জাতীয়

সরকারকে ধোঁকা দিয়ে রিফাইনারি চালুর দৌড়ঝাঁপ, আলোচনায় টিকে গ্রুপ!

হোসেন মাঝি অক্টোবর ২৮, ২০২৬ 0
সরকারকে ধোঁকা দিয়ে রিফাইনারি চালুর দৌড়ঝাঁপ, আলোচনায় টিকে গ্রুপ!
(এসপিএল)

 


সরকারের অনুমোদন ছাড়াই রিফাইনারি বানানোর ক্ষেত্রে কারসাজির আশ্রয় নিয়েছে টিকে গ্রুপের সুপার পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেড (এসপিএল)। অনুমোদন নাকচ করার পরও রিফাইনারি বানানোর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

আগের অনুমোদন নাকচ হলেও সেটি গোপন রেখে আবারও রিফাইনারি বানানোর আবেদন করেছে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল। এ ঘটনায় জ্বালানি খাতে তোলপাড় তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তথ্য গোপন এবং সরকারকে ধোঁকা দিয়ে রিফাইনারি বানানোর উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ডাঙ্গারচরে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের ক্যাটালিস্ট রিফরমিং ইউনিট (সিআরইউ) প্ল্যান্ট আছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই প্ল্যান্টটি পুরোপুরি রিফাইনারিতে সম্প্রসারণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। কয়েক মাসের মধ্যে রিফাইনারিটির উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

প্ল্যান্টটিতে বছরে সাড়ে ছয় লাখ টন ন্যাফতা ও কনডেনসেট প্রসেসিং সক্ষমতা আছে। সরকারের অনুমোদন ছাড়াই সেটিকে পৌনে ২৬ লাখ টনের রিফাইনারিতে সম্প্রসারণ করার চেষ্টা করছে পেট্রোকেমিক্যাল।

জানা যায়, সম্প্রসারণ ও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিপণনের জন্য সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসির করা আবেদন প্রায় ৯ মাস আগে নাকচ করে দেয় সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, অভিভাবক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে সিআরইউ প্ল্যান্টটিকে রিফাইনারিতে সম্প্রসারণের বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।

ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সুপারিশে অনুমোদন পাওয়া কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহের পাইপলাইনও নির্মাণ সম্পন্ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৩ সালের করা বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপনের জ্বালানি নীতিমালাটি বাতিল করার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে আলোচনা হয়। কিন্তু পরে নীতিমালাটি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ২৫ সেপ্টেম্বর বেসরকারি ওই নীতিমালার আলোকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে মজুত, পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত তেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিপণনের অনুমতি চেয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে আবেদন করে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল।

আবেদনে পুরোনো সিআরইউ প্ল্যান্টের সঙ্গে বছরে সোয়া ১৯ লাখ টন ক্রুড/কনডেনসেট পরিশোধনের রিফাইনারি প্রতিষ্ঠাসহ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল বিপণনের বিষয়ে অনুমতি চাওয়া হয়।

এরপর জ্বালানি বিভাগের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন) জাহিদ হোসাইনকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করে বিপিসি। ওই কমিটিকে প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানটি সরেজমিনে পরিদর্শনসহ প্রতিষ্ঠানটির (এসপিএল) আবেদন পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পরে কমিটিতে ইস্টার্ন রিফাইনারির একজন ব্যবস্থাপককে কো-অপ্ট করা হয়। ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সাত সদস্যের কমিটি কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে জুলধা ইউনিয়ন এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির সিআরইউ প্ল্যান্ট এবং প্রস্তাবিত প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন করেন। ৮ এপ্রিল বিপিসি চেয়ারম্যানকে প্রতিবেদন জমা দেন সাত সদস্যের সেই কমিটি।

প্রতিবেদনে নীতিমালার আলোকে প্রাথমিক অনুমতি প্রদান ও প্ল্যান্টের নির্মাণকাজ শেষ হলে রিফাইনারির চূড়ান্ত অনুমোদন, অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, উৎপাদিত পণ্য সরবরাহ এবং বিপণনে অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক বিবেচনা করা যেতে পারে, বলে সুপারিশ করে বিপিসির কমিটি।

