প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রথম ছয় মাস অর্থাৎ ১৮০ দিনেই নেট মিটারিং সংযোগের মাধ্যমে ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ নতুনভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ ও বিদ্যুৎ খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন অগ্রগতি সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মপরিকল্পনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নেট মিটারিং, এনার্জি স্টোরেজ, জাতীয় গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি দক্ষতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মপরিকল্পনায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সাশ্রয়ী ও স্বচ্ছ ট্যারিফ ব্যবস্থা গড়ে তোলাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের নেওয়া অধিকাংশ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মপরিকল্পনা শতভাগ বাস্তবায়িত হয়েছে। আর জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অগ্রগতি হয়েছে ৯০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। দুই বিভাগ মিলিয়ে সরকারের সামগ্রিক বাস্তবায়ন অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ২৮ শতাংশে।
বিদ্যুৎ বিভাগের বাস্তবায়ন অগ্রগতি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ প্রণয়ন করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্রেডার উদ্যোগে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি রোডম্যাপ ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চেন্ট পলিসির আওতায় চারটি মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টের মধ্যে ১০ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রতিবেদনে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্রে সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ, বায়োমাস ও বায়োগ্যাস, ক্লিন কুকিং, জ্বালানি সংরক্ষণ প্রযুক্তি, মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি ব্যবসায়িক মডেল প্রণয়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অফশোর উইন্ড পাওয়ার প্রকল্প উন্নয়ন গাইডলাইন প্রস্তুত করা হয়েছে।
অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ঈশ্বরদী ও ভুলতা গ্রিড উপকেন্দ্রে যথাক্রমে ১২০ মেগাওয়াট ও ৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভোলায় বার্জ মাউন্টেড বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। এর বাইরে জ্বালানি দক্ষতা ও সংরক্ষণে ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। পাশাপাশি ৩০টি ডেজিগনেটেড কনজুমারের স্থাপনায় জ্বালানি নিরীক্ষা করা হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের বাস্তবায়ন অগ্রগতি
প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিকল্পনা অনুযায়ী সাতটি গ্যাসকূপ খনন ও চারটি কূপের ওয়ার্কওভার কার্যক্রমের ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি কূপের (সিলেট-১০ ও ১১, শ্রীকাইল-৫, রশিদপুর-১১, তিতাস-২৮ এবং সুন্দলপুর-৪) খনন সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপ থেকে দৈনিক মোট ২১ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে। অন্যদিকে, ওয়ার্কওভার সম্পন্ন শেষে চারটি কূপ থেকে দৈনিক আরও ১০ দশমিক ৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। ফলে নতুন করে মোট ৩২ দশমিক ০২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি প্রতিবেদন বলছে, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়াতে সারা দেশে ৫০টি কূপ খননের বৃহৎ কর্মসূচির আওতায় ২৮টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে ২ হাজার হর্স পাওয়ারের একটি রিগ কেনার দরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলছে। একই সঙ্গে ১ হাজার ৫০০ হর্স পাওয়ার রিগ ক্রয়ের ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানোর কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমুদ্রাঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বাংলাদেশ অফশোর মডেল পিএসসির-২০২৬ আওতায় বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। অন্যদিকে, স্থলভাগে অনুসন্ধানের জন্য বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসির -২০২৬ খসড়া অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে ২ডি সাইসমিক সার্ভের ৫০০ লাইন কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে। তবে বর্ষাকালের কারণে ৩ডি সাইসমিক সার্ভের ১০০ বর্গকিলোমিটার কাজ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগ
মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশীয় জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুুবজোম এলাকায় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে বাস্তবায়ন মডেল নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২৮ জুলাই জি-টু-জি পদ্ধতিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া ল্যান্ডবেজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে পিপিপি পদ্ধতিতে ট্রানজ্যাকশন এডভাইজার নিয়োগের জন্য ইওআই আহ্বান করা হয়েছে। ক্রুড অয়েল রিফাইনারি নির্মাণের লক্ষ্যে মডার্নাইজেশন অ্যান্ড এক্সপানশন অব ইআরএল প্রকল্পের কনসালট্যান্ট নিয়োগের জন্যও ইওআই আহ্বান করা হয়েছে।
কমেছে সিস্টেম লস
প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানি খাতে এ বছরের ফেব্রুয়ারি-জুন এই পাঁচ মাসে সিস্টেম লস ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ কমিয়ে ৭ দশমিক ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। যা জানুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ০৩ শতাংশ।
