র পথ।
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), কৃষি মন্ত্রণালয় ও বিএডিসির নিজস্ব তদন্ত কর্তৃপক্ষের সমন্বিত অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে। দাবিকারীদের মতে, নুরুল ইসলামের চাকরিজীবনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তাঁর নিজের, পরিবারের সদস্যদের ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের ব্যাংক হিসাব এবং সম্পদের উৎস আইনগতভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।
বিডিসি সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈধ আয়ের সঙ্গে লেনদেনের সামঞ্জস্য, অস্বাভাবিক জমা, নগদ লেনদেন ও কথিত ঠিকাদারি অর্থের প্রবাহ এর আওতায় আসবে। একই সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকারী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের ভূমিকা, প্রকল্পের ব্যয়ের সঙ্গে কোনো অস্বাভাবিক আর্থিক সম্পর্ক আছে কি না, তাও দেখতে হবে। অবশ্যই মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনসহ প্রযোজ্য বিধিবিধান মেনে এবং যথাযথ আইনগত অনুমোদন নিয়ে এই অনুসন্ধান চালাতে হবে।
কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে নেওয়া এই সেচ প্রকল্পে দরপত্র মূল্যায়ন, কার্যাদেশ, বিল পরিশোধ ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কথিত পাঁচ কোটি টাকার কাজের দরপত্র, ঠিকাদার নির্বাচন, অনুমোদিত ব্যয় ও অগ্রগতির নথি পরীক্ষার দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, কে কোন কাজের জন্য দরপত্রে অংশ নিয়েছেন, কার্যাদেশ কে পেয়েছেন, কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না এবং সরকারি অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। বিশেষ করে ৫০ লাখ টাকার কথিত লেনদেনের সঙ্গে কোনো কার্যাদেশ বা আর্থিক সিদ্ধান্তের যোগসূত্র আছে কি না, সেটিই নির্ধারণের মূল প্রশ্ন।
এদিকে আসামি আলমগীর আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন বলে জানা গেছে। জামিনের পর বাদীপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা চলছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু অভিযোগ যদি সত্যিই একজন সরকারি কর্মকর্তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর হয়, তবে ব্যক্তিগত সমঝোতায় তার নিষ্পত্তি কতটা আইনসম্মত ও গ্রহণযোগ্য, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
আবার ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে যদি মামলা সাজানো হয়ে থাকে, তাহলে সেটিও তদন্তে উন্মোচিত হওয়া দরকার। নিরপরাধ কাউকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি যেমন মেনে নেওয়া যায় না, তেমনি সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলা বা হত্যার হুমকির অভিযোগও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মোহাম্মদ ফয়সল যোগাযোগ করলে জানান, প্রচলিত বিধিবিধান ও আইন অনুসরণ করে নিরপেক্ষভাবে মামলাটির তদন্ত চলছে এবং নির্ধারিত সময়ে ফলাফল আদালতে দাখিল করা হবে।
সব মিলিয়ে ঘটনাটি আর একটি থানার মামলার গণ্ডিতে আটকে নেই। একদিকে সরকারি প্রকৌশলীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, অন্যদিকে বাদীর নিজের মুখে ঊর্ধ্বতনের চাপের কথা এবং ৫০ লাখ টাকা লেনদেনের গুরুতর দাবি, এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক ক্ষমতার ব্যবহার ও কর্মকর্তাদের জবাবদিহির প্রশ্ন।
দপ্তরে হামলার ঘটনা সত্যিই ঘটেছিল, নাকি ঠিকাদারি কার্যাদেশ ও অর্থ লেনদেনের বিরোধ থেকেই মামলার জন্ম, বাদী কেন বলছেন তিনি নিজে মামলা করতে চাননি, পাঁচলাইশের বদলে চান্দগাঁওয়ে মামলা হলো কেন, পাঁচলাইশ থানার ভূমিকাই বা কী ছিল, আর দুই ব্যাংকের সিসিটিভিতে কথিত অর্থ জমার সময় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর উপস্থিতির কোনো চিহ্ন মিলবে কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর কেবল নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্তেই মিলতে পারে।