প্রতিবেদনটিতে দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, সুপার পেট্রোকেমিক্যালে বর্তমানে ন্যাফথা ও কনডেনসেট প্রসেসিং ইউনিটে দৈনিক ১৬ হাজার ৯০০ ব্যারেল হিসেবে বার্ষিক ছয় লাখ ৫০ হাজার টন উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি প্রস্তাবিত ক্রুড/কনডেনসেট অয়েল প্রসেসিং ইউনিটে দৈনিক ৪৫ হাজার ব্যারেল হিসেবে বছরে উৎপাদন সক্ষমতা হবে ১৯ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন। বর্তমান ও প্রস্তাবিত মিলিয়ে বার্ষিক উৎপাদন দাঁড়াবে পৌনে ২৬ লাখ মেট্রিক টন।

বিপিসির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটিতে কত টাকা বিনিয়োগ হবে, বেসরকারি এ প্রকল্পের যন্ত্রপাতিসহ অন্য প্রযুক্তি কোন দেশ থেকে আনা হবে এবং এজন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা কীভাবে সংস্থান করা হবে- সে বিষয়ে কিছুই উল্লেখ করা হয়নি।

প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ থাকবে কি না, নাকি দেশীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিনিয়োগ হবে- সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রতিবেদনে নেই। অতিগোপনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের রিফাইনারির প্রস্তাবিত প্রকল্পের সুপারিশ করে বিপিসি।

এরপর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর সুপার পেট্রোকেমিক্যালের প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। নাকচের বিষয়টি বিপিসিকেও চিঠি দিয়ে অবগত করা হয়। এরপর প্রায় ১০ মাস অতিবাহিত হলেও বিষয়টি গোপন রাখে বিপিসি। সম্প্রতি রিফাইনারিটি পুরোদমে উৎপাদনে যাচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে নড়ে চড়ে বসে সব মহল। তৈরি হয় সমালোচনা। কোনো প্রকার প্রাথমিক অনুমতি ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি নতুন রিফাইনারি নির্মাণ অব্যাহত রাখে বলে সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসে।

আবেদন নাকচের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সুপার পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেডকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক মজুত, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন ও বিপণনের ক্ষেত্রে ‘বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক মজুত, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন ও বিপণন নীতিমালা-২০২৩’ এর আওতায় এ বিভাগ থেকে কোনো প্রকার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ফলে আবেদনটি বিবেচনা করার সুযোগ নেই। বিষয়টি নির্দেশক্রমে অবহিত করা হলো।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, মন্ত্রণালয় কিংবা বিপিসির অনুমোদন ছাড়া পেট্রোলিয়াম জ্বালানি রিফাইনারির সম্প্রসারণ কিংবা নতুন নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ধরনের রিফাইনারির কাজে জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসির প্রাথমিক অনুমতি, চূড়ান্ত অনুমতিসহ কয়েকধাপে অনুমতি নিতে হয়। সরকারের উচিত এখন ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ দ্রুত শুরু করা।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, সুপার পেট্রোকেমিক্যালের আগের সিআরইউ বাদে নতুন রিফাইনারির প্রাথমিক কিংবা চূড়ান্ত কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

তথ্য লুকিয়ে ফের আবেদন, সুপার পেট্রোকেমিক্যালের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে করা আবেদন নাকচের পরেও সুপার পেট্রোকেমিক্যালের রিফাইনারি বানানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিপিসি। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। পাশাপাশি নাকচ হওয়া আবেদনের তথ্য গোপন করেই রিফাইনারি পরিচালনায় ফের আবেদন করে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল।

