মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা এলেও অভিবাসন ব্যয় নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা না থাকায় তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। এরই মধ্যে কর্মীপ্রতি সাত থেকে সাড়ে সাত লাখ টাকা খরচ হতে পারে—এমন প্রচারণা চালিয়ে সম্ভাব্য কর্মীদের কাছ থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ শুরু করেছে বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সি ও মধ্যস্বত্বভোগী। এতে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের খরচ অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বাস্তবসম্মত অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণের পাশাপাশি অর্থ পরিশোধের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনভিত্তিক করা প্রয়োজন। তা না হলে এজেন্সিগুলো ইচ্ছামতো অর্থ আদায় করতে পারে। অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বলছে, আগের নির্ধারিত ব্যয় বাস্তবসম্মত ছিল না। নতুন করে ব্যয় নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
গত ১৫ অক্টোবর অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেয় মন্ত্রণালয়। এরপর সম্ভাব্য কর্মীদের মধ্যে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রম শুরুর ঘোষণাও আসে। তবে কর্মীপ্রতি মোট খরচ, বিভিন্ন ধাপের ফি এবং অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় অনিশ্চয়তা কাটছে না।
ব্যয় নিয়ে এজেন্সিগুলোর দাবি
শ্রমশক্তি খাতের ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার নির্ধারিত আগের অভিবাসন ব্যয় বাস্তবসম্মত ছিল না। ২০২২ সালেও এ বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল। এবারও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যয় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, আগে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর চাহিদাপত্র সংগ্রহে ব্যয় হতো
২-৩ হাজার রিঙ্গিত। এখন তা বেড়ে ৮-১০ হাজার রিঙ্গিত হয়েছে। কোনো কোনো ব্যবসায়ীর হিসাবে এই ব্যয় ১০ থেকে ১২ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত উঠেছে। ফলে কর্মীপ্রতি খরচও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।
তথ্যানুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত মোট অভিবাসন ব্যয় ছিল ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। এর মধ্যে ছিল পাসপোর্ট ফি, মেডিকেল পরীক্ষা ফি, রিক্রুটিং এজেন্সির সার্ভিস চার্জ, রেজিস্ট্রেশন ফি, কল্যাণ ফি, বিমা বা ইন্স্যুরেন্স ফি। কিন্তু বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। বিভিন্ন স্তরে দালাল ও এজেন্সির সিন্ডিকেটের জন্য ওই সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের খরচ দাঁড়িয়েছিল ৫-৬ লাখ টাকা। অথচ নেপালের নাগরিকদের খরচ হয় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। ইন্দোনেশিয়ান কর্মীদের খরচ হয় এক থেকে দেড় লাখ টাকা। ফিলিপাইন নাগরিকদের খরচ হয় পঞ্চাশ থেকে আশি হাজার টাকা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাব-এজেন্সির তালিকাভুক্ত এক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক বলেন, তিনি ইতিমধ্যে এক হাজারের বেশি পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছেন। আরো পাসপোর্ট সংগ্রহ চলছে। তার দাবি, আগ্রহীদের অন্তত সাত লাখ টাকা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। চূড়ান্ত ব্যয় নির্ধারিত না হওয়ায় এই অঙ্ক আরো বাড়তে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
ওই ব্যবসায়ীর ভাষ্য, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানি থেকে চাহিদাপত্র সংগ্রহে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছেন বড় ব্যবসায়ীরা। এর বাইরে সংশ্লিষ্ট মধ্যস্বত্বভোগীদেরও অর্থ দিতে হয়। ফলে ছোট এজেন্সিগুলোর পক্ষে কম খরচে কর্মী পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ হলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে। তার আশঙ্কা, বর্তমান প্রক্রিয়ায় অভিবাসন ব্যয় আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। কর্মীদের জন্য আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার মধ্যে ব্যয় নির্ধারণ করা বাস্তবসম্মত বলেও মনে করেন তিনি।
কর্মীদের দুশ্চিন্তা
এদিকে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা সম্ভাব্য কর্মীদের মধ্যেও বাড়তি খরচের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সুনামগঞ্জের আলমাছ আলী গ্রামে মুদি দোকান চালিয়ে সংসার চালান। আড়াই বছর ধরে তিনি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার অপেক্ষায় ছিলেন। সম্প্রতি এক প্রতিবেশী তাকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে পাসপোর্ট জমা দিতে বলেন। খরচের বিষয়ে জানতে চাইলে সাত লাখ টাকার বেশি প্রস্তুত রাখতে বলা হয়।
ঢাকার রামপুরার বাসিন্দা মুন্না মিয়া একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর খবর দেখে পরিচিত একটি রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। মুন্না বলেন, এবার খরচ বেশি হবে জানিয়ে তাকে প্রাথমিকভাবে সাত থেকে সাড়ে সাত লাখ টাকা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
সরকার নির্ধারণ করবে নতুন ব্যয়
মন্ত্রণালয়ের ১৫ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিসহ মোট ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ।
তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নিজেরাই মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করা, চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ, কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। অন্যদিকে, কলিং ভিসা ও ই-ভিসাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কাজে বোয়েসেল ও তালিকাভুক্ত ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি সহায়তা দেবে। এরপর বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কর্মীদের বিএমইটি ছাড়পত্রের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রতিটি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি নিজস্ব লাইসেন্সের অধীনে তাদের নির্বাচিত কর্মীদের বিএমইটি ছাড়পত্র নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে প্রসেসিং অথবা সার্ভিস এজেন্সিগুলো প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিতে পারবে।
বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করার কথাও জানানো হয়। তবে কর্মীপ্রতি অভিবাসন ব্যয় কত হবে এবং কারা বিনা খরচে যাওয়ার সুযোগ পাবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগের নির্ধারিত ব্যয় সংশোধনের বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। তাদের দাবি, প্রায় ৭৯ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হলেও একটি এজেন্সির প্রায় ৩০ হাজার টাকা লাভের সুযোগ ছিল। এরপরও কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ঠেকানো যায়নি। এজেন্সি মালিকরা যেন কর্মীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা না নেয় এজন্য নতুন করে আরেকটি অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ করার চিন্তা করছে মন্ত্রণালয়।
ওইপি ব্যবস্থায় অর্থ পরিশোধের প্রস্তাব
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর আমার দেশকে বলেন, মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের জন্য দ্রুত বাস্তবসম্মত অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ করা জরুরি। একই সঙ্গে ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মের (ওইপি) মাধ্যমে পুরো অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করা উচিত।
তার মতে, মূল এজেন্সি ও সাব-এজেন্সির সার্ভিস চার্জসহ কোন খাতে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে, তা নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। প্রয়োজনে পরীক্ষামূলকভাবে ওইপি সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা যেতে পারে।
এখনই যারা পাসপোর্ট সংগ্রহ করছেন, তাদের কার্যক্রমও খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেন তিনি। পাসপোর্ট জমা দেওয়া কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে কত টাকা দাবি করা হচ্ছে, তা যাচাই এবং প্রয়োজনে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে অভিযান চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এই বিশেষজ্ঞ।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, আগের নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় বাস্তবসম্মত ছিল না এবং এটা কেউ মানেনি। সরকারি সংস্থা বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর খরচ আনুমানিক এক লাখ ৫৫ হাজার থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা হতে পারে। তবে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর ব্যয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ করে নির্ধারণ করা হবে।
আগেও বেড়েছিল ব্যয়
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ২০০৮ সালে বন্ধ হওয়ার আট বছর পর ২০১৬ সালে আবার চালু হয়। দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয় দেশটি। ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর নতুন সমঝোতা চুক্তির পর ২০২২ সালে আবার কর্মী পাঠানো শুরু হয়। তবে ২০২৪ সালের ১ জুন ফের বন্ধ হয়ে যায় শ্রমবাজারটি।
২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ করা হয়। সে সময় সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় ছিল ৩৩ হাজার ৩৭৫ টাকা। কিন্তু কর্মীদের কাছ থেকে নেওয়া হতো দুই থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা।
পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালে শ্রমবাজার চালুর পর প্রথমে ২৫টি এবং পরে ১০১টি এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে তখনও কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কয়েক লাখ টাকায় পৌঁছায়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী ও হত্যা এবং দুর্নীতির মামলায় কারারুদ্ধ আসাদুজ্জামান নূরকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় কয়েকটি গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার দলটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন এনসিপির দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনা। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি মাচরাঙা টেলিভিশনসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে ছাত্র-জনতার ওপর হত্যাযজ্ঞ ও নজিরবিহীন দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কারারুদ্ধ সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরকে ‘সংস্কৃতিকর্মী’ কিংবা ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব’ পরিচয়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দলটি। এনসিপির বক্তব্য, সংস্কৃতি কেবল শিষ্টাচার নয়; এটি স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদী বয়ান তৈরির অন্যতম বড় হাতিয়ার। দলটির দাবি, আসাদুজ্জামান নূর শুধু একজন অভিনয়শিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক খুঁটি ও চালিকাশক্তি। বিজ্ঞপ্তিতে আরো অভিযোগ করা হয়, ছাত্র-জনতার ওপর চালানো গণহত্যা ও রাষ্ট্রীয় গুমের মতো গুরুতর অপরাধে কারারুদ্ধ আসাদুজ্জামান নূরকে মানবিকতার প্রলেপ দিয়ে গণমাধ্যমে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। দলটির মতে, শহীদদের রক্তের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা, নির্যাতিত হাজারো পরিবারের অনুভূতির প্রতি উপহাস এবং ফ্যাসিবাদের ভয়াবহ অপরাধ আড়াল করার অপচেষ্টার অংশ এটি। এনসিপি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধের সহযোগী, রাজনৈতিক অপরাধী ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের অপরাধ লঘু করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালনকে গণমাধ্যমের নৈতিক দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেছে দলটি। বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি অবিলম্বে গণমাধ্যম কমিশন গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এনসিপির মতে, গণমাধ্যমের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের প্রবণতা রোধে কমিশন গঠন জরুরি।
