নিজস্ব প্রতিবেদক:
গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজেদুল ইসলাম (সাজু)-এর বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার কেনাকাটায় ভয়াবহ দুর্নীতি, সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন এবং মালামাল না বুঝে নিয়েই ভুতুড়ে বিল পরিশোধের অভিযোগে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক বদলি (Stand Release) করা হয়েছে।
অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এক প্রশাসনিক আদেশে তাঁকে ঢাকা থেকে পাবনা জেলায় বদলি করে।** দুর্নীতির মূল অভিযোগসমূহ:**১. ১০০ কোটি টাকার দরপত্রে কারসাজি: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের বিভিন্ন জেলা হাসপাতাল সংস্কার ও শয্যা উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় আসবাবপত্র কেনার নিয়ম ছিল 'গুডস' বা পণ্য সরবরাহ ক্যাটাগরিতে। কিন্তু প্রকৌশলী সাজেদুল ইসলাম পিপিআর (PPR) বা সরকারি ক্রয় বিধিমালা লঙ্ঘন করে তা 'ওয়ার্কস' বা নির্মাণকাজ ক্যাটাগরিতে আহ্বান করেন।
উদ্দেশ্য ছিল নিজের পছন্দের ও লাইসেন্সবিহীন কিছু নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৭৭ কোটি টাকার ২২টি কার্যাদেশ পাইয়ে দেওয়া।২. পণ্য ছাড়াই ৪ কোটি টাকার বিল পাস: জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের জন্য কোনো আসবাবপত্র সরবরাহ বা বুঝে না নিয়েই, কার্যাদেশ দেওয়ার মাত্র ২ দিনের মাথায় ঠিকাদারকে ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকাসহ মোট প্রায় ৪ কোটি টাকার ভুতুড়ে বিল পরিশোধ করেন তিনি।
বদলি ও বর্তমান পরিস্থিতি:এই দুর্নীতির খবর বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে আসার পর তোলপাড় সৃষ্টি হলে মন্ত্রণালয় তড়িঘড়ি করে তাঁকে ঢাকা থেকে পাবনায় বদলি করে দেয়। পাবনায় দায়িত্ব পালনের পর পরবর্তী সময়ে তিনি উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ প্রকল্পেও পদায়িত হন। বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটির অনুসন্ধান চালাচ্ছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের গড়েয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক সেবনরত অবস্থায় চারজনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোররাতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়ার গুঞ্জরগড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—আরাজী মাটিগাড়া এলাকার রফিকুল ইসলাম (৪৫) ও জাহিদুল ইসলাম (৪৫), লস্করা এলাকার তুষার বর্মন (২৭) এবং মাটিগাড়া এলাকার পরিমল (৩৫)। অভিযানে আটক প্রথম তিনজনকে দুই মাস করে এবং চতুর্থজনকে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁদের অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পটুয়াখালী জেলার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অদ্য ৭ অক্টোবর সকাল ১০টায় পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। 'স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ এই স্লোগান নিয়ে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর উদ্যোগে এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষতায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.এস.এম হেমায়েত জাহান। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন,"মেধার সাথে যখন পরিশ্রমকে যুক্ত করে তখন সে ভালো ছাত্র হিসেবে গন্য হয়।তোমাদের এই কৃতিত্ব শুধু তোমাদের একার নয়।এর পেছনে রয়েছে তোমাদের বাবা মায়ের বছরের পর বছর ধরে করা অসীম ত্যাগ, ভালবাসা এবং শিক্ষকদের সার্বিক নির্দেশনা। তোমরা ভালো ফলাফল করেছ,তার মানে তোমাদের মধ্যে সম্ভাবনা আছে। প্রকৃত মেধার পরিচয় মিলবে তখনই যখন এই মেধাকে তোমরা দেশের কল্যানে, মানুষের কল্যানে কাজে লাগাতে পারবে।আজকের এ প্রতিযোগিতার যুগে শুধু সনাতন পড়াশুনা দিয়ে টিকে থাকা কঠিন। তোমাকে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে হবে।তোমারা বিজ্ঞান, মানবিক কিংবা ব্যবসায় শিক্ষা যে বিভাগেই পড়াশুনা কর না কেন, তোমাদের চিন্তাভাবনা হতে হবে বৈশ্বিক ও আধুনিক। শিক্ষার্থীদের শুধু মেধাবী নয়, ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টাও করতে হবে। একটি জাতির জন্য দক্ষ ও ভালো মানুষ খুবই প্রয়োজন। এমন আয়োজনের জন্য তিনি প্রথম আলোকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, "প্রথম আলো বন্ধুসভা যেমন একদিকে পড়াশোনা ও মেধার মূল্যায়ন করে অন্যদিকে তারা বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।প্রথম আলো বন্ধুসভার পটুয়াখালী সভাপতি মরিয়ম আক্তার মুক্তা এর সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রথম আলো পটুয়াখালী জেলা সংবাদদাতা বিলাস দাস। বক্তব্য রাখেন বন্ধুসভার উপদেষ্টা কবি ও সাহিত্যিক আনোয়ার হোসেন বাদল ও কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আহম্মেদ কাওসার ও সুস্মিতা মন্ডল। এ অনুষ্ঠানে ২৫৭ জন মেধাবীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।অনুষ্ঠান শেষে কবি ও সাহিত্যিক আনোয়ার হোসেন বাদল তার সম্পাদিত "আড়শি নগরের পড়শি" গ্রন্থটি প্রধান অতিথির হাতে তুলে দেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর মো: মাহফুজুর রহমান সবুজ, উপাচার্য কার্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ড. রাহাত মাহমুদ, পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক,আমন্ত্রিত অতিথি ও সাংবাদিকবৃন্দ।
মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জে হোটেল, মিষ্টি ও বেকারি খাতের শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক প্রদান এবং সরকার ঘোষিত সর্বনিম্ন মজুরি বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হোটেল শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়নের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে সংগঠনের সভাপতি মো. রেজাউল করিম ও সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন সবুজের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া হয়। মানববন্ধনে শ্রমিক নেতারা বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ অনুযায়ী শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক প্রদান বাধ্যতামূলক হলেও স্থানীয় হোটেলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে এসব বিধান যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। একই সঙ্গে নির্ধারিত কর্মঘণ্টার অতিরিক্ত কাজের জন্য আইন অনুযায়ী ওভারটাইম মজুরি দেওয়ার বিধান থাকলেও অনেক শ্রমিককে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘ আন্দোলনের পর ২০২৫ সালের ৫ মে হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। গেজেট অনুযায়ী তা কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জে এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন। শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, শ্রমিকদের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে একাধিকবার আবেদন করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরিদর্শনের নামে অনিয়মেরও অভিযোগ তোলেন তারা। মানববন্ধন থেকে শ্রমিক নেতারা অবিলম্বে মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট পরিদর্শন অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজন এবং যৌথ পরিদর্শন টিম গঠনের দাবি জানান। একই সঙ্গে শ্রম আইন ও সরকার ঘোষিত সর্বনিম্ন মজুরির গেজেট দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তারা। মানববন্ধনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হোটেল শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়নের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. দুরুল, সহ-সভাপতি মো. সোহেল রানা ও মো. খোরশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইসরাফিল হক, দপ্তর সম্পাদক মো. আমিরুল ইসলাম, সদস্য মো. জিয়াউল হক ও মো. নেওয়াজ শরিফসহ নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সংগঠনের সাধারণ শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।