বিপিসির গঠিত কমিটিতে ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) এ টি এম সেলিমকে আহ্বায়ক এবং অপারেশন ও বাণিজ্য শাখার উপ-ব্যবস্থাপক তানজিন হোসেনকে সদস্য সচিব করা হয়। কমিটিতে বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মোরশেদ হোসাইন আজাদ, মহাব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন) ফেরদৌসী মাসুম হিমেল, মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন্স) জাহিদ হোসাইন এবং ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির উপমহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মাসুদুল আলমকে সদস্য করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, কমিটি বর্ণিত সংবাদ পর্যালোচনা ও সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসির প্ল্যান্ট পরিদর্শনপূর্বক প্ল্যান্টের প্রসেসিং ক্ষমতা বৃদ্ধি ও অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যসহ আগামী সাতদিনের মধ্যে বিপিসির চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

বিশেষজ্ঞ মতামত

আবেদন নাকচের পরেও সুপার পেট্রোকেমিক্যালের কারসাজি প্রসঙ্গে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা বিশিষ্ট জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, সরকারের সার্বভৌম ক্ষমতা একটা ব্যাক্তি মালিকানাধীন কোম্পানি কিভাবে উপেক্ষ করতে পারে। এমন দৃষ্টান্ত সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমাকে আতংকিত করে। এমন ক্ষমতা কিভাবে হয় কোনো ব্যক্তি বিশেষের?

তিনি আরও বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত উপেক্ষে করে দেশের মাটিতে নিজেদের স্বার্থে কোনো কোম্পানি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কিভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে? এটা একটা অবিশ্বাস্য ঘটনা, আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। এটা যদি সত্যি হয় তাহলে দেশের সরকার বলেতো কিছু থাকে না। আমরা যে বলেছি, দেশ অস্বাধু ব্যাবসায়ীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে, সেই দৃষ্টান্ত উল্লেখ করতে এ ঘটনাই যথেষ্ট।

এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ও ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, সরকার যদি অনুমোদন না দেয় তাহলে বাংলাদেশে তারা কোনো পণ্য বিক্রি করতে পারবে না। বর্তমান আইনে বেসরকারি কোনো কোম্পানি এ জাতীয় পন্য মার্কেটিংয়ের এখতিয়ার নেই। বর্তমান আইনে কোনো কোম্পানি বা রিফাইনারির সরকারের অনুমতি ছাড়া উৎপাদন ও বিপণন করতে পারে না। যে কোনো শিল্প গড়ে তুলতেই সরকারের অনুমোদন লাগে। অনুমোদন ছাড়া তারা এটা কিভাবে করে, সেটা আমার জানা নেই।

সরকারের অনুমোদন ছাড়াই বিশাল এক ক্রুড অয়েল রিফাইনারি বানানোর ঘটনায় এই খাতে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের বিরুদ্ধে নানা সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, এটি করা হলে রাষ্ট্রীয় ইস্টার্ন রিফাইনারির ৩০ লাখ টন সক্ষমতার নতুন রিফাইনারির বিনিয়োগ হুমকির মুখে পড়বে।

সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের সময় টিকে গ্রুপের কাছে অক্টেনের মজুদ থাকার পরেও দাম বাড়ার আশায় বাজারে ছাড়ে নাই বলে অভিযোগ আছে। সেই টিকে গ্রুপ এখন নাফথা ও কনডেনসেট প্রসেস করে অক্টেন উৎপাদনের ছোট আকারের ক্যাটালাইটিক রিফর্মিং ইউনিটকে (সিআরইউ) ক্রুড অয়েল প্রেসেস করার বৃহৎ রিফাইনারিতে পরিণত করতে যাচ্ছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

জাতীয়

View more
যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা তর্কযুদ্ধ, অধিবেশন স্থগিত করলেন খলিলুর রহমান
যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা তর্কযুদ্ধ, অধিবেশন স্থগিত করলেন খলিলুর রহমান

  কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিতর্কের সময় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন দেশ দুটির প্রতিনিধিরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত অধিবেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হয় সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ওই বিতর্কে যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ কিউবার শাসনব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা শুরু করলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওয়াল্টজের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিল্লা ও দেশটির প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নিজেদের আসন থেকে চিৎকার করতে থাকেন এবং বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করেন। এ সময় খলিলুর রহমান বারবার হাতুড়ি ঠুকে তাদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তবে তাতে পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। ওয়াল্টজ তখন বলেন, ‘আমি আশা করি, জনাব সভাপতি, সবাই এখন প্রতিনিধিদলের আচরণ শুনছেন।’ এরপর তিনি কিউবার রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, হাভানায় কেউ এ ধরনের প্রশ্ন তুললে তার পরিণতি কী হতে পারে, তা ভেবে দেখা উচিত। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ওয়াল্টজের মধ্যে আরও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। ওয়াল্টজ বলেন, ‘এটি আমেরিকা, এটি জাতিসংঘ। এটি আপনাদের কমিউনিস্ট একনায়কতন্ত্র নয়। আপনারা আমাকে কিংবা আমার সহকর্মীদের চুপ করাতে পারবেন না।’ একপর্যায়ে রদ্রিগেজ পারিল্লা সভাকক্ষের সামনের দিকে এগিয়ে গেলে ওয়াল্টজ তাকে বক্তৃতামঞ্চ থেকে দূরে সরে যেতে বলেন। তিনি চিৎকার করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে তাকে কেউ ভয় দেখাতে পারবে না এবং তিনি দেশটির প্রতিনিধি। এ পরিস্থিতিতে অধিবেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করেন খলিলুর রহমান। পরে জাতিসংঘের অধিবেশন পরিচালনার নিয়ম ব্যাখ্যা করে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রক্রিয়াগত বিষয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ দেন তিনি। তবে ওয়াল্টজের বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা না করার শর্ত দেওয়া হয়। এরপর নিজের আসনে ফিরে রদ্রিগেজ পারিল্লা ওয়াল্টজের অভিযোগের প্রতিবাদ জানান। তিনি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যকে ‘নির্লজ্জ মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করেন। পরে আর বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ছাড়াই বক্তব্য শেষ করেন ওয়াল্টজ। এ সময় তিনি জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলোকে আলোচ্য প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা আক্রমণঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওয়াল্টজের সমালোচনা করেন রদ্রিগেজ পারিল্লা। তিনি অভিযোগ করেন, ওয়াল্টজ তার ঔদ্ধত্য ও অহংকারের কারণে ভুলে গেছেন যে তিনি জাতিসংঘে রয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে নন। এমনকি মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনী গ্রিন বেরেটসের কোনো ইউনিট কিংবা সিগন্যালের কোনো গ্রুপেও নন। এসব ক্ষেত্রে ওয়াল্টজ নিজের অযোগ্যতা ও অক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ওয়াল্টজ যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর স্পেশাল ফোর্সেসের সাবেক সদস্য। এর আগে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। গত বছর ইয়েমেনে হুথিদের ওপর হামলা নিয়ে আলোচনার একটি সিগন্যাল গ্রুপে ভুলবশত এক সাংবাদিককে যুক্ত করার ঘটনা সামনে আসে। ওই গ্রুপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াল্টজকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেন। একই সময়ে তিনি ঘোষণা করেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করবেন

News অক্টোবর ২৮, ২০২৬ 0
২০২৭ সালের মধ্যে নিরাপদ সড়ক আইন বাস্তবায়ন করা হবে: সড়কমন্ত্রী

২০২৭ সালের মধ্যে নিরাপদ সড়ক আইন বাস্তবায়ন করা হবে: সড়কমন্ত্রী

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে মেডিক্যাল পরীক্ষা নিয়ে নতুন নির্দেশনা

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে মেডিক্যাল পরীক্ষা নিয়ে নতুন নির্দেশনা

সরতেই হচ্ছে পুলিশ প্রধানকে

সরতেই হচ্ছে পুলিশ প্রধানকে

সরকারকে ধোঁকা দিয়ে রিফাইনারি চালুর দৌড়ঝাঁপ, আলোচনায় টিকে গ্রুপ!
সরকারকে ধোঁকা দিয়ে রিফাইনারি চালুর দৌড়ঝাঁপ, আলোচনায় টিকে গ্রুপ!

