রাজনীতি

স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি : জিয়া থেকে তারেক

হোসেন মাঝি জুলাই ১, ২০২৬ 0
স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি : জিয়া থেকে তারেক
তারেক

 


বাংলাদেশে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে একটি মানচিত্র ও পতাকা পেয়েছিল কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতার দেখা পাননি এদেশের মানুষ। সেজন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে। শুধু অপেক্ষা নয়, বরং স্বাধীনতা যুদ্ধের পরও বারবার মানুষকে রাজপথে নামতে হয়েছে, জীবন দিতে হয়েছে প্রকৃত মুক্তির লক্ষ্যে। প্রকৃত মুক্তি আর স্বাধীনতার জন্য শোষিত-বঞ্চিত মানুষ বারবার রাজপথে জীবন দিলেও প্রতিবারই কিছু শাসক ক্ষমতার জন্য দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিতে দ্বিধা করেনি। শেখ মুজিবুর রহমান থেকে শুরু করে তার মেয়ে শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশে ভারতের যে আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়, তা ছিল একটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং মানুষের মুক্তির চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশকে ভারতের আধিপত্য থেকে মুক্ত করে বিশ্বে বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত স্বাধীন দেশ ও মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেন। আজ তার ছেলে তারেক রহমানের হাতে বাংলাদেশের শাসনভার। জিয়াউর রহমান দেশ শাসনের দায়িত্বভার গ্রহণের আগে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আওয়ামী দুঃশাসন ও ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্য। রক্তাক্ত এক অধ্যায়ের মাধ্যমে সেই আওয়ামী দুঃশাসন ও ভারতীয় আধিপত্য থেকে মুক্ত হয় দেশ। একইভাবে তারেক রহমানও ক্ষমতা লাভের আগে দেড় যুগ ধরে বাংলাদেশে চেপে বসেছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মাফিয়া শাসনব্যবস্থা এবং ভারতের সর্বগ্রাসী নিয়ন্ত্রণ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মাফিয়া শাসনব্যবস্থা ও ভারতীয় আধিপত্যের জাল ছিন্ন করতে আবার রক্তাক্ত পথ পাড়ি দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। আজ তারেক রহমানের সামনে আবার এক ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে পিতার পথ ধরে বাংলাদেশকে নতুন করে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে প্রতিষ্ঠা করার। প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে মালয়েশিয়া এবং চীনকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মূলত সেই পথে যাত্রার প্রথম কাজটি করলেন। এরপর ঢাকা-বেইজিং যৌথ ইশতেহার ও সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশ আবার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির নতুন ভিত্তি স্থাপন করল।

বর্তমান আধিপত্যকেন্দ্রিক বৈশ্বিক রাজনৈতিক বাস্তবতা, ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের কারণে বাংলাদেশের প্রতি পরাশক্তিগুলোর আগ্রহের প্রেক্ষাপটে প্রথম সফর হিসেবে এক যাত্রায় মালয়েশিয়া ও চীন গমন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতি এবং অবস্থানের বিষয়ে একটি কূটনৈতিক বার্তা। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির নতুন আরেক অধ্যায় রচিত হয়েছে। ঢাকা-বেইজিং যে যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করা হয়েছে, তা চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে ভবিষ্যৎ পথচলায় যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে। যৌথ ইশতেহারসহ দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা ও চুক্তির আলোকে সঠিকভাবে সামনে অগ্রসর হতে পারলে তা দুই দেশের সম্পর্ক যেমন নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, তেমনি বাংলাদেশ আবির্ভূত হবে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উন্নয়নের অন্যতম অংশীদার ও কেন্দ্র হিসেবে। যৌথ ইশতেহারে ঢাকা-বেইজিং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, তিস্তা পরিকল্পনায় চীনের অংশগ্রহণ, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্প, বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর এবং এক চীননীতির প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থনের মাধ্যমে ঢাকা স্বাধীন ও সাহসী পররাষ্ট্রনীতির নতুন যুগের সূচনা করল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পাশে থাকার যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, তা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের বিরোধিতার ক্ষেত্রে ভারতের সব মুখোশ খুলে পড়ে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটিয়ে শেখ হাসিনাকে আবার ফিরিয়ে আনার জন্য ভারত প্রকাশ্যে মরিয়া হয়ে মাঠে নামে। তবে তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হলেও এখনো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে থেমে নেই ভারতের গভীর ষড়যন্ত্র। বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, চাপে রাখা ও অস্থিরতা তৈরির জন্য একের পর এক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নয়াদিল্লি। পুশইন তার সর্বশেষ উদাহরণ। বাংলাদেশের বুকে দাঁড়িয়ে ভারতের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশকে গ্রাস করে অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠার ঔদ্ধত্য পর্যন্ত প্রকাশ করেছেন। ভারতের লেলিয়ে দেওয়া লোকজন প্রকাশ্যে করে চলছে দেশদ্রোহীমূলক কর্মকাণ্ড।

চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর ভারতের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেন। নয়াদিল্লি তা মেনে নিতে পারেনি। ড. ইউনূস সরকারের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে চীন, পাকিস্তান, তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ঘটনা একের পর এক বজ্রপাতের মতো আঘাত করে নয়াদিল্লির বুকে। শুধু তাই নয়, চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক উন্নয়নের পদক্ষেপে সুদূর ওয়াশিংটন পর্যন্ত নড়েচড়ে বসে। চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক উন্নয়নের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলে ঢাকার ওয়াশিংটন দূতাবাস। এ বিষয়ে তীব্র চাপ সৃষ্টি করা হয় ঢাকার ওপর। তবে এ ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান নিয়ে ঢাকার পাশে দাঁড়ায় বেইজিং। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয় ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময়ও বেইজিং স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বাংলাদেশে যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ তারা প্রত্যাখ্যান করবে। চীন বাংলাদেশের পাশ থেকে সরে যাবে না।

নতুন নির্বাচিত সরকার ড. ইউনূসের রেখে যাওয়া স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ধারা কতটা বজায় রাখতে পারবে, তা নিয়ে নানা কারণে সংশয় দেখা দেয় । বিশেষ করে, চীন থেকে শক্তিশালী যুদ্ধবিমান ক্রয় ও বাণিজ্য বৃদ্ধি, চীনের মাধ্যমে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিষয়ে ইউনূস সরকার যে উদ্যোগ নেয়, তা বাস্তবে পরিণত করার বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি প্রকাশ্য চাপ সৃষ্টি করা হয় বিভিন্ন মহল থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লেখা এক চিঠিতে বাংলাদেশকে তার দেশ থেকে সমরাস্ত্রসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি বৃদ্ধির জন্য সরাসরি চাপ সৃষ্টি করেন। অন্যদিকে ভারত তার চিকেনস নেক করিডোরের মতো কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল স্থানের কাছে চীনের উপস্থিতিকে তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং তিস্তা প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণের বিরোধিতা অব্যাহত রাখে।

এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ঢাকা-বেইজিং যেসব সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং যৌথ ইশতেহারে দ্ব্যর্থহীনভাবে যেসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, তা নয়াদিল্লির মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বিশেষ করে, মোংলায় ভারতের জন্য বরাদ্দ করা অঞ্চলকে বাতিল করে সেখানে চীনকে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন গঠনসহ চট্টগ্রামেও চীনকে একই সুবিধা দেওয়ার ঘটনায় ভারতের বিভিন্ন মহলে তোলপাড় চলছে।

অনুগত রেখে শোষণ করা ও শুধু নিজ স্বার্থ আদায় করা ছাড়া ভারত কোনো দিন বাংলাদেশের মঙ্গল চায়নি, ভবিষ্যতে চাইবে তারও কোনো লক্ষণ নেই। দেড় দশক ধরে ওয়াশিংটনের সমর্থনে নয়াদিল্লি বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মাফিয়া শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল। চব্বিশের জুলাই বিপ্লব হয়েছিল শেখ হাসিনার দুঃশাসন ও ভারতীয় আধিপত্যের অবসানের লক্ষ্যে। কোনো অবস্থাতেই এদেশের মানুষ আর ভারতীয় কোনো আধিপত্য মেনে নেবে না। তাই কারো কোনো রক্তচক্ষুর তোয়াক্কা না করে বাংলাদেশকে তার স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিজ স্বার্থ রক্ষা করে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ধারা বজায় রাখতে হবে।