রাজধানীর তুরাগ নদী থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির (তাওসিফ সৌরি) মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে রাজধানীর উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী সংলগ্ন তুরাগ নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে উত্তরখান থানার ওসি মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান এশিয়া পোস্টকে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, টঙ্গী নৌ পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করেছে, আমরা তাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি মরদেহটি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির। সাবেক এই কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তুরাগ নদের রাজাবাড়ি ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তিনি আরও বলেন, তাহসিফ সপরিবার উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। গত মঙ্গলবার তিনি নিখোঁজ হন। তার বাবার নাম কে এম এনায়েত হেলাল। এদিকে নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাতপরিচয় ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। তার বয়স আনুমানিক ২৮ বছর। পরনে ছিল সাদা পায়জামা ও কালো জামা। হাতে ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। মুখে হালকা দাড়ি ছিল। পকেটে পাওয়া আইফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরি। তার বাসা রাজধানীর উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরে। এর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে পালানোর ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিমানবাহিনীর দুই কর্মকর্তা আলোচনায় আসেন। তাদের একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রিফাত আশরাফী। তিনি বিমানবাহিনীর কুর্মিটোলা এয়ারবেইসের অফিসার্স মেসের একটি কক্ষের জানালা থেকে দৃশ্যটি ধারণ করেছিলেন বলে জানা গেছে। অন্যজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরি, যিনি ভিডিওটি ফেসবুকে নিজের টাইমলাইন থেকে প্রকাশ করেছিলেন। এ ঘটনায় দুজনকেই বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। রিফাত আশরাফী বিমানবাহিনীর প্রশাসন শাখার কর্মকর্তা ছিলেন বলেও জানা গেছে। জানা গেছে, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্যটি একটি নির্দিষ্ট অ্যাঙ্গেল থেকে ধারণ করা হয়েছিল। ভিডিওটির সূত্র ধরে বিমানবাহিনীর এয়ার ইন্টেলিজেন্স তদন্ত শুরু করে। তদন্তে ভিডিও ধারণের অ্যাঙ্গেল, অবস্থান ও ক্যামেরা ঘোরানোর ধরন বিশ্লেষণ করে কোন কক্ষ থেকে এবং কে দৃশ্যটি ধারণ করেছিলেন, তা শনাক্ত হয়। জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত আশরাফী তার অফিসকক্ষের জানালা থেকে ছবিটি তোলার কথা স্বীকার করেন। তাহসিফ সাউরিও পোস্ট দেওয়ার কথা জানান।
রাজধানীর গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়ক সম্পূর্ণ হকারমুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, নির্ধারিত স্থানের বাইরে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে দোকান বসালে মালামাল জব্দের পাশাপাশি প্রয়োজনে গ্রেপ্তার করা হবে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর গুলিস্তানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, হকারদের ব্যবসার জন্য নির্দিষ্ট কিছু ফুটপাত, নৈশকালীন মার্কেট ও হলিডে মার্কেট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এসব নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও দোকান বসানো যাবে না। বিশেষ করে গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত পুরো সড়ক দখলমুক্ত রাখা হবে। মূল সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না। উচ্ছেদের পর আবারও ফুটপাত দখলের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবদুস সালাম বলেন, হকারদের বিভিন্নভাবে সতর্ক করা হয়েছে। তাঁদের সংগঠনের নেতাদের সঙ্গেও একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। এরপরও উচ্ছেদ করা জায়গায় নতুন করে দোকান বসানো হচ্ছে। তাই এখন কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, নির্দেশনা অমান্য করে রাস্তা বা ফুটপাত দখল করলে মালামাল জব্দ করা হবে। প্রয়োজনে আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চলবে। এর আগে বুধবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত গুলিস্তানের ঢাকা ট্রেড সেন্টার ও ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেটসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায় ডিএসসিসি। এ সময় ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা শতাধিক অবৈধ দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানে পে-লোডারসহ ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে অবৈধ অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। পাশাপাশি ফুটপাত দখল করে রাখা বিভিন্ন মালামাল ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে সংস্থাটির চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, শতাধিক উচ্ছেদকর্মী ও ছয় প্লাটুন পুলিশ অংশ নেন। অভিযান পরিচালনা করেন ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জোনায়েদ কবীর সোহাগ, সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাছিবা খান এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম। পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি।