প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। সরকারপ্রধানের এই সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ–উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে। নিউ ইয়র্ক থেকে ভার্জিনিয়া–সর্বত্রই এখন সফরের প্রস্তুতিমূলক নানা তৎপরতা চলছে।
আগামী ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর নিউ ইয়র্কে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সফরটি ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি দলের সমর্থকেরা বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে স্বতঃস্ফূর্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সফর সফল করতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো ধারাবাহিকভাবে কর্মী সভা ও প্রস্তুতিমূলক বৈঠক পরিচালনা করছে। কোথাও স্বাগত মিছিল, কোথাও কর্মীসভার আয়োজন। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন বলেন, ইতিমধ্যে আমি ব্যক্তিগতভাবে নিউ ইংল্যান্ড বিএনপিতে কর্মী সভা করেছি। সেখানে নেতাকর্মী অত্যন্ত উৎসাহিত।
যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ–সভাপতি আবু সাইদ আহমদ বলেন, অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি জনাব তারেক রহমান সাহেব আসবেন। এই প্রবাসের বাংলাদেশীরা তাকে বরণ করে নিবেন একজন নির্বাচিত সরকার প্রধান হিসেবে। উনি যখন আসবেন জেএফকে বিমানবন্দরে আমরা সহ শুধু বিএনপি শুধু নয়, পুরো বাংলাদেশিরা, যারা প্রবাসী বাংলাদেশী রয়েছেন, তারা সবাই জেএফকে বিমানবন্দরে যাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী যেখানেই অবস্থান করবেন, সেখানেই রাজকীয় সংবর্ধনা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রবাসী নেতাকর্মীরা। কেবল সংবর্ধনাই নয়, জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে ভাষণের দিন বিশাল শান্তি সমাবেশের ডাক দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি।
বিএনপির নিউজার্সি নর্থের সভাপতি সৈয়দ জুবায়ের আলী বলেন, অবশ্যই আমরা নিউ জার্সি থেকে যাচ্ছি। আগামী ২১ তারিখে এয়ারপোর্টে যাব। ২৪ তারিখে যেটা জাতিসংঘের সামনে আমরা শান্তি সমাবেশ করবো, সেখানে নিউ জার্সি থেকে আমরা প্রচুর লোক নিয়ে যাব। আমরা সবসময় গিয়ে থাকি। আর পাশাপাশি ২৫ তারিখে উনার যে সংবর্ধনা হবে, সেখানেও আমাদের আমন্ত্রণ আছে। নেতাকর্মীদের মাঝেও উদ্দীপনার কমতি নেই। দীর্ঘদিন পর প্রিয় নেতাকে সামনে থেকে একনজর দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তারা। তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে প্রবাসী নেতাকর্মীদের মাঝে যে উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে, তা কেবল একটি রাজনৈতিক অভ্যর্থনা নয়; বরং নতুন বাংলাদেশের প্রতি তাদের অবিচল আস্থারই এক বড় বহিঃপ্রকাশ।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হাতে পেলেই কোনো নাগরিককে গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা যাবে না। ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মাধ্যমে নাগরিকদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধে করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ-এ-মওলা সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তারা এই রায় দেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের আগে পুলিশের কেন্দ্রীয় ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থেকে এর সত্যতা যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে নালিশি মামলা দায়েরের সময় বাদী ও আইনজীবীর পরিচয় নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালতের ওই নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিষয়টি পরিপত্র আকারে জারি করে তা সব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠাতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, যেকোনো নালিশি মামলা দায়েরের সময় বাদী ও আইনজীবীর পরিচয় নিশ্চিত করতে বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) অনুলিপি এবং আইনজীবীর পরিচয়পত্র মামলার সঙ্গে সংযুক্ত রাখা নিশ্চিত করতে জেলা জজ, মহানগর জজ, সিজিএম ও সিএমএমসহ সব নিম্ন আদালতের বিচারকদের কাছে নির্দেশনা পাঠাতে হবে। আদালত বলেছেন, যেকোনো নাগরিককে গ্রেপ্তার করতে হলে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান অনুসরণ করতে হবে, অন্যথায় আইনের ব্যত্যয় হবে। রায়ে বলা হয়, মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন অত্যন্ত প্রয়োজন। যাতে আদালতের মাধ্যমে মানুষ হয়রানির শিকার না হয়। কারণ, এতে নাগরিকের যে ক্ষতি হয়, তা পূরণ করা সম্ভব নয়। ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে গ্রেপ্তার ও হয়রানির বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে রিট আবেদনটি করেন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন। রায়ের পর মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, কোনো পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আগে কেন্দ্রীয় ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থেকে এর সত্যতা যাচাই করবেন। যাচাইয়ের পরই গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এ নির্দেশনা উল্লেখ করে সার্কুলার জারি করে সব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠাতে আইজিপিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে দেশের সব নিম্ন আদালতের বিচারকের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠাতে বলা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) একদিনের সফরে সিলেট যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার সফরকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরীতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এরইমধ্যে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন পৃথকভাবে সমন্বয় সভা করেছে। সবমিলিয়ে প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সিলেটে পৌঁছে রাষ্ট্রপতি প্রথমে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। পরে বিকেল ৩টায় সিসিক আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারের প্রস্তুতি ও চলমান উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করেছেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় তিনি মাজার এলাকা ঘুরে দেখেন এবং রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে সিসিকের নেওয়া প্রস্তুতির অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে খোঁজ নেন। পরিদর্শন শেষে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রপতি মঙ্গলবার সিলেট সফর করবেন। সিলেট একটি পর্যটননগরী। রাষ্ট্রপতি যাতে সিলেটের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন এবং তার সফরকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। তিনি যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে মাজার জিয়ারত করতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সিসিক প্রশাসক বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর উন্নয়ন ও সংস্কারকাজে সিলেট সিটি করপোরেশন নিয়মিতভাবে কাজ করে আসছে। রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে এসব কাজ আরও গতিশীল করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে শনিবার সমন্বয় সভা করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। সভায় সভাপতিত্ব করেন এসএমপির পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও দর্শনীয় স্থানগুলোর নিরাপত্তা জোরদার, যানবাহন চলাচল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। সফর সফল ও নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান এসএমপি কমিশনার। সভায় বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এসময় তিনি রাষ্ট্রপতির সফরসূচি এবং নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবেন। প্রধানমন্ত্রী এই সফরে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন ভিশন ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, নিউইয়র্ক সফরকালে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাইডলাইন মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভিশন তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হবে। নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিটিং হবে কিনা-জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী সেখানে যাওয়ার প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়া। সাইডলাইনে কিছু বৈঠকতো হবে। এগুলোতে প্রায়ই একদম শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাই। উনি যখন যাবেন, যাদের সঙ্গেই দেখা বা বৈঠক হবে আপনাদেরকে জানানো হবে। এটা কোনো গোপন কিছু হবে না, কাজেই আপনাদেরকে জানানো হবে। যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বিশেষ সাইডলাইন মিটিং আয়োজনের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুটি বড় গুরুত্ব পাবে