মনে রাখতে হবে, ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর বাংলাদেশ ভারতীয় আধিপত্য থেকে মুক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে চীন বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যে সামরিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক তার ভিত্তি রচিত হয় ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের চীন সফরের মাধ্যমে। চীন বর্তমানে এমন একটি দেশ, যাদের বর্তমান বিশ্বের সুপার পাওয়ার যুক্তরাষ্ট্র তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনে করে। চীনের উত্থান মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সব চেষ্টা একের পর এক ব্যর্থ করে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে চীন। সর্বশেষ চীনকে ঘায়েল করতে ওয়াশিংটনের শুল্কযুদ্ধের বিরুদ্ধে বেইজিং যেভাবে পাল্টা আঘাত করেছে, তাতে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে হোয়াইট হাউস। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সব শাখায় চীন আজ যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ নয়; বরং সমরাস্ত্র প্রযুক্তির অনেক ক্ষেত্রে চীন আজ ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রকে। বিশেষ করে, হাইপারসনিক মিসাইল প্রযুক্তি। রাশিয়ার পর চীন অভেদ্য হাইপারসনিক মিসাইলের অধিকারী। অর্থনৈতিক, সামরিক, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, বিশ্ববাণিজ্যসহ সব ক্ষেত্রে চীনের রাতারাতি উত্থান আজ পুরো বিশ্বের অন্যতম আলোচিত একটি বিষয়।

ভূকৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের সামনে যে সম্ভাবনা ও বিপদ, এর পরিপ্রেক্ষিতে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা, বাণিজ্যিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালে দিশাহীন জাতিকে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে দেশবাসীকে পথের দিশা দিয়েছিলেন। সেই জিয়াউর রহমানই আবার ১৯৭৫ সালের পর সামনে এগিয়ে এসেছিলেন ভারতের আধিপত্য থেকে বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব উদ্ধারে।

ড. ইউনূসের দেড় বছর ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি মানে জাতীয়তাবাদী বিএনপির শাসনামল। দীর্ঘ আওয়ামী দুঃশাসন শেষে আবার সেই জাতীয়তাবাদী শক্তির হাতে বাংলাদেশের শাসনভার। আবার তাই বিএনপির সামনে সুযোগ এসেছে বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসেবে বিশ্বদরবারে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড় করানোর এবং অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর। ঐতিহাসিক এ দায়িত্ব পালন থেকে পিছু হটার সুযোগ নেই । চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাইওয়ান বিষয়ে বাংলাদেশ এক চীননীতির প্রতি যে দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেছে, তাকে সাহসী না বলে উপায় নেই।

চীনের পক্ষ থেকে করিডোরবিষয়ক যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা গেলে পূর্বদিগন্তে বাংলাদেশের জন্য নতুন সূর্যোদয় হবে। খুলে যাবে সম্ভাবনা ও সমৃদ্ধির নতুন এক দুয়ার। ভারতের ওপর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক-নির্ভরতা কমাতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০০১ সালে চারদলীয় সরকারের সময় ‘লুক ইস্ট’ পলিসি গ্রহণ করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধি। এই লক্ষ্যে মিয়ানমারে যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ বিষয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার ২০০৩ সালে চুক্তি হয় এবং কার্যক্রমও শুরু হয়। শুরু হয় বাংলাদেশ-মিয়ানমার ফ্রেন্ডশিপ রুট চালুর কার্যক্রম। অভিযোগ রয়েছে, ভারত তার নিজ স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ায় তখন মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বাংলাদেশের লুক ইস্ট পলিসি বাস্তবায়ন থেকে সরে আসার । ফলে ওখানেই থেমে যায় সম্ভাবনাময় সেই উদ্যোগ। এখন চীনের মাধ্যমে যেহেতু নতুন এই করিডোর প্রস্তাব এসেছে, তাই এ ক্ষেত্রে মিয়ানমারের ওপর অন্য কোনো আঞ্চলিক শক্তির চাপ প্রয়োগ বা মিয়ানমারের এ থেকে সরে আসার ‍সুযোগ নেই। বস্তুত চীন আজ যে করিডোরের প্রস্তাব দিয়েছে, তা আরো বৃহত্তর পরিসরে বাংলাদেশই শুরু করছিল ২০০১ সালে। চীনের প্রস্তাবিত এ করিডোরের সঙ্গে বাংলাদেশের লুক ইস্টনীতির আওতায় দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে কীভাবে যুক্ত করা যায়, তা নিয়ে কাজ করা উচিত।