তাই মামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের পাশাপাশি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া, প্রকল্পের ঠিকাদারি কার্যক্রম, কথিত আর্থিক লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবের আইনসম্মত অনুসন্ধান নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগ-৬-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ ইসকান্দার আলী বিরুদ্ধে জালিয়াতি, ঘুষ বাণিজ্য, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ ছাড়, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ গুরুতর নানা অভিযোগ উঠেছিল প্রায় এক বছর আগে। আধুনিক সভ্যতার অন্তরালে ভদ্রতার লেবাসধারী অদৃশ্য মুখোশ পড়া দুর্নীতিবাজ (ই/এম) বিভাগ-৬-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ ইসকান্দার আলী গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রকৌশলীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরীর নেপথ্য গডফাদার। আ’লীগ আমলে তিনি ছিলেন সবচেয়ে বড় আ’লীগার, অন্তরবর্তী সরকারের আমলে প্রেসিডেন্ট এর ছেলের বন্ধু ও ব্রিগেডিয়ার ভায়রা ভাইয়ের প্রভাব বিস্তার আর বর্তমানে মির্জা আব্বাসের পরিচয়ে জাতীয়তাবাদের নব্য রক্ষাকারী। সহকর্মীদের ল্যাং মেরে দেশ জাতি তথা মানবতার সর্বনাশ করে বহুরূপী এই গণপূর্ত প্রকৌশলী যখন যেভাবে প্রয়োজন ডিপার্টমেন্টকে সিড়ি বা চাকরিকে শক্ত হ্যামার হিসেবে ব্যবহার করে নিজের আখের গুছিয়ে নিয়েছেন বা নিচ্ছেন। পদ পদবী ও প্রভাব টিকিয়ে রাখতে সহকর্মীদের ঘাড়ে পাড়া দিয়ে ঘোল খাইয়ে অন্যদিকে ব্যতিব্যস্ত রেখে একের পর এক লোভনীয় চেয়ারগুলো দখল করে দুর্নীতি আর লুটপাটের চুড়ান্ত শিখরে আরোহন করেছেন তিনি। তার ইচ্ছেকৃত খামখেয়ালিপনা ও লোভাতুর শ্যেন দৃস্টিতে পুড়ে ছাড়খার হয়েছে অসংখ্য ঠিকাদারের জীবন-জীবিকা ও সাধারণ প্রকৌশলীর চাকরিজীবন। সে পরিসংখ্যান নিয়ে লিখতে গেলে প্রকৌশলী (ই/এম) বিভাগ-৬-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ ইসকান্দার আলীর কাহিনী নিয়ে (A tale of white-color corruptionist Engineer Masud Rana) কয়েকটি পদ্য বা উপন্যাস লেখা যাবে। নিয়ম-কানুন ও সততার বুলি আউড়িয়ে মোহমুগ্ধ করে সবার চোখে ধুলো ছিটিয়ে আড়ালে আবডালে তিনি বেনামী ঠিকাদারী ব্যবসাসহ বড় বড় প্রকল্পগুলোতে কথিত ভ্যারিয়েশন ও ফ›ন্টলোডিং বা ম্যাজারমেন্ট জালিয়াতি প্রকৌশলগত দুর্বোধ্য টার্মের ব্যবহার করে কৌশলে হাতিয়ে নিয়েছেন শতাধিক কোটি টাকা। এমনই কৌশলে জালিয়াতি ও দুর্নীতির সর্বশেষ সংস্করণ কথিত লটারির মাধ্যমে বিতর্কিত উপায়ে গণপূর্ত ঢাকা ৬ নং ডিভিশন থেকে ২নং ই/এম গণপূর্ত বিভাগের বদলী। তথ্য সংশ্লিস্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের। কোন কাজ না করে ফাইলওয়ার্কের মাধ্যমে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের • প্রকল্পের দুর্নীতির ধরন: ই/এম (ইলেক্ট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল) বিভাগের প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে সাধারণত বিভিন্ন বড় সরকারি ভবনের লিফট স্থাপন, জেনারেটর কেনা, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (AC) সরবরাহ এবং কাঠের কারখানার বিভিন্ন আসবাবপত্র ও অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার (Interior) সরকারি টেন্ডারে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ থাকে। সৈয়দ ইসকান্দার আলী যেহেতু ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ 'ই/এম বিভাগ-৬' এবং 'ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগ'-এর মতো বড় বাজেটের সংস্থায় পদায়ন পেয়েছেন, তাই এই বিভাগগুলোর অধীনস্থ সাম্প্রতিক প্রকল্পগুলোর টেন্ডার প্রক্রিয়া ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে দুদকে জমা পড়া অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার অবৈধ সম্পদের মধ্যে আছে বসুন্ধরা ব্লক কে রোড নাম্বার ১০২ বাসা নং ২৩/৩ মাগুরা ৭ নং পলাশবাড়িয়া ইউনিয়ন শত বিঘা জমি গুলিস্তান হল মার্কেট, দোকান ২৭টা বসুন্ধরা মার্কেট দোকান ৪ টা পূর্বাচলে প্রবাসী পল্লী গ্রুপে ৩০ কাঠা জমি । অর্ধশতাধিক বিঘা জমি-জমাসহ নামে-বেনামে শতাধিক কোটি টাকার সহায়-সম্পদের মালিক তিনি। নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ ইসকান্দার আলী অবৈধ ভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করে টাকার বিনিময়ে বদলি সময় ১৫ দিন সময় বারিয়ে নিয়ে বিভিন্ন ভাবে নিজের হাতে থাকা টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে যাবেন বলে জানা যায় । এতে করে কয়কে জন নির্বাহী প্রকৌশলী তার উপর অসন্তষ্ট খবর পাওয়া যায় ।
সরকারি চাকরিতে বদলি ও পদায়ন একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হলেও, গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল শাখার উপসহকারী বা সহকারী প্রকৌশলী মো. শামসুল আরেফিনের পদায়ন ও কর্মকাণ্ড ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বনামে-বেনামে ঠিকাদারি পরিচালনা, অর্থ আত্মসাৎ এবং ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে বারবার নিজের অবস্থান ঢাকায় টিকিয়ে রাখার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তাকে কুমিল্লায় বদলি করা হলেও, মাত্র দেড় বছরের মাথায় তিনি পুনরায় ঢাকার একই প্রভাবশালী পদে ফিরে আসেন। এসব অভিযোগের পাশাপাশি তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়েও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বর্তমানে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা ডিভিশন-৬-এ কর্মরত থাকাকালে শামসুল আরেফিনের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি সামনে আসে। তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী পবিত্র কুমারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি ওই ডিভিশনের একাধিক সরকারি প্রকল্পে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রকল্পের প্রাক্কলন বা এস্টিমেট তৈরি থেকে শুরু করে কাজের তদারকি ও চূড়ান্ত বিল অনুমোদন—প্রতিটি পর্যায়েই তার একক আধিপত্য ছিল বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের অনেকেই। ঠিকাদারদের অভিযোগ, বিল ছাড়ের বিভিন্ন ধাপে নির্দিষ্ট হারে কমিশন দিতে হতো তাকে। দাবিমুক্ত অর্থ বা কমিশন না পেলে নথিপত্রে নানা জটিলতা তৈরি করে বিল আটকে রাখতেন তিনি। এ বিষয়ে এক ঠিকাদার বলেন, ‘কাজ পাওয়ার কথা বলে তিনি বারবার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম উল্লেখ করতেন। টাকা না দিলে বিল আটকে থাকত, তাই অনেকে বাধ্য হয়েই টাকা দিয়েছেন।’ অন্য এক ঠিকাদারের অভিযোগ, ‘তিনি বলতেন—উপরের লোকজন ঠিক আছে, শুধু টাকা দাও। পরবর্তীতে দেখা গেছে, কাজও হয়নি, আর সেই টাকাও ফেরত পাওয়া যায়নি।’ উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী মো. শামসুল আরেফিন ‘পরে কথা বলব’ বলে মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন। পরবর্তীতে তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘কেউ যদি ঊর্ধ্বতন কারও নাম ভাঙিয়ে ঠিকাদারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে থাকেন, তবে তার দায় তাকেই নিতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কেউ কাউকে এ ধরনের অনৈতিক কাজের সুযোগ দেয় না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ প্রশাসনিক নীতি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে কর্মকর্তাদের ঢাকার বাইরে বদলির বিধান রয়েছে। তবে শামসুল আরেফিন কর্মজীবনের সিংহভাগ সময়ই বিভিন্ন কৌশলে ঢাকায় কাটিয়েছেন। জুলাই আন্দোলনের পর প্রশাসনে স্বচ্ছতা ফেরানোর অংশ হিসেবে তাকে কুমিল্লায় বদলি করা হলেও মাত্র দেড় বছরের মাথায় তিনি আবার ঢাকার একই অফিসে সমমানের পদে ফিরে আসেন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ মহলে আলোচনা রয়েছে যে, রাজনৈতিক পালাবদল ঘটলেও একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটকে ম্যানেজ করে তিনি বারবার নিজের অবস্থান সুরক্ষিত করেছেন। তবে বদলি ও পদায়নের এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হয়েছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে শতভাগ নিশ্চিত করা যায়নি। শামসুল আরেফিনের বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পদ অর্জনের তথ্যও সামনে এসেছে। অনুসন্ধানী সূত্রের দাবি, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অভিজাত এলাকা এবং বিকাশমান আবাসন প্রকল্পে তার ও তার নিকটাত্মীয়দের নামে একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে। সরকারি চাকুরির বেতনের সঙ্গে এসব স্থাবর সম্পত্তির মালিকানার বিস্তর ফারাক নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শামসুল আরেফিনের বিরুদ্ধে স্বনামে-বেনামে ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কমিশনের হাতে রয়েছে। অভিযোগটি আমলে নিয়ে ইতিমধ্যে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে এবং এসংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র তলব করা হচ্ছে। অনুসন্ধানের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন, ‘সরকারি প্রকৌশল বিভাগে সিন্ডিকেট ও ক্ষমতার অপব্যবহার নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে বারবার একই ব্যক্তির ঢাকায় ফিরে আসা এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। দুদকের এই অনুসন্ধানকে স্বাধীনভাবে এগোতে দিতে হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি অর্থহীন হয়ে পড়বে।’ গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘গণপূর্ত অধিদপ্তর কোনো ব্যক্তিগত অনিয়ম বা দুর্নীতির দায় নেবে না। প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। যেকোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এলে প্রশাসনিক তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। মো. শামসুল আরেফিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ এবং বদলি-সংক্রান্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুদক স্বাধীনভাবে তদন্ত শুরু করেছে, আমরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় তথ্য ও দাপ্তরিক সহযোগিতা প্রদান করব।’ গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাধারণ ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা সরকারি সেবা খাতে প্রকৃত স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এসব অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, অন্যথায় একই সিন্ডিকেট চক্র আবারও সক্রিয় হয়ে উঠবে। মো. শামসুল আরেফিনের দ্রুত ঢাকায় প্রত্যাবর্তন, তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া সিন্ডিকেটের নানা অভিযোগ এবং দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধান—সব মিলিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও বদলি-পদায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও টিআইবির নির্বাহী পরিচালক উভয়েই অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। এখন এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রকৃত দায় নিরূপণে দুদকের চলমান অনুসন্ধান ও প্রশাসনিক তদন্তের প্রতিবেদনই নির্ধারণ করবে পরবর্তী দৃশ্যপট।
শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-১ এর ফরাস, ঝাড়ুদার ও সুইপারসহ সাধারণ কর্মচারীরা এক কর্মকর্তার খামখেয়ালি ও হুমকির মুখে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বদলিকৃত নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ পারভেজ কর্তৃক কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা এবং পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে হয়রানির হুমকির খবর ছড়িয়ে পড়লে অফিসে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদের গোয়েন্দা সংস্থাও তৎপর হয়ে উঠেছে এবং পুরো বিষয়টি এখন নজরদারির আওতায় এনেছে। ভুক্তভোগী কর্মচারীরা জানান, তারা দীর্ঘ ২৫ থেকে ৩০ বছর ধরে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনে ভিভিআইপি ও ভিআইপি সেবা প্রদান করে আসছেন। সংসদ অধিবেশন পরিচালনা ছাড়াও মাননীয় স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ, হুইপ, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যদের সরকারি আবাসনে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা নিশ্চিতে কাজ করেন তারা। এমনকি পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার জামাত ব্যবস্থাপনা এবং কোনো সংসদ সদস্য মারা গেলে জানাজার আয়োজনের মতো সংবেদনশীল দায়িত্বও এই কর্মচারীরাই পালন করেন। ছুটির দিনেও অনেককে দায়িত্বে বহাল থাকতে হয়। অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি বদলিকৃত নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ পারভেজ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কর্মচারীদের ওপর বেপরোয়া আচরণ শুরু করেন। তিনি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদের গোয়েন্দাদের কাছে মিথ্যা তথ্য পৌঁছে দেন এবং পুলিশ দিয়ে পেটানো ও আইডি কার্ড ছিনিয়ে নেওয়ার মতো হুমকি প্রদান করেন। নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ পারভেজের এমন আচরণের কারণে কর্মচারীদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে অনেকেই ভয়ে কার্যালয়ে আসতে সাহস পাননি। এই পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার হলে ওই কর্মকর্তা নিজের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেন। এদিকে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মচারী হুসাইন মাহমুদ মাহফুজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি অবিলম্বে নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। কর্মচারীদের মতে, সুষ্ঠু বিভাগীয় তদন্ত পরিচালনা করা হলে নির্বাহী প্রকৌশলীর আসল রূপ এবং থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। সাধারণ কর্মচারীরা এই রাহুর কবল থেকে স্থায়ী মুক্তি এবং কর্মস্থলে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। অভিযুক্ত প্রকৌশলী নাহিদ পারভেজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এই সমস্ত গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।