অগ্রগতি প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ অনুযায়ী কমিশনের গণশুনানির মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস, এলপিজি, ফার্নেস অয়েল ও জেট ফুয়েলের ট্যারিফ নির্ধারণের কার্যক্রমও গ্রহণ করা হয়েছে। শিল্প খাতে গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থায় গ্যাস বরাদ্দ সংক্রান্ত খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্যে নেওয়া কাজের প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, তিনি সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। অধিবেশন চলাকালে একে অপরকে কথা বলার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার যে প্রবণতা দেখা গেছে, তা সংসদের জন্য কোনো ভালো লক্ষণ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতেই তিনি এ কথা বলেন। সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, অনেক কষ্টের পর গণতন্ত্র অর্জিত হয়েছে। এই গণতন্ত্র যাতে বহাল থাকে, সেজন্য সংসদের প্রতিটি সদস্যের দায়িত্ব রয়েছে। সংসদ সদস্যদের ‘রুলস অব প্রসিজার’ বা কার্যপ্রণালী বিধি পড়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, স্পিকার যখন প্রতিটি সদস্যকে নিজ আসনে বসার নির্দেশ দেন, তখন সেই নিয়ম ও রীতি যদি ভঙ্গ করা হয় বা না মানা হয়, তবে সংসদ বেশি দিন চলবে না। এ সময় তিনি সবাইকে নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানান এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তিন বাহিনীর প্রধান। মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুলকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান তিন বাহিনীর প্রধানেরা। একই সঙ্গে তারা নিজ নিজ বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। দায়িত্ব পালনে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা কামনা করেন তিন তারা। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে একটি আধুনিক চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।’ রাষ্ট্রপতি জানান, তার দায়িত্ব পালনকালে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাহিনীর সার্বিক উন্নয়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি তিন বাহিনীর প্রধানদের এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে ওষুধের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির (বাপি) মহাসচিব হালিমুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে কারখানায় জেনারেটর ও বড় ইউপিএস চালাতে হচ্ছে। গ্যাসের সংকট থাকায় জেনারেটরের জন্য নির্ভর করতে হচ্ছে ডিজেলের ওপর। এতে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়ছে। এভাবে জ্বালানি ব্যয় বাড়তে থাকলে একপর্যায়ে উৎপাদন খরচ সমন্বয়ে ওষুধের দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় থাকবে না। আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাপি কার্যালয়ে মালিক সমিতি ও স্বাস্থ্য বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) আয়োজনে ‘ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। হালিমুজ্জামান বলেন, ওষুধশিল্পের জন্য জ্বালানি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমানে বিদ্যুৎ ও ডিজেল দুই ক্ষেত্রেই শিল্পটি সমস্যায় পড়ছে। কারখানা চালানোর সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে যাচ্ছে। ১৫ টাকা ছিল বিদ্যুতের সরকারি রেট, আমার ফ্যাক্টরির হিসাবে এখন আসছে ৪২ টাকা। অর্থাৎ ১৫ টাকার জায়গায় ৪২ টাকা হচ্ছে। ওষুধশিল্পের সঙ্গে অন্যান্য শিল্পের বড় পার্থক্য রয়েছে উল্লেখ করে বাপি মহাসচিব বলেন, ওষুধের উৎপাদনপ্রক্রিয়া একবার শুরু হলে তা মাঝপথে বন্ধ করা যায় না। বিদ্যুৎ চলে গেলে উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে কারখানাগুলোকে ব্যাকআপ হিসেবে জেনারেটর ও বড় ইউপিএস চালাতে হয়। গ্যাসের সংকট থাকায় জেনারেটর চালাতেও ডিজেলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের ডিজেল মজুতের সক্ষমতাও পর্যাপ্ত নয়। ফলে ট্যাংক শেষ হয়ে গেলে দ্রুত ডিজেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়। ওষুধের দাম নির্ধারণে শুধু জ্বালানি খরচ নয়, কাঁচামাল, মান নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সংরক্ষণ এবং গবেষণা ও উন্নয়নসহ (আরঅ্যান্ডডি) বিভিন্ন খরচ যুক্ত রয়েছে বলে জানান হালিমুজ্জামান। তিনি বলেন, ২০ বছর আগে গুডস স্ট্যান্ডার্ড প্র্যাকটিস (জিএসপি) অনুযায়ী পাঁচটি পরীক্ষা করতে হতো। এখন পরীক্ষার সংখ্যা বেড়ে আটটি হয়েছে। আগে অনেক ধরনের ইমপিউরিটি বা অমেধ্য সম্পর্কে জানা ছিল না। এখন কোনো কোনো ওষুধে ১৮ থেকে ২০ ধরনের ইমপিউরিটি শনাক্ত করতে হয়। এসব পরীক্ষা করতে প্রয়োজনীয় রেফারেন্স স্ট্যান্ডার্ডের খরচও অনেক বেশি। ফলে ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণে ব্যয় বাড়ছে। ওষুধ উৎপাদনের পরও দীর্ঘ সময় ধরে নমুনা সংরক্ষণ ও নিয়মিত পরীক্ষা করতে হয় জানিয়ে হালিমুজ্জামান বলেন, কোনো ওষুধ বাজারে চাহিদা হারালেও নির্ধারিত শেলফ লাইফ পর্যন্ত এর নমুনা সংরক্ষণ করতে হয়। এমনকি মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নমুনা রেখে নিয়মিত পরীক্ষা করতে হয়। এসবের পেছনেও ব্যয় হয়। আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ উৎপাদনে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতেও আগের তুলনায় বেশি ব্যয় হচ্ছে বলে জানান বাপি মহাসচিব। আধুনিক ওষুধ উৎপাদনে এখন আরও বেশি বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন হচ্ছে। সব মিলিয়ে জ্বালানি, কাঁচামাল, মান নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সংরক্ষণ এবং গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিটি খাতেই ব্যয় বাড়ছে। এর মধ্যে জ্বালানি ব্যয় দ্রুত বাড়ায় তা সরাসরি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মুনাফায় চাপ তৈরি করছে। হালিমুজ্জামান বলেন, এই সবগুলিই আসলে ওষুধের উৎপাদন খরচ। তবে এটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এর মধ্যে জ্বালানির খরচও যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে তা অবশ্যই আমাদের মুনাফার ওপর প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, জ্বালানির বাড়তি ব্যয় দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তা নিজেদের মুনাফা থেকে বহন করা কঠিন হবে। তখন উৎপাদন খরচ সমন্বয় করতে ওষুধের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।