চীনের আমদানি-রপ্তানির ৯০ ভাগ হয়ে থাকে সমুদ্রপথে। আর তাদের সমুদ্রবাণিজ্যের ৮০ ভাগ হয়ে থাকে অতিশয় সরু মালাক্কা প্রণালির মাধ্যমে। মালাক্কা প্রণালির প্রবেশমুখে ভারতের আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য যুদ্ধে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বন্ধ করে দিতে পারে এ প্রণালি। চীন তাই পাকিস্তানের গোয়াদর বন্দরের মাধ্যমে আরব সাগরে প্রবেশের ব্যবস্থা করেছে। মালাক্কা ডিলেমা সংকট কাটাতে চীন-মিয়ানমার, মধ্য এশিয়া ও রাশিয়ার ওপর দিয়ে বিভিন্ন বিকল্প পাইপলাইন ও পথ তৈরি করছে। বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলপথে যুক্ত হতে পারলে চীন সরাসরি বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশিতে প্রবেশ করতে পারবে। তাই প্রস্তাবিত এ করিডোরে রয়েছে চীনের অর্থনৈতিক, ভূরাজনৈতিক, কৌশলগতসহ অনেক বিষয়। প্রস্তবিত করিডোরে ঢাকা অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে চীনের বহুমুখী স্বার্থের বিপরীতে বাংলাদেশকেও সমান স্বার্থ আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিল প্রধান তিন বিরোধী দল

ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।

রাজনীতি

View more
দুই মামলায় সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ গ্রেপ্তার
দুই মামলায় সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ গ্রেপ্তার

  বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রিক যাত্রাবাড়ীতে শিক্ষার্থী নাইম হাওলাদার (১৭) হত্যা এবং তারেক চৌকিদার হত্যাচেষ্টা মামলায় পটুয়াখালী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি ডেমরা জোনের সাব-ইনস্পেক্টর (নিরস্ত্র) নাজিম উদ্দিন ফকির আবেদনে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানার উত্তর কুতুবখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় আসামিদের ছোড়া গুলিতে নাইম হাওলাদার বাম কাঁধের সামনের দিকে গুলিবিদ্ধ হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ওই দিনই চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, তারেক চৌকিদার নামের এক শিক্ষার্থী যাত্রাবাড়ি এলাকায় বাসার ছাদে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটে। এ মামলায় সাবেক চিফ হুইপের যোগসাজশ রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।   আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, আ স ম ফিরোজ বর্তমানে যাত্রাবাড়ী থানার অন্য একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন। নাইম হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, অপরাপর আসামিদের গ্রেফতার এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেলহাজতে আটক রাখার প্রয়োজন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে নাইম হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন। এর আগে, ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
‘আমাকে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’- বলার পর রাতেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমাকে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’- বলার পর রাতেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তারা মাফিয়া গ্যাং

আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তারা মাফিয়া গ্যাং

কালাইয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষ্যে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

কালাইয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষ্যে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

বগুড়ার মোকামতলায় রহবল ইউনিয়ন পরিষদ ভবন রহবলেই নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন
বগুড়ার মোকামতলায় রহবল ইউনিয়ন পরিষদ ভবন রহবলেই নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