  সরকারের অনুমোদন ছাড়াই রিফাইনারি বানানোর ক্ষেত্রে কারসাজির আশ্রয় নিয়েছে টিকে গ্রুপের সুপার পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেড (এসপিএল)। অনুমোদন নাকচ করার পরও রিফাইনারি বানানোর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। আগের অনুমোদন নাকচ হলেও সেটি গোপন রেখে আবারও রিফাইনারি বানানোর আবেদন করেছে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল। এ ঘটনায় জ্বালানি খাতে তোলপাড় তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তথ্য গোপন এবং সরকারকে ধোঁকা দিয়ে রিফাইনারি বানানোর উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ডাঙ্গারচরে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের ক্যাটালিস্ট রিফরমিং ইউনিট (সিআরইউ) প্ল্যান্ট আছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই প্ল্যান্টটি পুরোপুরি রিফাইনারিতে সম্প্রসারণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। কয়েক মাসের মধ্যে রিফাইনারিটির উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে। প্ল্যান্টটিতে বছরে সাড়ে ছয় লাখ টন ন্যাফতা ও কনডেনসেট প্রসেসিং সক্ষমতা আছে। সরকারের অনুমোদন ছাড়াই সেটিকে পৌনে ২৬ লাখ টনের রিফাইনারিতে সম্প্রসারণ করার চেষ্টা করছে পেট্রোকেমিক্যাল। জানা যায়, সম্প্রসারণ ও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিপণনের জন্য সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসির করা আবেদন প্রায় ৯ মাস আগে নাকচ করে দেয় সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, অভিভাবক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে সিআরইউ প্ল্যান্টটিকে রিফাইনারিতে সম্প্রসারণের বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সুপারিশে অনুমোদন পাওয়া কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহের পাইপলাইনও নির্মাণ সম্পন্ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৩ সালের করা বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপনের জ্বালানি নীতিমালাটি বাতিল করার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে আলোচনা হয়। কিন্তু পরে নীতিমালাটি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ২৫ সেপ্টেম্বর বেসরকারি ওই নীতিমালার আলোকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে মজুত, পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত তেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিপণনের অনুমতি চেয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে আবেদন করে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল। আবেদনে পুরোনো সিআরইউ প্ল্যান্টের সঙ্গে বছরে সোয়া ১৯ লাখ টন ক্রুড/কনডেনসেট পরিশোধনের রিফাইনারি প্রতিষ্ঠাসহ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল বিপণনের বিষয়ে অনুমতি চাওয়া হয়। এরপর জ্বালানি বিভাগের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন) জাহিদ হোসাইনকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করে বিপিসি। ওই কমিটিকে প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানটি সরেজমিনে পরিদর্শনসহ প্রতিষ্ঠানটির (এসপিএল) আবেদন পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে কমিটিতে ইস্টার্ন রিফাইনারির একজন ব্যবস্থাপককে কো-অপ্ট করা হয়। ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সাত সদস্যের কমিটি কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে জুলধা ইউনিয়ন এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির সিআরইউ প্ল্যান্ট এবং প্রস্তাবিত প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন করেন। ৮ এপ্রিল বিপিসি চেয়ারম্যানকে প্রতিবেদন জমা দেন সাত সদস্যের সেই কমিটি। প্রতিবেদনে নীতিমালার আলোকে প্রাথমিক অনুমতি প্রদান ও প্ল্যান্টের নির্মাণকাজ শেষ হলে রিফাইনারির চূড়ান্ত অনুমোদন, অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, উৎপাদিত পণ্য সরবরাহ এবং বিপণনে অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক বিবেচনা করা যেতে পারে, বলে সুপারিশ করে বিপিসির কমিটি। প্রতিবেদনটিতে দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, সুপার পেট্রোকেমিক্যালে বর্তমানে ন্যাফথা ও কনডেনসেট প্রসেসিং ইউনিটে দৈনিক ১৬ হাজার ৯০০ ব্যারেল হিসেবে বার্ষিক ছয় লাখ ৫০ হাজার টন উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি প্রস্তাবিত ক্রুড/কনডেনসেট অয়েল প্রসেসিং ইউনিটে দৈনিক ৪৫ হাজার ব্যারেল হিসেবে বছরে উৎপাদন সক্ষমতা হবে ১৯ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন। বর্তমান ও প্রস্তাবিত মিলিয়ে বার্ষিক উৎপাদন দাঁড়াবে পৌনে ২৬ লাখ মেট্রিক টন। বিপিসির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটিতে কত টাকা বিনিয়োগ হবে, বেসরকারি এ প্রকল্পের যন্ত্রপাতিসহ অন্য প্রযুক্তি কোন দেশ থেকে আনা হবে এবং এজন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা কীভাবে সংস্থান করা হবে- সে বিষয়ে কিছুই উল্লেখ করা হয়নি। প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ থাকবে কি না, নাকি দেশীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিনিয়োগ হবে- সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রতিবেদনে নেই। অতিগোপনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের রিফাইনারির প্রস্তাবিত প্রকল্পের সুপারিশ করে বিপিসি। এরপর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর সুপার পেট্রোকেমিক্যালের প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। নাকচের বিষয়টি বিপিসিকেও চিঠি দিয়ে অবগত করা হয়। এরপর প্রায় ১০ মাস অতিবাহিত হলেও বিষয়টি গোপন রাখে বিপিসি। সম্প্রতি রিফাইনারিটি পুরোদমে উৎপাদনে যাচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে নড়ে চড়ে বসে সব মহল। তৈরি হয় সমালোচনা। কোনো প্রকার প্রাথমিক অনুমতি ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি নতুন রিফাইনারি নির্মাণ অব্যাহত রাখে বলে সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসে। আবেদন নাকচের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সুপার পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেডকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক মজুত, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন ও বিপণনের ক্ষেত্রে ‘বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক মজুত, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন ও বিপণন নীতিমালা-২০২৩’ এর আওতায় এ বিভাগ থেকে কোনো প্রকার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ফলে আবেদনটি বিবেচনা করার সুযোগ নেই। বিষয়টি নির্দেশক্রমে অবহিত করা হলো। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, মন্ত্রণালয় কিংবা বিপিসির অনুমোদন ছাড়া পেট্রোলিয়াম জ্বালানি রিফাইনারির সম্প্রসারণ কিংবা নতুন নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ধরনের রিফাইনারির কাজে জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসির প্রাথমিক অনুমতি, চূড়ান্ত অনুমতিসহ কয়েকধাপে অনুমতি নিতে হয়। সরকারের উচিত এখন ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ দ্রুত শুরু করা। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, সুপার পেট্রোকেমিক্যালের আগের সিআরইউ বাদে নতুন রিফাইনারির প্রাথমিক কিংবা চূড়ান্ত কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তথ্য লুকিয়ে ফের আবেদন, সুপার পেট্রোকেমিক্যালের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে করা আবেদন নাকচের পরেও সুপার পেট্রোকেমিক্যালের রিফাইনারি বানানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিপিসি। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। পাশাপাশি নাকচ হওয়া আবেদনের তথ্য গোপন করেই রিফাইনারি পরিচালনায় ফের আবেদন করে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল। বিপিসির গঠিত কমিটিতে ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) এ টি এম সেলিমকে আহ্বায়ক এবং অপারেশন ও বাণিজ্য শাখার উপ-ব্যবস্থাপক তানজিন হোসেনকে সদস্য সচিব করা হয়। কমিটিতে বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মোরশেদ হোসাইন আজাদ, মহাব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন) ফেরদৌসী মাসুম হিমেল, মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন্স) জাহিদ হোসাইন এবং ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির উপমহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মাসুদুল আলমকে সদস্য করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, কমিটি বর্ণিত সংবাদ পর্যালোচনা ও সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসির প্ল্যান্ট পরিদর্শনপূর্বক প্ল্যান্টের প্রসেসিং ক্ষমতা বৃদ্ধি ও অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যসহ আগামী সাতদিনের মধ্যে বিপিসির চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবে। বিশেষজ্ঞ মতামত আবেদন নাকচের পরেও সুপার পেট্রোকেমিক্যালের কারসাজি প্রসঙ্গে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা বিশিষ্ট জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, সরকারের সার্বভৌম ক্ষমতা একটা ব্যাক্তি মালিকানাধীন কোম্পানি কিভাবে উপেক্ষ করতে পারে। এমন দৃষ্টান্ত সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমাকে আতংকিত করে। এমন ক্ষমতা কিভাবে হয় কোনো ব্যক্তি বিশেষের? তিনি আরও বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত উপেক্ষে করে দেশের মাটিতে নিজেদের স্বার্থে কোনো কোম্পানি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কিভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে? এটা একটা অবিশ্বাস্য ঘটনা, আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। এটা যদি সত্যি হয় তাহলে দেশের সরকার বলেতো কিছু থাকে না। আমরা যে বলেছি, দেশ অস্বাধু ব্যাবসায়ীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে, সেই দৃষ্টান্ত উল্লেখ করতে এ ঘটনাই যথেষ্ট। এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ও ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, সরকার যদি অনুমোদন না দেয় তাহলে বাংলাদেশে তারা কোনো পণ্য বিক্রি করতে পারবে না। বর্তমান আইনে বেসরকারি কোনো কোম্পানি এ জাতীয় পন্য মার্কেটিংয়ের এখতিয়ার নেই। বর্তমান আইনে কোনো কোম্পানি বা রিফাইনারির সরকারের অনুমতি ছাড়া উৎপাদন ও বিপণন করতে পারে না। যে কোনো শিল্প গড়ে তুলতেই সরকারের অনুমোদন লাগে। অনুমোদন ছাড়া তারা এটা কিভাবে করে, সেটা আমার জানা নেই। সরকারের অনুমোদন ছাড়াই বিশাল এক ক্রুড অয়েল রিফাইনারি বানানোর ঘটনায় এই খাতে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের বিরুদ্ধে নানা সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, এটি করা হলে রাষ্ট্রীয় ইস্টার্ন রিফাইনারির ৩০ লাখ টন সক্ষমতার নতুন রিফাইনারির বিনিয়োগ হুমকির মুখে পড়বে। সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের সময় টিকে গ্রুপের কাছে অক্টেনের মজুদ থাকার পরেও দাম বাড়ার আশায় বাজারে ছাড়ে নাই বলে অভিযোগ আছে। সেই টিকে গ্রুপ এখন নাফথা ও কনডেনসেট প্রসেস করে অক্টেন উৎপাদনের ছোট আকারের ক্যাটালাইটিক রিফর্মিং ইউনিটকে (সিআরইউ) ক্রুড অয়েল প্রেসেস করার বৃহৎ রিফাইনারিতে পরিণত করতে যাচ্ছে।

News অক্টোবর ২৮, ২০২৬ 0
আগামী পাঁচ বছরে ডিজিটাল খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য

আগামী পাঁচ বছরে ডিজিটাল খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য

জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগে বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ

জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগে বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ

জাপানে জেরার এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন তারেক রহমান

জাপানে জেরার এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন তারেক রহমান

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম গতিশীল করতে ১২ দফা নির্দেশনা
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম গতিশীল করতে ১২ দফা নির্দেশনা

  স্টাফ রিপোর্টার,  কবির হোসেন শান্ত  পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের আত্মসাৎকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ ১২ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর। সম্প্রতি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এমন নির্দেশনা দেন। সভায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমা বানু, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম মর্তুজা, মহাব্যবস্থাপক এ বি এম জাহিদ হোসেন, মো. আলা উদ্দিন এবং সঞ্চয় ও ঋণ বিতরণ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকতা রুহুল আমীন উপস্থিত ছিলেন। সভায় মহাব্যবস্থাপক মো. আলা উদ্দিন ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। সভার নির্দেশনাগুলো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের কাছে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম আরো গতিশীল এবং সুশৃঙ্খল করতে ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বৈঠকে একগুচ্ছ কঠোর ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক কার্যালয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি শাখার কার্যক্রমের মনিটরিং জোরদার করতে জেলা বা আঞ্চলিক কার্যালয়ের জনবল বাড়াতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য আঞ্চলিক প্রশিক্ষক ও নির্দিষ্ট মডিউল তৈরি করে দ্রুত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শৃঙ্খলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যেকোনো ধরনের অসততা ও অসদুপায় থেকে বিরত রাখতে দ্রুত নির্দেশনা প্রদান এবং সামাজিক আমার বাড়ি আমার খামার যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সরকারি নীতিমালা কঠোরভাবে মেনে চলার কথা বলা হয়েছে। ঋণ মনিটরিং ও জুম মিটিং শ্রেণিকৃত ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ কমাতে মনিটরিং ও সুপারভিশন জোরদার করতে হবে। সরেজমিন পরিদর্শনের পাশাপাশি নিয়মিত জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে শাখা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে হবে। আইনগত ব্যবস্থা ও পুনর্গঠন অনাদায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি শ্রেণিকৃত ঋণ হিসাবসমূহ চিহ্নিত করে ব্যাংকের প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ করে পুনঃতফসিল, পুনর্গঠন, অবলোপন, মৃত্যুঝুঁকি আচ্ছাদন তহবিল ও মুনাফা মওকুফসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ও মূল্যায়ন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের প্রতিটি শাখার বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রাকে মাসভিত্তিক ভাগ করে দিতে হবে এবং মাঠ সহকারীদের মধ্যে তা বণ্টন করতে হবে। মাঠকর্মী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলে তা পরবর্তী মাসের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে এবং এক্ষেত্রে শাখা ও জেলা কার্যালয়কে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। আত্মসাৎ রোধে কঠোর পদক্ষেপ অভ্যাসগত অর্থ আত্মসাৎকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বছরভিত্তিক আত্মসাতের তথ্য, শ্রেণিকৃত ঋণের তথ্য ও সার্টিফিকেট মামলার তথ্য পর্ষদ সভায় উপস্থাপন করতে হবে। আত্মসাৎকারীদের প্রতি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে বিশেষ সার্কুলার জারি করতে হবে। সঠিক প্রতিবেদন দাখিল দে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঠভিত্তিক পরিদর্শন সম্পর্কে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় মূল্যায়ন প্রতিবেদন দাখিল বন্ধ করে বাস্তব ও সঠিক তথ্যের মাধ্যমে মাঠের প্রকৃত চিত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন নিশ্চিত করতে হবে। ঋণ বিতরণ ও অডিট প্রক্রিয়া ঋণ বিতরণ ও আদায়ের ক্ষেত্রে লিজেন্ড ও লোন ট্র্যাকিং সিস্টেমের সঠিক মনিটরিং এবং স্পেশালাইজড অডিট জোরদার করতে হবে। ঋণ বিতরণ, পুনর্গঠন, অবলোপন, ক্রয় প্রক্রিয়া এবং অভ্যন্তরীণ অডিটের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা, সুশাসন ও যথাযথ নীতিমালা অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে। তথ্য সুরক্ষা ও এমআইএস প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যাদির গোপনীয়তা রক্ষা, দৈনিক খাতের তথ্য এবং ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) সঠিক পরিচালনা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমা বানু আমার দেশকে বলেন, পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের নির্দেশনার আলোকে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।  

News অক্টোবর ২৭, ২০২৬ 0
হঠাৎ বিপর্যয়, সচিবালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিদ‍্যুৎ নেই অনেক জায়গায়

হঠাৎ বিপর্যয়, সচিবালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিদ‍্যুৎ নেই অনেক জায়গায়

চিকিৎসকদের অবহেলায় যেন কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হন, আহ্বান প্রতিমন্ত্রী টুকুর

চিকিৎসকদের অবহেলায় যেন কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হন, আহ্বান প্রতিমন্ত্রী টুকুর

চিকিৎসকদের অবহেলায় যেন কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হন, আহ্বান প্রতিমন্ত্রী টুকুর

চিকিৎসকদের অবহেলায় যেন কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হন, আহ্বান প্রতিমন্ত্রী টুকুর

0 Comments