​গোলাম রব্বানীর শিপন, মহাস্থান- বগুড়াঃ বগুড়ার মোকামতলার রহবল ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবন পাকুড়তলার পরিবর্তে রহবল এলাকায়ই নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী। ​মঙ্গলবার সকাল ১১টায় রহবল বন্দরে আয়োজিত এই মানববন্ধনে এলাকার বিভিন্ন পেশাজীবী ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নেন। ​মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মোকামতলা এলাকার প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করতে তিনটি ইউনিয়নকে বিভক্ত করে নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। নতুন নামকরণ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সৃষ্টি হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণশুনানির আয়োজন করা হয়। গত ২৩ জুন ভরিয়া হাই স্কুল মাঠে দিগন্ত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের দাবিতে গণশুনানিতে প্রায় ১,১০০ জনের সমর্থন পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ২৫ জুন রহবল হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত আরও একটি গণশুনানিতে প্রায় ৩,৭০০ জনের সমর্থন নিয়ে রহবল ইউনিয়ন গঠনের জোরালো দাবি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউনিয়নটির নাম ‘রহবল ইউনিয়ন’ হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। এলাকাবাসীর পক্ষে জানানো হয়, রহবল ইউনিয়ন মোট ৮টি মৌজা নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে ৬টি মৌজা রহবল বাজার কেন্দ্রিক এবং মাত্র ২টি মৌজা পাকুরতলা কেন্দ্রিক। ইউনিয়নের সিংহভাগ জনগোষ্ঠীর যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রম রহবল বাজারকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হয়। অথচ নাম ‘রহবল ইউনিয়ন’ রাখা হলেও ইউপি ভবনটি রহবলে নির্মাণ না করে পাকুড়তলার (কৃষ্ণপুর মৌজায়) নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে, যা প্রস্তাবিত স্থান হিসেবে মোকামতলা পৌরসভা থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে অবস্থিত। প্রশাসনিক কেন্দ্রটি রহবলে স্থাপন করা হলে সাধারণ জনগণের যাতায়াত ও সেবা প্রাপ্তি অধিকতর সহজ, সুবিধাজনক ও জনবান্ধব হবে। ​বক্তারা বলেন, ইউনিয়নের নামকরণের সাথে প্রশাসনিক কেন্দ্রের একটি সুন্দর সমন্বয় থাকা জরুরি। অবিলম্বে এলাকাবাসীর দাবি বিবেচনা করে রহবল ইউনিয়ন পরিষদ ভবন রহবলেই নির্মাণের জন্য প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা। প্রয়োজনে সঠিক স্থান নির্ধারণে পুনরায় গণশুনানির আয়োজনের দাবি জানানো হয়। ​দ্রুত রহবল এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন বক্তারা। সাবিত হোসেনের পরিচালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মতিউর রহমান, সজিব ইসলাম, বেলাল সরকার, রাখিবুল ইসলাম প্রমুখ। সাংবাদিক/ গোলাম রব্বানী শিপন। মহাস্থান- বগুড়া।  মোবাইল নাম্বার, ০১৭১১২৫২৪৯৬ ৮ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার।

News সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ 0
গণপূর্তে ২৩ অডিট আপত্তি

গণপূর্তে ২৩ অডিট আপত্তি

সংসদের গুরুত্বপূর্ণ ২ কমিটির নতুন সভাপতি স্পিকার হাফিজ

সংসদের গুরুত্বপূর্ণ ২ কমিটির নতুন সভাপতি স্পিকার হাফিজ

এবার ৬ দফা দাবিতে বগুড়া অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ

এবার ৬ দফা দাবিতে বগুড়া অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা চলতি সপ্তাহেই
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা চলতি সপ্তাহেই

  রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহেই ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। ফলে শিগগিরই আসনটিতে নির্বাচনী কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। আখতার আহমেদ বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল এ সপ্তাহেই অনুষ্ঠিত হবে।’ এর আগে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছিলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন প্রস্তুত রয়েছে। এ নির্বাচনে আইটি-সমর্থিত পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। পূজা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছিলেন, ‘এই নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুত। সেটার আইটি সাপোর্টেড যে আপনার পোস্টাল ভোটিং, সেটারও আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা রাখি আমরা অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমরা সিডিউলটা ডিক্লেয়ার করতে পারব। নির্বাচন পূজা, পরীক্ষা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে তারিখ নির্ধারণ করা হবে।’ এর আগে গত ২২ আগস্ট সংসদ সচিবালয় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে। সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের দিন, অর্থাৎ ২১ আগস্ট থেকে আসনটি শূন্য হয়েছে। আসনটি শূন্য হওয়ার পর থেকেই উপ-নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে নির্বাচন কমিশন। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচন পরিচালনা শাখা ইতোমধ্যে ভোট আয়োজনের প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে। আইন অনুযায়ী আসন শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে উপ-নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। সেই সময়সীমা মাথায় রেখেই কমিশন প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। এ বিষয়ে ইসির জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এর আগে বলেছিলেন, ‘যেহেতু আসনটি শূন্য হয়ে গেছে। পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। আমরা খুব বেশি সময় নেবো না।’ এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। তিনি আরও বলেন, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যেই এ আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পোস্টাল ব্যালটসহ প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে কাজ করছে কমিশন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে গত ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে তিনি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। পরদিন ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী তার সংসদীয় আসনটি শূন্য হয়। এখন সেই শূন্য আসনেই উপ-নির্বাচনের আয়োজন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

News সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ 0
আজ ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি

আজ ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি

খুলনায় প্রথম দফায় কৃষি কার্ড পাবেন ২৩ হাজার কৃষক

খুলনায় প্রথম দফায় কৃষি কার্ড পাবেন ২৩ হাজার কৃষক

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী: তেল সংকটে লংমার্চ অযৌক্তিক

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী: তেল সংকটে লংমার্চ অযৌক্তিক

0 Comments